নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

শিডিউল

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মারুফুর রহমান খান
  • নরসুন্দর মানুষ
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ
  • শহিদুল নাঈম

আপনি এখানে

বিষাক্ত রাজনীতি:- অষ্টম পর্ব



মুম্বাইতে প্রায় দুই মাস ভাতৃঘাতি দাঙ্গা চলতে থাকে। এই দাঙ্গায় কত যে মানুষের মৃত্যু হল এবং বিষয় সম্পত্তির ক্ষতি হল তার কোন সঠিক হিসাব নেই! ধর্ম রাজনীতির জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে দিনের শেষে সাধারণ নিরীহ মানুষ জীবন ও সর্বস্ব খুইয়ে ছিল। এই দাঙ্গা যে সাধারণ মানুষের জন্য কতটা ভয়াবহ ও ক্ষতিকর ছিল এবং সাধারণ মানুষের জীবনকে কতটা প্রভাবিত করেছিল তার সঠিক চিত্র ফুটে ওঠে,1995 সালে মুক্তি প্রাপ্ত মণীরত্নমের সিনেমা বম্বেতে (Bombay)। এই সিনেমাতে এবং ওই সময়ের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়- ওই সময় শহর কার্যত উভয় সম্প্রদায়ের গুন্ডা বাহিনীর দখলে চলে যায়; তারা নির্বিচারে মানুষ হত্যায় উন্মত্ত হয়ে উঠে! এটা মনে হতে থাকে এদের ধারালো অস্ত্রের রক্ত পিপাসা যেন আর কোন দিন মিটবে না! মনে হতে থাকে সমাজ, সভ্যতা, সংস্কৃতি সবই এই ধর্মের ধজ্জাধারী রক্ত পিপাসুদের হাতে শেষ হতে চলেছে! কিন্তু কি আশ্চর্য দেখুন এই চরম সংকটময় মূহুর্তে মানবতা মরে যায় নি, সাধারণ হিন্দুরা শেষ পর্যন্ত শিবসেনার গুন্ডা বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, অন্যদিকে বহু মুসলমান পরিবার বহু হিন্দুদের এই রক্তাক্ত দাঙ্গাবাজদের হাত থেকে রক্ষা করেছিল। দিনের শেষে এই সামান্য সাধারণ মানুষদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতেই এই নৃশংস ভাতৃঘাতি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরিসমাপ্তি হয় এবং মানবতা জয় যুক্ত হয়। শেষ পর্যন্ত "আমচি মুম্বাই" এই সাধারণ ছোট ছোট মানুষদের সহযোগিতাতেই নিজের হৃত প্রাণচঞ্চলতা ফিরে পায়।

তবে এত রক্ত, এত হিংসা ভুলে সকলে সহজভাবে জীবনে এগিয়ে যেতে পারেনি, সে রকমই একজন ছিলেন- টাইগার মেমন। দাঙ্গার সময় একদিকে যখন হিন্দুদের পক্ষে শিবসেনা নামে তখন অন্যদিকে মুসলমানদের পক্ষে আন্ডারওয়ার্ল্ড এসে দাঁড়ায়। এই সংঘর্ষে মুসলমানদেরই ক্ষতি বেশি হয়েছিল। দাঙ্গাকারীরা টাইগার মেমনের অফিস জ্বালিয়ে দেয়, এই ঘটনা টাইগারের হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল টাইগার প্রতিজ্ঞা করেছিল মুম্বাইকে এর ফল ভুগতে হবে এবং এই ঘটনার বদলা নেওয়া হবে। এখন প্রশ্ন হল টাইগার মেমন কে ছিলেন এবং কি ছিল তার কাজ? টাইগার মেমনের আসল নাম ছিল- ইব্রাহিম মুস্তাক আব্দুল রাজ্জাক নাদীম মেমন। একে টাইগার বলা হত কারণ- মুম্বাই বা তৎকালীন বম্বের রাস্তায় এক স্মাগলারকে 100 কিমি/ঘন্টার ও বেশি গতিতে গাড়ি চালিয়ে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাত থেকে রক্ষা করে। টাইগার মেমনের ব্যাবসা ছিল রেস্টুরেন্ট, বিদেশে মাংস রপ্তানি ইত্যাদি, তবে চোরাই পথে রূপা আদান প্রদান ও হাওয়ালা টাইগারের অর্থ উপার্জনের মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে। এই চোরাকারবার করতে গিয়েই টাইগার মেমনের আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ হয় এবং ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা তৈরী হয়।

দাঙ্গার পর স্বাভাবিক ভাবেই দাঙ্গা পীড়িতদের মনে প্রতিশোধের আগুন জ্বলে ওঠে। টাইগার মেমন দাউদের ডি কোম্পানির সহায়তায় এমন বেশকিছু ছেলে জোগায় করে যারা দাঙ্গা পীড়িত এবং প্রতিশোধ নিতে যে কোন কাজ করতে রাজি হয়। ঠিক এই সময় দাউদের কাছে দুবাইয়ে মুম্বাইয়ের ডোংরি এলাকা থেকে একটি পার্সেল যায়, এই ডোংরিতেই ছিল দাউদের বাসস্থান। সেই পার্সেলে এলাকার কিছু মহিলাদের চুড়ি ও একটি চিঠি ছিল; এই চিঠিতে লেখা ছিল- "দাউদ ইব্রাহিম কাসকার আমাদের ভাই নয়, কারোর ছেলে নয়; যে নিজের মা, বোনেদের রক্ষা করতে পারেনি সে কারোর ভাই বা ছেলে হতে পারে না; দাউদ ইব্রাহিম কাসকার মুর্দাবাদ, মুর্দাবাদ"! আসলে এই চিঠিটি দাঙ্গা পীড়িত কিছু মহিলাদের লেখা, সেখানে চুড়ি পাঠিয়ে প্রচ্ছন্নে দাউদকে বিদ্রুপ করা হয়। এই সমস্ত ঘটনাটি ও বোম্বাই ব্লাস্ট এর প্রেক্ষাপট Black Friday নামে একটি সিনেমাতে সুন্দরভাবে উপস্থাপিত করা হয়েছে। এরপর দাউদ মরিয়া হয়ে উঠে। দাউদ পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর সহায়তায় মুম্বাই বিস্ফোরণের পুরো পরিকল্পনাটি করেন। টাইগার মেমন ছিল মুখ্য সহযোগি। সেই লক্ষ্যে টাইগার মেমন কিছু ছেলেকে বোম্বাই থেকে দুবাই হয়ে পাকিস্তানে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। এখানে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও মেলেটারিরা তাদের আস্ত্রচালনা ও বম তৈরীর প্রশিক্ষণ দেয়। সেই সঙ্গে পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় অর্থ, অস্ত্রশস্ত্র ও বিস্ফোরক সবই পাক সরকারের মদতে বোম্বাইয়ে আনা হয়, যদি পাকিস্তান সরকার আজ ও এই সমস্ত ঘটনাতে তাদের কোন হাত নেই বলে দাবী করে।

এরপর পরিকল্পনা মাফিক কাজ শুরু হয়। প্রথমে পরিকল্পনা করা হয় বাল ঠাকরে ও আডবাণীকে বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হবে। পরে এদের মনে ওদের নিরাপত্তা খুব শক্তিশালী হওয়ার জন্য এদের মারা কষ্টকর। অন্যদিকে টাইগার মেমন ও অন্যদের মত ছিল বাল ঠাকরে বা আডবাণীকে মারলে এরা আরও মহান হয়ে যাবে এদের নামে মন্দির ও তৈরী হতে পারে এবং এতে ভারতীয় মুসলিমদের সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তাই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বাইকে উড়ানোর পরিকল্পনা হয় কারণ মুম্বাইয়ে কিছু হওয়া মানে গোটা পৃথিবীতে তা ছড়িয়ে পড়বে এবং একই সঙ্গে মুসলমানদের শক্তি কতটা তা দেখানো যাবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলতে থাকে কিন্তু বিস্ফোরণের তিন দিন আগে 9 ই মার্চ, 1993 কুখ্যাত দুষ্কৃতী গুল এর গ্রেফতারি হয়। এই গুলকে দাঙ্গায় অংশগ্রহণকারী হিসাবে পুলিশ খুঁজছিল। এই গুল এর কাছ থেকে পুলিশ জানতে পারে শহরে ভারি ধরণের বিস্ফোরণ হবে, তবে পুলিশ গুলের কথায় বিশেষ গুরুত্ব দেয় নি, মনে করে এগুলি আজগুবি কথা। গুলের গ্রেপ্তারিতে টাইগার মেমন সচেতন হয়ে ওঠে। তাই পুলিশ সচেতন হওয়ার আগেই পরিকল্পনা সম্পন্ন করার লক্ষ্য স্থির করা হয়। পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক বিস্ফোরণ হওয়ার কথা ছিল এপ্রিল মাসে শিব জয়ন্তীর সময় কিন্তু সেটাই এগিয়ে নিয়ে আসা হয় 12 মার্চ শুক্রবার, রমজান মাসের 17 তারিখ; ইসলামি ইতিহাস অনুসারে ওই দিনই নবী মহম্মদ বদরের যুদ্ধ লড়েছিল। তাই ওই দিনই বিস্ফোরণের মাধ্যমে জেহাদের ডাক দেওয়া হয়।
যেহেতু ওই কুখ্যাত দিনটি ছিল শুক্রবার তাই ভারতবর্ষের ইতিহাসে এই কুখ্যাত দিনটি ব্ল্যাক ফ্রাইডে বা কালো শুক্রবার নামে পরিচিতি।

12 মার্চ 1993; এসে গেল সেই কুখ্যাত শুক্রবার, পরিকল্পনা মাফিক সমস্ত বিস্ফোরক ঠিক জায়গায় রাখা হল এবার দেখা গেল এক বিভৎস খুনি খেলা।

1. দুপুর 1:30 মিনিট বোম্বাইয়ের 32 তলা স্টক এক্সচেঞ্জ হঠাৎ কেঁপে ওঠে চারিদিকে শুধু লাশ আর লাশ ও চারিদিক ধোঁয়ায় পরিপূর্ণ। স্টক এক্সচেঞ্জের বেসমেন্টে পার্ক করা গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। সেইসঙ্গে শুরু হয় প্রথম বিস্ফোরণ এই প্রথম দেশ এই রকম হামলা দেখে। এই হামলায় ভয়ংকর বিস্ফোরক আরডিএক্স (RDX) ব্যবহার করা হয়। এই বিস্ফোরণ তো শুরু মাত্র এখনও অনেককিছু দেখার বাকি ছিল। এই বিস্ফোরণে 84 জনের মৃত্যু হয় ও 215 জনের অধিক মানুষ আহত হন।
2. দুপুর 2:15 মিনিটে স্টক এক্সচেঞ্জ বিস্ফোরণের ঠিক 45 মিনিট পর নারসিনাথ স্ট্রিটের রাজমান্ডিতে এক ট্রাকে বোমা বিস্ফোরণ হয়। এই ঘটনায় 5 জনের মৃত্যু হয় ও কয়েকজন আহত হয়।
3. দুপুর 2:30 মিনিট এবার টার্গেট ছিল শিবসেনা ভবন ওড়ানোর। শিবসেনা ভবনের কাছে পুলিশ গাড়ি পার্ক করতে দেয়নি, তাই কাছে এক পেট্রোল পাম্পে গাড়ি পার্ক করা হয় এখানে বিস্ফোরণ হয়। এই বিস্ফোরণে 4 জন মানুষের মৃত্যু হয় ও 50 জনের অধিক মানুষ গুরুতর আহত হন।
4. 2:33 মিনিট নারিম্যান পয়েন্টের কাছে এয়ার ইন্ডিয়া বিল্ডিং এর পার্কিং এ বিস্ফোরণ হয়। এতে 20 জন মারা যায় ও 87 জন আহত হয়।
5. 2:45 মিনিট ওরলির সেঞ্চুরি বাজারের কাছে এক দ্বীতল বাসে বিস্ফোরণ হয়, আশপাশের আরও পাঁচটি বাস এই বিস্ফোরণের বলি হয়। এই ভয়ংকর বিস্ফোরণে এখানেই শুধু 113 জনের অধিক মানুষের মৃত্যু হয়। বিস্ফোরণ এত তীব্র ছিল যে আশপাশের বিল্ডিং এর কাঁচ পর্যন্ত ভেঙে যায়।
6. 2:45 মিনিটে মাহিম ক্রসিংয়ে বিস্ফোরণ হয় এবং 3 জন মানুষের মৃত্যু হয়।
7. 3:05 মিনিটে হীরে জওহরাতের বাজারে বিস্ফোরণ হয় এখানে 17 জনের মৃত্যু হয়। এই সময় একই সঙ্গে জাবেরি বাজারে বিস্ফোরক বোঝাই এক স্কুটার ছিল ভাগ্যভাল এতে বিস্ফোরণ হয়নি তাই অন্তত কিছু মানুষের জীবন রক্ষা হয়।
8. 3:10 মিনিটে সিওক হোটেলের 18 তলাতে বিস্ফোরণ হয় সৌভাগ্য বসত এই বিস্ফোরণে কোন মানুষের মৃত্যু হয়নি।
9. 3:13 মিনিটে প্লাজা সিনেমার পার্কিংয়ে বিস্ফোরণ হয়। এতে 10 জন মানুষের মৃত্যু হয় ও 37 জন আহত হয়।
10. 3:20 মিনিটে জুহুর সেন্টুর হোটেলে বিস্ফোরণ হয় সেখানে 3 জন গুরুতর আহত হয়।
11. 3:30 মিনিটে সান্তাক্রুজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ছোটখাটো বিস্ফোরণ হয় যদিও সৌভাগ্য বসত এতে কোন মানুষের মৃত্যু হয়নি।
12. 3:40 মিনিটে এয়ারপোর্ট সেন্টার হোটেলে বিস্ফোরণ হয় এবং এই বিস্ফোরণে 2 জন মানুষের মৃত্যু হয়।
এই 12 টি বিস্ফোরণে মুম্বাই কেঁপে ওঠে। হামলাকারীরা গাড়ি ও স্কুটারকে হামলার উপাদান হিসাবে ব্যবহার করেছিল। যদিও মুম্বাইয়ের সংসদ ভবন, বিএমসি বিল্ডিং, মুখ্যমন্ত্রী অফিসেও বিস্ফোরণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি।

এরপর তো মুম্বাই যেন এক মৃত্যু পুরীতে পরিণত হয় চারিদিকে লাশ আর লাশ ও মানুষের রক্ত। মানুষের ছিন্নভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ রাস্তার ধারে ধারে পড়েছিল সে এক ভয়াবহ দৃশ্য। গোটা দেশ ও গোটা পৃথিবী অবাক হয়ে এ দৃশ্য দেখছিল। ভারতবর্ষে এটি প্রথম এই ধরণের সন্ত্রাসবাদী হামলা ছিল, এই প্রথম সাধারণ ভারতবাসী আরডিএক্স নামের সঙ্গে পরিচিত হয়। হামলাকারীরা বাস, আফিস, ব্যাঙ্ক এই জাতীয় সার্বজনীন জায়গায় বিস্ফোরণ করে যাতে অধিক থেকে অধিকতর মানুষের মৃত্যু ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই ঘটনায় মোট 27 কোটি টাকার সম্পত্তির ক্ষতি হয় এবং 257 জন মানুষের মৃত্যু হয়, যদিও বেসরকারি সূত্র মতে মৃতের ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল আরও অধিক। এই বিস্ফোরণ কতটা ভয়াবহ ছিল তা সুপ্রিম কোর্টের এই মতামতের পরিপ্রেক্ষিতেই বোঝা যায়, সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল- "পৃথিবীর এটা এমন প্রথম ঘটনা যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এত বেশি পরিমাণে আরডিএক্স এর মত ভয়ংকর বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে"।

এই বিস্ফোরণের পর মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ড ধর্মের ভিত্তিতে দুইভাগে ভাগ হয়ে যায়। দাউদের ডানহাত ছোটা রাজন এই হামলাকে দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা আখ্যা দেন এবং নিজেকে হিন্দু ডন হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদ স্বরূপ ডি কোম্পানির বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান চালায়। এই হামলায় দোষী সাত জনকে ছোটা রাজনের শুটাররা হত্যা করে। এইভাবে প্রায় দুই দশক এই দুই গ্যাং পরস্পরের বিরুদ্ধে খুনি সংঘর্ষ চালিয়ে যেতে থাকে। তবে কিছুদিন আগে ছোটা রাজনের গ্রেফতারির মধ্যে দিয়ে এই খুনী সংঘর্ষ অনেকাংশে শেষ হয়ে যায়; কারণ এরপর ছোটা রাজনের গ্রুপ অনেক দুর্বল হয়ে যায়। যাইহোক মুম্বাই বিস্ফোরণ ভারতবর্ষের জনজীবনে এই গভীর প্রভাব ফেলে। জনগণ এই প্রথম সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে পরিচিত হয়। এখন প্রশ্ন হল এই বিস্ফোরণের দায়ী আসলে কারা?

বিভিন্ন ধরণের তদন্তে একথা উঠে আসে মুম্বাই বিস্ফোরণের পিছনে দায়ী ছিল- দাউদ ইব্রাহিম, টাইগার মেমন ও ইয়াকুব মেমন। যদিও ইয়াকুব মেমনের বিষয়টি সর্বাধিক বিতর্কিত তা পরে আলোচনা করা যাবে। কিন্তু প্রশ্ন হল হঠাৎ করে এই বিস্ফোরণ হল কেন? বাবরি ধ্বংস বিষয়ক লিবরাহান কমিশন মনে করে- "বাবরি মসজিদ ভাঙা, মুম্বাইয়ের দাঙ্গা এবং মুম্বাই বিস্ফোরণের মধ্যে যেন অদৃশ্য কোন যোগসূত্র আছে"। অন্যদিকে মুম্বাই দাঙ্গা বিষয়ক শ্রীকৃষ্ণা কমিশন মনে করে- "বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুম্বাইয়ে দাঙ্গা হয় এবং মুম্বাই দাঙ্গার ফল হিসাবে মুম্বাই বিস্ফোরণ হয়"। অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণা কমিশনের মতে একটি অন্যায়ের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ অন্য অন্যায়ের সৃষ্টি হয়। তবে একথা বলা যায় নিরীহ মানুষদের হত্যা কোন মতেই সমর্থনযোগ্য নয়। এই বিস্ফোরণে হিন্দু, মুসলমান, খৃষ্টান, শিখ সহ সর্ব ধর্ম, সর্ব বর্ণের ও সর্ব জাতের মানুষ মারা গেছে। আসলে গুলি ও বম কোন ধর্ম চেনে না, সে নিঃশব্দে নিজের কাজ করে যায় এবং এর ফল ভুগতে হয় সাধারণ মানুষকে।

তবে একথা বলা যায় মুম্বাই বিস্ফোরণ এমনি এমনি ঘটেনি এবং এর আসল দোষী হল ধর্মান্ধ বিষাক্ত রাজনীতি, কারণ- এই ধর্মান্ধ রাজনীতির ফলেই সাহাবানু মামলার রায় পাল্টানো হয় এবং এই মমলার পরিপ্রেক্ষিতে রাম মন্দির আন্দোলনের শুরুর হয়। এর ফল স্বরূপ বাবরি ধ্বংস হয়, বাবরি ধ্বংসের ফলে বোম্বাইয়ে দাঙ্গা হয় এবং দাঙ্গার প্রতিক্রিয়া স্বরূপ এই বোম্বাই বিস্ফোরণ হয়। অর্থাৎ নিউটনের তৃতীয় সূত্র অনুসারে প্রতিটি ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত মুখি প্রতিক্রিয়া আছে। আর আমাদের দুর্ভাগ্য এই বিষাক্ত রাজনীতির বলি হতে হয় সাধারণ মানুষকেই। এই দাঙ্গা রাতারাতি দেশের অনেক কিছু পরিবর্তন করে। সামান্য ব্যাবসায়ী টাইগার মেমন হয়ে যায় সন্ত্রাসবাদী, অন্যদিকে ডন দাউদ ইব্রাহিম হয়ে যায় ভারতের এক নম্বর দেশদ্রোহী। অবার সর্বাধিক বিতর্কিত অভিযোগ আসে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ইয়াকুব মেমনের উপর সন্ত্রাসবাদীদের সাহায্যকারী হিসাবে? তাই মুম্বাই বিস্ফোরণের সর্বাধিক বিতর্কত ব্যক্তিত্ব হলেন ইয়াকুব মেমন।

চলবে...

তথ্যসূত্র-
1. উইকিপিডিয়া।
2. আজতক নিউজ।
3. ডিডি নিউজ।

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

মননশীল, যৌক্তিক, চমৎকার লেখা! ধন্যবাদ লেখককে

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 
রক্তিম বিপ্লবী এর ছবি
 

অনেক অনেক ধন্যবাদ দাদা। আপনার সুচিন্তিত মতামত থেকে অনেক কিছু শিখতে পারি এবং নতুন করে লেখার অনুপ্রেরণা পাই। আবারও অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রক্তিম বিপ্লবী
রক্তিম বিপ্লবী এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 5 ঘন্টা ago
Joined: মঙ্গলবার, আগস্ট 29, 2017 - 3:02অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর