নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ক্যাম পাশা
  • সলিম সাহা
  • নুর নবী দুলাল
  • মারুফুর রহমান খান
  • লুসিফেরাস কাফের

নতুন যাত্রী

  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ
  • শহিদুল নাঈম

আপনি এখানে

প্রিয় অনিমেষ


প্রিয় অনিমেষ,
কেমন আছো তুমি? কত দিন দেখি নি তোমায়। তোমার কথা ভাবতে বুকে কেমন শূন্যতা আসে এখনো। তোমার কি কখনো মনে হয় না একটি বার এই চম্পা কে? তোমাকে কত টা ভালবাসি তুমি কখনো জানলে না অনিমেষ। বিশ্বাস করো এতগুলো বছর পরও আমার সবটুকু জুড়ে এখনো তুমি রয়েছ। বড় বেশি মনে পড়ে তোমায়। কেন এভাবে চলে গেলে আমাকে রেখে অনিমেষ?

জানো অনিমেষ, আজ সন্ধ্যে থেকে খুব বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশের বজ্রপাতের শব্দ আর আলোতে মনে হচ্ছে পৃথিবী ভেঙ্গেচুরে একাকার হয়ে আসছে। ঠিক যেন সেদিনের মত-- যেদিন তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গেলে। তারপর থেকে এমন বৃষ্টির সন্ধ্যা গুলো কে আমি ভয় পাই। মনে হয় নতুন করে আমি কিছু হারাবো আজ। তোমার স্মৃতি আমাকে এখনো ঘিরে আছে।

অনিমেষ, বন্ধু আমার। নিখিল তো আমার থেকেও তোমার খুব কাছের ছিলো। আমি মেয়ে বলে সব সময় হয়তো তোমার ছায়া হয়ে পারি নি। কিন্তু নিখিল! সে'তো তোমার পাশে ছায়ার মত থাকতো। সেও কি তোমার কথা ভেবে এখনো চিঠি লিখে? সেও কি বৃষ্টির রাতে ভয় পায় প্রিয় কিছু হারিয়ে ফেলার? সে'তো তোমার মরদেহ খুব কাছে থেকে দেখেছিলো সেদিন। তোমার বুকের উপর যখন মালভর্তি ট্রাক এপারওপার হচ্ছিলো তখন নিখিলই তো দেখছিলো। সেই তো প্রথম চিৎকার করে আহাজারি করেছিলো।

অনিমেষ, আমার চোখ ভিজে আসছে তোমায় ভেবে। তোমাকে বলার অনেক কথা জমে আছে। অন্ধকারময় এমন এক রাতে বলতে ইচ্ছে করছে তোমাকে সব। কিন্তু তোমার কথা ভাবতে গলা শুখিয়ে যাচ্ছে আমার। নিশ্বাস যেন এই মুহূর্তে বন্ধ হয়ে আসবে। তবু বলব আজ।আমাকে যে বলা দরকার। নিখিল এখনো আমাকে মাঝেমাঝে বলে তোমার কথা। আমাদের একসাথে স্কুলে যাওয়ার কথা। আমাদের বাড়িতে আমরা ৩ জনই তো ছিলাম সমবয়সী। হতে পারে পারিবারিক বা রক্তের সম্পর্ক নেই। তবু কি আমরা কম ছিলাম পরিবার থেকে? একসাথে খেলাধুলা একসাথে খাওয়া ঘুমানো কোন কিছু তে তো আমরা আলাদা ছিলাম না। তুমি কেন চলে গেলে অনিমেষ? এমন টা তো কথা ছিলো না। মাত্র ৮-৯ বছরে চলে গেলে।

জানো এখন আর আমি এই ঠাকুর বাড়িতে আগের সাত ভাই চম্পা নেই। কত আদরে না ছিলাম ছোট বেলায়! ৭ ভাইয়ের মাঝে একটি বোন বলে কতটা যে আদর পেতাম তুমিতো দেখতে সব। আমার চাওয়া পাওয়ার কি কমছিলো। দাদাদের কাছে কিছু চাওয়ার আগে কার আগে কে কিনে দিবে ব্যস্ত হয়ে যেতো সবাই। প্রতি বছর দুর্গাপূজায় তোমাদের একটি জামা থাকলে আমার থাকতো ৪-৫ টা। সাত ভাইয়ের পর আমার জন্ম বলে বাবা আমার নাম রেখেছিল চম্পা। কিন্তু এখন আর আগের মত কেউ আমাকে ভালবাসে না অনিমেষ। দাদারা এখন কেউ কথা বলে না আমার সাথে। ছোট ছোট কথায় আমার গায়ে হাত তুলে। বাবা কথা বলে নিতান্ত না বলার মত।
আমি খুব মিস করি দাদাদের ভালবাসা। বাবার স্নেহময় শাসন। মা ছাড়া বাড়িতে কেউ আমার সাথে কথা বলে না। আমার দম বন্ধ হয়ে আসে এই বাড়িতে। সব দোষ আমার অনিমেষ। আমি নিজেই সব হারিয়েছি। আজ বলব তোমাকে সব অনিমেষ। শুনো সব তুমি। তুমি চলে যাওয়ার পর ও আমার সেই 'সাত ভাই চম্পা' ছিলাম। বড় হলাম এস এস সি পাস করছি। দাদা বাবা কত খুশি হয়েছিলো জানো অনিমেষ। আমার যেদিন রেজাল্ট দিবে বড় দাদা উপাস থেকে সকাল থেকে প্রার্থনা করছিলো আমাদের মন্দিরে। একই বছর নিখিল ও পাস করে। দুজনে ভর্তি হলাম কলেজে। সেই ভর্তি আমার চিরচেনা পৃথিবীর কাল হয়ে দাঁড়ালো। সব কিছু ঠিক ভাবেই যাচ্ছিলো অনিমেষ। ১ম বর্ষের মাঝামাঝি সময় রুদ্র কে আমার ভাল লাগে। রুদ্র দাশ আমাদের কলেজে বাংলা বিভাগে ৩য় বর্ষে পড়তো তখন। জানো অনিমেষ, রুদ্র দেখতে খুব সুন্দর না। উজ্জ্বল শ্যামলা। তার নাক ধনুকের তীরের মত। হাসিতে কৃষ্ণ ভাসে। প্রথম প্রথম আমার দিকে কেমন ঘুরঘুর করে তাকিয়ে থাকত বোকাবোকা চাওনিতে। কোন কাজের ছলে যাওয়ার পথে হাটাহাটি করতো। আমি বুঝতাম সব। কিছু বলতাম না।

একদিন একটি কাগজ আমার লিখে পাঠিয়েছে- 'তোমার সাথে সুর্যোদয় দেখতে চাই।'
আমার খুব ভাল লাগতে শুরু করে রুদ্র কে। তারপর থেকে একটুআধটু কথা বলায় কখন যে ভালবেসেছি জানি না। নিখিল সব জানতো। আমিই বলতাম নিখিল কে সব। তুমি চলে গেলে নিখিলই তো আমার একমাত্র ভাল বন্ধু ছিলো। তারপর... আর কি। ছোটদা ও তখন অর্থনীতি বিভাগে। ছোটদার কাছে লুকোতে পারি নি কিছু। একদিন দেখে গেলো আমাদের। ছোটদা বাড়ি এসে সবাই কে বলে দিলো। সে'রাতে আমাকে প্রথম বারের মত থাপ্পড় দিয়েছিলো মেজদা। তারপর থেকে একটুতেই আমাকে মারে ওরা। কখনো ভাবে না আমি বড় হয়েছি আমার একটা পছন্দ আছে। যেই বাবা আমার পায়ে মাটি লাগতে দিতো না সেই বাবা কথায় কথায় খারাপ ভাষা ব্যবহার করে আমার সাথে। এখন আমার সাথে কেউ কথা বলে না। যদিও জানে আমি এখন আর রুদ্রর সাথে মেলামেশা করছি না। কিন্তু নিখিল জানে সব। গোপনে দেখা করি-কথা বলি। আমাদের সম্পর্ক এখনো আছে। আমি রুদ্র কে ভালবাসি অনিমেষ। আমি রুদ্র কে অনেক ভালবাসি।

অনিমেষ, রুদ্র দাশ নাম টা শুনে তো বুঝেই গেছ আমি ভালবেসে অন্যায় করি নি। অন্যায় করেছি ব্রাহ্মণ হয়ে 'দাশ' ছেলেকে ভালবেসে। অনিমেষ আমি তো রুদ্র কে ভালবাসি। সে ব্রাহ্মণ- শূদ তাতে কি যায় আসে। আমি তো তাকে ভালবাসতে একবার ও ভেবে দেখি নি, রুদ্র জাতে কি। আমি তো মানুষ টাকেই ভালবেসেছি। আমি যে এক উত্তাল সাগরে ঝাঁপ দিয়েছি অনিমেষ। আমার আপন আর কেউ রইলো না। সব কিছুর মাথাপেতে নিই একটি কারণে। রুদ্র আমায় পাগলের মত ভালবাসে অনিমেষ। আমাকে ছাড়া ও কিছু বুঝে না। একদিন কলেজে না এলে সে অসুস্থ হয়ে উঠে। ছোটদার ভয়ে কথা না বললেও দূর থেকে আমাকে দেখে সে। এত দূর থেকেও তার চোখে ভালবাসা দেখতে আমার একটুও অসুবিধা হয় না অনিমেষ।

অনিমেষ, আমি জানি এখন যা তোমায় বলতে যাচ্ছি তা শুনে আমাকে কখন ক্ষমা করবে না তুমি। তবু বলব আজ তোমায়। তোমাকে না বলা যে আমার অন্যায় হবে অনিমেষ। তুমি জানো না অনিমেষ। আমি আর নিখিল একটি কথা তোমার থেকে লুকিয়েছি। তুমি আমি নিখিল একসাথে বড় হয়েছি। একসাথে খেলতাম। ছোটবেলায় একদিন সন্ধ্যায় লুকোচুরি খেলায় নিখিল আর আমি লুকিয়েছিলাম। তখন নিখিল আমার প্যান্টে হাত ঢুকিয়ে দিলো। আমি সুড়সুড়ি অনুভব করছিলাম। তবে বুঝতে পারতাম এটি গোপন কিছু। তারপর থেকে প্রায় সে আমার প্যান্টে হাত দিতো। মাঝেমাঝে যখন তুমি আমাদের সাথে ঘুমাতে না সে আমার প্যান্ট খুলে বুকের উপর উঠতো। আমরা এই গোপন খেলার মেতে ঘুমিয়ে যেতাম। তখন কত হবে আমাদের বয়স। ৭-৮ বছর। কি'বা বুঝতাম তখন। তারপর ধীরেধীরে বড় হতে আমাদের বিছানা আলাদা হলো। শারীরিক পরিবর্তন আসলো। বুঝতে শিখলাম সেই গোপন খেলা আসলে খেলা ছিলো না। কিন্তু আজ! এতগুলো বছর পর নিখিল আমার শরীর চায়। একটু সুযোগে সে আমার দিকে নোংরা হাত বাড়িয়ে দেয়। নানা কৌশলে গায়ে হাত দেয় সে। সুযোগ পেলে মনে করিয়ে দিতে চায় আমাদের সেই গোপন খেলা।

অনিমেষ, আমি কি করব বলো। জানো, আমি নিখিলের এসব নোংরামি প্রথম প্রথম হাসিতে উড়িয়ে দিতাম। তারপর অনেক সময় কথায় কথায় বুঝিয়েছি। আমরা বড় হয়েছি এখন। ছোটবেলায় যা ছিলো তা নিতান্ত ভুল। নিখিল কোন ভাবে সরছে না এসব থেকে। আমি কিছু বলতে পারছি না জোর করে। বাড়িতে সবাই আমার উপর ক্ষেপে আছে। আর নিখিল সব জানে আমার আর রুদ্রর গোপনে কথা বলা-যোগাযোগ করা। সে আমার সব দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে। আমি কি করব অনিমেষ? তুমি তো আমার বন্ধু। একটু কিছু বলো। না হলে আমি যে খুব তাড়াতাড়ি তোমার কাছেই আসতে হবে।

ইতি
'চম্পা'

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রাহুল মল্ল
রাহুল মল্ল এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 6 দিন ago
Joined: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 27, 2016 - 1:34পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর