নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মুফতি মাসুদ
  • নুর নবী দুলাল
  • আবীর নীল
  • নরসুন্দর মানুষ

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

প্রসঙ্গ – বাংলা ট্রিবিউনের দুঃখ প্রকাশ।


বাংলা ট্রিবিউন লেখক তসলিমা নাসরিনের “কাঠুয়ার আর উন্নাওয়ের ধর্ষণ” শিরোনামের লেখাটি প্রকাশ করে ১৫ই এপ্রিল, ২০১৮ তারিখে। লেখাটিতে লেখক তসলিমা নাসরিন জোর দিয়ে এটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন, যখন কোনো নারীকে ধর্ষণ করা হয়, তার জাত দেখে, বর্ণ দেখে, পরিচয় দেখে ধর্ষকেরা ধর্ষণ করে না। হিন্দু ধর্ষকেরা মুসলিম নারী বলেই মুসলিম নারীকে, বা মুসলিম ধর্ষকেরা হিন্দু নারী বলেই হিন্দু নারীকে ধর্ষণ করে না। ওরা ধর্ষণ করার সুযোগ পেলেই ধর্ষণ করে। হিন্দু ধর্ষকেরা হিন্দু নারীকে হাতের কাছে বেশি পায় বলে, হিন্দু নারীকেই বেশি ধর্ষণ করে। তেমনই মুসলিম ধর্ষকেরা হাতের কাছে মুসলিম নারীকেই বেশি পায়, তাই মুসলিম নারীকেই বেশি ধর্ষণ করে। জাত, ধর্ম নয়, ধর্ষকেরা নারীকে শুধু একটি শরীর, ধর্ষণের বস্তু, বা নারী মানেই আস্ত একটি যোনি যেখানে পুরুষাঙ্গ ঢুকিয়ে পেশীর জোর দেখিয়ে ধর্ষণ করা যায়, এমনটা ভেবেই ধর্ষণ করে।

লেখাটি সম্পূর্ণই বুদ্ধিদীপ্ত, সুন্দর একটি লেখা। যেখানে মনস্তাত্বিক আলোচনা করেছেন লেখক। ধর্ষণের সাথে যে হিন্দু, মুসলমান হিংসার কোনো সম্পর্ক নেই, ধর্ষণ করতেই কেবল ধর্ষকেরা ধর্ষণ করে, এটাই আলোচনা করেছেন লেখক। অথচ লেখাটি বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশের পর থেকেই নাকি মৌলবাদদের মৌল – অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে! লেখক নাকি এই লেখাটিতে ধর্ম প্রসঙ্গ টেনে মৌলবাদদের আঘাত করেছেন। তাই বাংলা ট্রিবিউন লেখাটিকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। শুধু সরিয়ে দেওয়াই নয়, বাংলা ট্রিবিউন ওই সমস্ত মৌলবাদদের কাছে নতজানু হয়ে ক্ষমাও চেয়েছে দুঃখ প্রকাশ করে।

লেখক তসলিমা নাসরিনের সাথে এমন ঘটনা তো নতুনকিছু নয়। বারেবারে ধর্মান্ধ মানুষ লেখক তসলিমা নাসরিনকেই নিশানা বানিয়েছে ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত করার কথা উল্লেখ করে। এতোই যদি ধর্ম তোমাদের বাকস্বাধীনতা দেয়, এতোই যদি ধর্ম তোমাদের মুক্ত করে, তবে তোমরা কেন একজন মানুষ, যে কিনা একজন লেখক, তার চিন্তার প্রকাশের বিরোধিতা কর! তাঁরও নিজস্ব মত আছে, তাঁরও নিজস্ব চিন্তা আছে, বাকস্বাধীনতা আছে। কিন্তু তোমরা বারেবারে ওই মানুষটার মুখ বন্ধ করতে চেয়েছ। মাথার দাম ঘোষণা করে খুন করতে চেয়েছ। একটি গোটা রাজ্য, একটি গোটা দেশ থেকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়েছ তাকে চুপ করানর জন্য। কারণ সেই মানুষটার কথা তোমরা সহ্য করতে পার না। সেই মানুষটার চিন্তা এবং অকপটে সত্য বলে ফেলাকে তোমরা ভয় পাও। তোমরা ভয় পাও যে নারী যদি কেবল যৌনবস্তু না থেকে শিক্ষিত হয়ে ওঠে, তবে তোমাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। তোমরা আর নারীর ওপর প্রভুত্ব বিস্তার করতে পারবে না। নারীকে দাস বানাতে পারবে না। তাই তোমরা লেখক তসলিমা নাসরিনকে বারেবারে চুপ করাতে চেয়েছ যেকোনো সীমা অতিক্রম করে। ধর্মের দোহাই দিয়ে বলেছ, লেখক তসলিমা নাসরিন তোমাদের ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

তোমরা মানুষটাকে বারেবারে আঘাত করেছ। সে কিন্তু তোমাদের আঘাত সহ্য করেও আপসহীন থেকেছে। সে কখনোই তোমাদের অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেনি। ভেঙে পড়তে পড়তেও সে আবার জ্বলে উঠেছে। আপস করলো বাংলা ট্রিবিউন। মৌলবাদদের চিৎকার চেঁচামেচির সামনে ভীত হয়ে, কাপুরুষের মতো নতজানু হয়ে ক্ষমা চাইলো। দুঃখ প্রকাশ করলো। লেখাটিকে সরিয়ে দিয়ে আপস করলো ধর্মান্ধদের সাথে, ধর্মের দালালদের সাথে। দুঃখ প্রকাশ তখনই করা হয়, যখন কেউ কোনো ভুল করে। কিন্তু কিসের ভুল! লেখাটিতে কোন অংশে ভুল আছে! কোথাও কিন্তু এতোটুকু পরিস্কার করে বলল না যে লেখক তসলিমা নাসরিনের লেখার কোন অংশটি ভুল। শুধু দুঃখ প্রকাশ করলো এবং ক্ষমা চেয়ে লেখাটিকে সরিয়ে দিলো।

বাংলা ট্রিবিউনের সম্পূর্ণ অধিকার আছে কোন লেখা তারা প্রকাশ করবে বা করবে না, সেটা যাচাই করার। কিন্তু একবার লেখাটি প্রকাশ করার পর, কোনো প্রাসঙ্গিক কারণ ছাড়াই সেটিকে সরিয়ে দিলে, লেখককে অপমান করা হয়। এতোই যখন আপত্তি, তখন লেখাটিকে প্রথমেই কেন যাচাই করে নেওয়া হয়নি? লেখাটি নিয়ে বলা হল, একটি বাক্য মানুষের ধর্মের অনুভূতিকে আঘাত করেছে, তাই লেখাটিকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। ঠিক কোন বাক্যটি অনুভূতিতে আঘাত করেছে, সেটা কেন স্পষ্ট করে বলা হল না? এটা তো পাঠক এবং লেখকের ভক্তদেরও অপমান করা! লেখাটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চাওয়া, এতে বাংলা ট্রিবিউন শুধু নিজেদেরকেই অসম্মান করেনি, ছোট করে দিয়েছে লেখকের লেখাকেও। আপনি লেখা ছাপাবেন না, কিন্তু একজন লেখককে এবং একটি লেখাকে এভাবে প্রকাশ্যে অপমান করতে পারেন না বাংলা ট্রিবিউন।

সম্পাদকের ক্ষমা চাওয়ার শেষ পর্বে লেখা হয়েছে, “বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। এখানে বাংলা ট্রিবিউনের কোনও মতামত বা নীতি প্রতিফলিত হয়নি।” তাই যদি হতো, তবে আপনারা এভাবে লেখক তসলিমা নাসরিনের লেখাটিকে সরিয়ে নিতে পারতেন না।

বাংলা ট্রিবিউনকে এতকাল নিরপেক্ষ ভেবে এসেছি। প্রকাশিত লেখাগুলিকে সম্মান করে পড়েছি। আজকের পর থেকে আর আপনাদের প্রতি কোনো সম্মান থাকল না বাংলা ট্রিবিউন। এখন থেকে আপনাদের মেরুদণ্ডহীন মনে হচ্ছে। ধর্মান্ধদের সাথে আপসে আসা সমাজের একটা পচা অংশ মনে হচ্ছে বাংলা ট্রিবিউনকে।

একরাশ ধিক্কার ..

- সৌম্যজিৎ দত্ত।

বিভাগ: 

Comments

নগরবালক এর ছবি
 

ভাই, বাংলাট্রিবিউন কে আপনি কোন অর্থে নিরপেক্ষ ভাবতেন! ধর্মের ইস্যুতে? তারা একটি রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন কারী সংবাদ মাধ্যম। আর বাংলাদেশের যেখানেই রাজনীতি সেখানেই ধর্মান্ধদের জয়জয়কার। আর বাকি থাকে তাদে লেখা যাচাইবাচাইয়ের বিষয়ে। বাংলাট্রিবিউনে "নাদিম কাদির" নামক এক সংবাদিক কলাম লিখতেন, তিনি লন্ডনে বাংলাদেশের ওয়েষ্টমিনিষ্টারের দায়িত্বে ছিলেন সম্ভবত, তো বাংলাদেশের একজন কূটনৈতিক হয়ে তিনি লেবার পার্টির পক্ষ নিয়ে একটা কলাম লিখে ছিলেন। সেটা প্রকাশ করে বাংলাট্রিবিউন ভালো ফ্যাসাদে পড়ছিলো, লেখককে তার দায়িত্বের পাঠ চুকিয়ে বাংলাদেশে ফিরতে হয়েছে। যাই হোক অবিবেচকের মতো কাজ করার ইতিহাস আছে বাংলাট্রিবিউনের।

‌‌‍‍--নগরBaLoK--

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সৌম্যজিৎ দত্ত
সৌম্যজিৎ দত্ত এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 2 দিন ago
Joined: বৃহস্পতিবার, মে 17, 2018 - 8:39অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর