নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ক্যাম পাশা
  • সলিম সাহা
  • নুর নবী দুলাল
  • মারুফুর রহমান খান
  • লুসিফেরাস কাফের

নতুন যাত্রী

  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ
  • শহিদুল নাঈম

আপনি এখানে

ওটাগো কোস্টের "কাওকোহি" বিচে প্রাপ্ত বোতল কাহিনি : পর্ব-৪ নেফারপ্রীতির ঢাকার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ পর্ব



জীবনে এই প্রথম অত্যাধুনিক এসি জাপানি কারে আরোহণ করে বেশ পুলকিত হলো বোতলকন্যা নেফারপ্রীতি! ঢাকার ব্যস্ত সড়কে মানুষ, বাস, ট্রাক, গাড়ি, ঠ্যালা, ভ্যান, রিক্সা, মুটে দেখে বারবার উল্লাসধ্বনি প্রকাশ করতে থাকে আনন্দেভরা রহস্যময়ী মিসরি রাজকন্যা নেফারপ্রীতি। র‍্যাংস-বিজয়সরণি চতর্মুখী সিগন্যালে গাড়ি থামলে, অনেকক্ষণ থামিয়ে রাখলো ট্রাফিক পুলিশ সবার মত আমাদেরকেও। তা দেখে নেফারপ্রীতি বললো, "২/৩-বার সবুজ বাতি জ্বলার পরও ছাড়ছে না কেন"?
বললাম, "দুর্নীতির কারণে পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে ঢাকার। কেউ কারো কথা শুনছে না, তাই দিশেহারা পুলিশ কি করবে বুঝতে পারছেনা মনে হয়"!
চোখেমুখে রহস্যের আনন্দবন্যা এনে নেফারপ্রীতি বললো,
"কিছু একটা করবো কি আমি"?
বললাম, "নিশ্চয়ই কিছু কারিশমা দেখাও না প্লিজ"!
প্রথমে ট্রাফিক ভেঙে চারদিক থেকে পাগলের মত ছুটে চলা সব মোটর সাইকেলগুলোকে নেফারপ্রীতি চোখের ইশারায় ৪-সিগন্যালের ঠিক মাঝখানে "ফ্রিজ" করে থামিয়ে দিলো, যারা কোন নিয়মকানুন না মেনে চারদিক থেকে ছুটছিলো পাগলের মত। এবার পেছনে আঙুলের ইশারা দিতেই সব মোটর বাইকগুলো পেছন দিকে যার-যার অবস্থানে চলে যেতে থাকলো উল্টোভাবে। ১-মিনিটের মধ্যে সব বাইকগুলো চলে গেল চারদিকে তাদের আগের অবস্থানে। একটা ছোট ফুঁ দিল সে। যাদের মাথায় হ্যালমেট ছিলনা, তাদের প্রত্যেকের মাথার চুলগুলো উড়ে গেল নেফারপ্রীতির এ ফুঁতে। আর বিশালাকার চকচকে টাক দৃশ্যমান হলো সব হ্যালমেটহীন মাথাতে। ৩-জন মহিলা বসা ছিল বাইকে চালকের পেছনে হেলমেটবিহীন। তাদের টাকলু মাথা দেখে হি-হি করে হাসতে থাকলো নেফারপ্রীতি! হাসতে হাসতে বললো, হিজাবপরা রূপসি মেয়েটার টাক মাথাটা একটু দেখো। কি অবস্থা তার! বললো, আরেকটু ফান করবো কি?
বললাম - করো প্লিজ! শিক্ষা হোক আইন না মানা সবার।
চোখ টিপতেই একঝাঁক কাক কা-কা রবে উড়ে এলো পুরনো তেজগা এয়ারপোর্ট রানওয়ের জঙ্গল থেকে। দেরি না করে তারা প্রত্যেকে প্রত্যেকটি টাকলু মাথার উপর হাগু করে চলে গেল আবার ঐ দিকেই চোখের পলকে। কেউ ডানহাত, কেউবা বামহাত মাথায় দিয়ে মুছে তা শুকতে থাকলো হাত নাকের কাছে নিয়ে! সাদা চুনের মত কাকের গু-দৃশ্যে এক অনন্য ফান সৃষ্টি করলো বিজয় সরণি মোড়ে !
:
চারদিকে জনা কুড়ি পুলিশ, পথচারীরা, গাড়ির ড্রাইভার আর যাত্রীরা হলিউড সিনেমার কাহিনির মত এ দৃশ্য দেখে পাথর হয়ে রইল যেন।
যাদুকন্যা নেফারপ্রীতি জানতে চাইলো, আর কি করবো এখন?
বললাম, ট্রাফিকরা যেন ট্রাক-ধরা বাদ দিয়ে সিগন্যালের বেঁধে দেয়া টাইমমত গাড়ি ছড়ে, আর থামায় তা কি করা যাবে?
"তথাস্তু" বলে হেসে ফেললো মেঘবালিকা নেফারপ্রীতি!
বিস্ময়করভাবে প্রত্যক্ষ করলাম আমি, এবার ট্রাফিকের হাত উঠছে আর নামছে একদম লাল-সবুজ বাতির সাথে সমন্বয় করে। যেন তারা রোবট এখন এ ঢাকার রাস্তায়।
ফার্মগেটের দিকে এগুলাম আমরা। বাদিকে এলোমেলো গোটা ত্রিশেক বাস দাঁড়ানো। একজনকে ওভারটেক করে আরেকজন দাঁড়িয়েছে রাস্তা দখল করে। আমরাও যেতে পারছিলাম না এলোমেলো রাস্তা দখলকারী বাসের কারণে। বললাম, এই হচ্ছে ঢাকার বাস ও এদের রাস্তাদখল। ওদের অধিকাংশ ড্রাইভারের কোন লাইসেন্স নেই। আর গাড়িগুলোর ফিটনেস, লাইট, গায়ের চামড়া, সিটবেল্ট নেই, তাতো তুমি নিজ চোখেই দেখছো। কি করা যায়? করো একটা কিছু তুমি ওদের শিক্ষা দিতে!
একটু হালকা ফুঁ দিলো নেফারপ্রীতি। মূহূর্তে ৩০-টা বাস ড্রাইভারের ২৮-জনের পরনের প্যান্ট বা লুঙ্গী উড়ে গেল বাতাসে। কেউ কেবল জাঙ্গিয়া, আর যাদের পরনে তা ছিলনা, তারা ২-হাত বা খবরের কাগজ দিয়ে নিজের লজ্জাঙ্গটা ঢেকে বসে রইলো ড্রাইভিং সিটে! এলোমেলো দাঁড়ানো বাসগুলোকে কাত করে ২-চাকার উপড় দাঁড় করিয়ে পেছনে নিয়ে আসলো তাদের। দুমিনিটে সারিবদ্ধ করলো সবগুলোকে। মানুষ বিস্ময়করভাবে চেয়ে দেখতে থাকলো এ ভুতুড়ে কান্ড বাসস্টান্ড ও ফার্মগেট চর্তুমুখী ওভারব্রিজ থেকে!
এবার নেফারপ্রীতি বললো, বাসের ভেতরে উঠি?
ভয় পেয়ে বললাম, এ ড্রেসে কিভাবে উঠবে তুমি বাসে? তোমাকে দেখলে সবাই তাকিয়ে থাকবে তোমার দিকে মোহিত হয়ে। সব প্লান বেস্তে যাবে আমাদের!
বললো, অদৃশ্য হয়ে যাবো আমি বাসের মধ্যে!
বাদিকে আলরাজি হাসপাতালের গ্যারেজে গাড়ি পার্ক করে দুজনে উঠলাম বাসে। আমি দৃশ্যমান নেফারপ্রীতি অদৃশ্য। গেটে এতোক্ষণ হেলপার ডাক দিচ্ছিল, "সিটিং বাস গুলিস্তান! উঠলেই ১০-টাকা"!
কিন্তু নেফারপ্রীতি ভাষা বদল করে দিলো হেলপারের। সে ওর গলার মধ্যে ঢুকে আওয়াজ ছাড়লো, "রোজার খুশিতে ভাড়া গুলিস্তান এক টাকা, উঠুন কুইক। এক টাকা মাত্র"!
মূহূর্তে ভরে গেল বাস। বাসযাত্রী হয়ে এগুচ্ছি আমরা সামনে। আমি দৃশ্যমান যাত্রী, আর নেফারপ্রীতি অদৃশ্যমান আমার পাশেই। কন্ডাকটর এসে ভাড়া চাইলো ১০-টাকা। বললাম, ১০-টাকা কেন? তোমার হেলপারতো বললো ১-টাকা।
মশকরা পাইছেন নাকি? ১-ট্যাকা কোন ভাড়া আছে বাংলাদেশে? ১-ট্যাকায় পেচ্ছাবও করেনা বাসের ড্রাইভার, হেলপার বা আমি। পেসেঞ্জার কেউ কেউ সাপোর্ট করলো আমাকে। এক বুড়ো আমাকে জ্ঞান দিয়ে বললো, "রোজার দিনে ফাও ঝগড়া বিবাদ কেন করছেন ভাই? ১-টাকাতো এখন খয়রাতও নেয়না ভিক্ষুকে! ১০-টাকা করে দিয়ে দিন তো ভাই"! তিনি নিজে ১০-টাকা বার করে দিলো কন্ডাকটরের হাতে। তা দেখিয়ে সে আমাকে ও সবাইকে বললো, "এই দ্যাখেন, চাচা মেয়া ১০-ট্যাকা দিচ্ছেন ভদ্দর লোকের মত। সককলে ১০-টাকা কইরা দ্যান। ক্যাচাল করলে মাইর খাইবেন! ধাক্কা দিয়া ফালাইয়া দিমু বাস থাইকা! শ্যেষে হাড়গোড় ভাঙলে আমাকে দোষ দিতে পারবেন না"!
:
এবার চাচার দেয়া ১০-টাকা ভাঁজ করে হাতে রাখলো সে। কিন্তু তার হাতে থাকা টাকার গুচ্ছ থেকে একটা ৫-টাকার ও দুটো ২-টাকার নোট কে যেন তুলে দিলো কন্ডাকটরের হাতে। তার হাতে ঢুকিয়ে ৯-টাকাসহ অশরীরি তাকে ঠেলে নিয়ে গেল একদম চাচার সামনে। চাচার হাতে ৯-টাকা মুখ কালো করে গুজে দিয়ে বললো, "এই নিন চাচা আপনার ন-টাকা"।
কাওরান বাজারে গাড়ি থামলে ড্রাইভারের ডানদিকের ছোট জানালা দিয়ে এক লোক চাঁদার বই নিয়ে দুশো টাকা চাঁদা চাইলো। জাইঙ্গা পরা ড্রাইভারের গলা থেকে আওয়াজ বের হলো, "কিসের চান্দা রে হালারপো? মগের মুল্লুক পাইছস"? আকস্মিক ৪-মাস্তান এসে টেনে নামাতে চাইলো ড্রাইভারকে। কিন্তু তারা লক্ষ করলো ৪-জনেরই প্যান্ট কে যেন টেনে নামিয়ে ফেলেছে হাঁটুর নিচে। আকস্মিক রাস্তার ১০/১২ জন টোকাই এসে থু-থু দিতে থাকলো ৪-মাস্তানের পাছায়। নিজেদের পাছার থু-থু মুছতে আর প্যাট যায়গামত তুলতে ব্যস্ত হলো তারা, এই ফাঁকে গাড়ি টান দিয়ে সামনে এগুলো ড্রাইভার সামনে! বাংলামোটর সিগন্যালে ৬/৭ জন ট্রাফিক পুলিশ বা-দিকে সাইট করতে বললো বাস!
:
ওয়ারলেস হাতে সার্জেন্ট এসেই জানালা দিয়ে চুল ধরলো ড্রাইভারের। বললো, "শুয়ারের বাচ্চা, বিনা লাইসেন্সে, বিনা ফিটনেসে গাড়ি চালাস তোর বাবার রাস্তায়? তারপর চাঁদা দিবিনা? কাওরান বাজারে লাইনম্যানেরে টাকা দিছস তুই"?
হাত জোড় করে কাঁদো-কাঁদো স্বরে ড্রাইভার বললো, "ওস্তাদ, আইজ কি যে অইছে, কিছু কইবার পারুম না। এই দ্যাহেন, আমার পরনের কাপড়খান পর্যন্ত নাই ওস্তাদ! কারুন বাজারে কি অইছে, কি কইছি কিচ্ছু মনে নাইককা ওস্তাদ আমার"!
সার্জেন্ট গলা খাঁকাড়ি দিয়ে বললো, "ও বুজছি! আজ ইয়াবার লগে ডাইলও খাইছস। কতবার কইছি, গাড়ি চালানোর সময় ইয়াবা খাইলে ডাইল খাবিনা, আর ডাইল খাইলে ইয়াবা খাবিনা। এই দেখ, আমি সকালে ইয়াবা খাইলাম। কৈ তোর মত প্যান্ট খুইলা ফালাইছি? দে ২০০ টাকা চান্দার লগে আরো ৩০০ টাকা জরিমানা। এইবার ৫০০ টাকা দে ঐ ছক্কু মেয়ার হাতে। আমি সরকারি অফিসার। টাকা পয়সা হাতে নেই না"! এবার ছক্কু নামের এক চাঁদাবাজ এলো ড্রাইভারের কাছে টাকা নিতে।
কিন্তু চাঁদা নেয়ার আগেই ছক্কু আর সার্জেন্ট দুজনের পরনের কাপড় টেনে নামিয়ে দিলে অদৃশ্য নেফারপ্রীতি। রাস্তার শ-দুই মানুষের সামনে পুলিশ সার্জেন্ট আর তার চাঁদাবাজ সহযোগি ল্যাংটা হয়ে পুলিশ বক্সে যাওয়ার আগেই কোত্থেকে দুটো মর্দা কুকুর ছুটে এলো তড়িৎ। তারা এক পা উুঁচ করে হিসি করতে থাকলো ঐ সার্জেন্ট আর তার চাঁদা সংগ্রহকারী ছক্কুর মুখ লক্ষ্য করে। ওরা একটুও নড়তে পারলোনা, যতক্ষণ না কুকুর দুটো তীব্রবেগে তাদের সব মুত নিক্ষেপ করতে পারলো ওদের দুজনের মুখে। কুকুরের মুত ওদের দুজনের মুখ বেয়ে নামতে থাকলো পেট আর নাভি বেয়ে নিচের দিকে।
রাস্তার সকল মানুষ, ওভারব্রিজে দাঁড়িয়ে হাজারো পথচারি বিস্ময়কর দৃষ্টিতে দেখতে থাকলো এ চমকপ্রদ দৃশ্য!
:
(এরপর ৫ম পর্ব আগামিকাল)

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 12 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর