নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ক্যাম পাশা
  • সলিম সাহা
  • নুর নবী দুলাল
  • মারুফুর রহমান খান
  • লুসিফেরাস কাফের

নতুন যাত্রী

  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ
  • শহিদুল নাঈম

আপনি এখানে

বাঙালী মডারেট ধার্মিক ও লোকদেখানো বাহ্যিক প্রগতিশীলতা


"খালি কলসি বাজে বেশী"-এই অলংকারটি হয়ত বাঙালী মডারেট ও তথাকথিত ধার্মিকদের পাশে নির্দ্বিধায় বসিয়ে দেয়া যেতে পারে এবং এই অলংকার তাদের বাহ্যিক রুপবৈচিত্রের সাথে একান্ত না গেলেও অন্তরের ভাবনাচিন্তার সাথে একান্তই বেমানন নয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে সুশোভন অথবা ভালোভাবে বলতে গেলে "সোনায় সোহাগা" বলতে পারেন।এটা বাংলাদেশী ধার্মিকদের একটি বড় সমস্যা, কেউ হিন্দুদের সমালোচনা করলে বলে পাকি দালাল,কেউ মুসলিমদের সমালোচনা করলে তখন ভারতের উদাহরণ টানেন।আর ভারতের কথা যদি বলেনই প্রতিবেশী দেশ হিসেবে তবে আমি বলবো-তুমি অধম হইলে আমি উত্তম হইবো না কেন?তাঁরা যদি অন্যায় করেওবা আমাদের ও তাই করতে হবে!ব্যাপারটা আমার কাছে বালসুলভ মনে হয়,বাচ্চা বয়সে কোনো খারাপ কাজের জন্যে ক্লাসে শিক্ষক আমাদের দাঁড় করালে যেমন আমরা অন্য কোনো বন্ধুর দিকে আঙুল তুলে বলতাম-"স্যার ও ওতো করে",অনেকটা সেরকম।

ভারত বাংলাদেশের মতো সমাজতন্ত্র আর ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধান মূল স্তম্ভে নিয়ে ৩০লাখ শহীদের রক্তের স্নান করে স্বাধীনতা পায় নি ,তবুও বাংলাদেশ যে মূলনীতি আকঁড়ে ধরে এতবড় অর্জন করেছে তার সম্মান কতটুকু রাখতে পেরেছি আমরা?একটা উক্তি এক্ষেত্রে যথেষ্ঠ ফলে গেছে,"স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন"।একক জাতি হিসেবে এতোবড় আত্মহুতির পরেও আমরা আমাদের আত্মদানের মহিমাকে উজ্জ্বল করতে পারি নি,বরঞ্চ তা ক্রমশ ফেঁসে গ্যাছে মৌলবাদের গ্যাঁড়াকলে-হয়ে গ্যাছে বহুদিন পাথরচাপা পড়া ঘাসের মতোই ম্লান।তবুও ভারতের কথা জোর করে যদি তোলেন, আমি বলবো-মতোবিরোধ হলে চাপাতির চালোনার সংস্কৃতি তাঁরা এতখানিও আয়ত্ত্বে আনতে পারিনি যেটা আমাদের দেশজ মুসলিম মৌলবাদীরা পেরেছে।তাহলে আমরা কেন ভালো জিনিস থেকে শিক্ষা না নিয়ে বারবার খারাপ বিষয়ের তুলনা দিতে যাবো,কালকে যদি ভাবতের এন,ডি,পি ও জি,ডি,পি নেমে যায় তাহলে কি আপনি সরকারকে বলবেন ভারতের টা কম আমাদের ও কমাতে হবে!আমরা তো বাদর নই - এত অনুকরন কেন?

মডারেট মুসলিমগণ যতই সামনে সামনে ইনিয়েবিনিয়ে এই চাপাতি প্রথা(এটা এখন একটি বিশেষ শ্রেণীগোষ্ঠীর প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে) বিরোধ করেন প্রগতিশীলতা ও ধর্মীয় উৎকর্ষের প্রমাণ দিতে চান, মনেমনে কোপাকুপির সংবাদে তাদের প্রায় অধিকাংশই মানসিক আনন্দলাভ করেন যেন গঙ্গাস্নান করে উঠলেন নাস্তিক মুর্তাদের রক্তে ।এর প্রকৃত বাস্তব উদাহরণ দিতে পারবেন মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ভাই। আমিও কিছুদিন ধর্মীয় ভাবধারা সম্বন্ধে জানতে নানা ধর্মানুষ্ঠানে(হিন্দু -মুসলিম ও খ্রিস্টানদের) যোগ দিয়েছি এবং দেখেছি তাঁরা কিভাবে মানুষের মনে ধর্মীয় বিষবাষ্প ছড়ায়-যার ধর্মীয় সামপ্রদায়িকতা ছড়িয়ে দিতে পারে একটি শিশুর শিরায় শিরায়,যা জীবনব্যাপী তাকে চালনা করতে পারে ধর্মনেতারদের বয়ানে এবং তার অন্তরে জন্মদেয় ধর্মীয় মৌলবাদের।ধর্মীয় মৌলবাদের এই বিষবৃক্ষ পাতা মেলে তার মনে ,ধর্মানুভূতি ও ধর্মশিক্ষা যাতে আলো দেয়,গাছটি শেকড় গাড়ে তার হৃদপিন্ডে একদিন গ্রাস করে তার সম্পূর্ণ শরীর ও মন।এভাবে চললে একদিন দেশটা হয়ত ছেয়ে যাবে ধর্মীয় মৌলবাদের গাছে গাছে,যে বিষবৃক্ষের আড়ালে সহানুভূতি,সহমর্মিতা,সহনশীলতা,সুখ-শান্তি এই "স" সূচক শব্দগুলো লোপ পেয়ে যাবে,আর সে গাছগুলো যদি একবার শেকড় গেড়ে বসে পড়ে আমাদের মৌলিকতাকে ধ্বংস করে দেয়-তখন তার মূলোৎপাটন আদৌ সম্ভব হবে কিনা,আমার সে বিষয়ে বিশেষ সন্দেহ আছে।একবার সৌদির গ্রান্ড মুফতি মুসলিমদের উদ্দেশ্যে নাকি ফতোয়া দিয়েছিলেন -"লেখকদের বিরুদ্ধে কখনো ফতোয়া দেয়া যাবে না।"তাহলে বলতে হবে আমাদের দেশের মুসলিমদের মানসিকতা এখন মধ্যপ্রাচ্যীয় পশুশ্রেণীয় মুসলিমদের থেকেও এখন নিকৃষ্ট হয়ে পড়েছে?

অনেক মডারেটরাই অন্যের শোনা বুলি কপচান অথবা ক্ষমাতাসীন দলের আনুগত্য লাভের জন্য গলাফাটিয়ে চিৎকার করেন,"যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে তাদেরকে ঘৃণা করি,ব্লা ব্লা ব্লা"। রাজনৈতিক স্বার্থে যারা ইসলাম নিয়ে যারা রাজনীতি করেন,তারা যতটুকু ইসলাম জানেন তার সিকি ভাগ ও আমাদের দেশের মডারেট মুসলিম রা জানেন না।তারা শুধু বলেন ওরা এ বোঝে না সে বোঝে না,আসলে তাঁরা নিজেরা যে কি পড়েন আর কি বোঝে্ন তারই কোনো মাথামুন্ড নেই ,কারন সত্যিকার কথা হলো হেফাজতে ইসলামের প্রায় সব সদস্যই মাদ্রাসা ছাত্র ।তাঁরা ধর্মশিক্ষার কারনেই রাজনৈতিক এসব দলে ভীড় করে অবশ্য তার সাথে স্রোতে গা ভাসিয়ে কিছু রক্তগরম ছেলেজোয়ানও আছে।তবে ইসলাম সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান এরাই রাখে এবং এদের সাথে ধর্মীয় জ্ঞান খাটাতে গেলে মডারেটরা তোপেও টিকবে না। যে কারনে আমাদের দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি অংশের সমর্থন পায় তাঁরা।

এবার একটু মুক্তমনাদের দুরবস্থার কথা বলি,আমার বিগত ফেসবুক পোস্টে আমার উচ্চশিক্ষিত মডারেট মুসলিম একবন্ধুর অনেক কমেন্টের মধ্যে একটি ছিলো,"নাস্তিকতা যার যার ব্যাপার।কিন্তু নাস্তিকতাকে ব্যবহার করে ফেইম সিকারদের আনাগোনাটা কোন ভাবেই কাম্য না।আমাদের দেশটা যথেষ্ট অসাম্প্রদায়িক। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদে।"
এখানে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলতে উনি কি বুঝিয়েছেন উনিই জানেন? বাংলাদেশে এই বর্তমান অবস্থায় যে দেশে অবস্থান করে আইডিতে নিজস্ব ছবি আইডেনটিটি দিয়ে ধর্মীয় কুসংস্কারবিরোধী পোস্ট করতে যাবে তার যে কি অবস্থা হতে পারে এ কথা হয়ত প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী বাচ্চারাও বোঝে।সে হয়ত আসিফ মহিউদ্দিন ভাই বা মুফফাসসিল ভাইয়ের লাখ লাখ ফলোয়ারদের দেখে এমনটা মনে করছে।কিন্তু ব্যাপারটা ভিন্নরকম,তাঁরা দেশীয় মৌলবাদীদের আওতার বাইরে বলে যা কিছু বলতে পারে কিন্তু দেশে এইধরনের কথা বললে কি ধরনের পুরষ্কার পাওয়া যায় তা অনেক আগেই জাতি দেখে এসেছে।হয়ত দেশের সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের এই মেনে নিতে না পারার অসহনশীলতা চর্চা থেকেই আজকে দেশে এতগুলো ব্লগার খুন,কত যে গুম হয়েছে তার হিসেব নেই।এই বাকস্বাধীনতার(আমি বলবো বাক্সস্বাধীনতা কেননা বর্তমান পরিস্থিতিতে কথাতো আমাদের মুখ থেকে বেরোয় কিন্তু কথার গুণগত মান কতটা সরকার ও ধর্মের অনুকূলে তা বিচার না করে প্রকাশিত হয় না) জন্যেই হয়ত সুষুপ্ত পাঠক এতো ফলোয়ার থাকতে ও দেশে থেকে নিজের নাম পরিচয় প্রকাশ করতে পারছে না,তবে ভাবুন তাঁরা কতখানি ফেইমসিকার না শিকার!্নিজের ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করতে পারছেন না যে লোক সে কতখানি ও কিভাবে ফেইমসিকার হতে পারেন? দেশ ব্লগারদের কতখানি ফেম দিচ্ছে লিমন ফকির ও আসাদ তার বাস্তব উদাহরন। আসাদ নুর যে মাত্র দু তিনদিনের জন্যে দেশে ফিরে পাসপোর্ট নিয়ে আবার চলে যেতে চেয়েছিল এখন জেলে,পরিবার তো তাকে অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছে।পৃথু দার কতাই ভাবা যায়, দেশের বাইরে থেকেও নিজের নামটা প্রকাশ করার সাহস পাচ্ছে না।আর তার কথাই বাদ দিই কেনো,যার ব্লগে লিখছি-নুর নবী দুলাল(দুলাল দা)।একটা জিনিস এই যে ,সত্য বলতে সৎসাহসের দরকার আমরা প্রায়ই সেটা যুগিয়ে উঠতে পারি না,যদি কেউ বলে তাতে আতে ঘা লাগলে আমরা উপরন্তু জ্বলে উঠি অঙ্গারের মতো।
"সত্য স্বতঃপ্রকাশিত",এই ধ্রুব সত্যটিও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এইমূহুর্তে কতখানি সত্য তা নিয়ে এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুললে মোটেই অমূলক হয় না বরঞ্চ বিচারহীনতার সংস্কৃতি আর মৌলবাদের আগ্রাসন এখন সেদিকেই অঙ্গুলিনির্দেশ করে;এবং এমনভাবে চললে হয়ত আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম "সাম্যবাদ,স্বাধীকার,সমালোচনা,সহ্যশক্তি,সহনশীলতা,সুশৃঙ্খলা" এ ধরনের অনেক "স" ঘটিত শব্দের অর্থ খুঁজতে উইকিপিডিয়া অনুসন্ধান করবে ,কেননা বাস্তবজীবনে এর কোনো প্রয়োগই থাকবে না।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কৌশিক মজুমদার শুভ
কৌশিক মজুমদার শুভ এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 2 দিন ago
Joined: রবিবার, এপ্রিল 2, 2017 - 7:31অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর