নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ক্যাম পাশা
  • সলিম সাহা
  • নুর নবী দুলাল
  • মারুফুর রহমান খান
  • লুসিফেরাস কাফের

নতুন যাত্রী

  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ
  • শহিদুল নাঈম

আপনি এখানে

কুরআন অনলি রেফারেন্স: (২৪) হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন!


বর্তমান 'কুরআনের' পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনায় আমরা জানতে পারি, স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তার সুদীর্ঘ ২৩ বছরের নবী জীবনে 'আল্লাহর নামে' অবিশ্বাসীদের উদ্দেশে যে সর্বমোট ৬২৩৬টি বানী বর্ষণ করেছিলেন, তার কমপক্ষে ৫২১টি শুধুই হুমকি, শাসানী, ভীতি-প্রদর্শন, অসম্মান, দোষারোপ ও সম্পর্কচ্ছেদের আদেশ সম্পর্কিত! এ ছাড়াও আছে তার ত্রাস, হত্যা, হামলার আদেশ সংক্রান্ত কমপক্ষে আরও ১৫১টি বানী। মোট ৬৭২টি আয়াত! যা সমগ্র কুরানের মোট আয়াত সংখ্যার ১০.৭৮ শতাংশ! [1]

অর্থাৎ, 'আল্লাহর নামে' মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ তার সমগ্র নবী জীবনে (৬১০-৬৩২ সাল) যতগুলো বানী বর্ষণ করেছিলেন, তার প্রতি নয় কিংবা দশটি বাক্যের একটি হলো "শুধুই" ‘হুমকি, শাসানী, ভীতি, অসম্মান, দোষারোপ, ত্রাস, হত্যা, হামলা ও সম্পর্কচ্ছেদের আদেশ সংক্রান্ত। এ ছাড়াও আছে অবিশ্বাসীদের প্রতি তার অভিশাপ সম্পর্কিত বাণী।

মুহাম্মদের এই সকল বাণীগুলো অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও হিংস্র! মক্কায় ও প্রাথমিক মদিনা অবস্থানকালীন সময়ে (৬১০-৬২২ সাল) বিফল ও অক্ষম মুহাম্মদের এ সমস্ত বাণীগুলোর প্রায় সমস্তই ছিল পরোক্ষ হুমকি। যেমন, মৃত্যুর পর অবিশ্বাসীদের কীভাবে শাস্তি দেওয়া হবে, কিংবা মুহাম্মদের পূর্বে আগমনকারী তথাকথিত নবী রসুলদের উপেক্ষাকারীদের কী ভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল তার অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও বীভৎস বর্ণনার মাধ্যমে পরোক্ষ ভীতি প্রদর্শন!

মুহাম্মদের ভাষায় তার অল্প কিছু উদাহরণ: [2] [3]

১৪:১৫-১৮ (সূরা ইব্রাহীম)- "--পয়গম্বরগণ ফয়সালা চাইতে লাগলেন এবং প্রত্যেক অবাধ্য, হঠকারী ব্যর্থ কাম হল। তার পেছনে দোযখ রয়েছে। তাতে পূঁজ মিশানো পানি পান করানো হবে। ঢোক গিলে তা পান করবে। এবং গলার ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে না। প্রতি দিক থেকে তার কাছে মৃত্যু আগমন করবে এবং সে মরবে না। তার পশ্চাতেও রয়েছে কঠোর আযাব। যারা স্বীয় পালনকর্তার সত্তার অবিশ্বাসী তাদের অবস্থা এই যে, তাদের কর্মসমূহ ছাইভস্মের মত যার উপর দিয়ে প্রবল বাতাস বয়ে যায় ধূলিঝড়ের দিন। তাদের উপার্জনের কোন অংশই তাদের করতলগত হবে না। এটাই দুরবর্তী পথভ্রষ্টতা।"

১৮:২৯ (সূরা কাহফ) - "আমি জালেমদের জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি, -- যদি তারা পানীয় প্রার্থনা করে, তবে পুঁজের ন্যায় পানীয় দেয়া হবে যা তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে। কত নিকৃষ্ট পানীয় এবং খুবই মন্দ আশ্রয়।"

৬৯:২৫-৩৭ (সূরা আল হাক্বক্বাহ)- "যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে, সে বলবেঃ হায় আমায় যদি আমার আমল নামা না দেয়া হতো। -----ফেরেশতাদেরকে বলা হবেঃ ধর একে গলায় বেড়ি পড়িয়ে দাও, অতঃপর নিক্ষেপ কর জাহান্নামে। অতঃপর তাকে শৃঙ্খলিত কর সত্তর গজ দীর্ঘ এক শিকলে। নিশ্চয় সে মহান আল্লাহতে বিশ্বাসী ছিল না। এবং মিসকীনকে আহার্য দিতে উৎসাহিত করত না। অতএব, আজকের দিন এখানে তার কোন সুহূদ নাই। এবং কোন খাদ্য নাই, ক্ষত-নিঃসৃত পুঁজ ব্যতীত। গোনাহগার ব্যতীত কেউ এটা খাবে না।"

৭৮:২১-২৭ (সূরা আন-নাবা)- "নিশ্চয় জাহান্নাম প্রতীক্ষায় থাকবে, সীমালংঘনকারীদের আশ্রয়স্থলরূপে। তারা তথায় শতাব্দীর পর শতাব্দী অবস্থান করবে। তথায় তারা কোন শীতল এবং পানীয় আস্বাদন করবে না; কিন্তু ফুটন্ত পানি ও পূঁজ পাবে। পরিপূর্ণ প্রতিফল হিসেবে। নিশ্চয় তারা হিসাব-নিকাশ আশা করত না। এবং আমার আয়াতসমূহে পুরোপুরি মিথ্যারোপ করত।"

[অনুরূপ বাণী (মদিনায়): ৪:৫৬; ৪৭:১৫; ২২:১৯-২২; ইত্যাদি।]

>>> মুহাম্মদ-কে নবী হিসাবে অস্বীকারকারী ও তার প্রচারিত মতবাদে অবিশ্বাসী, প্রশ্ন উত্থাপনকারী ও বিরুদ্ধবাদী মানুষদের বিরুদ্ধে মুহাম্মদের এই সকল বীভৎস শাস্তির হুমকি! নিঃসন্দেহে কুরআনের সমস্ত বাণী মুহাম্মদের। তারই মানসিকতা ও দৃষ্টি ভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ। সৃষ্টিকর্তার (যদি থাকে) সাথে এর কোনই সম্পর্ক নেই। There is "no ifs and buts" about it! পৃথিবীর নিকৃষ্টতম সাইকোপ্যাথও কী এমন বীভৎসতা কল্পনা করতে পারে? মুহাম্মদ ও 'আল্লাহর নামে' তার প্রাচিরত বাণীকে অস্বীকার করার অপরাধ "অসীম-অনন্ত" নরক বাস কি ন্যায্য বিচার?

১৭:৯৬-৯৮ (সূরা বনী ইসরাঈল)- "বলুনঃ আমার ও তোমাদের মধ্যে সত্য প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি তো স্বীয় বান্দাদের বিষয়ে খবর রাখেন ও দেখেন। আমি কেয়ামতের দিন তাদের সমবেত করব তাদের মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায়, অন্ধ অবস্থায়, মুক অবস্থায় এবং বধির অবস্থায়। তাদের আবাসস্থল জাহান্নাম। যখনই নির্বাপিত হওয়ার উপক্রম হবে আমি তখন তাদের জন্যে অগ্নি আরও বৃদ্ধি করে দিব। এটাই তাদের শাস্তি। কারণ, তারা আমার নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করেছে এবং বলেছেঃ আমরা যখন অস্থিতে পরিণত ও চুর্ণ-বিচুর্ণ হয়ে যাব, তখনও কি আমরা নতুনভাবে সৃজিত হয়ে উত্থিত হব?"

>> জাহান্নামের অগ্নি নির্বাপিত হওয়ার উপক্রম হবে? সৃষ্টিকর্তা ও তার ক্ষমতাকে (যদি থাকে) নিয়ে কী অদ্ভুত তামাসা!

৪০:৭০-৭৬ (সূরা আল-মু’মিন) - "যারা কিতাবের প্রতি এবং যে বিষয় দিয়ে আমি পয়গম্বরগণকে প্রেরণ করেছি, সে বিষয়ের প্রতি মিথ্যারোপ করে। অতএব, সত্বরই তারা জানতে পারবে। যখন বেড়িও শৃঙ্খল তাদের গলদেশে পড়বে। তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে। ফুটন্ত পানিতে, অতঃপর তাদেরকে আগুনে জ্বালানো হবে। অতঃপর তাদেরকে বলা হবে, কোথায় গেল যাদেরকে তোমরা শরীক করতে। আল্লাহ ব্যতীত? তারা বলবে, তারা আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে; বরং আমরা তো ইতিপূর্বে কোন কিছুর পূজাই করতাম না। এমনি ভাবে আল্লাহ কাফেরদেরকে বিভ্রান্ত করেন। এটা একারণে যে, তোমরা দুনিয়াতে অন্যায়ভাবে আনন্দ-উল্লাস করতে এবং এ কারণে যে, তোমরা ঔদ্ধত্য করতে। প্রবেশ কর তোমরা জাহান্নামের দরজা দিয়ে সেখানে চিরকাল বসবাসের জন্যে। কত নিকৃষ্ট দাম্ভিকদের আবাসস্থল।"

৪১:২৭-২৮ (সূরা হা-মীম সেজদাহ)- "আমি অবশ্যই কাফেরদেরকে কঠিন আযাব আস্বাদন করাব এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে তাদের মন্দ ও হীন কাজের প্রতিফল দেব। এটা আল্লাহর শত্রুদের শাস্তি-জাহান্নাম। তাতে তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী আবাস, আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করার প্রতিফলস্বরূপ।"

৪৫:৬-১১ (সূরা আল জাসিয়া) -- "এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি আপনার কাছে আবৃত্তি করি যথাযথরূপে। অতএব, আল্লাহ ও তাঁর আয়াতের পর তারা কোন কথায় বিশ্বাস স্থাপন করবে। প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর দুর্ভোগ। সে আল্লাহর আয়াতসমূহ শুনে, অতঃপর অহংকারী হয়ে জেদ ধরে, যেন সে আয়াত শুনেনি। অতএব, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন। যখন সে আমার কোন আয়াত অবগত হয়, তখন তাকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করে। এদের জন্যই রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। তাদের সামনে রয়েছে জাহান্নাম। তারা যা উপার্জন করেছে,তা তাদের কোন কাজে আসবে না, তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছে তারাও নয়। তাদের জন্যে রয়েছে মহাশাস্তি। এটা সৎপথ প্রদর্শন, আর যারা তাদের পালনকর্তার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।"

৫৬:৫১-৫৭ (সূরা আল ওয়াক্বিয়া)- "অতঃপর হে পথভ্রষ্ট, মিথ্যারোপকারীগণ। তোমরা অবশ্যই ভক্ষণ করবে যাক্কুম বৃক্ষ থেকে, অতঃপর তা দ্বারা উদর পূর্ণ করবে, অতঃপর তার উপর পান করবে উত্তপ্ত পানি। পান করবে পিপাসিত উটের ন্যায়। কেয়ামতের দিন এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন। আমি সৃষ্টি করেছি তোমাদেরকে। অতঃপর কেন তোমরা তা সত্য বলে বিশ্বাস কর না।"

৬৭:৬-৮ (সূরা আল মুলক) - "যারা তাদের পালনকর্তাকে অস্বীকার করেছে তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি। সেটা কতই না নিকৃষ্ট স্থান। যখন তারা তথায় নিক্ষিপ্ত হবে, তখন তার উৎক্ষিপ্ত গর্জন শুনতে পাবে। ক্রোধে জাহান্নাম যেন ফেটে পড়বে। যখনই তাতে কোন সম্প্রদায় নিক্ষিপ্ত হবে তখন তাদেরকে তার সিপাহীরা জিজ্ঞাসা করবে। তোমাদের কাছে কি কোন সতর্ককারী আগমন করেনি? তারা বলবেঃ হ্যাঁ আমাদের কাছে সতর্ককারী আগমন করেছিল, অতঃপর আমরা মিথ্যারোপ করেছিলাম এবং বলেছিলামঃ আল্লাহ তা’আলা কোন কিছু নাজিল করেননি। তোমরা মহাবিভ্রান্তিতে পড়ে রয়েছ।"

অনুরূপ বাণী: ৫:৩-৪; ৬:৭০; ১০:৪; ১৪:৫০; ১৬:৪৫; ৩৭:৬২-৬৮; ৩৮:৫৫-৫৮; ৪২:৩৫; ৪৪:১৩-১৬, ৪৪:৪৩-৪৫; ৫০:৩০, ৫০:৩৬; ৫২:৭-৮, ৫২:৪৫; ৫৪:৪৮; ৫৬:৯২-৯৪; ৬৮:৪২-৪৫; ৮৮:২-৭; ৯৬:১৫ (আবু জেহেলের উদ্দেশ্যে); ইত্যাদি, ইত্যাদি।

>>> এই বাণীগুলো মক্কা ও প্রাথমিক মদিনা সময়ের মুহাম্মদের হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের সামান্য কিছু দৃষ্টান্ত! যখন তার কোনো শক্তিই ছিল না তাকে অবিশ্বাসী ও তার প্রতিপক্ষ ও বিরুদ্ধবাদীদের শায়েস্তা করার। সঙ্গত কারণেই সেই মুহূর্তে তার হুমকি-শাসানী ও ভীতি প্রদর্শন গুলো ছিল পরোক্ষ!

অন্যদিকে, মদিনায় অবস্থানকালীন সময়ে (৬২২-৬৩২ সাল) অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে সফল ও শক্তিমান মুহাম্মদের বাণীতে অনুরূপ পরোক্ষ হুমকির সাথে যোগ হয়েছে প্রত্যক্ষ হুমকি, ত্রাস ও হত্যার নির্দেশ। অবিশ্বাসীদের ওপর তার কল্পিত আল্লাহর গজব তিনি দুনিয়াতেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার বাণী ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে! বিস্তারিত পরবর্তী পর্বে।

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:
[1] বিস্তারিত: 'ইসলামের অজানা অধ্যায় (দ্বিতীয় খণ্ড): পর্ব ২৬ -২৭:
https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOX01sZ0Q1cGJsSzg/view

[2] কুরআনেরই উদ্ধৃতি ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত তরজমা থেকে নেয়া। অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর।
http://www.quraanshareef.org/

[3] কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাপ মাহমুদ
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 22 ঘন্টা 35 min ago
Joined: রবিবার, সেপ্টেম্বর 17, 2017 - 5:04পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর