নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • শাম্মী হক
  • সলিম সাহা

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

ওটাগো কোস্টের "কাওকোহি" বিচে প্রাপ্ত বোতল কাহিনি : পর্ব-৩ নেফারপ্রীতির ঢাকা শহর দর্শন পর্ব


ঘন্টা দুয়েক পর তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের "ইজিপ্টোলজিস্ট" অধ্যাপক নিকোলাস রিপভ ম্যাসেঞ্জারে জানালেন, তিনি এখন বেথেলহামে ব্যস্ত আছেন তার ভারতীয় বন্ধু ড. জগদীশ ত্রিরত্নাকরকে যিশুর ঐতিহাসিক স্থানসমূহ ঘুরিয়ে দেখাতে। ভারত থেকে ভিশাখাপত্তনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জগদীশ গেছেন ইসরাইল ঘুরতে। পরের অনুচ্ছেদে অধ্যাপক নিকোলাস জানালেন - "হ্যাঁ, মিসরিয় হায়ারোগ্রাফিক দেয়াল, পাথরচিত্র ও পিরামিডে রক্ষিত ফারাও ইতিহাসের প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, রানী নেফারতিতির ছো্ট এক বোন ছিল। ঐ রাজকন্যার নামও ছিল নেফারতিতির মতই, সম্ভবত নেফারপ্রীতি। মাত্র ১৬-বছর বয়সে ছোটবোন নেফারপ্রীতি নিখোঁজ হলে, রাজকীয় ঘোষণায় বলা হয়, রাজকন্যা নেফারপ্রীতি পিতা সূর্যদেবের ইচ্ছেতে স্বর্গে চলে গেছেন। পৃথিবীর সকল মানুষের মধ্যে সূর্যদেব যাকে পছন্দ করেন, তাকে মৃত্যুর আগেই সরাসরি জীবিত অবস্থায় স্বর্গে প্রেরণ করেন। নেফারপ্রীতি সরাসরি স্বর্গে গেছেন, এমন কথা সরাসরি প্রচার করেন মিসরিয় সব উপাসনা মন্দিরগুলোর ফারাও পুজিত পুরোহিতরা। তখনকার মন্দির দেয়ালে স্বর্গে চলে যাওয়ার পর নেফারপ্রীতির রঙিনচিত্র অঙ্কন করা হয় বলে মিসরিয় প্রায় সকল পিরামিড ও মমি গবেষক উল্লেখ করেছেন"।
কুইক ম্যাসেজে বললাম - ড. নিকোলাস নেফারপ্রীতি কিন্তু স্বর্গে যায়নি। সে আছে আমার কাছে মর্ত্যে! এতোদিন হেডিস দেবতার নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল ফারাও রাজকন্যা!
ড. নিকোলাস বললেন, "বুঝিনি কথাটা। তুমি কি ফান করছো আমার সাথে মি. হোসেন"?
বললাম - "না ডক্টর। বিষয়টা বেশ জটিল আর অবিশ্বাসযোগ্য। তাই ম্যাসেঞ্জারে বোঝানো যাবেনা সহজে। আপনি একদিন ঢাকা আসবেন বলেছিলেন, তখন বিষয়টা বুঝিয়ে বলবো, আর স্বচক্ষে দেখাবো নেফারপ্রীতিকে"!
ড. নিকোলাস হাসির ইমো দিয়ে ম্যাসেজ করলেন, "ইহুদি ধর্মাবলম্বী ইসরাইলি আমি কখনো ঢাকাতে যেতে পারবোনা বলে তুমি এমন ফান করতো মি: হোসেন? তুমি মুসলিম বলে আমাকে এমনটা বলছো কি"?
বললাম - "ছি: ডক্টর কি যে বলছেন! মুসলিম ও ইহুদিদের যে ইতিহাস আমি জানি, তাতে মানুষ হিসেবে কোন ইহুদিকে কখনো ঘৃণা করিনা আমি! আপনি বাংলাদেশে না এলেও, একদিন ভারতে আসবেন। কোলকাতাতে "কফি হাউসে" দেখা করবো আমরা দুজনে! সেখানে পরিচয় করাবো একজন "ইজিপ্টোলজিস্টে"র সাথে সাড়ে তিন হাজার বছরের ফারাও কন্যা ষোড়শী নেফারপ্রীতির সঙ্গে"!
অধ্যাপক নিকোলাস একটা বিরক্তিকর "ইমো" দিয়ে অফ লাইনে চলে গেল!
:
অধ্যাপক নিকোলাস রিপভের কাছ থেকে এমন চমকপ্রদ ম্যাসেজ পেয়ে বিস্মিত হই আমি। এবার সব ভয়-ডর কেটে যায় আমার। নেফারপ্রীতিকে বলি - "সত্যি বিস্মিত আমি। তুমি কি এখনো নিজেকে সূর্যদেব "আতেন" এর কন্যা মনে করো? যোগাযোগ করতে পারবে তার সাথে এখন"?
অনেকটা হেয়ালির সুরে নেফারপ্রীতি বলে, "এখন আর ফারাও আখেনাতেন, বোন নেফারতিতি কিংবা পিতা আতেন কেউই নেই এ বিশ্বভ্রমান্ডে। আমার অভিশাপে বরং নেফারতিতির মৃত্যুর পর তার হৃদপিন্ড মিসরিয় বাজপাখিরা ভক্ষণ করেছিল। যে কারণে তার আত্মা কখনো স্বর্গে যেতে পারেনি। বর্তমানে তার প্রাপ্ত মমি পরীক্ষা করলে দেখবে, তার বুকটা ফাঁকা। যেখানে কোন হৃদপিন্ড নেই। আর বিশেষ সময়ে বিশেষ ধর্মের কারণে পূর্ববর্তী ধর্মগুলো একটা সময় পর বিলুপ্ত হয়ে যায়। তাই আমার পিতা বা কোন মিসরিয় দেবতার সাথে এখন আর যোগাযোগ সম্ভব নয় আমার। কারণ তাদের সময় এখন "টাইম আপ"! তবে সম্ভবত সূর্যদেব প্রদত্ত কিছু ক্ষমতা যৌক্তিকভাবে এখনো থাকার কথা আমার মননে। কারণ প্রাপ্ত ক্ষমতা কখনো প্রয়োগ করিনি আমি। মিসরে থাকাকালীন প্রয়োগ করলে হয়তো তা চলে যেত!
:
বললাম - তুমি কি এতো বছর পর তোমার প্রাপ্ত ক্ষমতাগুলো আছে কি না, তা একটু প্রয়োগ করে দেখাবে?
প্রথমে নিজ প্রাপ্ত যাদুর শক্তি পরীক্ষা করে নেফারপ্রীতি! যাদুর সাহায্যে সে নিজের অবয়বকে পুরুষ, গরু, সাপ, পাখি, লতা, ফুল এমনকি ঢাকার পুলিশে রূপান্তর করে আমাকে দেখায়। বিস্মিত হয়ে আমি তাকিয়ে থাকি নেফারপ্রীতির দিকে। আবার বলি, অন্য শক্তিগুলো আছে কিনা টেস্ট করবে একটু?
মাত্র ২-আঙুল দিয়ে আমার বিদেশ থেকে আনা বিশাল আকৃতির ক্যালভিনেটর ডিপ-ফ্রিজটি অন্তত ১-ফুট উচ্চতায় তুলে ধরলো সে। ২-টনি উইন্ডো এসিটা খুব সহজে টেনে নামিয়ে তা হাতের তালুতে রাখে এ হালকাপাতলা ছিপছিপে মিসরিয় ষোড়শীকন্যা। পরক্ষণেই তা আবার যথাস্থানে সেট করে মাত্র ১-মিনিটে! মুখের ফুঁ দেয়া বাতাসে এসি-টি ঢুকে যায় তার যথাস্থানে টুপ করে!
বললাম, "যাদু ও শক্তির পরীক্ষাতো দেখালে! এবার ন্যায্যতা আর ভালবাসার পরীক্ষা কিভাবে দেখাবে নেফারপ্রীতি"?
হেসে নেফারপ্রীতি বললো, "সময় হলে ঠিকই দেখবে এ দুটোর পরীক্ষাও"!
বললাম, "তুমি কি মিসরে চলে যেতে চাও আমায় ফেলে?
নেফারপ্রীতি বললো, না আমার কাল আর প্রেক্ষাপট মিসরে কখনো গ্রহণ করবে না আমায়। সেটা এখন অন্য রকমের রাষ্ট্র! তোমার সাথে বাকি জীবনটা কাটাতে চাই আমি এখানে এ ঘরে। যেহেতু তুমি আমার মুক্তিদাতা, তাই তোমার ইচ্ছেটাই হবে আমার ইচ্ছে! দেবকন্যাদের এটাই রীতি ও নৈতিকতা"!
বললাম, "তা কিভাবে নেফারপ্রীতি"!
:
সে তার প্রকৃত মিসরিয় পোশাকে চোখধাঁধাঁনো নারীরূপে ফিরে গিয়ে বললো, "আমি ভুবনমোহিনি মিসরিয় সূর্যদেবের কন্যা নারীশ্রেষ্ঠা রূপসি। আমাকে তুমি তোমার প্রেমিকা হিসেবে রাখতে পারো আজীবন। কিংবা আমার যাদু আর শক্তির সাহায্যে তুমি সামাজিক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত করতে পারো বর্তমান সংকটঘন বাংলাদেশে। তবে এ দুটোর যে কোন একরূপে পাবে তুমি আমায়। এখন তুমি যেটা চাও, সেটাই করবো আমি। তবে একসাথে দুটো পাওয়া যাবেনা কখনোই! এবার তোমার ইচ্ছে, যা চাও তুমি"!
বললাম, "পয়তাল্লিশ বছরে প্রায় বুড়ো হয়ে গেছি আমি। তাই এ শেষ জীবনে ভুবনমোহিনি মিসরিয় সূর্যদেবের কন্যা নারীশ্রেষ্ঠা প্রেমিকার চেয়ে, তোমার শক্তিকে বাংলাদেশের সামাজিক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যয় করতে চাইলে, তুমি কি সানন্দে রাজি হবে নেফারপ্রীতি"?
:
গভীর চিন্তন অবয়বে এনে নেফারপ্রীতি বললো - "তুমি যেটা চাও, সেটাই হবে। প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর বোতলে থাকাতে আমার ইচ্ছেগুলো মরে গেছে সবই। আপাতত তোমার ইচ্ছে পুরণই আমার একমাত্র কাজ ও ভাললাগা। অন্য কোন ইচ্ছে নেই আমার। কিংবা মানবিক ভাললাগা কি তা এখন ঠিক জানিনা আমি"!
বললাম - "মধ্যবিত্ত মানুষ হিসেবে নিজের গাড়ি নিজে ড্রাইভ করি আমি। কিন্তু ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাটা এতটাই জংলি, বর্বর, অমানবিক আর দুর্নীতিনির্ভর যে, তাকে প্রথমেই ঠিক করতে চাই আমি তোমার শক্তি আর যাদু প্রদর্শনের মাধ্যমে। কদিন আগেও রাজিব নামে একটা ইয়াং ছেলে ও রোজিনা নামে একটা মেয়ে মারা গেছে এ ট্রাফিক বর্বরতায়। এমন কোন দিন নেই, যেদিন মানুষের হাত-পা ছিঁড়ছে না বাসচালক, ট্রাকচালকরা। রিক্সাগুলো ছুটতে পাগলের মত। ট্রাফিক খাতে প্রতিদিন লাখ-লাখ টাকা অবৈধ লেনেদেন হওয়াতে, পুরো সিস্টেমটাই এভাবে ভেঙে পড়েছে। তোমার সাহায্য এটা ঠিক করতে চাইছি আমি"!
বেশ চিন্তিত হয়ে বিজ্ঞের মত নেফারপ্রীতি বললো, "তবে তো তোমাদের ব্যবস্থাটা একটু ঘুরে দেখতে হবে আমাকে। আমি যে সময়ের মানুষ, তখন মিসরে কোন গাড়ি কিংবা ট্রাফিক ব্যবস্থা ছিলনা। কৃতদাসরা কাধে বহন করতো আমার মত রাজকন্যাদের। তাই একটু ঘুরিয়ে দেখাবে আমাকে তোমাদের ঢাকা শহরটা"?
বললাম - "অবশ্যই নেফারপ্রীতি! তুমি কি এখনই দেখতে চাইছো"?
মাথা নাড়ালো নেফারপ্রীতি দেখার ইচ্ছে প্রকাশ করে।
লিফটে দুজনে উঠলে নেফারপ্রীতি বললো, এটা কি গাড়ি?
বললাম - না, এটা দিয়ে বহুতল ভবন থেকে নিচে নামার চলন্ত সিঁড়ি। লিফট এর নাম! আমরা নিচে নামবো। তারপর উঠবো গাড়িতে।
- তাহলে এটা আর গাড়ির মধ্যে পার্থক্য কি? দুটোইতো চলে!
- এটা দিয়ে উঁচু ভবন থেকে নিচে নামতে হয়, আর গাড়ি চড়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে দ্রুত যাওয়া যায়।
- কেন হেঁটে যেতে পারোনা তোমরা?
- পারি! কিন্তু গাড়ি যায় খুব দ্রুত! তুমি এখন গাড়িতে বসলেই বুঝতে পারবে সেটা কি জিনিস।
এটা বলে গাড়ির দরজা খুলে সামনের সিটে বসলাম নেফারপ্রীতিকে। নিজে বসলাম ড্রাইভিং সিটে। গাড়ি চলতে শুরু করলো এয়ারপোর্ট রোড ধরে দ্রুত গতিতে!
:
ছবি : নেফারপ্রীতির কথার সত্যতা মেলে নেফারতিতির মমি দেখলে।
(এরপর ৪র্থ পর্ব আগামিকাল)

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 4 দিন 16 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর