নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • শাম্মী হক
  • সলিম সাহা

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

ইসলামই মুসলমানদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাত তৈরী করে তাদেরকে বর্বর বানায়


ইসলাম নিজেই মুসলমানদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাত সংঘর্ষ তৈরী করে , তাদেরকে অসভ্য বর্বর বানায়। কিন্তু দুর্ভাগ্য, মুসলমানরা ইমানের আধিক্যে সেটা বুঝতে পারে না। যদি তারা কোরান হাদিস সিরাত তাফসির পড়ত , তাহলে বুঝতে পারত। কিন্তু তারা পণ করেছে , কখনই কোরান হাদিস সিরাত ইত্যাদি নিজের মাতৃভাষায় পড়বে না। কোরান হাদিসের কিছু মাত্র না জেনেই তারা ইসলাম পালনে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে।

রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়াকে প্রতিটা মুসলমানই অতি পবিত্র কাজ বলে মনে করে। তারা বিশ্বাস করে , তারাবির নামাজ পড়লে তাদের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। সাধারন মুসলমানদের এই বিশ্বাস বা চাওতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু মুস্কিলটা হচ্ছে দুনিয়ার মুসলমানরা এই অতি সাধারন একটা বিষয় নিয়েও একমত না। এই বিষয়টা নিয়েও বহু মত আছে , আর সেই মত নিয়ে বহু গ্রুপ আছে , সেই গ্রুপ গুলো এই বিষয় নিয়ে মারামারি ,দ্বন্দ্ব সংঘাতে লিপ্ত হয়ে , প্রমান করে যে তারা সভ্য নয় , বরং চুড়ান্ত রকম অসভ্য ও বর্বর।

এখন প্রশ্ন হতে পারে , এই দ্বন্দ্বের উৎস কি ? এটা কি মানুষ নিজেরাই বোঝে না , বা কিছু স্বার্থন্বেষী মানুষ নিজেরা দ্বন্দ্ব তৈরী করে ? অথবা , তারা কি কোরান হাদিস বোঝে না ? ঘটনা কি ? দেখা যাবে , এই দ্বন্দ্বের মূল উৎস ইসলাম তথা কোরান হাদিস। তারাবিতে কয় রাকাত নামাজ পড়তে হবে , সেটা নিয়ে সহিহ হাদিসেই বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য আছে। এক হাদিসে বলে ৮ রাকাত , আর এক হাদিসে বলে ১১ রাকাত , আর এক হাদিসে বলে ২০ রাকাত ইত্যাদি। তাহলে কি দেখা গেল ? বিভিন্ন হাদিসে বিভিন্ন রকম বক্তব্য থাকায় , মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে , যে যেটা পছন্দ করে , সেটাই অনুসরন করে ,আর সেটা করতে গিয়ে নিজেরাই নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাতে লিপ্ত হয়। সুতরাং দোষটা তাহলে কার ? মানুষের , নাকি ইসলামের ? তো বিষয়টা বোঝার জন্যে নিচের হাদিসগুলো দেখা যেতে পারে --

সহিহ বুখারি( ইফা) হাদিস নং-১৮৮৬। ইসমা‘ঈল (রহঃ) ... আবূ সালামা ইবনু ‘আবদুর রাহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি ‘আায়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেন যে, রমযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত (নামায/নামাজ) কিরূপ ছিল? তিনি বললেন, রমযান মাসে ও রমযান ছাড়া অন্য সময়ে (রাতে) তিনি এগারো রাক‘আত হতে বৃদ্ধি করতেন না। তিনি চার রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন, সে চার রাকআতের সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য ছিল প্রশ্নাতীত। এরপর চার রাক‘আত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন, সে চার রাকআতের সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য ছিল প্রশ্নাতীত। এরপর তিন রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। আমি [‘আয়িশা (রাঃ)] বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি বিতর আদায়ের আগে ঘুমিয়ে যাবেন? তিনি বললেনঃ হে ‘আয়িশা! আমার দু'চোখ ঘুমায় বটে কিন্তু আমার কালব নিদ্রাভিভূত হয় না।

সহিহ মুসলিম(ইফা) হাদিস নং-১৫৯৬। ইয়াহয়া ইবনু ইয়াহয়া (রহঃ) ... আবূ সালামা ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, রমযানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাতের সালাত কিরূপ ছিল? আয়িশা (রাঃ) বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানে এবং রমযান ছাড়াও এগার রাকআতের অধিক পড়তেন না। চার রাকআত সালাত আদায় করতেন, তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্বন্ধে তোমার প্রশ্নের অবকাশ নেই, তারপর চার রাক’আত সালাত আদায় করতেন, তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্বন্ধে তোমার প্রশ্নের অবকাশ নেই। তারপর তিনি তিন রাক’আত সালাত আদায় করতেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার বিতর আদায়ের আগে কি আপনি নিদ্রা যান? তিনি বললেন, হে আয়িশা! উভয় চোখ তো ঘূমায়, কিন্তু আমার অন্তর ঘুমায় না।

সুনান তিরমিজি(ইফা), হাদিস নং- ৪৩৯. ইসহাক ইবনু মূসা আল-আনসারী (রহঃ) ...... আবূ সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কে জিজ্ঞেস করেছিলেন রমযানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত (নামায/নামাজ) ছিল কেমন? উত্তরে তিনি বললেনঃ রমযান বা অন্যান্য মাসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগার রাকআতের বেশি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন না। (প্রথম) চার রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। এ যে কত সুন্দর ছিল এবং কত যে তা দীর্ঘ হতো সে সম্পর্কে তোমরা আমায় জিজ্ঞেস করো না। তারপর তিনি তিন রাকআত (বিতর) আদায় করতেন। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বিতর আদায় না করে শুয়ে পড়েন? তিনি বললেনঃ হে আয়িশা! আমার দু’চোখ ঘুমায় আমার হৃদয় ঘুমায় না।

তিনটা পৃথক সহিহ হাদিস কিতাব থেকেই দেখা গেল, প্রতিটাতেই বলছে তারাবির নামাজ হলো ১১ রাকাত। মুহাম্মদ নিজেই সেটা পড়েছে রমজানের রাতে। এবার নিচের হাদিসগুলো দেখা যাক ---

মালিক মুয়াত্তা(ইফা), হাদিস নং -২৪৫ মালিক (রহঃ) ইয়াযিদ ইবনে রুমান (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন- তিনি বলিয়াছেনঃ লোকজন উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফতকালে রমযানে তেইশ রাক’আত তারাবীহ পড়িতেন- তিন রাকাআত বিতর এবং বিশ রাকাআত তারাবীহ।

সায়ের ইবনে ইয়াজিদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন সাহাবা গন উমর (রাঃ) এর খেলাফত কালে রমজান মাসে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন ।
(বাইহাকী শরীফ-খঃ ২/৪৯৬ হাঃ নং ৪৬১৭)

আতা ইবনে আবী রাবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন আমি সাহাবাদেরকে বিতির সহ তেইশ রাকাত তারাবী পড়তে দেখেছি ( মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা – ৫/২২৪)

উক্ত হাদিস থেকে দেখা যাচ্ছে , হযরত ওমর তার শাসনামলে তারাবিতে বিশ রাকাত নামাজ পড়ত। এই বিষয় থেকে যে উপসংহারে পৌছানো যায় তা হলো -

১। ওমর নিজেই মুহাম্মদের বিধান মানত না , তাই সে মুহাম্মদের বিধান অমান্য করে নিজেই বিশ রাকাত নামাজের বিধান চালু করে।

২। ওমর যেহেতু নিজেই মুহাম্মদের বিধান মানত না , তাই সে কিভাবে মুসলমান হতে পারে ?

৩। ওমর যদি মুহাম্মদের বিধান অমান্যকারী হতে পারে , তাহলে প্রশ্ন ওঠে - সে কি মুহাম্মদকে আদৌ নবী মানত ? মুহাম্মদকে সে আল্লাহর নবী মানলে , মনে প্রানে সেটা বিশ্বাস করলে , ওমরের মত লোক কোনভাবেই মুহাম্মদের বিধান অমান্য করতে সাহস পেত না।

৪। ওমর যে মুহম্মদের নামে ক্ষমতালোভী ছিল , তার প্রনীত এই বিশ রাকাতের বিধান থেকেই প্রমানিত। মুহাম্মদের বিধান মানত না , কিন্তু সে নিজেই আবার ইসলামের নামে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল। তার মানে মুহাম্মদের নাম ব্যবহার করে সে ক্ষমতালোভী ছিল।

৫। ওমর নিজেই মুহাম্মদের মরার পর পরই নিজের বানানো বিধান চালু করে , মুসলমানদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাত বাধিয়ে গেছে।

৬। ওমর হলো মুসলমানদের অন্যতম আদর্শ পুরুষ যার পদাংক অনুসরন করা মুসলমানদের কর্তব্য। সুতরাং ওমরকে অনুসরন করে , মুসলমানরা মুনাফিক কাফের হতে পারে , মুসলমান কখনই নয়।

৭। পরিশেষে , যারা ওমরকে মুহাম্মদের বিধান অমান্যকারী হিসাবে বিশ্বাস করবে , তারা নিজেরাই মুসলমান হতে পারবে না কারন , মুহাম্মদ নিজেই বলে গেছে ওমর হলো অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুসলমান। তার মানে মুহাম্মদের বিধান যারা অমান্য করবে , তারা হবে অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুসলমান।

উপসংহার: ইসলাম এমন একটা স্ববিরোধী চক্র , যার ফাঁদে যে একবার পড়বে , জ্ঞান বিদ্যা বুদ্ধি বিসর্জন দিয়ে অন্ধ ও মূর্খ সাজতে হবে এবং একই সাথে নিজেদের মধ্যেই মারামারি কাটাকাটি দ্বন্দ্ব সংঘাত সৃষ্টির মাধ্যমে ধ্বংস হয়ে যেতে হবে। তখন দুনিয়াতে মুসলমানদের পরিচিতি হবে - অসভ্য ও বর্বর জানোয়ার হিসাবে।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঠমোল্লা
কাঠমোল্লা এর ছবি
Offline
Last seen: 7 ঘন্টা 31 min ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 4:48অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর