নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ক্যাম পাশা
  • সলিম সাহা
  • নুর নবী দুলাল
  • মারুফুর রহমান খান
  • লুসিফেরাস কাফের

নতুন যাত্রী

  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ
  • শহিদুল নাঈম

আপনি এখানে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়(?)


গ্রাম বাংলায় একটা প্রবাদ আছে 'খাইবো পোলাহানে, চিড়ায় জল না দিয়ে হিসু দিলেই কী!' জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দিয়ে দেশের ২১ লক্ষাধিক ছেলে-মেয়েকে সরকার শিক্ষার নামে হিসু খাওয়াচ্ছেন বলেই আমার বিশ্বাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক সংজ্ঞা যদি হয় হাজার বছরের জ্ঞান সংরক্ষণ, জ্ঞান বিতরণ ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির কর্তব্য পালন করা তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংজ্ঞা অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আদৌ কি বিশ্ববিদ্যালয়?

      দেশের উচ্চশিক্ষায় সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় সীমাহীন উদাসীনতা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। সীমাবদ্ধতার নামে চলছে এসব। কত সীমাবদ্ধতা? কত সময় পেরিয়ে গেলে শেষ হবে এই জাতি বিধ্বংসী 'সীমাবদ্ধতা' শব্দটির ব্যবহার? গুণগত শিক্ষা,  মানসম্মত শিক্ষার প্রশ্নে আমরা হচ্ছি অন্ধ। অপরদিকে সদ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের রুটিন ঘোষণার দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিতে সিদ্দিকুর হলো অন্ধ। মানসম্মত শিক্ষার প্রশ্নে রাষ্ট্র আমাদের অন্ধ করে রেখেছে। আবার যদি অধিকারের প্রশ্নে আন্দোলন করি তবেও অন্ধ করে। আবার অন্যদিকে সাইলেন্ট এক্সপেল নামক কালা কানুন করে রাখছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা যাবো কোথায়?

   'কত আছে বিএ পাশ পোলা রিক্সা চালায়!' এই বিএ পাশ পোলা সৃষ্টি করলো কে? জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চয়! কেননা, আমার জানা মতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলেরা আর যাই হোক রিক্সা চালক হয় না। এই যে আমি, অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। কী করব অনার্স শেষ করে? রিক্সা চালানোর যোগ্যতাও আমার নাই। ঘোড়ার ঘাস কাটব? ঘোড়াও তো বিলুপ্ত প্রায়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে ঘোষিত প্রত্যেক ইয়ারে ২১০ দিন ক্লাস হওয়ার কথা। আমার ইয়ারে সবচেয়ে বেশি ক্লাস যারা পেয়েছে তাদের প্রথম পাঁচ জনের অন্যতম একজন আমি। বিগত তিন ইয়ারে ২১০ দিন ক্লাসও আমরা পাইনি। যেখানে ০১ বছরে হবে ২১০ দিন ক্লাস, সেখানে তিন বছরেও পাইনি। আমার এই না পাওয়ার জবাব, কী বলে দেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়? 'সীমাবদ্ধতা'? যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে আমি এই না পাওয়ায় নষ্ট হই? আর বিশ্ববিদ্যালয় 'সীমাবদ্ধতা' বলে আমাকে বঞ্চিত করে। তবে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের দরকার কী? সৈয়দ শামসুল হক বলেছিলেন 'বিশ্ববিদ্যালয় আমায় কিছুই দিতে পারবে না, বিশ্বই আমার বিশ্ববিদ্যালয়'। বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে সৈয়দ শামসুল হক নিজেই এক বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছেন। যদি বিশ্ববিদ্যালয় আমায় কিছুই না দেয় তবে সরকার কেন আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় গুলো নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে? আমাকে বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেড়ে দেওয়া হোক। তাহলে আমার মধ্যে অন্ত্যত হাহাকার আর ব্যর্থতার গ্লানি থাকবে না।

বলছিলাম ২১০ দিন ক্লাসের কথা। কেন আমি তিন বছরেও ২১০ দিন ক্লাস পাইনি? আমার পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, ক্যাম্পাস ছোট এবং অতিরিক্ত পরিমাণ ছোট। আমি ক্লাস করি ছাত্রী হোস্টেলে। কেন নেই? কেন ছোট? অর্থের দিক দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় সমপর্যায়ে প্রায়। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষর্থীরা সবুজ ক্যাম্পাস পাবে, ক্লাস পাবে, শিক্ষক পাবে, হল পাবে, বাস পাবে, গবেষণাগার পাবে, সব পাবে। আমি কেন পাবো না? আমাকে কি জল বলে হিসু খাওয়াচ্ছেন? তা না হলে ২৬ বছরেও কেন কোনো গবেষণাগার আমি পাই নি? কেন আমি ক্লাস, শিক্ষক, হল, শিক্ষার পরিবেশ, বাস, লাইব্রেরী পর্যাপ্ত পাই নি? এ কি উদাসীনতা নয়? নাকি এও সীমাবদ্ধতা?

আশ্চর্য হলেও বাস্তব শুধুমাত্র বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষার কারণে বছরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ৯ মাসই ক্লাস হয় না। ২১ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর স্নাতক ও স্নাতোকত্তোর কলেজগুলো বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত, এই সমস্যার মূলে না গিয়ে নানা ধরণের বিনোদন মূলক কাণ্ড করে সঙ্কট সমাধানের নামে সঙ্কট আরও বৃদ্ধি করা হচ্ছে। যার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত ৭ কলেজকে ঢাবির অধিভুক্ত করা। বলা হলো, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি কলেজগুলোকে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হবে। ফলশ্রুতিতে শিক্ষার্থীরা আবার সেশনজটের কবলে। সেশন জটের পেছনে নিশ্চয় কোনো ঘৃণ্য রাজনীতি আছে। সরকারিদল, বিরোধীদল আর নিতীনির্ধারকদের ছেলে-পিলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে না। তারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা দেশের বাইরে পড়ে। আর স্বজনপ্রীতির দেশে আমাদেরকে সেশন জটে ফেলে বড়রা বড়ই থাকছেন আর ছোটদের আরও ছোট করছেন। আমার বন্ধু সবুজ, যে গর্বিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হতে পেরে। ধরুন, সে সেশন জটে পড়ে ৪ বছরের কোর্স ৭ বছরে শেষ করল। তাকে কি আপনারা চাকরির আবেদনের জন্যে ৩ বছর সময় বেশি দিবেন? কেন দিবেন না? সে তো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে গর্বিত। যার উদাসীনতার কারণে আপনারা আমাকে বিনোদন দিচ্ছেন আর পকেট ভারী করছেন। সবুজের মত দেশের সব কলেজগুলোতে আমার যেসব বন্ধু আছো, তোমরাও বলো অধিকারের কথা। সময় কিন্তু বেশি দিবে না তোমাদের, বসে থেকে কী হবে? বিএ পাশ রিক্সাচালক নাকি বিএ পাশ জামাই অথবা বউ?

   সিলেবাস শেষ না করেই সেশন জট কমাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। এই উদ্যোগকে আমি বিএ পাশ পাত্র/ পাত্রী তৈরির উদ্যোগ বলে থাকি। কেননা, এ পাশ দ্বারা উক্ত যোগ্যতা ছাড়া আর কিছুই হয় না।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত রেগুলেশন ২০০০- এর ৩(১) ধারায় বর্ণিত ৪৫ জন শিক্ষার্থীর জন্যে ১ জন শিক্ষক থাকবে। ডিগ্রী ও অনার্স কোর্স থাকলে প্রতি বিভাগে ১৩ জন শিক্ষক থাকবে। অথচ বর্তমানে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ২০০:১। ২১০ দিন ক্লাস নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষিত ছাত্র- শিক্ষক অনুপাত ৪৫:১ নিশ্চত করতে হবে, প্রত্যেক কলেজে পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষ, গ্রন্থাগার, গবেষণাগার, শিক্ষার পরিবেশ বান্ধব ক্যাম্পাস, পর্যাপ্ত পরিবহণ ব্যবস্থা, হল নির্মাণ, স্বতন্ত্র পরীক্ষার হলের ভবন নির্মাণ করা অপরিহার্য। এসব করতে হলে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস বিকেন্দ্রীকরণ করে যদি কলেজগুলো পরিচালনা করা হয়, তবে শিগ্রই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়  সত্যিকারের বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠে  পূর্ণাঙ্গ সায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারবে। নয়ত সবার চোখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সামনে ব্রাকেটে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন ভাসমান থাকবে আজকের মতই। যা হবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠনের প্রধান অন্তরায় কেননা দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম সংখ্যার শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। অবিলম্ভে সরকারের উচিৎ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। অর্থের প্রশ্নে সরকার ইতস্তবোধ করলে বলব, অবশ্যই অবশ্যই আগামী বাজেটের ২৫ ভাগ অথবা জাতীয় আয়ের ৮ ভাগ শিক্ষাখাতের জন্যে বরাদ্ধ হোক। তবে শুধু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ই নয় দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্বয়ংসম্পূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে নয়ত সেই প্রশ্নবোধক চিহ্ন।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

চোত্রা পাতা
চোত্রা পাতা এর ছবি
Offline
Last seen: 4 weeks 1 দিন ago
Joined: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 1, 2015 - 5:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর