নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ক্যাম পাশা
  • সলিম সাহা
  • নুর নবী দুলাল
  • মারুফুর রহমান খান
  • লুসিফেরাস কাফের

নতুন যাত্রী

  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ
  • শহিদুল নাঈম

আপনি এখানে

ওটাগো কোস্টের "কাওকোহি" বিচে প্রাপ্ত বোতল কাহিনি : পর্ব-২ মিসরিয় বোতলকন্যা নেফারপ্রীতি পর্ব



বারিধারার নিজ ফ্ল্যাটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে চোখ খুলে বুঝতে পারি, ফ্লোরে টাইলসের উপর শুয়ে রয়েছি আমি। ঘামে ভিজে জবজবে পুরো শরীর। মাথাটা শক্ত গ্রাটাইট টাইলসে লেগে একটু ফুলে উঠেছে। ব্যথায় টা-টা করছে মাথার পেছনটা। তখনো আমার চোখে মুখে জল ছিটাচ্ছে বোতল থেকে বের হওয়া মিসরিয় পোশাকের সেই "বোতলকন্যা"! আমি চোখ খুলতেই ভুবনমোহিনি হাসিতে পুরো ফ্ল্যাটকে ঝঙ্কৃত করলো বোতলকন্যা। এবার ভাললাগার পিপীলিকাভূক শব্দময়তার টৃংটাং শব্দে বলে উঠলো, "তুমি সেন্সলেস হলে কেন? আমাকে কি ভয় পেয়েছো তুমি"?
কৈশোরিক ভয়যুক্ত প্রেমের ঘড়িঘরহীন দরজা জানালা খুলে দেয়ার মত এবার বলি - "ভয় পাবোনা? এক পৌরাণিক বোতল থেকে আলাদিনের দৈত্যের মত তুমি বের হলে। আসলে বলবে কি তুমি কে? তুমি কি কোন জীন, দৈত্য নাকি অন্য কিছু"?
স্বপ্নকন্যা দেহজ নারীর অমাবশ্যার আবলুশ অন্ধকারের মত মুখে কঠোরতা এনে এবার বোতলকন্যা বললো - "এ কাহিনি বলতে আমারো খুব কষ্ট হবে। কারণ অনেক দিনের কষ্টজীবনের কাহিনি। বলতে পারো প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগের ঘটনা"!
মেয়েটির কথা শুনে এবার প্রথম প্রেমের আনন্দালোকে অন্ধের দিব্যদৃষ্টির মেঘেরা উড়ে যায় যেন আমার মনের আকাশে। মিনতি করে বলি - "শোনাও তুমি প্লিজ! না হলে আবারো জ্ঞান হারাবো আমি"!
:
আমার নাম "নেফারপ্রীতি"। ১৩৬৭-খ্রীস্টপূর্বাব্দে আমার জন্ম। আমি প্রাচীন মিসরে "ডটার অব গড" নামে খ্যাত ছিলাম! আমার ৩-বছরের বড়বোন নেফারতিতি, যিনি মিসরের সম্রাজ্ঞী ও ফারাও আখেনাতেনের স্ত্রী ছিলেন। ঐ সময় ১৯-বছরের বড়বোন নেফারতিতি নন, বরং ১৬-বছরের আমিই ছিলাম পুরো বিশ্ব তথা মিসরের সুন্দরীশ্রেষ্ঠা নারী। পিতা সূর্যদেব "আতেন" চাইতেন, আমি মিসরে তার প্রতিনিধি হিসেবে "সুপ্রিম অথরিটি অব ইজিপ্ট" খেতাব পাই। থেবসের "কারনাক" মন্দিরে পিতা সূর্যদেব "আতেন" নিজে মন্দিরে এসে আমায় শক্তি, যাদু, ন্যায্যতা আর ভালবাসার প্রতিক হিসেবে ঐশ্বরিক তথা অমরত্ব ক্ষমতা প্রদান করেন। কিন্তু বড়বোন নেফারতিতির স্বামী আখেনাতেন বোনকে নয়, গোপনে ভালবাসতেন আমায়। আমার বড়বোন নেফারতিতিকে হত্যা করে আমাকে বিয়ে করার ইচ্ছে মনে মনে পোষণ করতেন তিনি। আমার রূপে মোহিত হয়ে মিসরের হাটসেপুতের ফারাও তুতেনখামেনও স্ত্রী করতে চেয়েছিল আমায়। এরপর হিতিসের সম্রাট আব্দাতেনও বিয়ের জন্য পাগল ছিল আমাকে। কিন্তু কারো কথাতে সম্মতি দেইনি আমি নিজের ব্যক্তিত্বের কারণে। বড়বোন নেফারতিতিকে খুব ভালবাসতাম আমি, তাই কখনো চাইনি তার স্বামী আখেনাতেন তাকে হত্যা করে বিয়ে করুক আমায়!
:
কিন্তু স্বপ্নে একরাতে দেবতা "রা" তাকে জানিয়ে দিলেন, স্বামী আখেনাতেন তাকে হত্যা করে বিয়ে করবে আমাকে। এবং পরদিনই কৌশলে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে নিজ হাতে পান করায় আমাকে "থিবিস" পত্রবৃক্ষের জারিত তরল ভেষজ পাণীয়। নিজ বোনকে কখনো অবিশ্বাস কিংবা প্রতিপক্ষ মনে করিনি আমি। তাই তার হাতে "ভালবাসার তরল থিবিস বৃক্ষপাতা" পান করে গভীর মৃত্যুঘুমে ঘুমিয়ে পড়ি আমি। বোন নেফারতিতি রাজ-কামার "ট্রিটাস"কে ডেকে তৈরি করেন এ অভঙ্কুর-অধ্বংসী বোতলটি। রাজ-রসায়নবিদ "উথিলত"কে ডেকে এক ভৌত রসায়নে ডুবিয়ে আমার পুরো শরীরকে তরলিকৃত ধোঁয়ায় রূপান্তরিত করে ঢুকিয়ে দেয় এ বোতলটিতে। তারপর রাজ-কামার "ট্রিটাস"কে দিয়ে গলিত "ব্রিলাট" আকরিকে বন্ধ করান বোতলের মুখ; যা জল, আকাশ আর মৃত্তিকাতেও অক্ষত থাকে হাজার হাজার বছর। আমি যেন কখনো বের হয়ে মমিতে রূপান্তরিত হয়ে স্বর্গে যেতে না পারি, তাই আত্মার দেবতা রা-এর পরামর্শ ও নির্দেশে এ ব্যবস্থা করেন নিজ বোন নেফারতিতি।
:
এবং চাঁদজ্যোৎস্না ঢাকা এক গভীর রাতে, ব্রিলাট আকরিকে মুখবন্ধ এ জার-কে নিজহাতে সংগোপনে নিক্ষেপ নিক্ষেপ করে নীলনদের গভীর জলরাশিতে। তরল থিবিস বৃক্ষপাতার ভেষজে ৩-দিনের মত পুরো অচেতন থাকি আমি। ৪র্থ দিনে ক্রমান্বয়ে চেতনা ফিরে পেয়ে পিতা সূর্যদেব আতেনকে স্মরণ করার চেষ্টা করি। কিন্তু ৪-দিনের প্রবল স্রোতে তখন আমি গভীর লোহিত সাগর তলদেশে। যা মিসরীর জলসীমার বাইরে এবং সূর্যালোক গভীর লোহিত সমুদ্র তলদেশে না পৌঁছানোর কারণে ব্যর্থ হই, পিতাকে এ দু:সংবাদ প্রেরণে। সমুদ্রস্রোতে অনবরত আমাকে বহনকারী বোতলটি ঘূর্ণনের কারণে এবং ব্রিলাট আকরিকের সংস্পর্শে আমার তরল বায়বীয় অবস্থা অঘণীভূত অবস্থান বিদ্যমান থাকে। পিতা সূর্যদেব আতেনের সাথে আমার যোগাযোগ করা আরো জটিলতর ও দু:সাধ্য হয়ে ওঠে, যখন ক্রমান্বয়ে সমুদ্রস্রোত আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে আসে এডেন উপসাগরের দিকে। প্রচন্ড সমুদ্রঘূর্ণনে পারস্য উপসাগরে অনেকদিন নিমজ্জিত থাকি আমি।
:
এবার মুক্তি প্রত্যাশায় পিতা বা মিসরিয় স্বগোত্রীয় কোন দেবতার আশা ছেড়ে দিয়ে আমি গ্রীক সমুদ্রদেবতা পসাইডনের সহায়তা কামনা করি। কিন্তু মিসরীর দেবতাদের সাথে সব সময় এথেনীয় দেবতাদের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থাকাতে, শক্তিধর গ্রীক সমুদ্রদেবতা পসাইডন মিসরিয় "ডটার অব গডের" পরিচয় নিশ্চিত হয়ে, আমি যেন বিশ্ব ধ্বংস হওয়ার আগ পর্যন্ত সমুদ্র তলদেশেই নিমজ্জিত থাকি, তার নির্দেশনা দেন। সমুদ্র তলদেশ বেয়ে-বেয়ে ক্রমে সিসেল হয়ে আমাকে বহনকারী বোতলটি মাদাগাস্কারকে বায়ে রেখে বঙ্গোপসাগর, আন্দামানসাগর হয়ে ভারত মহাসাগরের গভীর খাদে পতিত হয়। ঐ সমুদ্র এলাকা ভারতীয় সমুদ্রদেবতা বরুণের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকাতে, এবার মুক্তির জন্যে আমি বরুণ দেবতার সহায়তার জন্য প্রণতি জানাই। কিন্তু একজন সূর্যদেবের কন্যা, যাকে বোতলবন্দী করে সমুদ্রে নিক্ষেপ করেছে ঐ দেবেরই অপর কন্যা, যিনি তুষ্ট রেখেছেন তার পিতাকে সারাক্ষণ সাষ্টাঙ্গ প্রণামে। সুতরাং ভারতীয় বরুণ দেবতা তার অক্ষমতার কথা প্রকাশ করলেন বিনীতভাবে আমার কাছে ত্রিচক্রধারী জলদূত প্রেরণ করে ।
:
কিন্তু বরুণ দেবতার প্রেরিত দূত আমার কাছে পৌঁছার আগেই আমাকে বহনকারী বোতলটি ভারত মহাসাগরের মেসোজোয়িক ও সেনোজোয়িক মহাকালের গন্ডোয়ানা-ল্যান্ডের পথ ধরে এগুতে থাকে মহাদেশীয় সোপানের সংকীর্ণ এবং গভীর খাদে। এ সমুদ্রের গভীর শৈলশিরা, যা অ্যান্টার্কটিকা পর্যন্ত আমাকে টেনে নিতে থাকে ইন্দোনেশিয়ার জাভাকে বায়ে রেখে। সমুদ্র জলের ঘন অন্ধকারে
গ্লোবিজেরিনা উজ আর লোহিত বর্ণময় কর্দম এলাকায় আটকে থাকি কত হাজার বছর জানিনা এখনো। এ সাগরের গভীরতর অববাহিকা় রেডিওলারিয়ান উজে চলে যাই এক সময় বিশালকায় নীলতিমি পরিবারের পাখনা-তাড়নায়। এরপর কতকাল থাকি ডায়াটম উজের চুনযুক্ত পললের মাতৃগহীনে তা মনে নেই আমার। এ সমুদ্রের গ্লুকোনাইট সমৃদ্ধ পললভূমিতে কাটাই আবার কয়েকশ বছর। এভাবে গড়াতে গড়াতে দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত, মোজাম্বিক স্রোত, পশ্চিম অস্ট্রেলীয় স্রোত ধরে মহাসাগরের একেবারে দক্ষিণাংশে অ্যান্টার্কটিক থেকে আগত বরফ চূড়া আর হিমশৈলর পথ ধরে তাসমানিয়া উপকূলে নীত হই আমি। প্রায় সাড়ে ৩-হাজার বছরে ৭৩,৪২৭,০০০ কিমি জলপথ পাড়ি দিয়ে নিউজিল্যান্ডের ওটাগো কোস্টের "কাওকোহি" বিচে পাথরের নিচে উঠে এসেছি অন্তত ৪০-বছর আগে।
:
৩-বছর আগে কোন মানুষ আমাকে তুলে এনেছে এটা অনুভব করি আমি। প্রতিক্ষা করতে থাকি, কখন সে মুক্ত করবে আমায় এ বোতল কারাগার থেকে। তারপর তুমি আমাকে নিয়ে বিমানে উঠলে, তোমার শো-কেসে সাজিয়ে রাখলে কিন্তু মুক্ত করলেনা! মনে করেছিলাম, হয়তো আরো হাজার বছর এভাবে কেটে যাবে আমার! কিন্তু আজ সত্যি তুমি মুক্ত করলে মিসরের সুন্দরীশ্রেষ্ঠা নারীকে। মিসরীয় বৈশ্বিক সুন্দরীকন্যা "ডটার অব গড"কে। তাই প্রণত হয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তোমার চরণে আমি দেবকন্যা হয়েও !
:
সাড়ে তিন হাজার বছরের ষোড়শীকন্যা নেফারপ্রীতির বৃত্তান্ত শুনে আমার ভাললাগার বিগ্রহ ভূমির ধুলোয় মোমফুলেরা লুটিয়ে পড়ে যেন। আমার তিন বছর পরিচিত ফেসবুক বন্ধু তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের "ইজিপ্টোলজিস্ট"(Egyptologist) অধ্যাপক নিকোলাস রিপভকে ম্যাসেজ পাঠাই তখনই। যার সাথে পরিচয় হয়েছিল আমার নিউজিল্যান্ড থেকে সিঙ্গাপুর ফিরতে বোয়িং৭৪৭এ৩ এয়ারক্রাফট অভ্যন্তরে। নেফারপ্রীতির কথা লিখে জানাই তাকে পুরোটা। জানতে চাই - "রানী নেফারতিতির কি "নেফারপ্রীতি" নামে কোন ছোট বোন ছিল? জীবনবৃত্তান্ত জানতে চাই "নেফারপ্রীতি"র!
:
(এর পরের ৩য় পর্ব আগামিকাল)

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 12 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর