নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মুফতি মাসুদ
  • নুর নবী দুলাল
  • আবীর নীল
  • নরসুন্দর মানুষ

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

"অগ্নি উৎস" তুমি তসলিমা নাসরিন।


সৌম্যজিৎ।

তোমার আপসহীন আগুন কত মানুষ দেখেছে!
পদে পদে তোমার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকার, মৌলবী, ধর্মান্ধ ভক্ত।
যখন লড়েছ, ভয় তোমারও হয়েছে।
তুমি ভেবেছ, "এই বুঝি কেউ এসে আমার মুন্ডপাত করে।"
ভয় সবাই পায়। সেই ভয়তেও তুমি আপসহীন।
যত দেখি ততই মুগ্ধ হয়ে যাই,
শরীরের প্রতিটা লোম খাড়া হয়ে যায় যখন
তোমাকে বাংলা নির্বাসনের সময়গুলোতে অনুভব করি।
রক্তের মধ্যে গরম স্রোত বয়ে যায়।

অগ্নি কন্যাকে নতুন কি আর ভাষা দেবো!
যে নিজে জ্বলন্ত আগুন তাকে
ভাষার আগুনে উজ্বল করার ভাষা কম হয়ে যাবে।

যখন গোটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল, মৌলবী, রাষ্ট্রীয় মানুষ
মূর্খামি করে তোমার রক্তের স্বাদ পেতে চেয়েছে,
তুমি তখন সদ্য যৌবনের একজন মানবিক লেখক, ধর্ম বিদ্রুপাত্মক।
সাহস করে সত্যিটা তুলে ধরেছিলে,
কিন্তু এত মনের জোর তোমার ছিলনা।
ছিলনা, কারণ পরিবারের টান, প্রাণের ভয়।
সংসার, ভবিষ্যত তুমিও চেয়েছিলে।

সমাজের ভয়ঙ্কর রূপটা সবে প্রকট হচ্ছে,
রাতের অন্ধকারে তোমাকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে,
কেউ আশ্রয় দিতেও ভয় পাচ্ছে।
অন্ধকূপের মধ্যেও জীবন কাটিয়েছ,
বাইরের জগতের আলো তোমার চোখে পড়েনি।
সত্যি বলার শাস্তি। তুমি ভাবোনি কখনো, সত্যি বলার শাস্তি এত ভয়ঙ্কর!
দেশের দু-একজন বুদ্ধিজীবি তোমার সাথ হয়ত দিতে চেয়েছে,
পরে তারাও পিছিয়ে আসে পরিবারের চিন্তা করে।
তাদেরই বা দোষ দিই কি করে?
দেশের সংবিধানের অসাংবিধানিক নীতি তোমাকে দেশ ছাড়া করে দিল।
মা,
তুমি ঘুমের মধ্যেও রক্ত চোখ দেখতে, তাইনা!
হয়ত ঘুমোতে, ক্লান্ত হয়ে!
তোমার বুকের ভিতর প্রতিটা মুহুর্তে কেঁপে উঠেছে,
"এই বুঝি ঘরে ঢুকে এল ওরা!
এই বুঝি ছিন্নভিন্ন করে দিল চাপাতির আঘাতে!
এই বুঝি সব থামিয়ে দিল, শেষ করে দিল আমাকে!
এই বুঝি সত্যের পরাজয় হয়েগেল।"

সেই দেশ কখনো দেশ হয়ে উঠতেই পারেনি মা,
সেই দেশ কখনো সত্যের মুখোমুখি হতে চাইনি,
সেই দেশ ধর্মান্ধের কারাগার।
সেই দেশে মুক্ত চিন্তা নয়, সম্মোহনের খেলা চলে,
সেই দেশ খুনিদের দেশ।
সেই দেশ শুধু একটা রাষ্ট্র মাত্র।

নিরাপত্তার খোঁজে চলে এলে ভারতে,
আশ্রয় পশ্চিমবাংলা।
উষ্কখুষ্ক মুখে তুমি ভেবেছিলে এখান থেকে লড়াই শুরু করবে,
দেশে ফেরার লড়াই।
কিন্তু এখানেও তোমার ভাষা থামিয়ে দিতে উঠে আসল বজ্জাত সরকার।
সরকার নয়,
ওরা মাওবাদী।
তোমার লেখা "দ্বিখন্ডিত"কে খন্ড খন্ড করে জলে ভাসাতে চেয়েছিল।
পুলিশ কমিশনারকেও রাজনীতির দালাল বানিয়ে
তোমাকে হুমকি দিয়েছে।
রিজওয়ান ঘটনার সুযোগ নিয়ে মুসলিম জাতিকে
তোমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে।
আরও কত কি করেছে,
মনে করতে পারো সেসব মেয়েমা!
বাংলা এখনও মানুষ হয়নি,
বাংলা আজও রাজনীতির একটা মঞ্চ মাত্র।

পুরুষতন্ত্র, ধর্মতন্ত্র, সরকারতন্ত্র
বারেবারে তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
অগ্নিউৎস বলেই
তুমি আজও সত্য প্রতিষ্ঠার লড়াই লড়ে যাচ্ছ।
আজ আর তোমার লড়াইকে ওরা থামাতে পারবেনা,
আজ তুমি সম্পূর্ণ ভিন্ন "তসলিমা নাসরিন"।
এই বাংলাতেও তোমার প্রত্যাবর্তন হবে,
বঙ্গকন্যা ফিরবেই,
আমি বাজপাখির দৃষ্টিতে সেইদিন দেখতে পাচ্ছি।
তোমার আবিষ্কার আমি,
তোমার আদর্শে গড়া অগ্নিদূত হয়ে ফেটে পড়বো,
ফিরিয়ে আনবো তোমাকে এই বাংলায়,
সম্মানের সাথে,
নৈতিকতা দিয়ে।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সৌম্যজিৎ দত্ত
সৌম্যজিৎ দত্ত এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 2 দিন ago
Joined: বৃহস্পতিবার, মে 17, 2018 - 8:39অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর