নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ক্যাম পাশা
  • সলিম সাহা
  • নুর নবী দুলাল
  • মারুফুর রহমান খান
  • লুসিফেরাস কাফের

নতুন যাত্রী

  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ
  • শহিদুল নাঈম

আপনি এখানে

ওটাগো কোস্টের "কাওকোহি" বিচে প্রাপ্ত এক বোতল কাহিনি : পর্ব - ১



নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডে জেন্ডার ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণে অংশ নিতে বছর তিনেক আগে অবস্থান করি সেখানে ৪-মাসের মত। শনিবার হাফ-ডে আর রোববার পুরো দিন ছুটি থাকতো আমাদের "খ্রাইস্ট চার্জ কলেজ অব এডুকেশন"। শনিবার সাধারণত আশেপাশের আপেল বাগান, ভেড়ার খামার, বার্চ ট্রির ঘন বৃক্ষরাজি ইত্যাদি দেখে সময় কাটালেও, পুরো রোববার আমি একাকি চলে যেতাম চারদিকের যে কোন সমুদ্র সৈকতে। ওটাগো কোস্টের "কাওকোহি" বিচে অনেকবার ঘুরেছি আমি সকাল থেকে দুপুর, আবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা অবধি। সি-বিচে প্রায়ই বোতল পেলে তা খুলে বা ভেঙে দেখতাম আমি। অনেক সময় বোতলে মূল্যবান জিনিসপত্র, চিঠি, ছবি, ঠিকানা পেয়েছি আমি। একবার একটা বোতল পেয়েছিলাম, তা লিন্ডা নামে জার্মান এক কিশোরি প্রশান্ত মহাসাগরে ফেলেছিল তার মা বাবার সাথে জাহাজভ্রমণ কালে। ০৩ সেপ্টেম্বর ১৯৫২ সনে প্রশান্ত সাগরে ফেলা বোতলটা আমার হাতে পড়ে অন্তত ৬৫-বছর পর। বোতলটাতে ৮/৯ বছরের কিশোরী লিন্ডার ছবি ছিল তার মা বাবার সাথে। জার্মানির লিন্ডার ঠিকানায় একটা পত্র দিলে ৭৩ বছরের লিন্ডা প্রায় দুমাস পর যোগাযোগ করেছিল আমার সাথে। সে কথা আরেকদিন বলবো আরেক গল্পের ছলে, আরেক জীবনের প্রপঞ্চে!
:
একদিন দুপুরে একাকি ঘুরছিলাম সাউথ আয়ল্যান্ডের "কাওকোহি" বিচে। সুনসান দুপুর বিধায় বলতে গেলে সৈকতটা পুরো মানুষশূন্য ছিল। সৈকতে জল আর তট সংলগ্ন বড় বড় কালো বোল্ডার আর পাথরের মাঝে অদ্ভুৎ আকৃতির একটা মিছমিছে কালো বোতল পেলাম, যার অর্ধেকটা জলমগ্ন আর অর্ধেকটা বালির ভেতরে নিমজ্জিত। বোতলটা বের করা খুবই কষ্টকর ছিল একাকি আমার জন্য। কিন্তু তারপরো অনেক কষ্টে বোল্ডার একটু ফাঁক করে অবশেষে বোতলটা বের করতে পারলাম আমি সাবধানে। অনেকটা মধ্যপ্রাচ্যের হাঁড়ি আকৃতির মিশকালো বোতল, যার মাঝে গোলাকার চিত্রলিপিতে কি সব যেন লেখা। সম্ভবত মিসরীয় হায়ারোগ্রাফিক বা কিলক লিপি হতে পারে। সাধারণ বোতলগুলো ছিপি বা কর্ক দিয়ে আটকানো থাকলেও এবং সহজেই তা খোলা গেলেও, এ বোতলটি মনে হলো কালো কোন মেটাল দিয়ে তৈরি ও তৈরির সময়ই তা গলিত কিছু দিয়ে ঢালাই করে আটকানো। সুতরাং অনেক চেষ্টাতেও খুলতে পারলামনা বোতলটা। পাথরের সাথে জোরে আঘাত করলে ভেঙে যেতে পারে, তাই সাবধানে নিয়ে এলাম ডরমিটরিতে। প্লান করলাম সময় সুযোগ করে খুলবো একদিন।
:
ঢাকা ফেরার আগের দিন সিঙ্গাপুর এয়ারে মাত্র ৩০-কেজি লাগেজ আনতে পারবো বিধায় বোতলটা রেখে দিলাম টেবিলের উপর, কারণ লাগেছে তখন তিল ধারণের যায়গা নেই। রাতে শুয়ে অন্ধকারের মধ্যেও বোতলটা কেমন যেন কালো জ্যোতি ছড়াচ্ছিল অন্ধকারের মাঝে। ঘুম থেকে উঠে কি কারণে যেন বোতলটা আনতে ইচ্ছে হলো আমার বাংলাদেশে। তাই কিছু দরকারি বইপত্র ফেলে ট্রলিব্যাগে ভরলাম হাস্যকর চেহারার কালো বোতলটি। যার ওজন অন্তত ৮০০/৯০০ গ্রাম হবে। ঢাকাতে ফেরার পর ছোটবোন সব লাগেজ খুললো আমার, কার জন্যে কি এনেছি তা দেখতে। কিন্তু এমন চেহারার বোতল দেখে সে তা বের করে সবাইকে হাস্যকরভাবে দেখালো আর বললোে, "দেখো ভাইয়া কি এনেছে সুদুর নিউজিল্যান্ড থেকে আমাদের জন্য"! তারপরো আমি কেন যেন শোকেসের দামিসব জিনিসের পাশে বোতলটা রেখে দিলাম কি এক অমোঘ টানে!
:
প্রায় ৩ বছরে ধুলোবালি জমাতে এক শুক্রবার ছুটির দিনে খালি ঘরে একাকি বোতলটা নামালাম ক্লিন করতে। ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিস্কার করার পর এক চমৎকার কালো উজ্জ্বলতা ঠিকড়ে পড়তে লাগলো বোতলটার গা গলে গেলে যেন। মনে হলো ওর মধ্যে নিশ্চয়ই মূল্যবান কিছু আছে। তাই এর ঢালাই করা মুখটা নানাভাবে খোলার চেষ্টা করলাম বার কয়েক। কিন্তু এ যুগের বোতলের মত তা খোলার কোন পদ্ধতিই খুঁজে পেলাম না আমি কোনভাবে। বার কয়েক ফ্লোরে আঘাত করলাম তা ভাঙার জন্য। কিন্তু না ভাঙলেও অদ্ভুদ এক শব্দ আর তার প্রতিধ্বনি শুনতে পেলাম বোতলের ভেতর থেকে। কোন পথই না পেয়ে গ্যাসের চুলো জ্বালিয়ে তাতে অনেকক্ষণ ধরে রাখলাম বোতলের মুখটা। প্রায় ১০ মিনিট গরমের পর নরম হয়ে ছিপির মত মুখটা গলতে শুরু করলো ক্রমান্বয়ে। এক প্রকার কটু গন্ধ ছড়িয়ে আটকানো ছিপিটা তরল হয়ে পড়লো ফ্লোরে। আকস্মিক এক পটকা ফোটানোর মত শব্দ করে ধোয়ার কুন্ডলি পাকিয়ে এক বায়বীয় পদার্থ বের হলো তীব্র আওয়াজ করে। আমার চোখকে বিস্মিত করে প্রায় ৩০/৪০ সেকেন্ড ধোয়ার কুন্ডলিটি দেয়াল, ছাদ, শো-কেসের পাশ দিয়ে ঘুরে ঘুরে একদম আমার মুখ বরাবর স্থির হেয় রইল ক'সেকেন্ড। ক্রমে কালো ধোয়ার কুন্ডলিটি প্রাচীন মিসরীয় ফারাও আমলের নারীদের মত অবয়ব আর পোশাকে উদ্ভাসিত হলো। আমি বিস্ময়করভাবে বোতল থেকে বের হওয়া ধোঁয়া, তার কুন্ডলির এদিক ওদিক ঘোরা এবং শেষে প্রাগৈতিহাসিক মিসরিয় ফারাও শাসনামলের নারীতে রূপান্তর হওয়া স্থির চিত্রের মত দেখতে থাকলাম। বুঝতে পারছিলাম না আমি কি স্বপ্নে দেখছি, জেগে আছি নাকি আমি মারা গেছি। আমার মৃত লাশ কি এসব দেখছে! মনে হলো ক্রমে জ্ঞান হারাচ্ছি আমি! সব অন্ধকার করে ঐ মিসরীর নারীর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আমি আমি বিস্মিত হলাম পুরো জগৎ সংসারকে!
(পরের পর্ব-২ আগামিকাল)

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 12 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর