নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • শ্মশান বাসী
  • আহমেদ শামীম
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

বাংলাদেশের মাহে রমজান এবং রমজানের সময় সংযমের নামে মন মানসিকতা


আপনি রোজা রাখেন আমার সমস্যা হয়না, আপনি ধৰ্ম পালন করেন নামাজ পড়েন আমার সমস্যা হয়না, আপনি ধৰ্ম প্রচার করেন ধৰ্ম শেখান আমার তাতেও আপত্তি নেই, আপনি আল্লাহ মানেন সেটা আপনার বিশ্বাস, আপনি পালন করেন আমার কখনো তাতে সমস্যা হয়নি৷ আপনি একমাস করুন আর একবছর অনশন করুন কিংবা দিনে না খেয়ে রাতে দুদিনের খান আমার সমস্যা নেই আপত্তি নেই৷ তার জন্য আমি কখনো আপনাকে নিষেধ করতে যাইনি জোর করতে যাইনি৷ তবে আপনার এত আপত্তি কেন?

আমি যখন আপনার মতে বিশ্বাসী নই কিংবা সৃষ্টিকৰ্তা বিশ্বাসী হইনি তখন আপনি বলেন আল্লাহ যেন আমাকে হেদায়েত দান করেন৷ আপনার কামনায় চিড়া ভিজুক কিংবা না ভিজুক তাতে কিন্তু আমি আপনার সঙ্গে দূৰ্ব্যবহার করিনি, ঝগড়া ফ্যাসাদেও যাইনি৷ আল্লাহ যদি সীলমোহর মেরে রাখেন, হেদায়েত না করেন কিংবা আপনার কামনা না শোনেন তাতে আমার কি করার আছে? সে জবাবদিহি আমি করব না, আপনি তার কাছে জবাবদিহি চাইবেন৷ তাই বলে আমাকে আপনি জোরপূৰ্বক বাধ্য করতে পারেন না৷ বাধ্য করার মালিক যদি আল্লাহ মনে করেন তাহলে আপনি তার উপরে মাতব্বরি করেন কিভাবে? আপনি বিচারক বনে গেলে আপনিতো আল্লাহ হয়ে গেলেন৷ আপনার সাহস হয় কি করে আল্লাহর সাথে পাল্লা দেয়ার? তিনি বিচারক, তিনি করুণাময় দয়ালু আপনি বলেন আবার আপনি বিচারক হতে যান কেন?

এই যে গতবছরের কথায় ধরুন! রোজা রাখেনা বলে গ্রামের সবার সামনে যে ছেলেটাকে কানে ধরিয়ে উঠবস করালো তাতে কি ছেলেটা অপমানে ধাৰ্মিক হয়ে যাবে? নিউজে ঢাকার কল্যানপুর নামক এলাকায় খাবারের দোকানগুলো বন্ধ করিয়েছিলো, চায়ের কেতলিতে বালি, তরকারি ভাতে পানি বিভিন্নভাবে খাবার নষ্ট করেছিলো তাতে কি তারা রোজা রাখছিলো? রিজিকের মালিক আপনি নাকি আল্লাহ? আপনার কোন ব্যাপারে আপত্তি না থাকলেও এসবে আপত্তি আছে আমার৷ শুধু আপত্তি নয় ঘৃণাও আছে সাথে৷ কেন জানতে চান? আপনি হাজী উনি হুজুর৷ রিক্সার গদিতে আরাম করে পাছাটা ভালোভাবে বসিয়ে, পেটটাকে ভাঁজ করে আয়েশে বসে দাড়িতে হাত বুলাতে বুলাতে জিজ্ঞেস করেন রিক্সাওয়ালাকে এই রোজা রেখেছিস? নাহ বললে একেবারে নবাবজাদার মত বড় বড় বয়ান দেন ধৰ্ম নিয়ে৷ একবার গদি থেকে নেমে রিক্সাওয়ালাকে পিছনে বসিয়ে চালিয়ে দেখুন৷ ধৰ্মের পাছা দিয়ে ঘাম হয়ে বেড়ুবে৷ পেট বলবে খাবার দে, গলা বলবে পানি৷ পরের খেয়ে মানুষের তালুতে নুন রেখে বড়ই খেয়ে ধৰ্ম করেন? শ্রম ধর্ম দিয়ে কাজ করে খান একবার? চৰ্বি কমে যাবে৷ দোকানগুলো যে বন্ধ করবেন এই শ্রমজীবি মানুষগুলো কি খাবে? নাকি আপনি রোজা রাখলে সবাইকে রোজা রাখতে হবে এটা সংবিধান !! কোরানের কোন পাতায় লেখা আছে যে রোজার সময় দোকান বন্ধ রাখতে হবে? গতবছরের ন্যায় এ বছর আবারো মাইকিং করলেন দোকান বন্ধ রাখতে৷ অদ্ভূত আপনাদের আচরণ! আপনি মন থেকে রাখলে দোকান খোলা থাক বা না থাক তাতে আপনার সংযমের কি এলো গেলোো!? আপনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলে আমার বাপের ক্ষমতা নাই আপনাকে একচুল সরানোর৷ হ্যাঁ দোকানের মালিক ইসলামের কেউ হলে সে রাখুক কিন্তু অন্যরা রাখবে কেনো? দোকান পর্দা করানোত আরো হাস্যকর কেননা তখন আপনার মনের চেয়ে কাপড়ের ক্ষমতা বেশি হয়৷ একটা কাপড়ের কাছে আপনি হেরে যান৷

আরব দেশে থাকি বলে এখানকার মানুষগুলো দেখি৷ এক রোজাদার বললো আমি রোজা রেখেছি, তুমিতো রাখোনি, তুমি খেতে পারবা, তোমারতো অসুবিধা নাই! কিন্তু আমিতো বাংলাদেশী৷ আমার দেশে এভাবে কেউ বলেনি বরং চোখ রাঙিয়েছে৷ আমার সম্মান তখন দ্বিগুন হয়ে গেলো মানুষটার প্রতি৷ দুঃখজনক ভাবে ভাবতে হয়েছে হায়রে আমাদের বাঙালি মুসলমান আর এদের মন মানসিকতায় কত যে তফাৎ! এই মানুষগুলো প্রকৃত উন্নত মনের, ধর্ম পালন করছে অথচ কারো ক্ষতি করছে না বরং অনুরোধ করছে তুমি খাও৷ সিগারেটের ধোঁয়া তার সংযমকে তছনছ করছে না, অনুভূতিকে বিষাক্ত করছে না৷ বরং সে কঠোর৷ এসব মানুষকে সম্মান করে তাদের সামনে ক্ষুধাকেও উড়িয়ে দেয়া যায়৷

গজল বানালেন কোরআন না মানলে বাংলাদেশ থেকে চলে যেতে হবে৷ ভারত চলে যেতে বললেন৷ কেন, দেশটা কি কিনে নিয়েছেন নাকি? এভাবে কি মানুষকে ধৰ্মের দাওয়াত দেন? মনে করেছেন এসব করলে দাওয়াত খাবে মানুষ? আল্লাহর আর ক্ষমতা রইলো কি? আপনিইতো আল্লাহকে মানছেন না৷ বড় নাস্তিকতো আপনি৷ তাহলে নাস্তিক মারতে বলছেন কাকে? নাকি পাগলের প্রলাপ বকছেন? জাকির নায়েক কিংবা সাঈদির দিকে একবার তাকান৷ জনসমক্ষে তারা ধর্মান্তরিত করে কিংবা ইসলাম গ্রহণ করায়৷ কখনো কি তাদের বার বার একই কাজ করার পরও কেউ হামলা করতে দেখেছেন? তবে কেউ যদি বলে আমি ইসলাম ত্যাগ করলাম তখন আপনারা হামলা, নিৰ্যাতন, শোষণ করেন কেন? এতটুকু পরিমাণ জ্ঞান কি আপনাদের নেই যে এসব কখনো মানুষকে কিছু শেখায় না বরং ঘৃনার জন্ম দেয়? ভালবাসার ভাল ভাল কথা ঝাড়েন, পৃথিবীর শান্তি মায়া মমতার কথা ঝাড়েন, আবেগের শতভাগ আপনি ঢালেন শুধু ধৰ্ম এলেই কেমন পশু হয়ে উঠেন৷ এ কেমন তরিকা? এতে ধৰ্ম সম্পৰ্কে বিরক্ত হবে নাতো কি আপ্লুত হবে?

গতবছর রাঙামাটির লংগদুর একটা চাকমা মেয়ের লেখা পড়েছিলাম৷ একটা বয়স্ক মুসলমানকে একটা চাকমা ছেলে প্রায় সময় ঔষধ বাকী দেয়৷ মুরুব্বি ঐ চাকমা ছেলেটাকে ছেলের মতই স্নেহ করেন এবং অসুখে বিসুখে ছেলেটার কাছে চিকিৎসা নেন৷ শুধুমাত্র পাহাড়ি বাঙালি গুজবের সূত্র ধরেই অতদিনের সব স্নেহ মাটিতে মিশে গেল৷ মুরব্বি ছেলেটার দোকান ভাঙ্গছে আর ছেলেটাকে মারছিলো লংগদু সহিংসতার সময়৷ কতটুকু পশু হলে এমন করে মানুষের সাথে মানুষ? আর আপনাদের প্রায়ই বলতে শুনি পাহাড়ি-বাঙালি৷ আজবতো? হিন্দুরা বাঙালি না? বৌদ্ধ সম্প্রদায় কিংবা খ্রিষ্টিয়ানরা কি বাঙালি না? এরাতো কেউ যাচ্ছেনা মারতে? যাচ্ছে কারা? পাহাড়ি-মুসলিম না বলে বাঙালির উপর ফেলেন কেন? প্রাণীজগতে এভাবে দিনের পর দিন জোর, জুলুম, শোষণ, তোষন, অত্যাচার, অনাচার, খুন, গুম, ধৰ্ষণ আর ঘৰ্ষণে ইসলাম হয়ে উঠেছে ভিন্ন এক ভয়ঙ্কর ধর্মপ্রাণী। বুকে হাত দিয়ে বলুনতো এ দোষ কার? বলুন এ দায় কার? এর জন্য কারা দায়ী? বিশ্ব ইসতেমায় গিয়ে কোনদিন সবার জন্য শান্তি কামনা করেননি৷ শুধু মুসলমানদের জন্য দোয়া মাগেন৷ এটা কতটা মানবিক পরিচয় বহন করে? দয়ালুর ভক্তরা মায়াহীন হয় কি করে? শোষণ আর শাসনের পাৰ্থক্যইতো আপনারা ভুলে যাচ্ছেন৷

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ইচ্ছেমত গালি দেন, হিন্দু বলেন, বাংলাদেশ বিদ্বেষী বলে প্রচার করেন৷ ঠাকুর কি কখনো আপনাদের মত পরিচয় দিয়েছেন যে তিনি হিন্দু? তিনি কি হিন্দু হবার দাওয়াত কিংবা হিন্দুত্ব প্রচার করতে দেখেছেন? আপনারাতো মানুষ পরিচয় দেননা, দেন মুসলমান পরিচয়৷ তিনি কি সেটা করেছিলেন? আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি, সেটা রবীন্দ্র সংগীত বলে জাতীয় সংগীত মানতে পারবেন না৷ কারণ হলো তিনি হিন্দু পরিবারের সন্তান তাই সেটা হিন্দু সংগীত৷ তবে বাংলাওতো হিন্দুর৷ আপনারা বাংলা ছাড়তে বলেন কোন মুখে? এতই যদি বুঝেন, জানেন তবে আমার সোনার বাংলা রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, তার মানে দাড়ায় বাংলা হিন্দুর৷ আপনারাই আরবে চলে যান যদি এতটুকু লজ্জা থাকে৷ যদি আপনাদের কথার দাম বিন্দুমাত্র থাকে৷ ঐ হিন্দু ঠাকুর দাড়ি গোফ রেখেছিলেন৷ তাহলে আজ থেকে দাড়ি গোফ আর রাখবেন না৷ জাত যাবে নইলে৷ আপনিতো মুসলমানের সন্তান তাইনা? নজরুলকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেন, নাস্তিক বলেন যদিও এত গজল আপনাদের জন্য লিখেছেন৷ ঈদ পালন করবেন নজরুলের গান দিয়ে৷ রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ৷ লজ্জা করেনা তখন? তিনিওতো পরিচয় দেননি আমি মুসলমান আমি গর্বিত !! নিজেদের বেলায় আপত্তি নেই, আমাদের বেলায় আপনাদের যত আপত্তি৷ নিজেরা ভাবুন, কারা ইসলামকে অপমান করছে? প্রশ্ন করুন মনকে৷ মনকে ব্যস্ত রাখুন৷ অলস মাথায় ভৰ্তি ছাতায়৷ আর আল্লাহকে নিয়ে আপনাদের ভাবতে হবেনা৷ আপনারা কি করছেন তা ভাবুন৷ আল্লাহ যখন সৰ্বশক্তিমান তখন ওনার, আপনার ভাবনার কিংবা ইবাদতের প্রয়োজন পড়েনা৷ উনি বিচার করবেন বলে বিচারক৷ আপনি আসামি হয়ে বিচার করতে যাবেন না তাহলে বিচারকের মূল্য বিন্দুমাত্র থাকে না৷

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঙালী ফকির চাষী
কাঙালী ফকির চাষী এর ছবি
Offline
Last seen: 9 ঘন্টা 23 min ago
Joined: শুক্রবার, ডিসেম্বর 29, 2017 - 2:02পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর