নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • শ্মশান বাসী
  • আহমেদ শামীম
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

বিগব্যাং তত্ত্বঃ আধুনিক বিজ্ঞান,কোরআন এবং মিথলজী (পর্ব-১)


বিগব্যাং তত্ত্বঃ মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কিত সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতবাদ হল বিগব্যাং তত্ত্ব।এ তত্ত্বমতে আজ থেকে ১৩.৭ বিলিয়ন বছর আগে অতি উত্তপ্ত ও অসীম ঘনত্বের একটি বিন্দুর বিস্ফোরণ থেকে কতগুলো ধারাবাহিক ঘটনাক্রম থেকেই মহাবিশ্বের উৎপত্তি।সর্বপ্রথম বিজ্ঞানী এডউইন হাবল দূরবর্তী গ্যালাক্সিসমুহের গতিবেগ পর্যালোচনা করে বলেন,দূরবর্তী ছায়াপথসমুহের বেগ সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এরা পরষ্পর দূরে সরে যাচ্ছে অর্থাৎ মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে।মহাবিশ্ব যেহেতু সম্প্রসারিত হচ্ছে সেহেতু বলা যায় কোন একটা বিন্দু থেকে নিশ্চয় মহাবিশ্বের সূচনা হয়েছে।এই বিন্দুটিকেই বলা হয় সিংগুলারিটি পয়েন্ট যেখানে স্পেস এবং টাইম দুটোই পুঞ্জিভূত ছিল।অর্থাৎ বিগব্যাং থেকেই সময় এবং স্থানের সূচনা।পরবর্তীতে মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন বিগব্যাং তত্ত্বের সত্যতা প্রমাণ করে।
কোরআনে বিগব্যাংঃ ইসলামিষ্টদের দাবি আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে কুরআনে বিগব্যাং সম্পর্কে বলা হয়েছে যেটি কাফের বিজ্ঞানীরা গত শতাব্দিতে আবিষ্কার করে।সুতরাং কোরআন নিঃসন্দেহে ঈশ্বর তথা আল্লাহর বানী।প্রমাণ হিসেবে তারা সূরা আম্বিয়ার ৩০ নং আয়াতের উল্লেখ করে যেখানে বলা আছেঃ
وَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاء كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ
কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?
আয়াতটি থেকে বিগব্যাং এর বর্ননায় যাওয়ার আগে কোরআনের অন্যান্য অনুবাদগুলো দেখা যাকঃ
YUSUFALI: Do not the Unbelievers see that the heavens and the earth were joined together (as one unit of creation), before we clove them asunder? We made from water every living thing. Will they not then believe?

PICKTHAL: Have not those who disbelieve known that the heavens and the earth were of one piece, then We parted them, and we made every living thing of water? Will they not then believe?

SHAKIR: Do not those who disbelieve see that the heavens and the earth were closed up, but We have opened them; and We have made of water everything living, will they not then believe?
সুরা আম্বিয়ার ৩০ নং আয়াতটিতে স্পষ্ট করে বলা আছে ,"কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম"।একদম শিশুসুলভ উক্তি।আকাশ এবং পৃথিবী একত্রে ছিল অতঃপর আল্লাহ তাদের পৃথক করে দিলেন।যাদের বিগব্যাং সম্পর্কে নুন্যতম জ্ঞান আছে তারাও জানে মহাবিশ্ব তোইরি হয়েছে ১৩.৭ বিলিয়ন বছর আগে সেখানে পৃথিবীর জন্ম ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে।তাহলে কিভাবে আকাশ এবং পৃথিবী একত্রে থাকতে পারে?
আমাদের মুসলীম বন্ধুরা এই প্রশ্নের উত্তর দেন একটু প্যাচিয়ে।তাদের মতে উক্ত আয়াতে পৃথিবী বলতে পৃথিবীর উপাদানসমুহের কথা বলা হয়েছে।আসলে আমাদের মুসলিম বন্ধুরা মানতেই চান না যে পৃথিবীর উপাদানগুলো তৈরি হতে নক্ষত্রের প্রয়োজন।মহাবিস্ফোরনের সময় কোনধরনের মৌলের উপস্থিতি ছিল না।পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় পর প্রথম পরমানু গঠিত হয়।বিস্তারিত পড়ার জন্য এই লিংকে যেতে পারেনঃ https://home.cern/about/physics/early-universe
এখন আসি কোরআনে পৃথিবী বলতে কার কথা বলা হয়েছে? সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য আমাদের কোরআনের আরেক সূরা হা-মীম সেজদার শরণাপন্ন হওয়া অতি আবশ্যক।
সূরা আম্বিয়ার ৩০ নং আয়াতে পৃথিবী বলতে কি বুঝানো হয়েছেঃ "নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।"-সূরা আল আরাফ,আয়াত ৫৪
" বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা।তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে।অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।"-সূরা হামীম সেজদাহ,আয়াত ৯-১২
উল্লেখিত আয়াতগুলো ভালোভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখব সুরা আল আরাফে বলা আছে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করতে আল্লাহর ৬ ইয়াওম সময় লেগেছে।এরমধ্যে দুদিন পৃথিবী সৃষ্টি ও ৪ দিন পৃথিবীর খাবার তথা পর্বতমালা স্থাপনে ব্যয় করলেন।এরপর আকাশে মনোনিবেশ করলেন।এখানে স্পষ্টত বুঝা যাচ্ছে আকাশ ও পৃথিবীর একত্র থাকা বলতে পৃথিবীর উপাদান নয় বরং পৃথিবী নামক গ্রহটিকেই বুঝানো হয়েছে। এছাড়া দেশের আরেকটি অগ্রগণ্য ইসলামিক সংগঠন আহলে হাদিসের পেজ আত-তাহরিকে এক ভাইয়ের প্রশ্ন ছিল ," পৃথিবী না আসমান আগে সৃষ্টি হয়েছিলো?"।আপনাদের সুবিধার্থে সম্পূর্ণ উত্তর হুবুহু উল্লেখ করলামঃ
প্রশ্ন (১/৮১) : পৃথিবী না আসমান সর্বপ্রথম সৃষ্টি হয়েছে?

-মুজীবুর রহমান, মান্দা, নওগাঁ।

উত্তর : আল্লাহ প্রথমে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আসমান সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই সেই সত্তা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবকিছু। অতঃপর তিনি মনঃসংযোগ করেন আকাশের দিকে। অতঃপর তাকে সপ্ত আকাশে বিন্যস্ত করেন। আর তিনি সকল বিষয়ে জ্ঞাত’ (বাক্বারাহ ২/২৯)। তিনি আরো বলেন, আপনি বলে দিন, তোমরা কি তাঁকে অস্বীকার করবে যিনি দু’দিনে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন? ...তারপর তিনি আসমানের দিকে মনোনিবেশ করেন। তা ছিল ধোঁয়া।..’ (ফুছছিলাত/হামীম সাজদাহ ৪১/৯-১১)। ইবনু কাছীর, শাওকানীসহ জমহূর মুফাসসিরগণ বলেন, আল্লাহ প্রথমে পৃথিবী সৃষ্টি করেন তারপর আসমান সৃষ্টি করেন। কারণ যমীন হ’ল ভিত্তি। আর কোন কিছুর ভিত্তি প্রথমে স্থাপন করা হয়, তারপর ছাদ’ (তাফসীর উক্ত আয়াত)।

তবে সূরা নাযি‘আতে এর বিপরীত বর্ণিত হয়েছে। সেখানে এসেছে, তোমাদের সৃষ্টি অধিক কঠিন, না আকাশের সৃষ্টি? যা তিনি নির্মাণ করেছেন। তিনি তার ছাদকে সুউচ্চ করেছেন। অতঃপর তাকে বিন্যস্ত করেছেন। ... পৃথিবীকে এর পরে তিনি বিস্তৃত করেছেন। সেখান থেকে তিনি নির্গত করেছেন পানি...’ (নাযি‘আত ৭৯/২৭-৩২)। প্রথমোক্ত আয়াতদ্বয়ের সাথে এ আয়াতটির বাহ্যিক বিরোধ সম্পর্কে মুফাসসিরগণ বলেন, আল্লাহ তা‘আলা প্রথমে যমীনকে অবিস্তৃত আকারে সৃষ্টি করেন। অতঃপর আসমান সৃষ্টি করেন। এরপর যমীনকে প্রসারিত করে তাতে পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, গাছ-পালা ইত্যাদি স্থাপন করেন’ (কুরতুবী, তাফসীর সূরা বাক্বারাহ ২৯ আয়াত; শানক্বীতী, আযওয়াউল বায়ান, তাফসীর সূরা ফুছছিলাত ১০ আয়াত)।লিংকঃ http://at-tahreek.com/december2015/qa_19_03_01.html

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

চাঁদসওদাগর
চাঁদসওদাগর এর ছবি
Offline
Last seen: 21 ঘন্টা 50 min ago
Joined: বৃহস্পতিবার, জুলাই 21, 2016 - 8:05অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর