নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মাহের ইসলাম
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

জেরুজালেম কি মুসলমানদের প্রাপ্য?



আবার গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে অন্তত ৫২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় দুই হাজার ৪০০ মানুষ। দুদিন আগে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের গাজা সীমান্তে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। গত মার্চ থেকে এ নিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ১২২ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হলো। এবারের ইস্যু জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর। যদিও অনেক আগেই ইসরাইল জেরুজালেমকে ঘোষণা করে রেখেছিল তাদের দেশের রাজশানী কিন্তু এ ঘোষণা মানেনা বিশ্বের মুসলমানরা। কেন মানেনা! একটু পেছনে যেতে হবে তবে জেরুজালেম শহরের। জানতে হবে এ শহর পত্তন করেছিল কারা, যৌক্তিক বিচারে কাদের হতে পারে এ শহর!

জেরুজালেমের প্রাগৈতিহাসিক কালানুক্রম খুঁজলে দেখা যাবে, পুরনো বাইবেল অনুযায়ী, খ্রিষ্টপূর্ব ১১-শ শতকে ইহুদি রাজা দাউদের (নবী দাউদ) জেরুজালেম জয়ের পূর্বে শহরটিতে জেবুসিয় উপজাতির বসবাস ছিল। দাউদের মৃত্যুর পর তার পুত্র ইহুদি রাজা সলোমন (নবী সোলাইমান) শহরের দেয়াল সম্প্রসারিত করেন এবং এখানে নির্মাণ করেন temple of solomon। এরপর ৪৪০ খ্রিষ্টপূর্বের দিকে পারস্য আমলে ইহুদি নবী নেহেমিয়া ব্যবিলনের নির্বাসন থেকে থেকে ফিরে আসেন ও এর পুনর্নির্মাণ করেন। ৪১-৪৪ খ্রিষ্টাব্দে জুডিয়ার ইহুদি রাজা আগ্রিপ্পা “তৃতীয় দেয়াল” নামক নতুন নগরপ্রাচীর নির্মাণ করেন। গবেষকদের দাবি প্রাচীন ব্রোঞ্চ যুগ থেকেই এখানে মানুষের বসবাস ছিল। ধারণা করা হয়, সেটা হতে পারে ৩৫০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ থেকেই। ১০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে ইহুদি কিং ডেভিড (নবী দাউদ) প্রথম জেরুজালেম জয় করেন এবং রাজধানী ঘোষণা করেন। তারপর তার ছেলে কিং সলোমন (নবী সোলায়মান) অন্তত ৪০ বছর পরে এখানে প্রথম পবিত্র প্রার্থনালয় তৈরি করেন।

৬৩৭ সালে ইসলামের খলিফা হযরত উমরের শাসনামলে মুসলিমরা জেরুজালেম অবরোধ ও জয় করেন। ঐ সময় জেরুজালেমে কোন মুসলমানের বসবাস ছিলনা। তখন খৃষ্টান ও ইহুদিরা বসবাস করতো পুরো জেরুজালেমে। এরপর খলিফা উমর একে মুসলিম সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। ১০৯৯ সালে প্রথম ক্রুসেডের সময় ইউরোপিয় খ্রিষ্টান বাহিনি জেরুজালেম দখল করে এবং ১১৮৭ সালের ২ অক্টোবর সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবী কর্তৃক তা বিজিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এতে খৃস্টান ইহুদিদের কর্তৃত্ব বহাল ছিল। ১২৪৩ সালে জেরুজালেম পুনরায় খ্রিষ্টানদের দখলে আসে এবং দেয়ালগুলো সংস্কার করা হয়। ১২৪৪ সালে খোয়ারিজমিয় মুসলিম তাতাররা শহরটি দখল করে এবং সুলতান মালিক আল-মুয়াত্তাম জেরুজালেমের নগরপ্রাচীর ভেঙে ফেলেন।
:
১৮৬০ সালে "মিশকেনট শানানিম" নামক ইহুদি বসতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত জেরুজালেমে ইহুদিরা নিগৃহীত হতো। শহরটি ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু স্থানের অবস্থানস্থল, যেমন মুসলিমদের কাছে ডোম অব দ্য রক ও আল-আকসা মসজিদ, ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্ট ও পশ্চিম দেয়াল এবং খ্রিষ্টানদের কাছে চার্চ অব দ্য হলি সেপালচার গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিগণিত হয়। ১৯৮১ সালে এই অঞ্চলটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর শহরটি জর্ডান কর্তৃক অধিকৃত হয় এবং এর ইহুদি বাসিন্দাদের শহর থেকে উচ্ছেদ করা হয়। ১৯৬৭ সালে ছয়দিনের যুদ্ধে টেম্পল মাউন্টের উপর দুপক্ষের মধ্যে ইহুদি-মুসলিম লড়াই হয়। এসময় ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমেরসহ পুরো শহর দখল করে নেয় এবং পশ্চিম অংশের সাথে একীভূত করে পুরো এলাকাকে ইসরায়েলের অন্তর্গত করে নেয়়।
:
বর্তমানে জেরুজালেমে মুসলমান, খৃস্টান ও ইহুদিরা আলাদা আলাদা এলাকাতে বসবাস করছে। Hārat al-Muslimīn নামক মুসলিম এলাকাতে ২০০৫ সালে অন্তত ২২,০০০ মুসলিম বসবাস করত। Ḩārat an-Naşāra মহল্লায় খ্রিষ্টানদের পবিত্রতম স্থান চার্চ অব দ্য হলি সেপালচার অবস্থিত, ওখানে ৫,০০০ এর মত খৃস্টান বসবাস করে। Ḩārat al-Yahūd এলাকায় বসবাস করে ইহুদিরা। খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম শতক থেকে এখানে ইহুদিরা ধারাবাহিকভাবে বসবাস করে আসছে বলে ঐতিহাসিক প্রমাণ মেলে। ১৯৪৮ সালের যুদ্ধে জর্ডার এখানে বসবাসরত ২,০০০ ইহুদিকে অবরোধ করে এবং সবাইকে স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। ঐ সময় ইহুদি মহল্লাটি সম্পূর্ণরূপে জর্ডান কর্তৃক অধীকৃত হয় ও মুসলিমগণ কর্তৃক এর প্রাচীন সিনাগগগুলো ধ্বংস করা হয়।
:
১৯৬৭ সালে ছয়দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলি ছত্রীসেনারা দখল করার আগ পর্যন্ত শহরটি পুরো জর্ডানের অধিকারে ছিল। দখলের পর ইহুদিরা তাদের পবিত্রতম স্থান পশ্চিম দেয়ালে (Western Wall) প্রবেশের রাস্তা উন্মুক্ত করতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পার্শ্ববর্তী মুসলিম মরক্কোন মহল্লা ধ্বংস করে ফেলার আদেশ দেয়। ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে যাওয়া ইহুদি মহল্লা পুনরায় নির্মাণ করা হয় এবং উচ্ছেদকৃত পুরনো ইহুদিদের পুনর্বাসিত করা হয়। এখানে বর্তমানে ২,৩৪৮ জন ইহুদি বসবাস করে। ২০০৪ সনে পুনর্নির্মাণের আগে এখানে যত্নসহকারে খননকার্য চালানো হয়। হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক "অধ্যাপক নাহমান আভিগাদ" এই কাজের তত্ত্বাবধান করেন। প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ জাদুঘর ও বাইরের পার্কে প্রদর্শন করা হয়। এজন্য পর্যটকদেরকে বর্তমান শহরের দুই বা তিন তলা পর্যন্ত নিচে নামতে হয়। এই মহল্লায় “কারাইটেস স্ট্রিট” রয়েছে। এখানে প্রাচীন ইহুদি "আনান বেন ডেভিড কেনেসা" অবস্থিত।
:
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি দেশই জেরুজালেমকে তাদের নিজেদের রাজধানি হিসেবে দাবি করে। ফলে এই দুটি দেশের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে এই শহর এবং সেখানে থাকা কিছু বিশেষ ছোট ছোট স্থানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সংঘর্ষ চলে আসছে। জেরুজালেম শহরটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্যও। কেননা এখানেই শিশু হিসেবে এসেছিলেন যিশু খ্রিস্ট। এখানের রাজা সলোমন প্রতিষ্ঠিত temple of solomon এ যিশুমাতা সেবিকা হিসেবে কাজ করতেন বলে মনে করা হয়! আবার ইহুদিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তাদের ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা মোজেসেরও পূণ্যভূমি এই জেরুজালেম। ইহুদীদের প্রথম সিনাগগ এই শহরে অবস্থিত ছিলো, যা মুসলিম শাসক কর্তৃক ধ্বংস করা হয় বলে ইহুদিরা তাদের ইতিহাসে বলে থাকেন। ৩৭ খ্রিস্টাব্দে ইহুদি রাজা হেরড এখানে দ্বিতীয় মন্দির তৈরি করেন এবং সেটার চারপাশে দেয়াল তুলে দেন। রোমানরা সেটিও নষ্ট করে দেয় ৭০-খ্রিস্টাব্দে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, ইহুদি সিনাগগ ধ্বংস করেছিল রোমান ও মুসলমান শাসকগণ ধারাবাহিকভাবে!
:
ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর জেরুজালেমকে ইহুদি মুসলিম ২ ভাগে ভাগ করে নেয়া হয়। সেখানে ইসরাইল পশ্চিম অংশ শাসন করতো, আর জর্ডান নিয়ন্ত্রণ করতো জেরাজালেমের পূর্বাংশ। ১৯৬৭ সালে ৬-দিনের আরব ইসরাইল যুদ্ধের পর পুরো জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরাইল। জেরুজালেমকে নিয়ে দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু টেম্পল মাউন্ট। এটি ৩৫-একর জমিতে অবস্থিত। সেখানে কিছু ধর্মীয় স্থাপনা রয়েছে যেমন ওয়েস্টার্ন ওয়াল, দি ডোম অব দি রক এবং আল আকসা মসজিদ। ইহুদী ধর্মে এই প্রাচীন স্থানটিকে খুবই পবিত্রতম স্থান হিসেবে ধরা হয়। এখানেই গড়ে উঠেছে তাদের প্রথম ও দ্বিতীয় মন্দির ও ইহুদী নবীদের শিক্ষাকেন্দ্রও এখানেই। ইহুদিদের মতে, তাদের প্রথম সিনাগগের স্থানে মুসলিমরা তৈরি করে তাদের "মসজিদ আল আকসা"। যার অবশিষ্টাংশ এখন The West Wall, তাদের পুরনো টেম্পল অব সলোমনের বদলে যেখানেই মাথা কুটে প্রার্থনা করে ইহুদিরা এখনো। তোরাহ বা তাওরাতে বর্ণিত এ ভূমিকে ইহুদিদের যিহোভা প্রদত্ত "Promised land" হিসেবে গণ্য করা হয়। তারপরো ইসরাইল কর্তৃক দখলে নেয়ার পরও জেরুজালেমের ৩ ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আগের মতই অবিকৃত রেখেছে ইসরাইল সরকার। যদিও সহিংসতার কারণে মাঝে মাঝে বন্ধ করে দেয়া হয় মসজিদ আল আকসা। কোন কোন উগ্র ইহুদি সংগঠন তাদের দাবীকৃত temple of solomon এর স্থানে নির্মাণকৃত মসজিদ আল আকসা ভেঙে আবার নতুন করে temple of solomon বানানোর ঘোষণা দিলেও, ইসরাইল সরকার যেতে চায়না ওমন সংঘাতে। তাই সকল ধর্মীয় স্থাপনাগুলো আগের অবস্থানে রেখেছে তারা।
:
মক্কা ও মদিনার পরে আল আকসা মসজিদকে সবচেয়ে বেশি পবিত্রতম স্থান মনে করে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। ইসলাম ধর্মমতে, এখান থেকেই বেহেশতে সফরে গিয়েছিলেন নবী মোহাম্মদ (সাঃ)। ৬২০ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের নবী মোহাম্মদ (সা:) বোরাকে চড়ে জান্নাতে যান আল্লাহর সাথে দেখা করতে এখানের "মসজিদুল আকসা" থেকে থেকেই। কিন্তু ইহুদিরা বলে থাকেন, ৬২০ খৃস্টাব্দে জেরুজালেমে কোন মসজিদই ছিলনা, ইসলামের প্রথম মসজিদ মদিনার "কুবা মসজিদ", যা স্থাপিত হয় ৬২২ খৃস্টাব্দে নবী মুহাম্মদের নিজ হাতেই (http://www.iqna.ir/bd/news/)। মুসলমানরা হাস্যকরভাবে temple of solomon কে নিজেদের মসজিদ বলে দাবী করে, যা নির্মাণ করেছিল ইহুদি নবী ও রাজা সলোমন। খৃস্টানদের পর ১৫১৬ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত তুর্কী মুসলিম অটোমান সাম্রাজ্যের দ্বারা শাসিত হয় জেরুজালেম। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে জেরুজালেম দখল করে গ্রেট ব্রিটেন। সেই সময়ে ফিলিস্তিনের অংশ ছিলো জেরুজালেম। ব্রিটিশরা এই শহর ও আশপাশের এলাকাকে ১৯৪৮ সালে ইসরাইলের স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত শাসন করতে থাকে।
:
সম্প্রতি কিছু ইসরাইলি গ্রুপ টেম্পল মাউন্টে তাদের তৃতীয় ইহুদী মন্দির বানানোর পরিকল্পনা করছে। আর সেই সিদ্ধান্তেই বিশ্বের সকল মুসলমানের উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। ১৯৮০ সালে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করা হয়। ২০১৭ সালের মে মাসে ফিলিস্তিনের হামাস গ্রুপ একটি ডকুমেন্ট উপস্থাপন করে। সেখানে জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের নতুন করে গঠনের কথা বলা হয়। এই হচ্ছে ইতিহাসের আলোচিত জেরুজালেম শহরের দীর্ঘ ইতিহাস। এ পর্যন্ত ৫২-বার আক্রান্ত হয়েছে জেরুজালেম। অবরোধ, দখল ও পুনরুদ্ধার হয়েছে ৪৪ বার। ঘেরাও করা হয়েছে ২৩ বার এবং ধ্বংস করা হয়েছে অন্তত ২ বার।
:
জেরুজালেম ইহুদিদের পবিত্রতম নগরী যেমন পবিত্র মুসলমানদের কাছে মক্কা ও মদিনা। এ শহরটি বর্তমানে ইহুদিদেরই দখলে। প্রাচীন আর মধ্যযুগে কে কোন দেশ কিভাবে দখল করবে, তার কোন আইন ছিলনা (এখনো আছে কি?)। দখল করতে পারলেই সেই দেশ তার। ৬৩৭ খৃস্টাব্দে খলিফা ওমরের সময় মুসলমানরাও ইহুদিদের বিতাড়িত করেই দখল করেছিল তাদের এ শহর বা দেশ। ১৯৪৮ সনে ঠিক দখল নয়, বরং জাতিসংঘের ম্যান্ডেট নিয়ে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল ইহুদিরা। যা বিশ্বের যে কোন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রক্তাক্ত ইতিহাসের চেয়ে ভাল বলা যায়। বাংলাদেশও প্রতিষ্ঠা হয়েছিল একটা মরণঘাতী যুদ্ধ ও ৩০-লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে। সে হিসেবে ইসরাইল বরং শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।
:
ঐতিহাসিক কালচক্রে মধ্যপ্রাচ্যের ৯৯% ভূমি বর্তমানে মুসলমানদের দেশ। প্রাচীনকালে বিশেষত নবী মুহাম্মদের (স) আমলে ঐসব এলাকাতে মূলত ইহুদিরা বসবাস করতো। এমনকি মদিনায় বসবাসকারী ১০% "আল-হক" বাদে বাকি ৯০% মদিনাবাসী ছিল ইহুদি। মদিনা ছাড়াও খায়বর, ফদক, তাইমা ইত্যাদি ইহুদি বসতি ছিল, যা মুসলমান কর্তৃক দখলের পর ইহুদিদের হত্যা কিংবা উচ্ছেদ করা হয়। এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যের মাত্র ১% ভূমিতে প্রায় ১-কোটির মত ইহুদি বসবাস করছে কেবল ইসরাইলে। ইসরাইলের অধিবাসির আবার ১৭% আরব মুসলমান, যারা ইসরাইলি নাগরিক হিসেবে পুরো অধিকার ভোগ করছে ইসরাইলে। কিন্তু কোন মুসলিম দেশে কোন ইহুদি বসবাস করতে পারে কি? তো মুসলমানরা যদি ইহুদিদের রাজা বাদশা, নবী ও পুর্বপুরুষদের ধর্মীয় শহর জেরুজালেমকে তাদের দাবী অনুসারে ইহুদিদের হাতে ছেড়ে দেয় কিংবা প্রতিষ্ঠিত করতে দেয় সেখানে ইসরাইলের রাজধানী, তবে কি ক্ষতি হবে মুসলমানদের? বরং আধুনিক শিক্ষিত, যৌক্তিক, বিজ্ঞানভিত্তিক, শক্তিশালী রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে শান্তপূর্ণ সহবস্থানের বদলে যদি পাথর ছুঁড়ে এভাবে আন্দোলনের নামে নিজেরা মরতে থাকে প্রতিনিয়দ, তবে কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তি? যে কোন শালিস কিংবা যৌক্তিক বিচারে দেখা যাবে, জেরুজালেমের প্রতি মুসলিম দাবীর চেয়ে ইহুদি দাবী শক্তিশালী ও যৌক্তিক। তা ছাড়া ভূমি মালিকানায় ১২-বছরের অধিককাল "দখলীসত্ব" অন্যতম প্রধান অধিকার হিসেবে পুরো বিশ্বসমাজে স্বীকৃতি। আর জেরুজালেম বর্তমানে পুরোটাই ইহুদিদের দখলে সেই ১৯৬৭ থেকেই। সুতরাং বৃহত্তর শান্তির জন্য মুসলমানদের উচিত আল্লাহর উপর ভরসা করে ইহুদিদের দাবীকৃত তাদের পূর্বপুরুষদের পবিত্র নগরী জেরুজালেমকে ইসরাইলের হাতে ছেড়ে দেয়া, যাতে ফিলিস্তিনির রক্তে মধ্যপ্রাচের মরুভূমি আর না ভেজে। আর একটু ছাড় দিয়ে হলেও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা দরকার মুসলমানদের। এ পথে ফিলিস্তিন ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলো এগিয়ে আসলে শান্তির পথ সুগম হবে।
:
১। রাজধানী জেরুজালেমে স্থানান্তরের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ফিলিস্তিনিরা;
২। জেরুজালেম নগরী ও
৩। ইহুদিদের পবিত্রতম পশ্চিম ওয়াল (মুসলমানরা দখলের আগে সেখানে তাদের temple of solomon ছিল বলে মনে করে ইহুদিরা)!

Comments

নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

জেরুজালেম মুসলমানদের ভূমি - একটা মামাবাড়ির আবদার!

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

আমি কোন যুক্তিতে দেখিনা এটা মুসলমানদের প্রাপ্য! বরং খৃস্টান ও মুসলিমদের দাবী যদি ১০% হয়, তবে ইহুদিদের দাবী ন্যুনতম ৯০%। আসলে যে কোন যৌক্তিক বিচারে জেরুজালেম ইহুদিদের প্রাপ্য! ধন্যবাদ দাদা

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Online
Last seen: 14 min 31 sec ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর