নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মাহের ইসলাম
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

ব্ল্যাক প্যানথার এবং আকবর প্রামাণিকের কেয়ামত দর্শন


আকবর প্রামাণিক বাজারের পশ্চিমপ্রান্তের মসজিদ থেকে আসরের নামাজ আদায় করে তরকারি বাজারের ভেতর দিয়ে কিছুদূর এগোনোর পরই হঠাৎ ঝড় উঠে এলো, চৈত্রের ধুলোময় ঘূর্ণিবায়ুর দাপটে খোলা তরকারি বাজারে অবস্থানরত লোকজন দৌড়ে অল্প দূরের মুদি দোকানগুলোতে আশ্রয় নিলেও আকবর প্রামাণিক দ্রুত পা ফেলে সোজা হাঁটতে লাগলেন। তরকারি বাজারের কাছের মুদি দোকানগুলো হিন্দুদের, তার ভাষায় মালাউনদের, মালাউনদের দোকানে তিনি আশ্রয় নিতে চান না। তিনি পারতপক্ষে অমুসলিমদের কোনো সাহায্য-সহযোগিতা গ্রহণ করেন না, অমুসলিমদেরকেও কোনো সাহায্য-সহযোগিতা করেন না, অমুসলিমদের দোকান থেকে পণ্য কেনেন না, অমুসলিমদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার তো প্রশ্নই আসে না! ফলে তিনি ধুলি-ধূসরিত হয়ে হেঁটে এগিয়ে গিয়ে হান্নানের হোটেলে ঢুকে পড়লেন। তার আগেই আরো অনেকেই হোটেলে আশ্রয় নিয়েছে, কেউ বেঞ্চে বসে আছে, কেউবা দাঁড়িয়ে। তিনি গিয়ে দাঁড়াতেই বেশ কয়েকজন তাকে সালাম দিলো, তিনিও সালামের জবাব দিলেন। তাদের পাড়ার যুবক খলিল বেঞ্চ থেকে উঠে নিজের আসন ছেড়ে দিয়ে বললো, ‘আসসালাম ওয়ালায়কুম চাচা, বসেন।’

‘ওয়ালায়কুম আসসালাম’ বলে আকবর প্রামাণিক খলিলের ছেড়ে দেওয়া আসনে বসে পড়লেন। তিনি কখনোই বসতেন না যদি খলিলের জায়গায় অনিল হতো! তবে অনিলকে তিনি বুঝতেও দিতেন না যে অনিল মুসলিম নয় বলেই তিনি তার প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছেন। আকবর প্রামাণিক পকেট থেকে রুমাল বের করে মুখের-গলার ধুলো মুছতে লাগলেন, সাদা রুমাল কালচে হয়ে গেল। ধুলোর দৌরাত্ম থামিয়ে বাইরে এখন বৃষ্টি শুরু হয়েছে। কতোক্ষণে থামবে কে জানে! অবশ্য বাজার তিনি আগেই সেরে ফেলেছেন। জয়নুলের মুদি দোকানে বাজারের ব্যাগদুটো রেখে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন।

আকবর প্রামাণিক এবছর বাষট্টিতে পা দিয়েছেন। বাষট্টিতে পা দিলেও এখনও তিনি বেশ শক্ত-পোক্ত আছেন। নিজেই সাইকেল চলিয়ে হাট-বাজার করেন, দরকারি কাজে এখানে-সেখানে যান। ধার্মিক মানুষ হিসেবে শুধু নিজের গ্রাম নয়, আশপাশের গ্রামের মুসলমানরাও তাকে খুব শ্রদ্ধা করে। বাড়িতে লুঙ্গি-পাঞ্জাবি পরলেও, কোথাও বেরোবার সময় তিনি পাঞ্জাবি-পাজামা পড়েন। আর গোসল এবং ঘুমানোর সময় বাদে প্রায় সারাক্ষণই তার মাথায় সাদা টুপি থাকে। তিনি কখনোই নামাজ কাজা করেন না। নামাজ পড়তে পড়তে তার কপালের মাঝখানের চামড়ায় কড়া পড়ে শক্ত হয়ে গেছে।

আকবর প্রামাণিক সাচ্চা মুসলমান। কোরান-হাদিসের আইন অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার চেষ্টা করেন। তবে তিনি দুটো ব্যাপারে প্রায়ই মনঃকষ্টে ভোগেন-প্রথমত তার গায়ের রঙটি ফর্সা নয়, প্রায় কালো; দ্বিতীয়ত তিনি আশরাফ নন, আতরাফ, অর্থাৎ তার পূর্বপুরুষ সৌদি আরব থেকে আসেনি, এদেশেরই নিন্মবর্ণের হিন্দু থেকে ধর্মান্তরিত। যদি রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলি তাহলে তিনি জাতিতে হিন্দু, ধর্মে মুসলমান; অর্থাৎ হিন্দু মুসলমান। মাঝে মাঝে সেই ধর্মান্তরিত পূর্বপুরুষের প্রতি আকবর প্রামাণিকের খুব রাগ হয়-আরে জনাব, ধর্মান্তরিত হয়ে শান্তির ধর্মে যখন এলেনই তখন পূর্বের মালাউন পদবীটা রাখার কী দরকার ছিল? নামের আগে কিংবা পরে শেখ, সৈয়দ, কোরেশী, খান এসবের একটা লাগিয়ে নিলেই পারতেন! তবে তো আর বংশ পরম্পরায় ওই নিন্মবর্ণের হিন্দু জেলে সম্প্রদায়ের পদবী ‘প্রামাণিক’ বয়ে বেড়াতে হতো না! এজন্য একবার কী অপমানটাই না তাকে হতে হয়েছিল! আকবর প্রামাণিক জানতেন না যে নিন্মবর্ণের হিন্দু জেলে সম্প্রদায়ের পদবী-প্রামাণিক। এদেশের বিপুল পরিমাণ মুসলমান যা বলে থাকে, একবার চায়ের দোকানের আলাপচারিতায় তিনিও তাই বলেছিলেন, ‘আমার পূর্বপুরুষ সৌদি আরব থেকে এসেছিলেন।’

কথা বাতাসে মিলাতে যতোক্ষণ! আবেদ কোরেশী তাকে ধরে বসলেন- ‘ইতিহাস না জেনে কথা বলবেন না আকবর সাহেব। আপনার পূর্বপুরুষ মোটেও আশরাফ নন, আতরাফ। আপনার নামের শেষের পদবী-ই তার প্রমাণ। আরব থেকে আগত মুসলমানের পদবী কখনো প্রামাণিক হয় না। আপনার পূর্বপুরুষ নিন্মবর্ণের হিন্দু ছিলেন, হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। আপনার গায়ের কালো রঙও তাই সাক্ষ্য দেয়।’

গায়ের কালো রঙ নিয়ে না হয় তর্ক করা যেতো যে এই দেশে এসে কালক্রমে এই দেশের কালো মেয়ে বিয়ে করার ফলে তাদের বংশের দুধে-আলতা রঙে কালো রঙ প্রবেশ করেছে। কিন্তু পদবীটাই যতো সমস্যার মূল। এই পদবীর জন্যই তিনি আবেদ কোরেশীর মতো দাবী করতে পারেন না যে অতীতে তার পূর্বপুরুষ নবীজির পবিত্র দেশ সৌদি আরব থেকে বাণিজ্য করতে এই বাংলায় এসেছিলেন, তার রক্তে বইছে স্বয়ং নবীজির পবিত্র বংশের রক্ত! চায়ের দোকানে কিংবা কোনো ভরা মজলিশে আবেদ কোরেশী বুক ফুলিয়ে গর্বের সঙ্গে বলেন, ‘আমরা হলাম আশরাফ, আমার পূর্বপুরুষ ছিলেন স্বয়ং নবীজির কোরাইশ বংশের আদমি। সম্রাট আকবরের আমলে আমার পূর্বপুরুষ মক্কা থেকে এসেছিলেন প্রথমে ভারতের উত্তর প্রদেশে, তারপর এই বঙ্গদেশে।’

আকবর প্রামাণিকের পাশে বসে খবরের কাগজ পড়ছেন নায়েব আলী মাস্টার। নায়েব আলী প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক। স্কুল শেষে রোজ বিকেলে তিনি বাজারে আসেন, হান্নানের হোটেলে ঢুকে খবরের কাগজ পড়েন, চা-সিঙ্গারা খান আর গালগল্প করেন।

নায়েব আলী মাস্টারের হাতে ধরে রাখা খবরের কাগজে মাঝে মাঝে দৃষ্টি বুলাচ্ছেন আকবর প্রামাণিক। হঠাৎ তার দৃষ্টি আটকে গেল একটা খবরের শিরোনামে-‘সৌদি আরবে চালু হচ্ছে সিনেমা হল।’

তিনি মনে মনে উচ্চারণ করলেন, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ!’

খবরের শিরোনাম নয়, কালোকালির বর্ণমালা নয়, তিনি যেন দোজখের দৃশ্য দেখতে পেলেন; এতোটাই বিস্মিত তিনি! পরক্ষণেই তার মনে হলো, সৌদি আরব হলো নবীর দেশ, সেই দেশে কেন সিনেমা হলের মতো নাপাক জিনিস চালু হবে? এ মিথ্যে খবর! আকবর প্রামাণিক নয়াদিগন্ত পত্রিকা পড়েন, অন্য পত্রিকার খবরের ওপর তার আস্থা নেই। জয়নুল তার দোকানে নয়াদিগন্ত পত্রিকা রাখে, রোজ বিকেলে বাজারে এসে তিনি সেটাই পড়েন। আজ কী কারণে যেন পত্রিকা আসেনি জয়নুলের দোকানে, তারও আর পড়া হয়নি। খবরটা সত্য না মিথ্যা? তার ভেতরে কৌতুহল। তিনি নায়েব আলী মাস্টারের দিকে হাত বাড়িয়ে বললেন, ‘মাস্টার ওই কাগজখানা দাও তো।’

মাস্টারের হাত থেকে তিনি আন্তর্জাতিক খবরের পাতাটা নিলেন। উত্তেজনায়-অস্থির মনে খবর পড়লেন। পড়ার পর তার বুকের মধ্যেই কেবল নয়, সারা শরীরে মৃদু কম্পন শুরু হলো। তিনি দ্বিতীয়বার খবরটা পড়তে শুরু করলেন। কিছুদূর পড়ার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে হোটেলের ভেতর অন্ধকার হয়ে গেল। তিনি মনে মনে আল্লাহ’র কাছে প্রার্থনা করলেন, আল্লাহ খবরটা যেন মিথ্যে হয়! এইসব পত্রিকার খবর তিনি বিশ্বাস করেন না। তিনি মনে করেন এসব নাস্তিকদের পত্রিকা, এরা ইসলামের বিরুদ্ধে, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অনেক মিথ্যা খবর ছাপায়। তিনি মন থেকে বিশ্বাস করতে চাইলেন না খবরটা, আবার মনের মধ্যে সুচের মতো বিঁধতেও লাগলো। আগামী পাঁচ বছরে সৌদি আরবের পনেরটি নগরে চল্লিশটি সিনেমা হল চালু হবে? এই কী সম্ভব! আল্লাহ আর আল্লাহ’র নবী এই অনাচার সহ্য করবেন? পত্রিকাটি লিখেছে যে আগে সৌদি আরবে সিনেমা হল ছিল, সত্তরের দশকে মৌলবাদীদের চাপের মুখে সৌদি বাদশাহ সিনেমা হলগুলি বন্ধ করে দেন। এই খবরটিও তিনি বিশ্বাস করতে চাইলেন না। এও কী সম্ভব! বিশ্বাস হয় না। নিশ্চয় আল্লাহ’র নবীর দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যে গুজব ছড়াচ্ছে এইসব নাস্তিক পত্রিকা!’

হঠাৎ করেই ঝড় উঠেছিল, থেমেও গেল সহসাই। বাইরের পরিবেশ এখন শান্ত। হান্নানের হোটেল থেকে লোকজন বেরোতে শুরু করেছে। পত্রিকার পাতাটা মাস্টারকে ফেরত দিয়ে আকবর প্রামাণিক জয়নুলের দোকানে এলেন। ব্যাগদুটো দুই হাতে বয়ে নিয়ে লতিফের নারকেলের আড়তের সামনে তালা দিয়ে রাখা সাইকেলের কাঁধে ঝুলিয়ে দিলেন। তারপর সাইকেলের তালা খুলে, সাইকেলে উঠে ধরলেন বাড়ির পথ। তার বাড়ি খুব বেশি দূরে নয়, বাজারের কাছেই। বাড়ি ফিরে হাত-পা ধুয়ে মুড়ি আর চা খেলেন। কিন্তু ভেতরের অস্থিরতা কাটলো না। এক রকম অস্বস্তি নিয়েই তিনি মাগরিব এর নামাজ আদায় করলেন।

আকবর প্রামণিক স্বচ্ছল পরিবারের কর্তা। একজন সুখী মানুষ, সফল স্বামী ও পিতা; তেমনটাই তিনি মনে করেন। এজন্য আল্লাহ’র দরবারে হাজার শুকরিয়া জানান তিনি। তার দুই ছেলে এক মেয়ে, তিনজনকেই মাদ্রাসায় পড়িয়েছেন। বড়ছেলে মো: ইবাদত প্রামাণিক ফাযিল পাস করে সৌদি আরব চলে গেছে, এখন সে রিয়াদের একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন। ছোট ছেলে মো: ইমাম প্রামাণিক সবে ফাযিল পাস করেছে। ইমামকেও তিনি সৌদি আরবে পাঠিয়ে দিতে চান। নবীজির দেশের পবিত্র মাটিতে দুই সন্তান পবিত্র জীবন-যাপন করবে, সর্বদা আল্লাহ’র পথে থাকবে, এটাই তার ইচ্ছা। মেয়েটি সবার ছোট, মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে উঠার পর মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন, জামাই পেয়েছেন মনের মতো। যদিও মেয়ের তুলনায় বয়স একটু বেশি। বিয়ের সময় জামাইয়ের বয়স ছিল আটত্রিশ, আর মেয়ের চৌদ্দ। বিয়ের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর বয়সের বিস্তর ব্যবধান তিনি সমস্যা মনে করেন না। নবীজিও তো একান্ন বছর বয়সে হযরত আবু বকর আস-সিদ্দীকির ছয় বছরের কন্যা আয়েশাকে বিয়ে করেছিলেন। জামাই দ্বীনের সেবক, ফরিদপুরের একটি মাদ্রাসার শিক্ষক, চমৎকার ওয়াজ করে জামাই। আয়-রোজগারও খুব ভাল, সারাদেশে ওয়াজ করে বেড়ায়। ইমামের ল্যাপটপে তিনি জামাইয়ের ওয়াজ করা দেখেছেন। আহ, বড় বড় মধুর সে ওয়াজ!

আকবর প্রামাণিকের বাড়িতে টেলিভিশন নেই, এমনকি রেডিও পর্যন্ত নেই। রেডিও টেলিভিশকে তিনি মনে করেন শয়তানের বাক্স। তিনি মনে করেন এই রেডিও-টেলিভিশনের জন্যেই দেশটা আজ গুনাহগারে ভরে গেছে। ছেলেকে তিনি ল্যাপটপও কিনে দিতে চাননি। যখন ইমাম তাকে বুঝিয়েছে যে ল্যাপটপ থাকলে ইউটিউবে ওয়াজ দেখা যায়, ধর্মীয় গান শোনা যায়, কোরান শোনা যায়, ইরাক-সিরিয়া-ফিলিস্তিনে মুসলমানদের ওপর যে নির্যাতন হচ্ছে সেসব খবর দেখা যায়; আবার কোরান-হাদিস পড়াও যায়, তখনই তিনি ছেলেকে ল্যাপটপ কিনে দিয়েছেন। এখন তিনি নিজেও প্রায়ই সন্ধ্যায় ল্যাপটপে মেয়ের জামাইয়ের ওয়াজ দেখে এই হাসেন তো এই কাঁদেন! ইসলামী গান শুনে মনটাকে পবিত্র রাখেন!

এই যে তিনি এক ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন এবং আরেক ছেলেকেও পাঠানোর চেষ্টা করছেন, এর প্রধান কারণ এই দেশটাকে তিনি নাপাক মনে করেন। যে দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী, যে দেশের নারীরা পুরুষের মতো বেপর্দা হয়ে বাস-গাড়িতে চড়ে, যে দেশের মেয়েরা পরপুরুষের সাথে অফিস-আদালতে কাজকর্ম করে; সেই দেশকে আল্লাহ পছন্দ করেন না, সেই দেশে ফেরেশতাগণ আসেন না।

আশির দশকে আকবর প্রামাণিক প্রাইমারী স্কুলে চাকরি পেয়েছিলেন। বেশ কয়েক বছর চাকরি করেছিলেনও। তখন স্কুলে চারজন শিক্ষক ছিলেন, চারজনই পুরুষ। এরপর স্কুলের প্রধান শিক্ষক হয়ে আসেন একজন নারী। আকবর প্রামাণিক নারীর অধীনে চাকরি করতে চাননি, পরনারীর সঙ্গে একই অফিসকক্ষে বসে কাজ করা জায়েজ নয়। ফলে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন।

অর্থ-সম্পদের অভাব আকবর প্রামাণিকের ছিল না। তার পিতা মাঠে অনেক জমি রেখে গিয়েছিলেন তার জন্য। এই জমির বেশরভাগই ছিল হিন্দুদের। মুক্তিযুদ্ধের সময় হিন্দুদেরকে নানা রকম ভয়-ভীতি দেখিয়ে জলের দরে কিছু জমি কিনেছিলেন আর কিছু জোর করে লিখে নিয়েছিলেন নিজের নামে।

আকবর প্রামাণিকের পিতা রাজাকার বাহিনীতে নাম না লেখালেও কী করে যেন লুণ্ঠনের মালামাল তাদের বাড়িতে আসতো। বস্তা বস্তা কাঁসা-পিতলের থালা, পিতলের মূর্তি, সোনার গহনা এসব আসতো। চেয়ার-টেবিল-খাটও আসতো। আকবর প্রমাণিক তখন কিশোর, মনে আছে সব। তার আব্বা তাদের পাড়ার লোকদেরকে বোঝাতেন, ‘যুদ্ধের সময় বিধর্মী আর বিপথগামীদের সম্পদ গণিমতের মাল, আল্লাহ’র বান্দাদের এসব ভোগ করা হালাল। নবীজিও মক্কা-মদিনার পৌত্তলিক এবং ইহুদিরদের পরাজিত করে তাদের সম্পদের পাঁচ ভাগের এক ভাগ নিজে নিতেন আর চার ভাগ তার অনুসারীদের মধ্যে ভাগ করে দিতেন। নারীদেরকেও দাসী হিসেবে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতেন।’

পরদিন বিকেলে আকবর প্রামাণিক বাজারে এসে জয়নুলের দোকানের সামনের বেঞ্চে বসে নয়া দিগন্ত পত্রিকার আন্তর্জাতিক পাতা মেলে ধরতেই তার চোখে পড়লো- ‘সৌদি আরবে প্রথম সিনেমা ব্ল্যাক প্যানথার।’

খবরের শিরোনাম পড়তেই কেউ যেন আকবার প্রামাণিকের দুই গালে সপাটে চড় মারলো! তার বুক ঢিপ ঢিপ করতে শুরু করলো, উত্তেজনায় হাত মৃদু কাঁপতে লাগলো। তিনি খবরটা পড়তে শুরু করলেন, আর পড়া শেষ হতেই আর্তনাদের সুরে বললেন, ‘আল্লারে, এই খবর পড়ার আগে আমার ইন্তেকাল হলো না ক্যান!’

জয়নুল এবং দোকানের দুজন ক্রেতা অবাক হয়ে তাকালো আকবর প্রামাণিকের দিকে। জয়নুল বললো, ‘কী অইচে চাচা?’
নিজেকে কিছুটা সামলাতে কয়েক মুহূর্ত সময় পার করলেন আকবর প্রামাণিক। তারপর বললেন, ‘সৌদি আরবে সিনেমা হল চালু অবি!’
‘কন কী চাচা!’
‘হ!’ যেন কী সর্বনাশ হয়ে গেছে, এমন ভঙ্গিতে মাথায় হাত দিলেন তিনি।

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ‘ভিশন-২০৩০’ ঘোষণা করেছেন; এর আওতায় রক্ষণশীল সৌদি আরবের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। সিনেমা হল চালু করাও এই সংস্কারের অংশ। সৌদি আরবের প্রধান আর্থিক তহবিল ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড সিনেমা প্রদর্শনের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় সিনেমা হল চেইন আমেরিকান মুভি ক্যাসিক বা এএমসির সাথে চুক্তি সই করেছে। চুক্তি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সৌদি আরবের পনেরটি শহরে চল্লিশটি এবং এর পরের সাত বছরে পঁচিশটি শহরে পঞ্চাশটি সিনেমা হল নির্মাণ করা হবে। শুধু সিনেমা হল নির্মাণ নয়, আরো অনেক সংস্কার হচ্ছে সৌদি আরবে। এরই মধ্যে নারীরা স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখার অনুমতি পেয়েছে, কিছুদিনের মধ্যেই তারা রাস্তায় গাড়ী চালাতে পারবে। বিদেশী পর্যটক টানার জন্য সমুদ্রের বিচ এমনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে যেখানে পর্যটকরা স্বল্প বসনে পানাহার এবং বিনোদন করতে পারবে।

এছাড়াও সৌদি আরবের মাটিচাপা ইতিহাস এখন মাটি ফুঁড়ে বেরোতে শুরু করেছে। সৌদি আরবের মুসলিম পূর্ব ইতিহাসকে আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগ অর্থাৎ অন্ধকার বর্বরতার যুগ আখ্যা দিয়ে সেসব যুগের নিদর্শন এতোদিন গুপ্ত রাখা হয়েছিল। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কল্যাণে এখন তা প্রকাশিত হতে চলেছে। সৌদি আরবের মাটির নিচে হাজার হাজার বছর আগের বহু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে, ইতিমধ্যে এসবের খননকার্য শুরু হয়েছে। এসব পুরাকীর্তি খনন এবং সংস্কারকার্যের জন্য সৌদি আরব এরই মধ্যে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং চীনের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

খননকার্যের ফলে ইতোমধ্যে যতোটুকু উন্মোচিত হয়েছে তাতে এক সমৃদ্ধ এবং সভ্য জনপদেরই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা ইসলামের ইতিহাসে উল্লেখিত আয়ামে জাগেলিয়াত তত্ত্বকে ভুল প্রমাণ করে। মাদায়েন সালেহ নামক স্থানে বিস্তীর্ণ দেয়ালজুড়ে খোদাই করা লেখনি এবং চিত্র পাওয়া গেছে, যা সভ্য মানুষ থাকার প্রমাণ দেয়। প্রাচীনকালে আফ্রিকা থেকে মানুষের এশিয়া আসার পথ ছিল এই মধ্যপ্রাচ্য, ফলে সভ্যতার নানা চি‎হ্ন সেখানে পাওয়া যাবে সেটাই স্বাভাবিক। খননকার্যের ফলে ভবিষ্যতে হয়তো আরো অনেক চমকপ্রদ ইতিহাস এবং ঐতিহ্য উন্মোচিত হবে, যা ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি বিধ্বংসী ইসলামী শাসকেরা গত চৌদ্দশো বছর যাবৎ আড়ালে রেখেছিল এবং সেইসব ঐতিহাসিক নিদর্শন কাফের পৌত্তলিকদের ভেবে তা আবিষ্কারের কোনো চেষ্টাই তারা করেনি।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এসব পুুরাকীর্তি আবিষ্কার এবং সংস্কার করে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করার মাধ্যমে সৌদি আরবের ইসলাম পূর্ব ইতিহাস জানার সুযোগ করে দিয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে চান।

বিশ^বাজারে তেলের দাম পড়তে শুরু করেছে, বিশ্ব এখন বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। ভবিষ্যতে হয়তো বিদ্যুৎ-চালিত গাড়ির প্রসার ঘটবে। এই অবস্থায় সৌদি আরবের তেল ব্যবসায় লালবাতি জ্বলবে। শুধু হজ আর ওমরাহ নামক ধর্ম ব্যবসা দিয়ে তখন সৌদি আরবের ঠাটবাট বজায় রাখা সম্ভব হবে না। এটা বুঝতে পেরে এবং বাকি বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্যই দূরদর্শী যুবরাজ সালমান এই অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংস্কারে নেমেছেন।

আকবর প্রমাণিকের মনে পড়লো, কিছুদিন আগে তিনি পত্রিকায় পড়েছিলেন যে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছেন-‘ইজরাইলেরও রাষ্ট্র গঠনের অধিকার আছে।’

নাউজুবিল্লাহ, নাউজুবিল্লাহ! মৃত্যুশয্যায়ও নবীজি ইহুদিদের ধ্বংস কামনা করেছেন- ‘হে আল্লাহ, ইহুদি ও খিষ্টানদের ধ্বংস করো। আল্লাহ’র ক্রোধ তাদের ওপর প্রজ্জ্বলিত হয়ে উঠুক। সমগ্র আরব ভূ-খণ্ডে ইসলাম ব্যতিত অন্য কোনো ধর্ম না থাকুক।’

আর যুবরাজ কিনা বলেন ইহুদিদের রাষ্ট্র গঠনের অধিকারের কথা! আকবর প্রামাণিক বুঝতে পারলেন যে এই যুবরাজ আসলে আমেরিকা এবং ইহুদি রাষ্ট্র ইজরাইলের চর। গোপনে ঘুষ খেয়ে এখন ইসলামবিরোধী কার্যকলাপে মেতেছেন যুবরাজ সালমান। আমেরিকা এবং ইজরাইলের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছেন যুবরাজ। এতো কোরান অবমাননা! কোরানের সুরা মায়িদায় (৫:৫১) আল্লাহ বলেছেন- ‘হে বিশ্বাসীগণ, ইহুদি ও খ্রিষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ কোরো না। তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করলে সে তাদের একজন হবে। আল্লাহ তো সীমা লঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।’

আকবার প্রামাণিক জয়নুল এবং ক্রেতা দুজনের উদ্দেশে বললেন, ‘এসব আসলে আমেরিকা আর ইজরাইলের ষড়যন্ত্র! ইসলামকে ধ্বংস করার চক্রান্ত!’

জয়নুল তাকে সমর্থন করে বললো, ‘ঠিকই কইচেন চাচা, এইডা ষড়যন্তর। নইলে নবীর দ্যাশে সিনেমা চালু অয়, এইডে কেউ বাপের জন্মে শুনিছে!’

আকবর প্রামাণিক আবার বললেন, ‘এইসব কেয়ামতের আলামত, কেয়ামতের আর বেশি দেরি নাই!’

বলেই আকবর প্রামাণিক উদাসীন দৃষ্টিতে শূন্যে তাকিয়ে রইলেন। তার দৃষ্টিতে ভেসে উঠলো সৌদি আরবের পবিত্র ভূমিতে সিনেমা চালুর দৃশ্য! কী নাম সিনেমার? ব্ল্যাক প্যানথার! তওবা তওবা, আস্তাকফিরুল্লাহ, আস্তাকফিরুল্লাহ!

আকবার প্রমাণিকের বাড়িতে নামাজের ঘর আলাদা। বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে রাতে এশার নামাজ পড়ার জন্য নামাজের ঘরে গেলেন তিনি। নামাজ শেষ হবার পরও তিনি জায়নামাজে বসে রইলেন দু-হাত তুলে। কয়েক মুহূর্ত নীরব থাকার পর ডুকরে কেঁদে উঠলেন! কাঁদতে কাঁদতে আল্লাহ’র উদ্দেশে বলতে শুরু করলেন-‘হায় আল্লাহ, আপনার ইশারা ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না, নদীতে স্রোত বয় না। হায় আল্লাহ, আপনি সব জানেন, সব বোঝেন। মেহেরবানী করে আল্লাহ আপনি সৌদি আরবকে রক্ষা করেন। আল্লাহ, ওই জালিম যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইহুদি-খ্রিষ্টানদের দালাল, তাকে আপনি দোজখে নিক্ষেপ করেন। হায় আল্লাহ, আপনি ইহুদি-খ্রিষ্টানদের হাত থেকে নবীজির জন্মস্থানকে রক্ষা করেন। নবীজির জন্মভূমির পবিত্র জমিনে সিনেমা শুরু হলে বেহায়া-বেশরম জেনানারা ছোট ছোট কাপড় পড়ে নাচ-গান করিবে। হায় আল্লাহ, এইটা নবীজি কেমন করে সহ্য করিবে, আর আপনিই-বা কেমন করে দ্যাখপেন এই দৃশ্য! আপনার এই গোলামের ফরিয়াদ শুনুন আল্লাহ, মেহেরবানি করে আপনি জালিমদের হাত থেকে সৌদি আরবকে রক্ষা করেন, ইসলামকে রক্ষা করেন।’

শেষের দিকে কান্নার প্রবলতায় কথাগুলো ভালমতো বোঝা গেল না। এই ক্রন্দনরত প্রলাপ শুনে আকবর প্রমাণিকের স্ত্রী নামাজের ঘরের দরজায় এসে দাঁড়িয়েছেন। হঠাৎ স্বামীর কান্না শুনে তিনি রান্নাঘর থেকে ছুটে এসেছেন, এখন অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন স্বামীর দিকে। স্বামীর কান্না দেখে তার চোখ থেকেও জল ঝরে পড়ছে!

গভীররাতে স্বপ্ন দেখে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল আকবর প্রামাণিকের। তিনি স্বপ্ন দেখেছেন চারজন ফেরেশতা চারটি বোরাকে চড়ে যুবরাজ সালমানের প্রাসাদের ওপর দিয়ে চক্রাকারে ঘুরছেন! বোরাক চারটি দেখতে ভারী সুন্দর, ধবধবে সাদা রঙের! বোরাকগুলোর দেহ গাধার মতো, চারটি পা, পরির মতো পাখা সমৃদ্ধ আর মুখশ্রী নারীর মতো! কী সুন্দর আর মায়াবী নারীর মতো বোরাকের মুখশ্রী! মাথায় লম্বা কালো চুল আর কারুকাজ খচিত মুকুট! ফেরেশতা চারজনের মুখে ধ্বনিত হচ্ছে- ‘কুল্লু নাফসিন জায়িকাতুল মাউন’। অর্থাৎ প্রতিটি প্রাণিকেই একদিন মৃত্যুর শরাব পান করতে হবে। ফেরেশতাগণের থেকে কিছুটা দূরে অন্য একটি বোরাকে চড়ে আসছেন আজরাঈল! আজরাঈল যুবরাজ সালমানের প্রসাদের কাছে আসতেই ঘুম ভেঙে গেল আকবর প্রামাণিকের। ঘুম ভাঙার পর তিনি বিছানায় উঠে বসলেন। মনে মনে আল্লাহ’র কাছে প্রার্থনা করলেন, ‘আল্লাহ, আমার স্বপ্ন যেন সত্যি হয়।’ জানালা দিয়ে আসা আবছা আলোয় ঘুমন্ত স্ত্রীর মুখের দিকে একবার তাকালেন। প্রসাবের বেগ দিয়েছে। বিছানা থেকে নেমে দরজা খুলে বাইরে এলেন। প্রসাবখানায় গিয়ে প্রসাব করার পর কুলুপ ব্যবহার করলেন। ভাল একটি স্বপ্ন দেখেছেন, তাই ওজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। কলতলায় গিয়ে ওজু সেরে ঘরে ফেরার সময় তার চোখে পড়লো ছোট ছেলে ইমামের ঘরের হালকা আলো। তিনি মনে করলেন ল্যাপটপের আলো, ছেলেটা নিশ্চয় ল্যাপটপে ওয়াজ দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েছে! ইমামকে ঘুম থেকে জাগানোর উদ্দেশে তিনি জানালার দিকে এগিয়ে গিয়ে ঘরের ভেতরে চোখ রেখে দেখতে পেলেন-ল্যাপটপের পর্দায় দুজন নগ্ন মানুষ, দুজনই শেতাঙ্গ; একজন নারী, আরেকজন পুরুষ; নারীটি দুই হাত এবং দুই হাঁটু বিছানায় রেখে বোরাকের ভঙ্গিমায় রয়েছে আর অদ্ভুত মুখভঙ্গি করে মুখ দিয়ে বিচিত্র শব্দ করছে, পুরুষটি নিচের ঠোঁট দাঁতে চেপে দুইহাতে নারীর কোমর ধরে তাকে সঙ্গোম করছে! ল্যাপটপের আলো পড়েছে বিছানায় বসা ইমামের শরীরে ও মুখে। দেয়ালের সঙ্গে রাখা বালিশে হেলান দিয়ে বসে ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে হস্তমৈথুনে বিভোর ইমাম!

দুই ছেলে কৈশোরে পা দিতেই আকবর প্রামাণিক তাদেরকে আলাদাভাবে ডেকে হস্তমৈথুন সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘বাজান, আমি একটা কথা বলবো, লজ্জা করবা না। পিতা হিসেবে তোমাদেরকে এই শিক্ষা দেওয়া আমার কর্তব্য। শোনো, তোমাদের শরীর এখন বড় হয়েছে, শরীরের নানারকম চাহিদা তৈরি হয়েছে। শয়তান শরীরকে উস্কে দেয় খারাপ কর্ম করার জন্য। শয়তানের উস্কানিতে পা না দিয়ে শরীরকে বসে রাখতে হয়। বাজান কখনো হস্তমৈথুন করবা না। হস্তমৈথুন করলে পুরুষের দেহ থেকে নির্গত বীর্য থেকে এক ভয়ংকর পোকার জন্ম হয়। মৃত্যুর পর হস্তমৈথুনকারীর দোজখে ঠাঁই হয়, আর তখন সেই ভয়ংকর পোকাগুলি তাকে কামড়ে কামড়ে রক্তাক্ত করে!’

আর সেই ছেলেই কিনা তিনি যে ল্যাপটপে ওয়াজ শোনেন, কোরান শোনেন, ইসলামী গান শোনেন; সেই ল্যাপটপে অশ্লীল ভিডিও দেখে হস্তমৈথুন দেখছে! আকবর প্রামাণিকের বুকের ভেতর কাঁপছে, শরীর কাঁপছে। কোনোমতে তিনি জানালার কাছ থেকে সরে এসে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালেন। কিন্তু উঠোনের মাঝখানে এসে আর এগোতে পারছেন না তিনি, গাছপালা কেমন যেন ঘুরছে, ঘর-বাড়ি তার চারপাশে ঘুরছে! আকাশের দিকে তাকালেন, আকাশও ঘুরছে, আধখানা চাঁদ আর রাশি রাশি নক্ষত্রও ঘুরছে! কেয়ামত শুরু হলো নাকি? কেয়ামত! ইস্রাফিলের শিঙ্গার ধ্বনি কি শোনা যাচ্ছে? আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেন না তিনি। দু-হাত দিয়ে শূন্যে কিছু একটা আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছেন, কিন্তু পারছেন না। কথা বলার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তার গলা দিয়ে স্বর বের হচ্ছে না। তিনি নিশ্চিত হলেন যে কেয়ামত শুরু হয়েছে! মাটিতে পড়ে যাবার আগে অস্ফুটস্বরে তার মুখ থেকে একটি শব্দ বের হলো-‘কেয়ামত!’

ঢাকা
এপ্রিল, ২০১৮।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মিশু মিলন
মিশু মিলন এর ছবি
Offline
Last seen: 9 ঘন্টা 49 min ago
Joined: সোমবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2017 - 9:06অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর