নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মাহের ইসলাম
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

ফিরে দেখা: দ্বিজাতিতত্ত্ব, দাঙ্গা আর দেশভাগ ৪:


দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও জাতীয় পরিষদের হিন্দু সদস্যরা ও নেতারা পাকিস্তানে ইসলামী শাসনতন্ত্রের প্রবর্তন আটকাতে পারেন নি কিন্তু একটা ব্যাপারে সফল হয়েছিলেন আর সেটা হলো পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রে হিন্দু-মুসলিম যৌথ ভোটের ব্যবস্থা করতে তারা মোটামুটি সক্ষম হয়েছিলেন | এর ফলে সাম্প্রদায়িক আওয়ামী মুসলিম লীগকে নাম বদলে অসাম্প্রদায়িক আওয়ামী লীগ করতে হয়েছিল | এতদিনের ঘোষিত ইসলামী নীতিকে উপেক্ষা করে দলকে অসম্প্রদায়িক ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত অনেক মৌলবাদী মুসলিম নেতা যারা দলের ভিতরে ছিল তারা মেনে নিতে পারেনি এবং তারা যথেষ্ট বিরোধিতাও করেছিল | এইসব সদস্যদের বাগে আনতে সুরাবর্দী মাঠে নামলেন | তিনি তাদের বোঝাতে শুরু করলেন যে হিন্দুদের ভোট পেতে হলে দলকে অসাম্প্রদায়িক ঘোষণা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই | এবং তিনি তাদের এটাও বোঝালেন যে হিন্দুদের কাছ থেকে ভয়ের কোনো সম্ভাবনাই নেই ! তাদের নেতারা তাদের ব্যক্তিস্বার্থই হোক আর সমষ্টির স্বার্থেই হোক শেষপর্যন্ত শক্তিশালী আওয়ামী লীগে যোগ দেবে |

একমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া আর সব দলগুলো ছিল সাম্প্রদায়িক আর তাই তারা আর কোনো দলে যোগ দেবে না | একবার আওয়ামী লীগের আওতায় এসে পরলে মুসলমানরা তাদের নিয়ন্ত্রন করতে পারবে এই কথাটা সুরাবর্দী কৌশলের সবাইকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিল | তখন সংখ্যা অনুপাতে তাদের যতজনের নমিনেশন পাওয়ার কথা তার দশভাগের একভাগ কে নমিনেশন দিলেও, তাদের কিছু বলার থাকবে না | এসব ঘটনার কিছুদিনের মধ্যেই দেশের সামরিক শাসন জারি হয় এবং সেটা বেশ কিছুদিন চলে | তারপরে বেশ কিছুদিন চলল basic democracy বা বুনিয়াদি গণতন্ত্রের শাসন | ১৯৭০ সালে এসে গেল যৌথ ভোটের মাধ্যমে প্রথম সাধারণ নির্বাচন | গুরু সুরাবর্দীর কৌশল অনুসরণ করেই শিষ্য মুজিব হিন্দু প্রার্থীদের নমিনেশন দিলেন | সংখ্যানুপাত অনুযায়ী জাতীয় পরিষধে ৩৬ জন হিন্দুর নমিনেশন পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু মুজিব মাত্র একজন হিন্দুকে নমিনেশন দিয়েছিলেন ।
ঠিক তেমনই প্রাদেশিক পরিষদের বেলাতেও ৬৬ জন হিন্দু নমিনেশন পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু তিনি মাত্র ৬ জন হিন্দুকে নমিনেশন দেন | বাংলাদেশ স্বাধীন হলে '৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে শেখ মুজিব ৩০৯ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র একজন হিন্দু কে নমিনেশন দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে হিন্দুদের প্রতি এর থেকে বেশী দয়া দেখানো তার পক্ষে সম্ভব নয় ! তাই শেখ মুজিবের রাজনৈতিক চেতনা অসাম্প্রদায়িক বলে আওয়ামী লীগও অসাম্প্রদায়িক দল এটা বোঝা একটা চরম ভুল হবে | এর প্রতিফলন আমরা '৭৩ পরবর্তীতে দেখতে পাই যখন তিনি বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রকে একদলীয় শাসনতন্ত্রে পরিণত করেছিলেন |

পূর্ব পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের নির্বাচনে হিন্দুরা একজোটে আওয়ামীলীগকে ভোট দিয়েছিল | একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কিন্তু হিন্দুদের উপর পাকিস্তান আর্মি আর তাদের বঙ্গীয় দোসরদের বিশাল নিপীড়ন নেমে এসেছিল | মুক্তিযুদ্ধের ধারক বাহক আওয়ামী লীগ ১৯৭৩ এর নির্বাচনে হিন্দুদের এরজন্য পুরস্কৃত করেছিল মাত্র ৮ জনকে নমিনেশন দিয়ে , অথচ জনসংখ্যার সংখ্যানুপাতে ৬০ জন হিন্দুর নমিনেশন পাওয়া উচিত ছিল | উপমহাদেশের ইতিহাসে এটা নথিবদ্ধ আছে যে পাকিস্তান হওয়ার পর বিভিন্ন সময় দাঙ্গা হয়েছে এবং হিন্দুদের উপর চরম ও নৃশংস অত্যাচার নেমে এসেছে | ১৯৫৮ সালে পাক সামরিক বাহিনী একটা কুখ্যাত ক্লোজডোর অপারেশন(সি ডিও)র মাধ্যমে হিন্দুর উপর চরম অত্যাচার নামিয়ে আনা হয়েছিল | প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য চিত্তরঞ্জন সুতার এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে পরিষদে বক্তব্য রেখেছিলেন, কিন্তু তার বক্তব্য পরিষদের আওয়ামীলীগ সদস্য আব্দুল খালেকের মনে দাগ কাটলেও, বিশিষ্ট মন্ত্রী শেখ মুজিবের উপর কোন প্রভাব ফেলেনি | মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান বলেছিলেন যে চিত্তবাবুর বক্তব্য চায়ের দোকানের আড্ডা গল্প ! আওয়ামীলীগের মনোনীত স্পিকার আবদুল হাকিম আরো একধাপ এগিয়ে বলেছিলেন "যে আগুন চিত্তবাবু আজ পরিষদে জ্বালালেন, সে আগুনে একদিন তাকেও পুড়ে মরতে হবে |"

পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৬৪ সালের দাঙ্গার সময় কিন্তু মুজিব শক্ত ভাষায় তার প্রতিবাদ করেছিলেন অবশ্য , ছাত্র-জনতা ও অন্যান্য প্রভাবশালী নেতারা আরো জোরালো প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিল | সে সময় প্রতিদিন হাজার হাজার হিন্দু যারা ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসের সামনে ভারতে মাইগ্রেশনের জন্য লাইন দিত, তাদের স্বার্থ সমর্থনে বা রক্ষার্থে আমরা কিন্তু শেখ মুজিবের কোন অংশগ্রহণ দেখতে পাওয়া যায় না | সেই চলমান সময়ে প্রায় ২৫-৩০ লাখ হিন্দু পূর্ব-পাকিস্তান ত্যাগ করেছিল ! তার জন্যে মুসলমান কোনো রাজনৈতিক নেতা বা সমাজকর্মী এমনকি মানবিক সংস্থার কোন মুসলমান কর্মীকেও বেদনা প্রকাশ করতে দেখা যায়নি | পাকিস্তানের শাসকরা তখন এটা উপলব্ধি করেছিল যে পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতার ভারসাম্য কিছুটা হলেও হিন্দুদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পরেছে | তাই তাদের কাছে সামরিক শাসন জরুরি হয়ে পরেছিল | সি ডি ও বা ক্লোজডোর অপারেশন এই সামরিক শাসনের পূর্ব প্রস্তুতি ছিল | পূর্ব পাকিস্তান হিন্দু নেতারা ছিল গদিলোভী এবং ব্যক্তিস্বার্থ প্রিয়, তাই যেটুকু ঐক্য সে সময় হিন্দু সমাজের মধ্যে ছিল, ব্যক্তিস্বার্থ প্রিয় নেতাদের জন্য ক্লোজডোর অপারেশনের সময় সেটাও পুরোপুরি ভেঙে যায় | আর তাই পূর্ববঙ্গ তথা পূর্বপাকিস্তানের হিন্দুদের জন্য নেমে এসেছিল গভীর অন্ধকার ! ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর পাকিস্তানে জরুরি অবস্থা জারি হল অনেক রাজনৈতিক নেতা বিশেষ করে হিন্দু নেতাদের গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হলো | ২৭ শে অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা কে তাড়িয়ে পাকিস্তানের প্রধান সেনাপতি আইয়ুব খান সামরিক আইন জারি করলেন |
আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করার পর কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা হল ভেঙে দিয়েছিল এবং সাথে সাথে আইন পরিষদও ভেঙ্গে দেওয়া হয় | পূর্ব-পাকিস্তানের সব কটা রাজনৈতিক দল তখন বেআইনি ঘোষিত হল, আর শুশাসনের নামে শুরু হলো রাজনৈতিক নেতাদের ধরপাকড় আর অত্যাচার | অপছন্দের কিছু মুসলমান নেতা এবং প্রায় সব হিন্দু নেতাকে জড়িয়ে জেলে ধরে নিয়ে যাওয়া হলো তাদের উপর হয়েছিল পৈশাচিক দৈহিক অত্যাচার| এই সামরিক শাসনের ভয়াবহ রূপ দেখে জেলের বাইরে যে সকল হিন্দু নেতা ছিল,তারা সবাই প্রায় একে একে দেশত্যাগ করল | জেলে আটকা হিন্দু নেতারা ছাড়া পাওয়ার পরে, তারাও একে একে পূর্ব পাকিস্তান ত্যাগ করে | পুরো ব্যাপারটাই একটা সূক্ষ্ম পরিকল্পনা, আর সেটা হল পূর্ব পাকিস্তানকে হিন্দু শূন্য করে পশ্চিম পাকিস্তানের জনসংখ্যার সাথে একটা সমতা আনা | খানিকটা এ মানসিকতাও কাজ করেছিল যে হিন্দু তাড়াতে পারলে মুসলমানদের চাকরি ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা বাড়বে |

আসলে ইসলামিক রাষ্ট্র মানেই একনায়কতন্ত্রের দেশ, গণতন্ত্রের সেখানে বিশেষ কোনো জায়গা নেই | শাসকই সেখানে খলিফা | মোহাম্মদের মদিনা রাজত্ব থেকে আজ পর্যন্ত পৃথিবীর দিকে দিকে সেই দৃষ্টান্তই মুসলমানরা অনুসরণ করে চলেছে ! পশ্চিম পাকিস্তান যে কখনো পূর্ব পাকিস্তানকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেবে না বিচক্ষণ রাজনৈতিক নেতারা বুঝেছিল | একটা ব্যাপার সত্যি, পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই কিন্তু স্বায়ত্তশাসনের দাবি মোটামুটি শুরু হয়ে যায় আর পূর্ব-পাকিস্তানের নেতারা সেটা কখনো পুরোপুরি প্রত্যাহার করেনি | 1962 সালে, আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট, আহমেদ জামান | স্বায়ত্তশাসন সম্বন্ধে ওনার ধারনা বেশ খানিকটা প্রগতির ছাপ রাখে | ওনার মত ছিল পাকিস্তান সরকার কখনই এই স্বায়ত্তশাসন মেনে নেবে না কাজেই স্বায়ত্তশাসন নয়, একেবারে স্বাধীনতার ডাক দেওয়ায় যুক্তিযুক্ত | এতে করে ভয় পেয়ে পা চাপে পরে পাকিস্তান স্বায়ত্তশাসন মেনে নিলেও নিতে পারে ! সুতরাং শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দিতেই হবে | এভাবেই পূর্ব-পাকিস্তান জুড়ে স্বায়ত্তশাসনের দাবির আড়ালে শুরু হয়ে গেছিল স্বাধীনতার জল্পনা-কল্পনা | এর পিছনে আরও কিছু ব্যাপার আছে | পূর্বে কিছু ঘটনায়, ডাকসুর প্রতি ঢাকার ছাত্ররা খুব একটা খুশি ছিলনা, ফলে ঢাকার ছাত্র শক্তির কেন্দ্রবিন্দু একরকম ঢাকা মেডিকেল কলেজে চলে এসেছিল | আর ভাষা আন্দোলনের সময় সবথেকে বেশি রক্ত ঝরেছিলো মেডিকেল কলেজের সামনেই | তাই বাষট্টির আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররাই বকলমে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল |

দোর্দণ্ড প্রতাপশালী আইয়ুবের বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দটি পর্যন্ত করতে পারত না, আর সেই আইয়ুব এর বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ গণবিদ্রোহে ফেটে পরেছিল | স্লোগান ওঠে ছিল: মিলিটারি শাসন তুলে নাও, গণতন্ত্র ফিরিয়ে দাও, পূর্ণ সায়ত্বশাসন দিতে হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি..........| প্রত্যেক ঘরে, দোকানে, অফিসে আইয়ুবের ফটো রাখা বাধ্যতামূলক ছিল | ঢাকা শহরে সমস্ত আইয়ুবের ফটো ভেঙে ফেলা হয়েছিল ! এই গণআন্দোলনে অবশ্য কোনো রাজনৈতিক দলের কোন ভূমিকা ছিল না, অত্যাচারিত বঞ্চিত মানুষ, স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমেছিল | অবশেষে সীমিত গণতন্ত্র basic democracy তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনতাকে শান্ত করা হয়েছিল | Basic Democracy কি বা কি ছিল তার রূপায়ণ আমরা পরবর্তীতে দেখবো |

(চলবে..............................)

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রাজর্ষি ব্যনার্জী
রাজর্ষি ব্যনার্জী এর ছবি
Offline
Last seen: 8 ঘন্টা 24 min ago
Joined: সোমবার, অক্টোবর 17, 2016 - 1:03অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর