নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মাহের ইসলাম
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

বিষাক্ত রাজনীতি:- সপ্তম পর্ব-


1992 সালের 6 ই ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়! এটি শুধু মাত্র কোন একটি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা ছিল না; এর সঙ্গে আরও অনেক কিছু জড়িত ছিল। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ বর্হিবিশ্বের কাছে তীব্র আঘাত প্রাপ্ত হয় ও ভারতের মর্যাদা ভূলুন্ঠিত হয়। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর দেশ ও বিদেশে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সারা দেশে বিভিন্ন জায়গায় ছোট বড় দাঙ্গা শুরু হয়, গোটা দেশে কার্ফিউ জারি করা হয়। এই ঘটনার পর গোটা দেশ প্রায় দু মাস সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাতে জ্বলতে থাকে; দাঙ্গার প্রভাবে গুজরাটে 246, মধ্যপ্রদেশে 120, আসামে 100, উওরপ্রদেশে 201, এবং শুধুমাত্র মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ে 900 জনের অধিক মানুষ এই হিংসার বলি হয়। গোটা দেশে প্রায় দু হাজারের ও অধিক মানুষ এই হিংসায় প্রাণ হারান (বেসরকারি সূত্রে মৃতের সংখ্যা ছিল আরও অধিক); তবে এর মধ্যে মুম্বাই হিংসা ছিল সর্বাধিক ভয়ংকর যা বিশেষ আলোচনার দাবি রাখে, পরবর্তী সময়ে এটি বিস্তারিত আলোচিত হবে।

বর্হিবিশ্বে বাবরি ধ্বংসের প্রভাব পড়েছিল ভয়ংকর আসলে ভারতে কোন ঘটনা ঘটলে, তা শুধুমাত্র ভারতের ভৌগলিক বৃত্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা গোটা পৃথিবীকেই প্রভাবিত করে; তবে সর্বাধিক প্রভাবিত করে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিকে। বাবরি ধ্বংস এর প্রভাব প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও বাংলাদেশে তীব্র ভাবে দেখা যায়। পাকিস্তানে পরের দিন 7 ই ডিসেম্বর প্রতিবাদ স্বরূপ স্কুল কলেজ, অফিস আদালত সব বন্ধ থাকে এবং সেই সঙ্গে হিন্দুদের উপর অবর্ণনীয় হিংসা নেমে আসে। হিন্দুদের ধরে ধরে হত্যা করা হয়, হিন্দু নারীদের নির্বিচারে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। বিভিন্ন হিন্দু মন্দিরগুলি ধ্বংস করা হয়। পাকিস্তানের বড় বড় শহর করাচী, রাওয়ালপিন্ডি, মুলতান, ইসলামাবাদ প্রভৃতি শহরে নির্বিচারে হিন্দু নিধন যজ্ঞ শুরু হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ও ছিল ভয়ংকর। বাংলাদেশে বহু হিন্দু মন্দির ধ্বংস করা হয় এবং হিন্দুদের নির্বিচারে হত্যা করা হয় ও হিন্দু নরীদের ধর্ষণ, ধর্মান্তরিত ও হত্যা করা হয়। হিন্দুদের উপর কতটা হিংসা ও নির্মম অত্যাচার নেমে এসেছিল তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখতে পাওয়া যায় তসলিমা নাসরিনের লজ্জা উপন্যাসে। এই উপন্যাসে তিনি লেখেন বাংলাদেশে সেই সময় প্রকাশ্যে মিছিল বের হত- "একটা দুইটা হিন্দু ধর সকাল বিকাল নাস্তা কর"; অর্থাৎ প্রকাশ্য মিছিলে হিন্দুদের হত্যা করার কথা বলা হত এর থেকে নির্মম, হিংস্র ও সাম্প্রদায়িক কথাবার্তা বর্তমান সভ্য সমাজে খুব একটা দেখা যায় না। এটা মানবতার পক্ষে ও জাতির পক্ষে লজ্জা।

তসলিমা নাসরিনের এই লেখার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মৌলবাদী সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। হুজির মত জঙ্গি সংগঠন তসলিমার মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে, তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা করে "তসলিমা নাসরিনের মুন্ডু চাই"; যার ফল স্বরূপ তসলিমা নাসরিনকে নিজের মাতৃভূমি বাংলাদেশ ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হয়। তবে তসলিমা নাসরিনের এই সংগ্রাম বিশ্বে আজ সমাদৃত এবং বহু নতুন মুক্ত চেতনার মানুষের জন্ম হয়েছে তাঁর লেখনীর হাত ধরেই; এই নতুন মুক্তচিন্তকরাই তাঁর লড়াইকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এটাই আশার কথা। এটা বেশ শক্ত ভাবেই বলা যায় আজ আর তসলিমা নাসরিন একা নেই তার লড়াইয়ে হাজার হাজার মানুষ যুক্ত হয়েছে। একটা তসলিমা যদি মৌলবাদীদের এই অবস্থা করতে পারে তাহলে হাজার হাজার তসলিমা এদের কি অবস্থা করতে পারে তা সহজেই অনুমান করা যায়! তাই আজ মৌলবাদী শক্তিরা পিছু হাটতে বাধ্য হচ্ছে, মৌলবাদী শক্তি যে শেষ কথা বলতে পারে না তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলেন তসলিমা নাসরিন।

বাবরি ঘটনাটি শুধু প্রতিবেশী দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না এটা আরও বিস্তৃত হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যের এক শক্তিশালী শিয়া বহুল দেশ ইরান, এই দেশের সর্বোচ্চ ধর্ম গুরু আয়াতোল্লা খেমেইনি বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তবে সেই সঙ্গে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হিন্দুদের উপর যে অবর্ণনীয় হিংসা নেমে আসছে তা নিয়ে মৃদু তুলনাও করেন। ভারত সরকারকে মুসলমানদের আরও সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলেন।সৌদি আরব, আরব আমিরশাহি প্রভৃতি দেশ ভারত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে। শুধু তাই নয় ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, আমেরিকা প্রভৃতি পশ্চিমা দেশের সংবাদ মাধ্যম ও সরকার ভারত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে। এই সব দেশে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ প্রশ্নচিন্হের মুখে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের বহুত্ব ও ধর্মনিরপেক্ষতার ছবি বহু অংশে কালিমালিপ্ত হয়।

দেশের বহু জায়গায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দেখা দিলেও এই সময় সবচেয়ে ভয়ংকর দাঙ্গা সংগঠিত হয়েছিল ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বাইতে। 6 ই ডিসেম্বর 1992, ওই দিন বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর দক্ষিণ মুম্বাইয়ের মিনারা মসজিদে মানুষ সন্ধ্যার প্রার্থনা সারতে আসে, ওই সময় মসজিদের ইমাম বাবরি ধ্বংসের পরিপ্রেক্ষিতে খুব উগ্র ভাষণ দেয়। যার ফলে মসজিদের ভিতরের জনতা খুব উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং এরপর এই উত্তেজিত ভিড় সাধারণ জনগণের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং চারশো এর অধিক দোকান লুঠ করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়; সেই সঙ্গে বিভৎস সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত হয়। একই সঙ্গে মুম্বাইয়ের মাহিম এলাকায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিবাদ স্বরূপ কালো পতাকা টাঙানো নিয়ে ছোটখাট তর্ক বিতর্ক থেকে বড় ধরণের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়।

শ্রীকৃষ্ণা কমিশনের রিপোর্ট অনুসারে মুম্বাই দাঙ্গা দুটি পর্বে সংগঠিত প্রথম পর্বে 6 ই ডিসেম্বরে বাবরি ধ্বংসের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দাঙ্গার সূত্রপাত হয় এবং দ্বিতীয় পর্বে 6-20 জানুয়ারী, 1993 সালে নূতন করে দাঙ্গা শুরু হয়। এই দাঙ্গা ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কিছু হিন্দু মারাঠি কর্মী; ধর্মান্ধ মুসলিমদের দ্বারা 'রাধা বাঈ চল' যেটি 'গান্ধী চল' নামেও পরিচিত সেখানে ছয় জনকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। মৃতের মধ্যে একটি মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়েও ছিল। এই ঘটনাটি কুখ্যাত 'রাধা বাঈ চল বা গান্ধী চল' ঘটনা নামে পরিচিত। এই ঘটনাটি জনমানসে এক গভীর প্রভাব ফেলে এবং প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া দাঙ্গা আবার নতুন করে অনেক বেশি হিংস্র রূপে ফিরে আসে। এই দাঙ্গাতে শিবসেনা দলটি সরাসরি অংশগ্রহণ করে এবং শ্রীকৃষ্ণা কমিশনের মতে এই দাঙ্গা শিবসেনা প্ল্যান করে শুরু করে। শিবসেনার মুখপাত্র সামনাতে সরাসরি উস্কানিমূলক সাম্প্রদায়িক কথা ছাপা হত। যা ঘৃণাকে আরও ছড়িয়ে দিত আর বেশ কিছু উর্দু পত্রিকা গোপনে বিলি করা হত যেখানে বলা হত মুসলমানদের জেহাদে নামতে হবে। তাই ধীরেধীরে অবস্থা খারাপ থেকে খারাপতর হচ্ছিল।

আবার ডিসেম্বরের শেষ দিকে শিবসেনা মুম্বাইয়ে শুক্রবার মসজিদের নামাজ রাস্তায় পড়ার বিরোধীতা করে। তারা যুক্তি দেখায় মুসলমানরা শুক্রবার যদি মানুষের অসুবিধা করে রাস্তায় নামাজ পড়তে পারে; তাহলে আমাদের ও ওই সময় মহা আরতি করার সুযোগ দিতে হবে। এভাবে পরস্পর আরোপ প্রত্যারোপ ও ভিন্ন কর্মসূচির ফলে আবহাওয়া খুবই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল, ঠিক সেই সময় রাধা বাই চল এর ওই ঘটনাটি আগুনে ঘৃতাহুতি দেয় এবং খুব তীব্রভাবে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে এই দাঙ্গা অনেক স্থায়ী হয়েছিল। মুম্বাই বা তৎকালীন বম্বেকে বলা হয় স্বপ্নের নগরী; অথচ ওই সময় বোম্বে পরিণত হয় এক দুঃস্বপ্নের নগরীতে। চারদিকে শুধু মানুষের লাশ, ও হাহাকার। যে শহর কখনও ঘুমায় না, যে শহর সদা ব্যস্ত থাকে; সেই শহরে যেন শ্মশানের শান্তি দেখা যায়। চারিদিকে আগুন জ্বলছে ও সাম্প্রদায়িক হিংসাতে শহর বিধ্বস্ত। এই শহরে হিংসার খবর লেগে থাকত এবং এই সমস্ত খবর টেলিফোনে বাল ঠাকরেকে শোনানো হত এবং বাল ঠাকরে সেখানে উস্কানিমূলক কথা বলতেন। প্রত্যক্ষদর্শী যুবরাজ মোহিত শ্রীকৃষ্ণা কমিশনের কাছে এই মর্মে সাক্ষ্য দান করেন যে-" এই সময় বাল ঠাকরের কাছে বহু ফোন আসত বাল ঠাকরে সেগুলি শুনে উগ্র কথা বলতেন; সেই রকমই এক ফোনের প্রত্যুত্তরে বাল ঠাকরে বলেন আপনারা বসে আছেন কেন? আপনারা ও মার কাটো ওদের আল্লার কাছে পাঠিয়ে দাও"। যে কোন দায়িত্ব বান নেতার কাছ থেকে এই ভাষা কোন মতেই কাম্য নয়। তাই এই ভাষার জন্য বাল ঠাকরে তীব্র ভাবে ধিকৃত, এই রকম মন্তব্য জাতির লজ্জা।

বোম্বাইয়ে এই সময় বহু মন্দির, মসজিদ ধ্বংস হয়ে যায়, সেই সঙ্গে বহু নিরীহ মানুষ এই ভাতৃঘাতি দাঙ্গার বলি হয়। শ্রীকৃষ্ণ কমিশনের মতে এই দাঙ্গায় মোট 900 জন মারা যায় তার মধ্যে 575 জন মুসলিম ও 275 জন হিন্দু ও অন্যান্য 50 জন মানুষের মৃত্যু হয়। যদিও বেসরকারি মতে মৃতের সংখ্যা ছিল আরও অধিক। শ্রীকৃষ্ণা কমিশন এই দাঙ্গাকে পরিকল্পনা মাফিক মনে করেন এবং দাঙ্গার জন্য প্রধানত দায়ি করেন শিবসেনা প্রধান বাল ঠাকরেকে; তৎকালীন সময় সুধাকর নায়েকের কংগ্রেস সরকার দাঙ্গা না রুখতে পারার কারণে এই দাঙ্গা আরও ছড়িয়ে পড়ে। তাই এই সরকারও দোষী সাব্যস্ত হয়। ঠিক এই সময়ই শরদ পওয়ার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন। শরদ পওয়ারের উপরও অভিযোগ আসে ঠিক মত দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন নি। এই সময় বেশ কিছু উচ্চ পদস্থ পুলিশ আধিকারিক যেমন- জয়েন্ট পুলিশ কমিশনার এস পি ত্যাগি এদের উপর অভিযোগ আসে এরা নির্লিপ্ত থেকে দাঙ্গা কারিদের সুবিধা করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এই অভিযোগ আসে পুলিশ মুসলিমদের বিরুদ্ধে দাঙ্গাকারিদের সহযোগিতা করেছিল। যাইহোক দাঙ্গা কারিরা বহু ঘরবাড়ি, অফিস জ্বালিয়ে দেয় ঠিক একইরকম ভাবে দাঙ্গাকারিরা টাইগার মেমনের 'তিজারাত ইন্টারন্যাশনাল' এর অফিস ও এক রেস্টুরেন্ট জ্বালিয়ে দেয়। এই ঘটনায় টাইগার মেমনের মনে তীব্র আঘাত লাগে, টাইগার মেমন কসম(প্রতিশ্রুতি) খায় এর ফল ভুগতে হবে মুম্বইকে এবং দেখিয়ে দেবে টাইগার কি করতে পারে।

টাইগার মেমন খুব জেদি ও রাগী স্বভাবের ছিল, তাই তার অফিস জ্বালানোর ঘটনাটিকে সহজ ভাবে মেনে নিতে পারেনি! মুম্বাই দাঙ্গাতে মুসলমানরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই টাইগার এই দাঙ্গার প্রতিশোধ নিতে এক পরিকল্পনা করে যা ভারতের ইতিহাস চিরতরে বদলে দেয় যা ছিল "মুম্বাই ব্লাস্ট বা বোম্বে বিস্ফোরণ"। অন্যদিকে বাল ঠাকরে মনে করত ওই সময় অস্ত্র নিয়ে শিবসেনার নামা সঠিক ছিল, কারণ তিনি না নামলে হিন্দুরা শেষ হয়ে যেত। তাঁর এই কথা কতটা যৌক্তিক তা তর্ক সাপেক্ষ বিষয় কিন্তু মহারাষ্ট্রের এক বিরাট সংখ্যক জনগণ এই কথায় বিশ্বাস করে ছিল। যার ফল স্বরূপ 1995 সালে বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম বার জয়ী হয়ে শিবসেনা-বিজেপি জোট সরকার গঠন করেছিল এবং এই সরকার মুম্বাইয়ে দাউদ ইব্রাহিমের যে ভয় ছিল তা শেষ করে দেয়। একটি কথা প্রচলিত ছিল মুম্বাইয়ে দাউদের ইচ্ছা ছাড়া গাছের পাতা ও নড়ে না। যে মুম্বাইয়ে দাউদ ইব্রাহিম ছাড়া কোন কাজ হত না, সেই দাউদ ও দাউদের ডি-কোম্পানিকে মুম্বাইয়ে অপ্রাসঙ্গিক করে দেয় এটি এই শিবসেনা বিজেপি সরকারের বড় উপলব্ধি।

তবে বহু সমালোচক মুম্বাই দাঙ্গার সময় রাজ্য সরকারের কর্মকান্ডকে সন্দেহের চোখে দেখে। কারণ অযোধ্যাতে অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকার থাকলে ও মুম্বাই-মহারাষ্ট্রে শরদ পওয়ারের কংগ্রেস সরকার ছিল তাই কংগ্রেস সরকার কেন এই দাঙ্গাকে সঠিকভাবে সামলাতে পারে নি সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন? যা শ্রীকৃষ্ণা কমিশনের রিপোর্টে ও উল্লেখ পাওয়া যায়। নিন্দুকেরা বলেন ভোটের স্বার্থে নোংরা রাজনীতিক লাভ লোকসানের ফল হিসাবে এই দাঙ্গাকে বেশ কিছুটা চলতে দেওয়া হয়। যাইহোক এই দাঙ্গার আঘাত ছিল খুবই গভীর এবং এর সঠিক প্রত্যাঘাত দেওয়ার জন্য বেশ কিছু কট্টরপন্থী সংগঠন সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই এই ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া স্বরূপ পরিকল্পনা হয় "ব্ল্যাক ফ্রইডে বা Black Friday plan" যা দেশের ইতিহাস চিরতরে বদলে দেয়।

চলবে...

তথ্যসূত্র:-
1. উইকিপিডিয়া।
2. এবিপি নিউজ।
3. আজতক নিউজ।
4. CNN-IBN নিউজ।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রক্তিম বিপ্লবী
রক্তিম বিপ্লবী এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 1 দিন ago
Joined: মঙ্গলবার, আগস্ট 29, 2017 - 3:02অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর