নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মাহের ইসলাম
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

প্রধানমন্ত্রীর শান্তির বাণীগুলো শুনলে পাহাড়িদের আতঙ্কের মনে হয়,কথায় আছে- "ঘর-পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায় " !



আমি একজন কট্টর জুম্ম জাতীয়বাদী,এটা কমবেশি সবাই জানে। আমার অনলাইনের বাঙালি বন্ধুরাও জানে। সামাজিক,সাংস্কৃতিক ,রাজনৈতিক ,অর্থনৈতিক শোষণে একটি জাতি জাতীয়তাবাদকে ভয়ঙ্কররুপে ধারণ ক'রে থাকে। আমি এই শোষণগুলো দেখে দেখে পীড়িত হয়েছি, ক্ষোভ জন্মেছে বাঙালি জাতির ওপর । আমাদের পাহাড়িদের কট্টর জাতীয়বতাবাদী হয়ে উঠার পেছনে দায়ী হচ্ছে শাসকগোষ্ঠী সরকার এবং শাসকগোস্টী বাঙালিরা।পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িরা সমগ্র বাঙালিদের শত্রু ভাবেন না। শত্রু হচ্ছেন তারাই যারা বাঙালি জাতীয়তাবাদকে সামাজিক,সাংস্কৃতিক ,অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে পাহাড়িদের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়। তাই এই ভয়ংকর আগ্রাসনগুলোকে রুখে দিতে পাহাড়িদেরকেও কট্টর জাতীয়তাবাদী হতে হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের সমতলের কৃষক, তাতী ,জেলে , কামার শ্রমিকদের সাথে বিভেদ নেই, নেই কোন দ্বন্ধ প্রগতিশীল বাঙালিদের সাথে।আমাদের লড়াই এবং ক্ষোভটা হচ্ছে শাসকগোস্টী সরকার এবং প্রতিক্রিয়াশীল বাঙালিদের সাথে। তবে অপ্রিয় সত্য হলেও অধিকাংশই বাঙালি প্রতিক্রিয়াশীল পাহাড়িদের ব্যাপারে। বাঙালি বাঙালিদের মধ্য যেরকম হানাহানি,রেষারেষি থাকুক না কেন, পাহাড়িদের ওপর নির্যাতন, অত্যাচারে সবাই এক ! শাসকগোস্টী সরকার যেভাবে অপপ্রচার চালায় পাহাড়িদের বিরুদ্ধে,পাহাড়িরা বিচ্ছিন্নতাবাদী ,এই স্বাধীন বাংলাদেশকে টুকরো টুকরো করতে চায় পাহাড়িরা , সেই অপপ্রচারে শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে। কাজেই, বাঙালিদের মধ্য বংশপরস্পরায় ছড়িয়েছে পাহাড়িদের ওপর ঘৃণা, এবং উগ্র জাতীয়তাবাদ। তাই ক্ষমতায় যেই সরকার আসুক না কেন, সব সরকারই চাই পাহাড়িদের পিষ্ট করতে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের ওপর বাঙালি জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতিটা শুরু হয় বাঙালির জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধ'রে , উনি প্রথম বলেছেন - এদেশের সমগ্র মানুষ জাতিতে বাঙালি, আমরা সবাই বাঙালি।এবং আজ অব্দি সংবিধানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে এদেশের মানুষ সবাই বাঙালি । কিন্তু পাহাড়িরা কখনো মেনে নিতে পারেননি বাঙালি জাতির জনকের কথাটি, এবং সংবিধানের বাঙালি জাতীয়তাবাদী ধারাটি । এর থেকে শুরু হয় পাহাড়িদের ওপর রাজনৈতিক,সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। পাহাড়িরা ইচ্ছা ক'রে দীর্ঘ ২৪-২৫ বছরের সশস্ত্র সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েননি ,বরং রাষ্ট্রীয় সরকার পাহাড়িদের বাধ্য করেছেন অস্ত্র হাতে তুলে নিতে। শেখ মুজিবুর রহমান যেটা শেষ করে যেতে পারেন নি সেটা নতুন ক'রে সূচনা করেছেন জিয়াউর রহমান। আশির দশকে সমতল থেকে প্রায় চার-পাঁচ লক্ষ অবৈধ বাঙালি(আমরা যাদের বর্তমানে সেটেলার বলি ) পার্বত্য চট্টগ্রামে অভিবাসন করা হয়, জিয়াউর রহমানের উদ্দেশ্য ছিল আগামী ২০৩০ সালের মধ্য পাহাড়ি ও বাঙালিদের জনসংখ্যার অনুপাত সমানে সমান করা। অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রামে কৃত্রিমভাবে জনসংখ্যার অনুপাত পরিবর্তন করা। ২০৩০ সাল আসতে আর ১২ বছর আছে, তার আগে জনসংখ্যার অনুপাত সমানে সমান হয়েছে। এরপরে আসল এরশাদ সরকার,৮৯-এ তার সরকার পতনের আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের জনসংখ্যার হার পতন ক'রে দিয়ে ছেড়েছে। তার সুপরিকল্পিত অভিযান ছিল জন্মনিয়ন্ত্রণ রোধ পরিকল্পনা, গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে দিয়েছিল জন্মনিয়ন্ত্রণ রোধ বড়ি। এই পরিকল্পনার ফাঁদে পড়ে পাহাড়িদের জন্মের হার হ্রাস পেতে শুরু হল, অন্যদিকে বহিরাগত বাঙালিরা জন্মের হার বাড়াতে লাগল এই সুযোগে। অর্থাৎ পাহাড়িদের জনসংখ্যার হার স্থিতি থাকুক,আর বাঙালিরা দ্রুত বেড়ে গিয়ে জনসংখ্যায় পাহাড়িদের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
এরপর খালেদ জিয়া সরকার, তারপর হাসিনার সরকার,আবার খালেদা জিয়া সরকার ,এরপরে হাসিনা,আবার হাসিনা সামনেও হাসিনা আসার সম্ভাবনা।
পাহাড়িরা সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নিতে চাইনি, শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে বেশ কয়েকবার আলোচনার মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সমস্যাকে সমাধান করতে চেয়েছেন তৎকালীন পাহাড়ি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্ধরা ,বিশেষ ক'রে পার্বত্য চট্টগ্রামের অবিসংবাদীত নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা । তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের গড়া একনায়কতন্ত্রী সংগঠন বাকশালেও যোগ দিয়েছেন, শুধুমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সমস্যাকে সমাধান করার জন্য সুস্ট আলোচনার মধ্য দিয়ে,কিন্তু সেটাও এগোয়নি ৭৫-এর হঠাৎ সেনা অভ্যুত্থানে শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার কারণে। শেখ মুজিবুরের মৃত্যর পর বাংলাদেশকে বহু বছরের রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে টেন নেয়। সেনা অভ্যুত্থানের নেতারা অল্পদিনের মধ্যই উচ্ছেদ হয়ে যান এবং অভ্যুত্থান,পাল্টা অভ্যুত্থান আর রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে দেশ অচল হয়ে পড়ে। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর আরেকটি সেনা অভ্যুত্থানের ফলশ্রুতিতে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হয়।
জিয়াউর রহমানের সরকারের সময়েও মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা আলোচনার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে সুস্থভাবে সমাধান করতে চেয়েছেন, কিন্তু জিয়াউর রহমানও কর্ণপাত করেনি পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে। শেষে, কোন সমাধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে।
দীর্ঘ ২৪-২৫ বছরের সংগ্রামের পর ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তি সম্পাদিত হয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে। সারা বিশ্বে নন্দিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ,ইউনেস্কো থেকে শান্তি পুরস্কার লাভ করেছেন, কিন্তু যেই চুক্তির জন্য সারা বিশ্বে নন্দিত হয়েছেন,সে চুক্তিকে বৃদ্ধাঙুল দেখিয়ে একচেটিয়া বড়খেলাপি করে যাচ্ছেন বছরের পর বছর।
৯৭ এর পার্বত্য চুক্তি একটা সরকারের চাল ছিল, একদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাথে চুক্তি সম্পাদন করে,অন্যদিকে ইউপিডিএফ নামক চুক্তি বিরোধী দল সৃষ্টি করে দিল। ফলে চুক্তি বিরোধী দল আছে নাম করে সেনাশাসনকে বলবৎ রাখল পার্বত্য চট্টগ্রামে। বিভিন্ন আঞ্চলিক উপদল সৃষ্টি করে দিল বিশেষ একটি চুক্তিবিরোধী মহল। এই বিশেষ মহলটি সরকারের পক্ষ থেকে হতে পারে আবার বিরোধী দলের থেকেও হতে পারে। তৎকালীন চার দলীয় জোট বিএনপিও চাইনি পার্বত্য চুক্তি সম্পাদন হোক। তবে,অ্যাডভোকেট শক্তিমানের মৃত্য দিয়ে বুঝতে আর অসুবিধে হয়নি যে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার কাদের দিয়ে চুক্তিকে বাস্তবায়নের দীর্ঘ করার পরিকল্পনায় নেমেছে।
ইউপিডিএফের প্রথম ভুল ছিল চুক্তিকে বিরোধিতা করার, আমি জানিনা চুক্তিটির মধ্য এমন কি ভুল দেখেছে যার জন্য বিরোধ করেছে ইউপিডিএফ। তবে, শোনা গিয়েছিল ইউপিডিএফ গঠনের শুরুতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা সন্তু লারমা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বুঝিয়েছেন ইউপিডিএফের নেতা প্রসিত খীসাকে,কিন্তু প্রসিত খীসা তার সিদ্বান্তে অনড় ছিলেন । এরপরে আরেকটি মারাত্নক ভুল করেছেন ২০০৭ সালে যখন পিসিজেএসএস ভেঙ্গে জেএসএস(সংস্কার)কে আশ্রয় দিয়ে শক্তিশালী করে।
দীর্ঘ ভাইয়ে ভাইয়ে রক্তক্ষয়ী হানাহানির পর অবশেষে একটি সিদ্বান্তে পৌঁছার সম্ভাবনা দেখা দিল যে, পিসিজেএসএস এবং ইউপিডিএফ যৌথভাবে চুক্তির পক্ষে আন্দোলন করবেন, কিন্তু শাসকগোস্টীর বিশেষ মহল এই যৌথ আন্দোলনকে ভালোভাবে নেয়নি । তাই, দ্রুত ইউপিডিএফকে ভেঙে দিল। নতুন করে সৃষ্টি করে দিল ইউপিডিএফ গণতন্ত্র নামে একটি দল,নতুন এই দলটি হাত মেলালো ২০০৭ সালে পিসিজেএসএস থেকে পৃথক হওয়া জেএসএস (সংস্কার)-এর সাথে। এরপর শুরু হল নতুন করে আবার ভাইয়ে ভাইয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। এসবের সবকিছুর জন্য দায়ী হচ্ছে শাসকগোস্টী সরকার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি স্থাপন নিয়ে বিভিন্ন সময় বিবৃতি দিয়ে থাকে, কিন্তু একবারও উল্লেখ করেননি সেনা অপসারণ নিয়ে। পাহাড়িদের দাবী হচ্ছে পাহাড় থেকে দ্রুত সেনা প্রত্যাহার করা। চুক্তি মোতাবেক সেনা মোতায়েন করা পার্বত্য চট্টগ্রামে ,চুক্তি বহির্ভুত সেনা মোতায়েন চলবে না। শাসকগোস্টীর সরকার বার বার দাবী করে আসছে পাহাড়ে সন্ত্রাসী আছে,তাই পাহাড়ে সেনা থাকবে জাতীয় নিরপত্তার স্বার্থে । কিন্তু সত্যটা হচ্ছে সেনাবাহিনীরা চাই পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘাত জিইয়ে থাক,সেনাবাহিনীরা কখনো চাইনা পার্বত্য চট্টগ্রামে একেবারে সংঘাত বন্ধ হোক,শান্তি ফিরে আসুক। সেনাবাহিনীদের বিভিন্ন "অপারেশন উত্তরণ", অপারেশন দাবানল" দেখেছি,এই অপারেশনগুলোতে ভুক্তভোগী হতে হয়েছে নিরীহ পাহাড়িদের ।
একদিকে বিভিন্ন উপদল সৃষ্টি করে দিয়ে,অন্যদিকে এদেরকে দমনের অজুহাত দেখিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি উপনিবেশে পরিণত করেছে । একদিকে শান্তির স্থাপনের কথা বলবে ,আরেকদিকে অশান্তির রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করে দিবে । যেই লাউ সেই কডু।
প্রধানমন্ত্রীর শান্তির বাণীগুলো শুনলে পাহাড়িদের আতঙ্কের মনে হয়,কথায় আছে- "ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায় " !

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

বিশ্ব চাকমা
বিশ্ব চাকমা এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 1 দিন ago
Joined: বুধবার, নভেম্বর 1, 2017 - 6:24অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর