নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মাহের ইসলাম
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

কেন কোনভাবেই কোরান সৃষ্টিকর্তার বানী হতে পারে না



কোরানের বানীগুলো খুব মনযোগের সাথে পরীক্ষা নিরীক্ষা করলে বোঝা যায় , এর মধ্যে এমন সব অতি সাধারন ভুল তথ্য আছে , যা প্রমান করে , কোরান কোনভাবেই সৃষ্টিকর্তার বানী হতে পারে না। কারন সৃষ্টিকর্তা সর্বজ্ঞানী ,সে কোনভাবেই ভুল তথ্য দিতে পারে না। একটা তথ্য পর্যালোচনা করলেই সেটা পরিস্কার হয়ে যাবে।

প্রথমেই নিচের আয়াতটা পড়া যাক --

সুরা বনী ইসরাইল -১৭:০১: পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যান্ত-যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।

উক্ত আয়াতে মুহাম্মদের কথিত মিরাজ যাত্রার কথা বলছে। মুহাম্মদ প্রথমে মসজিদে হারাম বা কাবা ঘর থেকে যেরুজালেমের মসজিদুল আকসাতে যায়। বোরাক নামক একটা আধা গাধা আধা খচ্চর টাইপের জন্তু যার আবার নারীর মত মুখ আছে , তার পিঠে চড়ে উড়তে উড়তে মক্কা থেকে জেরুজালেমে যায়।এই মসজিদুল আকসাটা কি ? এটা সেই উপাসনালয়, যা সোলায়মান নির্মান করেছিল ৮৩০ খৃষ্ট পূর্বাব্দে। এটাকে তখন বলা হতো Solomon's Temple। কিন্তু ৫৫০ খৃষ্ট পূর্বাব্দে ব্যাবিলনের সম্রাট নেবুচাদজাদে সেটাকে ধ্বংস করে ফেলে। কিন্তু তার ১০০ বছরের মধ্যে ইহুদিরা আবার সেটা দ্বিতীয়বার নির্মান করে। অত:পর এটাকে তারা Baitul Muqaddas নাম দেয় এবং সেই নামটাই তখন অাশপাশে প্রচলিত ছিল। কিন্তু উক্ত আয়াতে দেখা যাচ্ছে , কোরানে বলছে উক্ত উপাসনালয়টার নাম হলো Masjidul Aqsa । এটা একটা আরবী শব্দ যার অর্থ দুরতম মসজিদ। যে উপাসনাগারটার একটা নির্দিষ্ট নাম আছে , কোরান সেটার নাম না বলে বলছে দুরতম মসজিদ। এর দ্বারা কি বোঝা যায় ?

এটার দ্বারা বোঝা যাচ্ছে , হয় মুহাম্মদ সেই উপাসনাগারটার নাম জানত না , কিন্তু সেটার যে একটা অস্তিত্ব আছে বা ছিল সেটা কারও মুখ থেকে সে শুনেছিল। আর যখন সে কোরানের বানীর নামে বানী তৈরী করছিল , তখন সেটার নাম তার ঠিকমতো মনে ছিল না বলে দুরতম মসজিদ নামে আখ্যা দিয়েছে। কোরান যদি স্রষ্টার বানী হতো , সে নিশ্চিতভাবেই এই ভুলটা করত না। সে নিশ্চিতভাবেই সেই উপাসনাগারটার নাম বলত। সেটাই কি যুক্তি যুক্ত নয় ?

শুধু এটাই শেষ নয়। ৭০ খৃষ্টাব্দে যখন রোমানরা যেরুজালেম দখল করে তখন তারা Baitul Muqaddas কে ধ্বংস করে দেয়। এরপর মুহাম্মদ ৬০৯/৬১০ খৃষ্টাব্দের দিকে যখন তার কথিত মিরাজের নামে যেরুজালেম উড়ে যায় , তখন সেখানে আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কিছু খন্ড বিখন্ড ধ্বংসাবশেষ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তার মানে মুহাম্মদ যখন সেখানে যায় , তখন সেখানে কোন উপাসনাগার তো দুরের কথা , কোন ঘরের চিহ্নও সেখানে ছিল না। বরং খৃষ্টানরা সেই ভিত্তিতে দুনিয়ার সব আবর্জনা ফেলত। কারন তারা তখন ইহুদিদেরকে তাদের শত্রু মনে করত , তাদের বিশ্বাস ছিল তারাই তাদের যীশুকে হত্যা করেছিল। তারই প্রতিশোধ নেয়ার জন্যে , তারা Baitul Muqaddas যে খানে ছিল সেখানে আবর্জনা ফেলত এবং এভাবে অপমান করত। সুতরাং মুহাম্মদের কথিত যেরুজালেম উড়ে যাওয়ার সময় , সেই স্থানে আবর্জনার স্তুপ ছাড়া কিছুই ছিল না , অথচ হাদিস ও সিরাত গ্রন্থে কথিত আছে , মুহাম্মদকে যখন মক্কাবাসীরা প্রশ্ন করে , সেই ঘরের কয়টা দরজা , কয়টা জানালা , সেই ঘর দেখতে কেমন , তখন নাকি মুহাম্মদ হুবহু সেই ঘরের বর্ণনা দিয়েছিল।যে ঘরের কোন অস্তিত্ব ছিল না , মুহাম্মদ সেই ঘরের দিব্বি বর্ণনা দিয়ে গেল। কি উদ্ভট ঘটনা !

এরপর তৃতীয় খলিফা ওমর যখন যেরুজালেম যায় , তখনও সেখানে কোন উপাসনাগার ছিল না। সেই ভিতের ওপর সর্বপ্রথম উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিক ও তার ছেলে ওয়ালিদ মিলে ৭০৫ খৃষ্টাব্দে একটা মসজিদ বানায় যার নাম দেয়া হয় Masjidul Aqsa । মুহাম্মদ মারা যায় ৬৩২ খৃষ্টাব্দে । তার অর্থ মুহাম্মদ মরার প্রায় ৭৫ বছর পর Masjidul Aqsa নির্মিত হয়। তারপর থেকেই মুসলমানরা তার মধ্যে নামাজ পড়া শুরু করে। সুতরাং উক্ত আয়াতে যে মসজিদের কথা বলছে , সেই মসজিদের কোন অস্তিত্ব মুহাম্মদের সময়কালে ছিল না। তাই কোরান বর্নিত এই মসজিদুল আকসা সম্পর্কিত তথ্য ভুল।

ঠিক এখনই এক শ্রেনীর কথিত ইসলামী পন্ডিতরা এসে শুরু করবে নয়া ব্যখ্যা। তারা বলা শুরু করবে , মসজিদ অর্থ হলো যেখানে মানুষ জমায়েত হয়ে নামাজ পড়ে , সেই স্থানের নাম , আর সেখানে যে একটা ঘর থাকতেই হবে , এমন কোন কথা নেই। অন্তত: ইসলামের আদি যুগে মসজিদ বলতে সেটাই বুঝায়। ধরা যাক , তাদের যুক্তি সঠিক।

তখন প্রশ্ন উঠবে , সেই মুহাম্মদের সময় Baitul Muqaddas এর স্থানে কেউ নামাজ পড়ত না , কারন তখন সেখানে কোন মুসলমান ছিল না। তাছাড়া সেখানে ৭০ খৃষ্টাব্দের পর থেকে কেউ উপাসনাও করত না , কারন সেটা ছিল আবর্জনার স্তুপ। যদি ধরেও নেই , সেই স্থানেই মুহাম্মদ আবর্জনা পরিস্কার করে নামাজ পড়েছিল , কিন্তু সেই স্থানটার নাম তো ছিল Baitul Muqaddas। মুহাম্মদ বা তার আল্লাহ সেই নামটা কি জানত না ? পরিশেষে সহিহ হাদিস ও সিরাতে যে সুন্দর করে বর্ণনা করা হয়েছে , মসজিদুল আকসার সেই দালানের গঠন কেমন , কয়টা দরজা , কয়টা জানালা ইত্যাদি বিস্তারিত বর্ণনা। তার কি হবে ? এসব কি মুহাম্মদ গাজায় দম দিয়ে বর্ণনা করেছিল ? নাকি বাংলা মদ পান করে মাতাল হয়ে বলেছিল ?

তার মানে বোঝা যাচ্ছে , মুহাম্মদের এই মসজিদুল আকসা দর্শন সম্পর্কিত আয়াত ও হাদিস মুহাম্মদের আমলে নয় বরং তার মরার কমপক্ষে ১০০ বছরেরও বেশী পরে, উমাইয়া খিলাফতের আমলে , উমাইয়া শাসকদের নির্দেশে রচনা করে কোরানে সংযোজন করা হয়েছে।

সূত্র : https://en.wikipedia.org/wiki/Solomon%27s_Temple
https://en.wikipedia.org/wiki/Second_Temple_Judaism
https://en.wikipedia.org/wiki/Al-Aqsa_Mosque

Comments

নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

জেরুজালেম এর সলোমন মন্দির নিয়ে মুসলমানদের হাউকাউ এর কারণ হচ্ছে মুহাম্মদ এটিকে মুসলমানদের কাবা ঘোষনা দেওয়ার কারণে। মুহাম্মদ মানুষের মুখে শুনেই এবং সেমিটিক ধর্মের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে সলোমন মন্দিরকে মুসলমানদের কাবা ঘোষনা দিয়েছিলেন। কিন্তু মক্কার প্যাগান পুঁজারীদের কোনভাবেই যখন যখন বহুর্মুতি পুজা থেকে ফেরাতে পারছিলেন না এবং মক্কার কাবাঘরকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ব্যবসা বাণিজ্যের কথা চিন্তা করে জেরুজালেম বাদ দিয়ে মক্কার মন্দিরকে আল্লাহর ঘর হিসাবে ঘোষনা দিয়েছিলেন। পুরো বিষয়টা ছিল রাজনৈতিক। মুহাম্মদের সেই রাজনৈতিক কুটচালে পড়ে যুগযুগ ধরে বোকা মুসলমানের দল জেরুজালেম নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করছে, হানাহানিতে নিমজ্বিত।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঠমোল্লা
কাঠমোল্লা এর ছবি
Offline
Last seen: 3 দিন 4 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 4:48অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর