নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মাহের ইসলাম
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

রোজা সমগ্র - ১ম পর্বঃ রোজা বনাম ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ও রোজা নিয়ে ভুল ধারণাগুলোর যুক্তিখণ্ডন


এক্সক্লুসিভ মেগা পোস্টঃ রোজা সমগ্র - ১ম পর্ব

১ম পর্বঃ রোজা বনাম ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ও রোজা নিয়ে ভুল ধারণাগুলোর যুক্তিখণ্ডন

লেখকঃ মুশফিক ইমতিয়াজ চৌধুরী

ফেসবুক লিংকঃ www.facebook.com/mushfiqueimtiaz

ভূমিকাঃ

রোজা রাখা স্বাস্থ্যকর নিরোগ জীবনের জন্য চরম ক্ষতিকর। রোজার মাধ্যমে শরীরকে দীর্ঘ সময়ের জন্য পানি এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত রেখে দৈনন্দিন জীবনে খাদ্যগ্রহণের ডিসিপ্লিন বা নিয়মানুবর্তিতাকে নষ্ট করা হয় এবং অনেক স্বাস্থ্যগত সমস্যাকে সেধে দাওয়াত দিয়ে ডেকে আনা হয়। তাছাড়া সারা দিন একটি দীর্ঘ সময় খাদ্যগ্রহণ না করার কারণে ক্ষুধা বা খাদ্যের চাহিদা খুব বেশি থাকে বলে মানুষ ইফতারে অতিভোজনে লিপ্ত হতে বাধ্য হয়, যেই ভোজনের অনেকটা জুড়েই থাকে ডুবো তেলে ভাজা মশলাদার রিচ ফুড বা প্রচুর ক্যালোরী সমৃদ্ধ খেজুর, খেজুরের শরবত, বুন্দিয়া, রূহ আফজা ইত্যাদি যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

আজকে ১ম পর্বে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে রোজা সম্পর্কে আপনাদের ভুল ধারণাগুলো ভেঙ্গে দেব যেন লেখাটির অন্যান্য পর্বগুলো পড়তে যেয়ে কোনরূপ অস্পষ্টতা বা দ্বিধাদ্বন্দ্বের সৃষ্টি না হয়।

রোজা সমগ্রের মূল আকর্ষণ থাকবে ২য় ও ৩য় পর্বে যেখানে রোজা নিয়ে জাকির নায়েকের মিথ্যাচার ও রোজার স্বাস্থ্যগত ক্ষতিসমূহ মেডিকেল যুক্তি, তথ্য তথা ব্যাখ্যা সহকারে প্রমাণ করা হবে।

এখানে উল্লেখ্য যে,

১) রোজা সম্পর্কে ইসলামী সাইটগুলোতে যে তথ্য আছে সেগুলোর মধ্যে কোন মেডিকেল ব্যাখ্যা বা তথ্যপ্রমাণ (Mechanism of Action or Medical Logic) নেই, আছে শুধুই স্বতঃসিদ্ধ দাবী যা ধর্মের প্রতি অন্ধভক্তি প্রসূত এবং অবৈজ্ঞানিক। এসব ভুয়া সাইটের তথ্য কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় কেননা এসব দাবীর সপক্ষে Internal Medicine কিংবা Endocrinology এর কোন স্বীকৃত মেডিকেল টেক্সটবুকে কোন ধরনের তথ্য নেই।

১৯০১ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞান কিংবা শারীরবিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য অন্তত ১১৭জনকে নোবেল পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে যার মধ্যে ১জন মুসলিমও নেই। এ থেকে বোঝা যায়, চিকিৎসাবিজ্ঞানে মুসলিমেরা চরম দুর্বল ! আল রাযী, ইবনে সীনা ও আবুল কাসিসের গল্প করে একজন মুসলিম সান্ত্বনা পেতে চাইলে বাস্তবতা এই যে আল রাযী ছিলেন ধর্মের চরম সমালোচক আর ইবনে সীনা ও আবুল কাসিসকে ইসলামের গোঁড়াপন্থীদের বিভিন্নভাবে সন্তুষ্ট করে ও তাল মিলিয়ে চলতে হয়েছিল। তাদের ধ্যান ছিল গবেষণা করা, কোরান আবৃত্তি নয়। তার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে, রাযী-সিনা-কাসিসের যুগ আর নেই এবং গত ৫০০-১০০০ বছরে মুসলিমেরা শিক্ষাদীক্ষায় চরমভাবে পিছিয়ে পড়েছে যে তাদের ভুল, সীমাবদ্ধতা ও মিথ্যাচারে ভরা তথাকথিত গবেষণাগুলোকে কেউ কানাকড়ি মূল্য দেয় না।

২) রোজা নিয়ে বাংলাদেশী সাইটগুলোতে মুসলিম ধর্মাবলম্বী চিকিৎসকদের যে লেখাগুলো আছে সেগুলোও গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা তারা মেডিকেল টেক্সটবুকের তথ্য ও ব্যাখ্যা না দিয়ে নিজেদের সুবিধেমত অপব্যাখ্যা করেন। এর পেছনে কারণ –

ক) তারা ধার্মিক বলেই চান না যে ইসলাম ধর্ম কোনভাবেই ভুল প্রমাণিত হোক।

খ) মুসলিম জনরোষের শিকার হতে পারেন, এই ভয়ে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করেন না।

গ) রোগী হারাতে পারেন বা চিকিৎসক মহলে একঘরে হয়ে যেতে পারেন এই ভয়ে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করেন না।

নিজেদের অন্ধ ধর্মবিশ্বাস ও ডাক্তারিবিদ্যা থেকে অর্জিত জ্ঞান উভয়ের মাঝে আটকা পড়ে তারা খুব বিপাকে পড়ে যান এবং প্রকৃত সত্য প্রকাশ না করে আমতা আমতা বা ইতস্তত করে বলার চেষ্টা করেন – “ইয়ে, মানে রোজা ভালোই কিন্তু কিছু বিষয় মেনে বা পরিহার করে চলতে হবে” । এই ধরনের বক্তব্য থেকে আসলে এটাই প্রমাণিত হয় যে তারা ইসলাম ও চিকিৎসাবিজ্ঞান – দুইয়ের মাঝে একটা সমঝোতাপূর্ণ সুবিধাবাদী অবস্থানে থাকতে চান যা অনৈতিক।

যাই হোক, আসুন প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু করা যাক –

প্রশ্নঃ Islamic Fasting ও Intermittent Fasting কী একই কথা?

উত্তরঃ

Islamic Fasting (রোজা) vs Intermittent Fasting এর পদ্ধতির মধ্যে কিছু সাদৃশ্য থাকলেও বড় ধরনের বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ফলে তারা উভয়ে সমার্থক বা একই কথা নয়।

Islamic Fasting বা রোজা রাখার নিয়মাবলীঃ

ক) রমজান মাসে পুরো এক মাস যাবত ভোর হওয়ার পূর্বে আহার সম্পন্ন করা এবং রোজা রাখার জন্য প্রস্তুতি এবং ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আহারাদি ও পানি পান থেকে নিবৃত্ত থাকা

খ) সূর্যাস্তকালে রোজা ভেঙে ইফতার করা এবং রাতে স্বাভাবিক আহারাদি করা

পক্ষান্তরে

Intermittent Fasting এর নিয়মাবলীঃ

ক) সপ্তাহের ৫ দিন Normal Diet বা স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস চলবে এবং ২ দিন Restricted Diet বা সীমাবদ্ধ ক্যালোরির খাদ্যাভ্যাস চলবে (নারীর ক্ষেত্রে ৫০০ ক্যালোরি, পুরুষের ক্ষেত্রে ৬০০ ক্যালোরি গ্রহণ করা যাবে)

খ) পানি, জুস, দুধ ছাড়া চা-কফি কিংবা আর্টিফিশিয়াল সুইটেনারযুক্ত জিরো ক্যালরি ড্রিংক পানে কোনরূপ বাধা নেই, যখনই পিপাসা অনুভূত হবে, তখনি এগুলো পান করা যাবে। আসুন দেখে নেই –
Recommendations vary on what can be consumed during the fasting periods. Some would say only water, others would allow tea or coffee (without milk or sugar) or zero-calories drinks with artificial sweeteners. Yet others would allow "modified fasting" with limited caloric intake (e.g., 20% of normal) during fasted periods rather than none at all.

সূত্রঃ https://www.livestrong.com/article/330829-a-list-of-foods-to-drink-when-...

সুতরাং উভয়ের মধ্যে পার্থক্যগুলো হলঃ

ক) রোজায় সারা দিন চলার জন্য ভোরে সেহরীতে প্রচুর পরিমাণে খাওয়া হয় পক্ষান্তরে ৫:২ ডায়েটভিত্তিক ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ে ভোরে প্রচুর পরিমাণে খাওয়ার কোন বিধান নেই।

খ) রোজায় ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানি পান নিষিদ্ধ, পক্ষান্তরে ৫:২ ডায়েটভিত্তিক ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ে পানি, জুস, দুধ ছাড়া চা-কফি কিংবা আর্টিফিশিয়াল সুইটেনারযুক্ত জিরো ক্যালরি ড্রিংক পানে কোন বাধা নেই।

গ) রোজা একটানা ১ মাস বা ৩০ দিনের, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং সপ্তাহে মাত্র ২ দিনের।

ঘ) ইসলামিক ফাস্টিংয়ে একটানা ৩০ দিন দীর্ঘক্ষণ খাদ্যগ্রহণে বিরতি দেওয়ার বিধান রয়েছে পক্ষান্তরে ৫:২ ডায়েটভিত্তিক ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ে এমন বিধান নেই বরং যখন খুশি খাদ্যগ্রহণ করা যাবে কিন্তু সপ্তাহে মাত্র ২ দিন বা ১ মাসে মাত্র ৮ দিন এই ক্যালোরি গ্রহণের সীমা দিনপ্রতি ৫০০-৬০০ ক্যালোরির মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। আসুন দেখি –

Dieters are recommended to consume a ‘normal’ number of calories five days a week and then, for two, non-consecutive days, eat just 25% of their usual calorie total - 500 calories for women and 600 for men.

সূত্রঃ https://www.bbcgoodfood.com/howto/guide/what-52-diet

সিদ্ধান্তঃ ৫:২ ডায়েটভিত্তিক ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ও রোজা কোনভাবেই এক ব্যাপার নয়।

প্রশ্নঃ Intermittent Fasting ও Islamic Fasting নিয়ে ইন্টারনাল মেডিসিনের বক্তব্য কী?

উত্তরঃ

Internal Medicine এর প্রধান ২টি গ্রন্থ Harrison's Principles of Internal Medicine এবং Kumar and Clark's Clinical Medicine এর কোন অধ্যায়েই Intermittent or Islamic Fasting নিয়ে ১ লাইনও লেখা নেই। কারণ, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান কোন ধরনের ফাস্টিংকেই শরীরের জন্য নিশ্চিতভাবেই উপকারী বলে মনে করে না।

লিংকঃ

ক) https://bit.ly/2F8PdMq
খ) https://bit.ly/2K7voZN

প্রশ্নঃ ৫:২ ডায়েটভিত্তিক Intermittent Fasting এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলো কী কী?

উত্তরঃ

National Health Service (NHS UK) এর মতে ৫:২ ডায়েটভিত্তিক Intermittent Fasting এর সাইড এফেক্ট

(এটি মোটামুটিভাবে গ্রহণযোগ্য একটি জেনারেল হেলথ সাইট, এখানে এই বিষয়ে বেশি তথ্য আছে বলে এটিকে গ্রহণ করা হয়েছে। এর চেয়ে গ্রহণযোগ্য অনেক মেডিকেল সাইট রয়েছে কিন্তু মেডিক্যালি রোজা/ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কোন তাৎপর্য বহন করে না বলে সেসব সাইটে এই বিষয়ে তেমন কোন তথ্য নেই)

১) ঘুমোতে অসুবিধা (difficulties sleeping)

২) মুখে দুর্গন্ধ (bad breath, a known problem with low carbohydrate diets)

৩) বিরক্ত বা রোষপ্রবণতা (irritability)

৪) উদ্বিগ্নতা (anxiety)

৫) পানিশূন্যতা (dehydration)

৬) দিনে ঘুমকাতুরতা (daytime sleepiness)

৭) এই ডায়েটে প্রচণ্ড ক্ষুধা পাবে ও খুব দুর্বলবোধ হবে এবং কর্মস্থলে কর্মসম্পাদনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে (very hungry and have less energy and this could affect your ability to function, such as at work)

৮) গর্ভবতী নারী, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং খাদ্যগ্রহণগত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি উপযুক্ত নয় (IF may not be suitable for pregnant women and people with specific health conditions, such as diabetes, or a history of eating disorders)

এক্ষেত্রে NHS এর পরামর্শ হলোঃ

If you are considering it then you should first talk to your GP to see if it is suitable for you. Not everyone can safely fast.

যার অর্থ ৫:২ ডায়েটভিত্তিক ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংকে বিবেচনায় আনলে প্রথমে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিৎ কেননা অনেকের জন্যই এটি নিরাপদ নয়। অর্থাৎ, ৫:২ ডায়েটভিত্তিক ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং জনপ্রিয়তা পেয়েছে কিন্তু বাস্তবে ডাক্তারদের কাছে এর কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই বলেই NHS এই পদ্ধতিকে নিশ্চয়তার সাথে সুপারিশ করছে না।

সূত্রঃ https://www.nhs.uk/news/food-and-diet/news-analysis-does-the-52-fast-die...

প্রশ্নঃ Islamic Fasting বা রোজা রাখার বিরুদ্ধ নির্দেশনা (Contraindication ) কী কী?

উত্তরঃ

NHS সাইটে ডায়াবেটিস, মাইগ্রেইন, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চরক্তচাপ, অ্যাজমা, ডায়ালাইসিস ও ব্লাড ট্রান্সফিউশনের রোগী, গর্ভবতী ও স্তন্যদায়ী নারীদের রোজা না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: https://www.nhs.uk/Livewell/Healthyramadan/Pages/faqs.aspx

উল্লেখ্য, উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর স্বাস্থ্য বিষয়ক সরকারী সাইট মুসলিমদের সমালোচনা ও বিতর্ক এড়োতে অনেক ক্ষেত্রেই রোজার একদম সরাসরি সমালোচনায় না যেয়ে একটু কৌশল করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেমন রোজাকে সরাসরি নিষিদ্ধ ঘোষণা না করে তারা একটু ইনডাইরেক্টভাবে লেখে যে এটা রিকোমেন্ডেড নয় কিংবা এটা না রাখাই ভাল কিংবা এ ব্যাপারে ডাক্তারের পরামর্শ নিন ইত্যাদি। এছাড়াও, অনেক সাইটে রোজা সম্পর্কিত আর্টিকেলগুলো লেখানো হয় মুসলিম ডাক্তারদের দিয়ে যাতে উক্ত ডাক্তারগণ তাদের ধর্মবিশ্বাসের পক্ষে লেখেন কিংবা ডাক্তারিবিদ্যা ও ধর্মবিশ্বাসের মধ্যে সমন্বয় করে লেখেন যাতে ১০০% সত্য প্রকাশিত হয় না।

প্রশ্নঃ ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের চেয়ে ইসলামিক ফাস্টিংয়ের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কতটুকু বেশি?

উত্তরঃ

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের চেয়ে ইসলামিক ফাস্টিং বা রোজার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনেক গুণ বেশি। আসুন দেখে নেই -

রোজার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া =

১) ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের সকল পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

এবং

২) পানিশূন্যতা ও এটি থেকে উদ্ভূত বহুবিধ স্বাস্থ্যসমস্যা

এবং

৩) অভুক্ত অবস্থায় সারাদিন চলার জন্য সেহরীতে প্রচুর খেয়ে নেওয়া জনিত ওজন বৃদ্ধি

এবং

৪) দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকায় প্রচণ্ড ক্ষুধাজনিত কারণে ইফতারীতে অতিভোজন ও ওজন বৃদ্ধি

এবং

৫) ইফতারীর হাই ক্যালোরি সমৃদ্ধ তেলে ভাজা ও চিনিযুক্ত খাদ্যগ্রহণ ও ওজন বৃদ্ধি

এবং

৬) ইফতারী পরবর্তী সময় থেকে সেহরীর আগ পর্যন্ত জেগে টুকিটাকি খাওয়া জনিত ওজন বৃদ্ধি

এবং

৭) রোজা মিস হয়ে যেতে পারে এই আশঙ্কায় সারা রাত জেগে থাকা কিংবা মধ্যরাতে ঘুম থেকে ওঠাজনিত কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ও ওজন বৃদ্ধি

আমার পরামর্শঃ

ডাক্তারি বিষয়াদি যে কেউ চাইলেই বোঝার ক্ষমতা রাখেন না। এর জন্য মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কয়েক বছর পড়তে হয় এবং হাসপাতালের ওয়ার্ডভিত্তিক অনুশীলনের প্রয়োজন পড়ে। ফলে, যে কেউ যা খুশি তাই লিখলেই বা রেফারেন্স দিলেই সেগুলোর কোন গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি হয় না। বরং ডাক্তারি বিষয়ে শুধুমাত্র ডাক্তারদেরই লেখা গ্রহণযোগ্য এবং এ ব্যাপারে কোন রেফারেন্স দিতে গেলে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অবশ্যই মাথায় রাখা উচিত -

১) ডাক্তারি বিষয়সমূহের রেফারেন্স দিতে পত্রিকা, সংবাদ মাধ্যম ইত্যাদির সাইট বা মেডিকেল বিষয়ে ভাসা ভাসা জ্ঞানসম্পন্ন সাংবাদিকদের লেখা অনুসরণ করা একেবারেই উচিত নয়।

২) ডাক্তারি বিষয়ে 1st Line Reference হিশেবে আন্তর্জাতিকভাবে পাঠ্য তথা স্বীকৃত মেডিকেল টেক্সটবুকের তথ্য গ্রহণ করা উচিত।

৩) 2nd Line Reference হিশেবে গ্রহণ করা উচিত চিকিৎসাবিদ্যায় উন্নত দেশগুলোর সরকারী সাইটগুলোকে।

৪) 3rd Line Reference হিশেবে গ্রহণ করা উচিত ডাক্তারি টার্ম সংবলিত জনপ্রিয় মেডিকেল সাইটগুলোকে।

৫) 4th Line Reference বা দুর্বল রেফারেন্স হতে পারে PubMed, Embase, Google Scholar ইত্যাদি ডাটাবেজ সাইটের তথ্যসমূহ কেননা এগুলো মেডিকেল সাইট নয় বরং ডাটাবেজ সাইট এবং এখানে সঠিক বেঠিক সকল ধরনের রিসার্চ পেপার জমা থাকে।

প্রতিনিয়ত মেডিকেল সায়েন্স সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গবেষণার রিপোর্ট পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে যার সবগুলোই সঠিক গবেষণা নয়। তাই, হুট করেই এগুলোতে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে ফেলা বোকামি। ৫:২ ডায়েট প্রচারণার কারণে জনপ্রিয় হয়েছে কিন্তু জনপ্রিয় মানেই সেটি অবশ্যই বিজ্ঞানসম্মত বা কল্যাণকর – এমনটি বলা যায় না। একইভাবে, বিভিন্ন ধর্মে রোজা-উপবাসের গল্পে অনুপ্রাণিত মানুষ কালে কালে এই বিষয়টিকে বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে কিন্তু বাস্তবে এটি সঠিক নয়। তাই ইসলামিক রোজা বা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং সম্পর্কে অজানা অচেনা সাইট বা রিসার্চের তথ্য কিংবা মুসলিমদের বানানো সাইটের তথ্য কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রশ্নঃ রোজার বিধান অনুযায়ী ১২-১৭ ঘন্টা পানি পান না করে থাকা কী বিজ্ঞানসম্মত বা স্বাস্থ্যকর?

উত্তরঃ একেবারেই অবৈজ্ঞানিক তথা অস্বাস্থ্যকর। রোজার সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হচ্ছে পানিশূন্যতা যা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ে নেই।

১) দীর্ঘ সময় পানি না খেয়ে থাকলে শরীরের বিভিন্ন ক্ষতি যেমন Brain Swelling, Heat Stroke, Seizures, Kidney Failure & even Death হতে পারে। অথচ রোজায় ১২-১৭ ঘন্টা পানি পান না করে থাকা হয় যা শরীরের জন্য চরম ক্ষতিকর! আসুন দেখি –

avoiding water for extended periods of time can be dangerous. Your body needs water to stay hydrated and skipping it for too long could result in health problems, including brain swelling, heat stroke, seizures, kidney failure and even death.
সূত্রঃ https://www.livestrong.com/article/463230-what-can-i-drink-when-doing-in...

২) ঘুম থেকে ওঠার পর পানি খাওয়া অতীব গুরুত্বপূর্ণ অথচ ইসলামী রোজায় ঘুম থেকে ওঠার পর সন্ধ্যা পর্যন্ত পানি খাওয়া যায় না – যা নিঃসন্দেহে ডাক্তারি নির্দেশনার বিরোধী তথা ক্ষতিকর।

সূত্রঃ https://www.everydayhealth.com/healthy-living/8-best-times-drink-water

প্রশ্নঃ প্রতিবছর কোটি কোটি মুসলিম রোজা রাখছেন অথচ তাদের সুস্থই দেখা যাচ্ছে কিংবা তারা মারা যাচ্ছেন না – এর ব্যাখ্যা কী?

উত্তরঃ

এর ব্যাখ্যা হচ্ছে আমরা চারপাশে যখন দেখি যে কোটি কোটি মুসলিম রোজা করার কারণে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হচ্ছেন না কিংবা মারা যাচ্ছেন না তখন সেই দেখাটা আমরা গবেষণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্যারামিটার বা মেডিকেল টেস্টের ভিত্তিতে দেখি না বরং আপাত দৃষ্টিতে দেখি। আপাত দৃষ্টিতে দেখা একজন ব্যক্তির শরীরের আভ্যন্তরীণ অবস্থা তথা সঠিক অবস্থা প্রদর্শন করে না। উপরন্তু, আমরা দেখি শুধুমাত্র আমাদের পরিচিত মানুষদের, বিশাল জনগোষ্ঠীকে দেখি না। ফলে, আমাদের যাচাইটা হয় ওই হাতে গোনা কিছু মানুষকে কেন্দ্র করে, বড় ধরনের জনসংখ্যার ভিত্তিতে নয়।

১টি সিগারেটের মধ্যে যেই পরিমাণ নিকোটিন আছে তা কোন ব্যক্তিকে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে পুশ করলে সে মারা যাবে কিন্তু সেটিকে ধূমপান করার মাধ্যমে গ্রহণ করলে ১ দিনেই তার ফুসফুসের ক্যান্সার/ব্রংকাইটিস/অন্যান্য অসুখ বিসুখ হবেনা বরং সময় লাগবে। কত সময় লাগবে – এর কোন সুনির্দিষ্টতা নেই কেননা মানুষে মানুষে শারীরিক সামর্থ্য, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জীন এবং পরিবেশ পরিস্থিতি বিভিন্ন।

রোজা থাকার কারণে Acute বা তীব্র সমস্যার চেয়ে Chronic ক্রনিক সমস্যা অপেক্ষাকৃত বেশি হয় যা ১ দিনে নয় বরং সময়ের প্রবাহে একটু একটু করে আত্মপ্রকাশ করতে থাকে। উদাহরণস্বরূপঃ এইডসের জীবাণুর প্রতিক্রিয়া আত্মপ্রকাশে ১০-১৫ বছর লেগে যেতে পারে, ১ দিনে দৃশ্যমান হয় না। রোজার ক্ষতিকর দিকগুলোর আত্মপ্রকাশের ব্যাপারটাও ঠিক এই রকম।

রোজার বড় ধরনের ক্ষতিগুলো সাথে সাথে দৃশ্যমান না হলেও মধ্যবয়সে বা তার পরে ক্রমশ দৃশ্যমান হতে থাকে। শরীরের বিভিন্ন তন্ত্র রোজা রাখা এবং অন্যান্য বদভ্যাসের কারণে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে, তাই রোজাকে বলা যেতে পারে সুপ্ত ঘাতক। চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি শাখা Community Medicine এ Health Sickness বা Health Disease Spectrum সম্পর্কে বলা হয়েছে স্বাস্থ্যের ভালো এবং মন্দ দুটি দিক রয়েছে –

১) ভালোর স্তরবিন্যাস হলো – Positive Health < Better Health < Health Free from sickness.

২) মন্দের স্তরবিন্যাস হলো – Unrecognized Sickness < Mild Sickness < Severe Sickness < Death.

সূত্রঃ Rashid, Khabir, Hyder's Textbook of Community Medicine and Public Health

অল্প বয়সী রোজাদারেরা মূলত Unrecognized & Mild Sickness স্তরে অবস্থান করেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ক্রমাগত অবনতির মাধ্যমে ধীরে ধীরে রোজাদারেরা Moderate ও Severe Sickness এ আক্রান্ত হন ।

প্রশ্নঃ রোজা করতে বয়োবৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদেরকে নিষেধ বা সতর্কতার সাথে রাখতে বলা হয় কেন?

উত্তরঃ

এখান থেকে সুস্পষ্ট হয় যে রোজা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ রোগীদের দুর্বল শরীরকে যদি রোজা সবল করতে পারত, তাহলে আমরা বুঝতাম রোজা আসলেই উপকারী। কিন্তু দুর্বল শরীরের অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধদের ক্ষেত্রে রোজা রাখতে নিষেধ করা হয় কেননা এতে দুর্বল শরীর সবল না হয়ে আরো বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। রোজা ক্ষতিকর বলেই অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ রোগীরা রোজা একেবারেই সহ্য করতে পারেন না, তাদের চোখেমুখে ক্লান্তি, বিরক্তি, অস্থিরতা ও অসহ্যতার ছাপ ফুটে ওঠে যে কখন রোজা শেষ হবে বা ইফতার শুরু হবে! এদিকে তরুণ ও মধ্যবয়সীদের শরীর ফিট বলে তারা কোনরকমে রোজাটা সহ্য করে যেতে পারে কিন্তু এই সহ্য করাটা হচ্ছে শারীরিক কষ্ট তথা বহুবিধ শারীরিক ক্ষতির বিনিময়ে। ক্ষতি এখানে অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি দৃশ্যমান হচ্ছে না মানে এই নয় যে ক্ষতি হচ্ছে না। ভেতরে ভেতরে ঠিকই ক্ষতি হচ্ছে। ক্রনিক ডিজিজের ক্ষতিসমূহ ১ দিনে বোঝা যায় না। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় অসুখের Latent Stage কিংবা Subclinical State। ঘুণপোকা যেভাবে ধীরে ধীরে নিঃশব্দে কাঠ খেয়ে ফেলে, রোজাও ঠিক তেমনি ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন তন্ত্রের ক্ষতিসাধন করে, যার তাৎক্ষণিক পরিণাম অনেকেই টের পায়না এবং ঈমানী জোশে রোজা পালন করে যেতে থাকে। বয়স হলে তাদের শরীর যখন ভেঙ্গে পড়ে তখন তারা বুঝতে পারে না বা বুঝেও বোঝার চেষ্টা করেনা যে শরীরের এই ভেঙ্গে পড়ার পেছনে তাদের বিভিন্ন অনিয়ম দায়ী যার মধ্যে বছরের পর বছর রোজা পালন করাটা অন্যতম একটি কারণ। যাই হোক, ততদিনে ক্ষতি হয়ে যায় কিন্তু রোগী কারণটা ধরতে ব্যর্থ হয়। সেই সময়ে রোগীকে বলা হয়, আপনি যেহেতু অসুস্থ বা বয়োবৃদ্ধ, তাই রোজা রাখবেন না ! এভারেই রোজার ক্ষতিটা আড়ালেই থেকে যায় !

প্রশ্নঃ রোজা রাখলে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিশ্রাম পায় – এই দাবী কতটুকু সত্য?

উত্তরঃ

রোজা করার ফলে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিশ্রাম পায় – এমন দাবী চরম অবান্তর তথা হাস্যকর। কেননা, একজন ব্যক্তি রোজ ৬-৭ ঘন্টা যখন ঘুমান, তখন সেই ৬-৭ ঘন্টায়ই শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পর্যাপ্ত বিশ্রাম হয়ে যায়। আলাদাভাবে বাড়তি বিশ্রামের কোন দরকার নেই।

অতিরিক্ত ঘুম যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত বিশ্রামে থাকাও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কার্যকলাপের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত শুয়ে বসে থাকাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে Sedentary lifestyle বলে অভিহিত করা হয় যা Anxiety, Cardiovascular disease, Migraines, Breast cancer, Colon cancer, Computer vision syndrome only for computers and tablets, Depression, Diabetes, Gout, High blood pressure, Lipid disorders, Skin problems such as hair loss, Mortality in adults, Obesity, Osteoporosis, Scoliosis, Spinal disc herniation (Low back pain) ইত্যাদি অসুখের অন্যতম রিস্ক ফ্যাক্টর বলে স্বীকৃত। আসুন দেখে নেই -

A sedentary lifestyle is a type of lifestyle with little or no physical activity. A person living a sedentary lifestyle is often sitting or lying down while engaged in an activity like reading, socializing, watching television, playing video games, or using a mobile phone/computer for much of the day.

সূত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/Sedentary_lifestyle

এতক্ষণ হল তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, এবার আসি বাস্তবতায়। বাস্তবে রোজার কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শরীর অপেক্ষাকৃত কম বিশ্রাম পায় কেননা –

১) রোজার কারণে সারাদিন না খেয়ে চলতে হবে এই আশংকায় সেহরীতে প্রচুর খাওয়া হয়

এবং

২) সারাদিন অভুক্ত থাকার ফলে সৃষ্ট ক্ষুধা থেকে ইফতারেও প্রচুর খাওয়া হয়।
এই খাবার হজম করতে হজমতন্ত্রের প্রচুর কাজ করতে হয় ফলে হজমতন্ত্রের কোন বিশ্রাম বাস্তবে হচ্ছে না।

আবার,

৩) রোজা যেন মিস না হয় সেজন্য রাতে জাগার ফলে ঘুম হয় না বা আংশিক হয় যাতে শরীরের কোন অঙ্গেরই ঠিকমত বিশ্রাম হয় না।

প্রশ্নঃ রোজাদার মুসলিমদের আয়ু কী রোজা না রাখা অমুসলিমদের চেয়ে বেশি?

উত্তরঃ

একেবারেই নয় বরং রোজা পালন না করা নাস্তিকদের আয়ু সবচেয়ে বেশি।
আয়ুষ্কালের বিচারে সবচেয়ে বেশি আয়ুসম্পন্ন ২০টি দেশের ১মটি সহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশই নাস্তিক্যবাদী অধ্যুষিত দেশ যারা রোজা পালন করে না। ৮৪ বছর আয়ু নিয়ে নাস্তিক জাপান এই তালিকায় শীর্ষে পক্ষান্তরে নবী মোহাম্মদের রোজা পালন করা সৌদি আরবের মানুষের গড় আয়ু ৭৪ বছর যা নাস্তিক জাপানিদের থেকে ১০ বছর কম। বাংলাদেশীদের গড় আয়ু ৭২ বছর, ইন্দোনেশীয়দের গড় আয়ু ৬৯ বছর এবং পাকিস্তানীদের গড় আয়ু ৬৬ বছর।

সূত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_countries_by_life_expectancy

আয়ুষ্কাল রোজা ছাড়াও বিভিন্ন ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে – সত্য কিন্তু রোজার পক্ষে সাফাই গাইতে এটা কোন অজুহাত হতে পারে না। কেননা যদি ধরে নেই মধ্যপ্রাচ্যের আবহাওয়া চরমভাবাপন্ন তবে প্রশ্ন দাঁড়াবে নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় বসবাসকারী প্রবাসী মুসলিমদের আয়ু কেন বেশি নয়? কিংবা যদি জেনেটিক্যাল দিক চিন্তা করা হয় তবে তথাকথিত আল্লাহ কেন মুসলিমদের সেইরকম জেনেটিক্যাল সামর্থ্য দিয়ে তৈরি করলেন না ?

উপসংহারঃ

উপরিউক্ত আলোচনার মাধ্যমে রোজা সংক্রান্ত বিভিন্ন ভুল ধারণা সম্পর্কে আমরা তথ্য ও যুক্তি সহকারে জানতে পারলাম।

২য় পর্বে রোজা নিয়ে জাকির নায়েকের অবৈজ্ঞানিক তথা উদ্ভট দাবীগুলোর যুক্তিখণ্ডন করা হবে।

মুসলিমেরা যেন রোজা নিয়ে তাদের ভুল ধারণাগুলো সম্পর্কে জানতে পারে তথা রোজা থেকে বের হয়ে আসতে পারে - সেজন্য লেখাটি সকলেই নিজ দায়িত্ব থেকে শেয়ার করবেন বলে আশা করছি।

Comments

নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

রোজার ক্ষতিকর দিকসমূহ নিয়ে এমন বিস্তারিত লেখা এই প্রথম পড়লাম। দারুণ একটি কাজ করেছেন লেখক। এমন তথ্যমূলক লেখাটির জন্য লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 
মুশফিক ইমতিয়াজ এর ছবি
 

অসংখ্য ধন্যবাদ। আগামীকাল রোজা সমগ্রের ২য় পর্ব প্রকাশিত হবে যেখানে রোজার সপক্ষে জাকির নায়েকের সকল অবৈজ্ঞানিক ও উদ্ভট দাবীসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত মেডিকেল তথ্য, যুক্তি ও ব্যাখ্যা দিয়ে ভুল প্রমাণ করে দেওয়া হবে। আশা করি ভাল লাগবে। Smile

Mushfique Imtiaz Chowdhury

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

দরকারি লেখা। ধন্যবাদ লেখককে

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মুশফিক ইমতিয়াজ
মুশফিক ইমতিয়াজ এর ছবি
Offline
Last seen: 23 ঘন্টা 21 min ago
Joined: রবিবার, এপ্রিল 2, 2017 - 10:06পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর