নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মাহের ইসলাম
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

কুরআন সৃষ্টিকর্তার বাণী নয়, মুহাম্মদের বাণী



মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনে বিশ্বজগতের বর্ণনা মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বা সংক্ষেপে মুহাম্মদ নামক একজন সাধারন মানুষের অভিজ্ঞতা থেকেই করা হয়েছে। মুসলমানদের পুণ্যভূমি প্রাচীন সৌদি আরবের কিছুটা বিজ্ঞ মানুষদের চিন্তাভাবনা এবং তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণই কুরআনে বর্ণনা করা হয়েছে। কথিত সৃষ্টিকর্তার ঐশ্বরিক বানী কোন কিছুই কুরআনে নেই। যেখানে সৃষ্টিকর্তারই কোন অস্তিত্ব নেই, সেখানে সৃষ্টিকর্তার আবার ঐশ্বরিক বানী আসবে কোথা থেকে! পুরো বিষয়টিই ভ্রান্তধারনা ছাড়া আর কিছু নয়।

ধর্মভীরু মুসলমানদের প্রাণের দাবী তাদের ধর্মীয় গ্রন্থ হলো এমন এক মহা ঐশ্বরিক গ্রন্থ যার প্রতিটি শব্দ এবং বা বাণী স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ্‌ কর্তৃক সকল মানুষদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। মজার বিষয় হচ্ছে ধর্মভীরু, মৌলবাদী মুসলমানেরা ছাড়া পৃথিবীর অন্যসব ধর্মাবলম্বীরা যখন কুরআন পড়ে তখন একটি বিষয়ে তাদের ধারনা স্পষ্ট হয়ে যায় যে মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআন কখনোই কোন সৃষ্টিকর্তার বাণী বা বক্তব্য হতে পারে না। দুঃখের বিষয়, তবুও মুসলমানেরা অন্ধভাবে কুরআনকে সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক প্রেরিত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় গ্রন্থ বলে দাবী করে থাকে। যদিও সব ধর্মাবলম্বীরাই নিজেদের ধর্মীয় গ্রন্থকে শ্রেষ্ঠ ঐশ্বরিক গ্রন্থ বলে দাবী করে থাকেন।

মুসলমানেরা কুরআনের ছোট ছোট অস্পষ্ট বানী মনের মাধুরী মিশিয়ে কবিতার মতো করে লেখা কথাগুলোকে উচ্চজ্ঞান করে, একেক মুসল্লি একেক অর্থ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে যথাসম্ভব কিছুটা বিজ্ঞানের সাথে মিল রেখে নতুনভাবে অর্থ সাজিয়ে দাবী করে থাকেন যে কুরআন নাকি একটি বিজ্ঞানময় গ্রন্থও। অথচ কুরআনের সবই কিন্তু মুহাম্মদের নিজের অভিজ্ঞতা এবং সীমিত জ্ঞান থেকে তার সতীর্থদের দিয়ে লেখা। উল্লেখ্য, মুহাম্মদ ছিল একজন মূর্খ মানুষ যে কিনা লিখতেও জানতো না, পড়তেও জানতো না। প্রাথমিকভাবে, কুরআনের বানী মুহাম্মদ তার সতীর্থদের বলতে আসার আগে দীর্ঘদিন যাবত এক পর্বতের গুহায় ধ্যানে মগ্ন ছিল এবং প্রায়ই সে নিজের চিন্তাভাবনাগুলোকে গুছিয়ে বলার জন্য সেই হেরা পর্বতের গুহায় গিয়ে ধ্যানে মগ্ন হতো। মুহাম্মদ ছিল একজন ধূর্ত লোক। সতীর্থদের ব্রেইন ওয়াস বা মগজ ধোলাই কিভাবে করতে হয় সে তা খুব ভালভাবেই জানতো।

যাই হোক, কুরআন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ঐশ্বরিক গ্রন্থ বলে মৌলবাদী, ধর্মান্ধ, ধর্মভীরু মুসলমানদের দাবী থেমে নেই। তারা প্রায়ই তাদের ধর্মীয় গ্রন্থের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে অন্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে লড়াইয়ে লিপ্ত হতে তাদের বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ হয় না। এ লড়াই তারা পবিত্র লড়াই বা জিহাদ বলেই জানে। অল্প শিক্ষিত, অর্ধ-শিক্ষিত মুসলিম ধর্ম চিন্তকেরা মুহাম্মদের কুরআনের অর্থকে নিজের ইচ্ছেমত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে, বিভিন্নভাবে বিজ্ঞানকে ভূলভাবে উপস্থাপন করে কুরআনকে ঐশ্বরিক এবং বিজ্ঞানময় গ্রন্থ বলে দাবী করে থাকে যা বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছু নয়। অন্যভাবে বলা যেতে পারে এসব বিশ্লেষণের কোন সঠিক বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং তা সব মানুষই বুঝতে পারে শুধুমাত্র কুসংস্কারাচ্ছন্ন, অন্ধবিশ্বাসী মুসলমানরা ছাড়া।

এ যাবতকাল পৃথিবীর অনেক জ্ঞানীগুণীরা কুরআনকে মিথ্যা প্রমাণ করে দেখিয়েছে যে কুরআন কোন ঐশ্বরিক বাণী নয়; বরং কুরআন হলো স্বয়ং একজন মূর্খ, তথাকথিত জ্ঞানী মুহাম্মদের নিজের মুখের বানীসমগ্র ছাড়া অন্য কিছু নয়। অন্যদিকে, কুরআন আল্লাহ নামের কোন আরবীয় মুসলমানদের সৃষ্টিকর্তার বাণী নয় বরং কুরআন মুহাম্মদ নামের এক আরবীয় প্রাচীন ধ্যান-ধারণার সাধারন মানুষের বানীসমগ্র যা তার অন্ধ ভক্ত লেখাপড়া জানা সতীর্থদের দিয়ে লেখা বই ছাড়া আর কিছু না।

বর্তমান বিশ্বে, মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহর এসব ভ্রান্ত ধর্মীয় মতবাদ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পেড়েছে। তার এসব ভ্রান্ত মতবাদের অনুসারীরা সারা পৃথিবীতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। মুহাম্মদের জিহাদ নামক এক বিভ্রান্তিকর, বহুল সমালোচিত ধর্মীয় মতবাদ সারা বিশ্বে এসব সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদের জন্য দায়ী। মুহাম্মদের সময়কালীন, তার নির্দেশে প্রাচীন আরবে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী গোত্রের পর পোত্রের উপর হামলা চালিয়ে তাদের উপর অত্যাচার, নির্যাতন এবং সম্পদ লুটপাট করতো। সেসব নির্যাতিত গোত্রের মধ্যে ইহুদীরা অন্যতম। শুধু তাই নয়, হামলা চালিয়ে যেসব সম্পদ মুহাম্মদের অনুসারীরা পেতো, তাকে মুহাম্মদ গণিমতের মাল বা হালাল বলে স্বীকৃতি দিতো। ইসলামের ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, মুসলমানদের লুটপাট করে অর্জিত এসব সম্পত্তির উপর মুসলমানদের ধর্মীয় গুরু মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ এক পঞ্চমাংশ তার বলে মতবাদ দিয়েছিল এবং দাবী করেছিল এটা নাকি তার কাছে আসা তার আল্লাহ্‌র পবিত্র নির্দেশ। ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ মুহাম্মদ তার শাসনামলেই প্রচার করে গেছেন এবং এসবকে সৃষ্টিকর্তার পবিত্র ঐশ্বরিক বানী বলে নির্দ্বিধায় চালিয়ে দিত।

কুরআন কোন সৃষ্টিকর্তার বাণী নয় বরং কুরআন হলো মুহাম্মদের নিজস্ব বানী সমগ্র যা পরবর্তীতে তার সতীর্থদের দিয়ে লিখিত আকারে প্রকাশিত হয়েছিল। কুরআনের নানাধরনের ভূল, বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা, খ্রিস্টীয় ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় গ্রন্থ বাইবেলকে নকল করতে যেয়ে বাইবেলের বাণীগুলোকে বিকৃত আকারে কুরআনে অন্তর্ভুক্তিকরণ, অবৈজ্ঞানিক এবং অবাস্তব কথা, প্রাচীণ রূপকথা এবং উপকথাগুলো অন্তর্ভূক্তিকরণ, ইতিহাস ও ভৌগোলিক ভূল, আকাশ এবং পৃথিবী সম্পর্কে প্রাচীণ মানুষের ভ্রান্তিকর কথা এবং পরস্পর উসকানিমূলক, চরম বিরোধী কথা, প্রাচীণ আরব্য সাহিত্যমুলক গ্রন্থনা; যেমনঃ কবিতা এবং গদ্যকাব্যের মতো করে কুরআনের বর্ণনা, নারী এবং বিধর্মীদের প্রতি বিদ্বেষমুলক কথাবার্তা এবং আরো অনেক যোক্তিক কারনের জন্য কুরআনকে একজন আরবীয় সাধারণ, যোদ্ধা মানব মুহাম্মদের বানীসমগ্র তার সতীর্থদের দ্বারা লেখা গ্রন্থ বলে রায় দিয়েছে সারা পৃথিবীর হাজারো-লাখো বিজ্ঞ মানুষ।

শত শত ভূল এবং বিভ্রান্তিকর বাণী, নিরক্ষর প্রাচীণ আরবীয় এক সাধারণ মানুষ, মুহাম্মদের ভাবমুর্তি ফুটিয়ে তোলা কোন গ্রন্থ কোনক্রমেই কোন সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক প্রেরিত বা রচিত গ্রন্থ হতে পারে না। মূলত, পুরো কুরআন পড়ে কোন মানুষ বিশ্বজগত এবং ন্যায়-নীতির এমনই এক ধারণা পায় যেন দেড় হাজার বছর আগে কোন এক মানুষ আরবের বুকে দাড়িয়ে এসব ধ্যান-ধারণা নিয়ে বিশ্বজগত দেখেছে। হাস্যকর বটে। উল্লেখ্য মানব সমাজ এখন ২১শ শতাব্দীতে বসবাস করছে। মুহাম্মদের কুরআন অনুসরণকারীদের কাছে বিষয়টি এরকম-আরবের মরুভূমিতে দাড়িয়ে একজন মানুষের যেমন সহজেই মনে হতে পারে যে আকাশ একটি ছাদের মতো, ঠিক তেমনিভাবে মুহাম্মদের কুরআনে আকাশকে ছাদ হিসেবেই কিন্তু বর্ণনা করা হয়েছে।

প্রাচীন সময়ে, সৌদি আরবের সাধারন মানুষ ইহুদী এবং খ্রিস্টানদের ধর্মীয় গ্রন্থাবলীর নানা পৌরানিক কাহিনী এবং বিশ্বসৃষ্টির মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বর্ণনাগুলো জানতো। ঠিক একইভাবে কুরআনেই সে বিষয়গুলোকেই অসম্পূর্ণ এবং ত্রুটিপূর্ণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রাচীন সময়ের মানুষ ভেবেছে আকাশ হলো শক্ত কঠিন পদার্থের তৈরি তাই এটা যেকোন সময়ে ভেঙ্গে মাটিতে এসে লুটিয়ে পড়তে পারে। মুহাম্মদের কুরআনে এসব বিভ্রান্তিকর ধারনাগুলোকেই বিভিন্ন জায়গায় স্পষ্ট করে বর্ণনা করা হয়েছে আপন মনে মাধুরী মিশিয়ে। অপরদিকে, তৎকালীন মানুষ ভেবেছে তারকাগুলো হল ছাদের মতো আকাশের গাঁয়ে লাগিয়ে দেওয়া কতগুলো আলোক চিহ্ন মাত্র। কিন্তু সে সময়ের মানুষদের পক্ষে ধারণা করাও সম্ভব ছিল না যে এক একটি তারকা বা নক্ষত্র পৃথিবী থেকেও বিশাল আকৃতির। ফলে মোহাম্মদের কোরআনে নক্ষত্রগুলো সম্পর্কে দেখতে পাওয়া যায় নানাবিধ ভ্রান্তিকর কথাবার্তা। যেমন, মুহাম্মদের কুরআনে কখনও তারকা বা নক্ষত্রগুলোকে চিহ্ন বলা হয়েছে আবার কখনও এগুলোকে আগুনের পিণ্ড বলা হয়েছে। মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহর কুরআন তারকাগুলোকে আকাশের গায়ে লাগিয়ে দিয়েছে যাতে ছাদ আকৃতির আকাশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। স্বভাবতই মুহাম্মদের মতো প্রাচীন আরবের একজন মানুষের কাছে মহাবিশ্বের নক্ষত্রগুলোকে ছাদে একে দেওয়া নানা সৌন্দর্যমূলক ছবি বা আঁকা চিহ্ন বলে মনে হবে।

অন্যদিকে, মুহাম্মদের কুরআনের কিছু কিছু বর্ণনা অনুযায়ী, প্রাচীন আরবীয় ভূত বা কাল্পনিক প্রাণী শয়তান বা জ্বীন এসব প্রাণীকে শাস্তি দেবার আকাশে আগুনের গোলাস্বরূপ তারকামণ্ডলী রাখা হয়েছে। যদি কোন কারনে শয়তান বা দুষ্ট জ্বীনেরা আকাশরূপী ছাদকে ভেদ করে স্বর্গে যেতে চায় তবে এই তারকাগুলো যা কুরআনে আগুনের গোলা বলা হয়েছে সেগুলোকে ছুড়ে মেরে শয়তান এবং জ্বীনকে শাস্তি দেওয়া হয়। নক্ষত্রমণ্ডলী সম্পর্কে আরবীয় মানুষদের বহু ভ্রান্তিকর ধারণা ছিল বলেই কুরআনে এসব বিভ্রান্তিকর কথা লেখাও হয়েছে। আকাশ শক্ত কঠিন পদার্থ দিয়ে তৈরী এবং এর মধ্যে নানা দরজা আছে। মুহাম্মদের কুরআনে এরূপ সাত আসমানের কথা বলে হয়েছে। কেউ যদি আকাশ ভেদ করে স্বর্গে বা বেহেশতে যেতে চায় তবে তাকে দরজার প্রহরী ফেরেশতার অনুমতি নিয়ে যেতে হবে। আকাশের উপরেই বেহেশত এমন ভ্রান্ত ধারণাই বর্ণনা করা হয়েছে মুহাম্মদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনে এবং কোরআনেও এমন বর্ণনা করা হয়েছে নানা জায়গায়, নানাভাবে। আর মুহাম্মদের জীবনী হাদিসে মুহাম্মদের মেরাজের গল্পেও এ সম্পর্কে অদ্ভুত সব বর্ণনা করা হয়েছে। বাস্তবের সাথে যার কোন মিল নেই।

মুহাম্মদের কুরআনে সূর্য এবং চাঁদকে চলমান বলেছে কিন্তু পৃথিবীকে এবং আকাশকে স্থির বলেছে। যদিও আকাশকে চক্রশীল বলে উল্লেখ করেছে মুহাম্মদের অনুসারী কুরআন লেখকেরা। তৎকালীন আরবের মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব ছিল না যে সূর্য ও চাঁদের মতো পৃথিবীও চলমান। তাই কুরআনে বারবার সূর্য চন্দ্র ভ্রমন করে বলা হলেও পৃথিবীর ভ্রমনের ব্যাপারে কোন কথাই বলা সম্ভব হয়নি কুরআন লেখকদের। বরং কুরআনে পৃথিবী স্থির, পৃথিবী সমতল বিছানার মতো বলা হয়েছে। অর্থাৎ স্পষ্টতই কুরআনের প্রবক্তা এসব আরবীয় প্রাচীণ ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করতো বলেই মুহাম্মদ তার ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনে এসব এভাবে বর্ণনা করেছেন।

আকাশ যে কঠিন পদার্থের তৈরী নয় বরং আকাশ হলো গ্যাসের তৈরী এটা জানা সম্ভব ছিল না মুহাম্মদের পক্ষে সেই দেড় হাজার বছর আগে আরবের মাটিতে বসে। তাইতো সে আকাশকে ছাদ, পৃথিবীকে মেঝে বলে উল্লেখ করেছে কুরআনে। প্রকৃতপক্ষে, কুরআনে তাই লেখা রয়েছে এবং এমনভাবেই লেখা হয়েছে যেভাবে মুহাম্মদও আরবের প্রাচীণ সাধারণ মানুষদের একজন হয়ে দেখেছে। আরবের মাটিতে দাড়িয়ে সে আকাশকে ছাদ ভেবেছে তাই কুরআনে আকাশকে ছাদ বলে উল্লেখ করেছে। তারকাগুলোকে আকাশে এঁকে দেওয়া চিহ্ন মনে হয়েছে তাই সেটাই কুরআনে লিখে দিয়েছে। সূর্য ও চন্দ্রকে পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরে বলে মনে করেছে কিন্তু পৃথিবীকে স্থির দেখেছে তাই মুহাম্মদ কুরআনে এসবই বর্ণনা করেছে।

যাই হোক, দেড় হাজার বছর আগে মানুষ জানতো না যে পাহাড় পর্বতগুলো কেন পৃথিবীতে রয়েছে এবং কিভাবেই বা এগুলো তৈরি হয়েছে। মুহাম্মদ ভেবেছে পাহাড় পর্বতগুলোকে পৃথিবীর উপর স্থাপন করা হয়েছে বাইরে থেকে এনে যাতে সমতল পৃথিবী কোন এক দিকে কাত হয়ে পড়ে না যায়। এটা কোন আশ্চর্যের বিষয়ই নয় যে মুহাম্মদ তার কুরআনে পাহাড় পর্বতের বিষয়ে এমন ভ্রান্তিকর কথাই বলেছে। দেড় হাজার বছর আগের একজন মানুষ মুহাম্মদের পক্ষে জানা সম্ভব ছিল না যে পাহাড় পর্বতগুলো পৃথিবীর নড়াচড়া থামাতে পারে না (যেমনটি কুরআনে বর্ণনা করা হয়েছে) বরং কোন কোন ক্ষেত্রে পাহাড় পর্বতগুলোই ভুমিকম্পের কারণ হয়। বর্তমানে বিজ্ঞানের আশীর্বাদে আমরা জানি যে, পৃথিবীতে প্রচুর পাহাড় পর্বত থাকার পরেও ভূমিকম্প হয় কিন্তু মুহাম্মদ ভেবেছে যে পাহাড় পর্বতগুলো ভুমিকম্প থামিয়ে দেয়। তাইতো মুহাম্মদের কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে যে পাহাড় পর্বত স্থাপন করা হয়েছে যেন পৃথিবীর নড়াচড়া বন্ধ হয় এবং এটি কোন এক দিকে কাঁত হয়ে না পড়ে যায়। পাহাড় পর্বত না থাকলে পৃথিবী কাঁত হয়ে যেতো বা নড়ে উঠতো তাই পাহাড় পর্বত স্থাপন করা হয়েছে এমন ভ্রান্তিকর দাবী কখনই কোন সৃষ্টিকর্তার হতে পারে না। বরং পাহাড় পর্বতগুলো যখন উৎপন্ন হয় তখনই ভুমিকম্প হয়। অথচ মোহাম্মদ তার কুরআনে বলেছে যে পাহাড় পর্বত স্থাপনের ফলে পৃথিবী কাঁত হয়ে যায় না বা পৃথিবী নড়ে উঠে না। যা খুবই বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং বাস্তবে তার উল্টোটাই ঘটে।

অথচ এসব প্রমাণিত ভুলকে মুসলমানরা একবাক্যে অস্বীকার করে এবং তারা মুহাম্মদের রচিত কুরআনের নতুন নতুন অর্থ তৈরি করে বিজ্ঞানের সাথে মিল রেখে এবং কুরআনের ভূলগুলোকে শুদ্ধ করা যায় এমনভাবে। এ কাজে আধুনিক ইসলামী চিন্তাবিদেরা সদা ব্যস্ত। ফলে মুহাম্মদের কুরআন সংশোধিত হয়ে যায় ধর্মান্ধ মুসলমানদের দ্বারা। মূলত, এটি দ্বারা এটাই প্রমাণ হয় যে কুরআন সৃষ্টিকর্তা দ্বারা রচিত কোন গ্রন্থ নয় বরং কুরআনের প্রবক্তা হচ্ছে প্রাচীন কোন অজ্ঞ মানুষ যার ফলে মুহাম্মদের কুরআনকে প্রতিনিয়ত সংশোধন করতে হয়।

পক্ষান্তরে, কুরআন সংশোধনের মাধ্যমে মৌলবাদী মুসলমানরা এটাই প্রমাণ করে যে তাদের পবিত্র গ্রন্থ কুরআনের প্রবক্তা এমন কেউ নয় যার দ্বারা খুব ভালো করে কোন গ্রন্থ লেখাও সম্ভব যা পরিবর্তন বা সংশোধন করার প্রয়োজন নেই। মুহাম্মদের রচিত কুরআনের অর্থকে পরিবর্তন করে কুরআনকে সংশোধন করার মাধ্যমে মুসলমানরা এটাই প্রমাণ করছে যে কুরআন আসলে মুহাম্মদ নামক একজন মানুষই লিখেছে যেজন্য এতে প্রাচীনকালে ব্যবহৃত শব্দের অর্থকে পরিবর্তন করে আধুনিক কোন অর্থ দিয়ে মুহাম্মদের রচিত কুরআনকে বিজ্ঞানের সাথে মিল রেখে নতুন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দিতে হয় এবং কুরআনের ভূলকে প্রতিনিয়ত সংশোধন করতে হয়। অর্থাৎ মুসলমানরা এমন এক সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করে যে কিনা এমন একটা গ্রন্থও লিখতে পারে না যার অর্থের পরিবর্তন করার কোন প্রয়োজন পড়ে না। এতে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে যে তাদের সৃষ্টিকর্তা আসলে ততটা জ্ঞানী নয় যে একটা বিষয়কে এমনভাবে প্রেরণ করতে পারে যার অর্থকে পরিবর্তন করতে হবে না এবং যা সব যুগের মানুষের জন্যই একটাই অর্থ বহন করবে। যেমনটি ঘটে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে। বিজ্ঞানে দুই হাজার বছর আগের কোন বইয়ের অর্থকে নতুন করে পরিবর্তন করতে হয় না। যেমন পিথাগোরাসের জ্যামিতির একটি উপপাদ্য যা স্কুলে পড়ানো হয়, ত্রিভুজের অতিভুজটির দৈর্ঘ্য অপর বাহুগুলোর যোগফলের সমান। অথবা দুই যোগ দুই সমান চার। প্রাচীনকাল থেকে মানুষ এই লেখাগুলোকে এভাবেই বুঝতে পারে এবং ভবিষ্যতেও মানুষ বুঝতে পারবে এদের মধ্যকার অর্থের কোন পরিবর্তন ছাড়াই।

কিন্তু মুহাম্মদের রচিত কুরআনের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে মুসলমানরা কুরআনের পূর্বের ভূলগুলোকে কুরআনে ব্যবহৃত পুরানো শব্দগুলোর নতুন নতুন তৈরী হওয়া শব্দগুলোর অর্থের মাধ্যমে পূর্বের অর্থকে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে পরিবর্তন করে যুগোপযোগী করে নেয়। এবং তারা এমনভাবে নতুন অর্থগুলো যুগোপযোগী করে নেয় যাতে মুহাম্মদের রচিত কুরআনের ভূল ঠিক হয়ে যায় এবং নতুন অর্থ দিয়েই কুরআনকে বিজ্ঞানময় করা যায়। যেমন কুরআনে চাঁদের আলো সম্পর্কে আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে মুসলমানরা পুরোনো অর্থকে পরিবর্তন করে নতুন তৈরী হওয়া অর্থের সাহায্যে পরিবর্তন করে এবং আয়াতগুলোকে বিজ্ঞানের সাথে মিলিয়ে নতুন অর্থ করার মাধ্যমে সংশোধন করে নেয়। উদাহরণের মাধ্যমে বললে বিষয়টি আরও পরিস্কার হয়ে যাবে। যেমনঃ কুরআনের কিছু আয়াত আছে যার মধ্যে চাঁদের আলোকে তার নিজের আলো বলা হয়েছে। আবার বলা আছে, আকাশকে সৃষ্টি করে তাতে সূর্য এবং দীপ্তিময় চন্দ্রকে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ চাঁদের নিজের আলো আছে। কিন্তু আধুনিক যুগে এসে মানুষ কুরআনের এ কথার ভূল-ভ্রান্তি ধরতে পারছে। কারণ দেড় হাজার বছর আগে কেউ জানতো না যে চাঁদের যে আলো আসে সেটা চাঁদের নিজের আলো নয় বরং তা সূর্যের আলোর প্রতিফলিত আলো। তাই মুহাম্মদের কুরআনে চাঁদের আলোকে এভাবে তার নিজের আলো হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

এসব সহজ বিষয়গুলো ধর্মান্ধ-মৌলবাদী মুসলমানরা বুঝতে চায় না। তারা মোটেও বোঝতে চায় না যে তাদের ধর্মীয় গ্রন্থ আসলে কোন মহাজ্ঞানী বা অতিবৃদ্ধিমত্তাসম্পন্ন তথাকথিত সৃষ্টিকর্তার প্রেরিত বানী নয়। বরং কুরআন হল মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহর বানী সমগ্র যা তার অন্ধ ভক্ত সতীর্থদের দ্বারা লিখিত ও মুদ্রিত বিভ্রান্তিকর গ্রন্থ।

সর্বোপরি, মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআন যদি কোন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত গ্রন্থই হতো তবে এটি সার্বিকভাবে নির্ভুল হতো। আর সেইসব ভূলকে সংশোধনের জন্য প্রতিনিয়ত অভিনব কৌশল অবলম্বন করতে হতো না মুসলমানদের। একজন সর্বজ্ঞানী কথিত সৃষ্টিকর্তা যদি নির্ভূলভাবে একটি গ্রন্থই না লিখতে পারে তবে সে আর সর্বজ্ঞানী সৃষ্টিকর্তা থাকে কি করে? কুরআন কোন সৃষ্টিকর্তার প্রেরিত বানী হলে, তার পক্ষে এমন গ্রন্থ প্রেরণ করাও সম্ভব ছিল যার মধ্যে বর্ণিত বাণীগুলো সব সময়ের জন্যই প্রযোজ্য হতো। কিন্তু মুহাম্মদ কোন কথিত মহাজ্ঞানী সৃষ্টিকর্তা নয় বলেই তার বানীসমগ্রসমৃদ্ধ তার ভক্তদের দ্বারা লিখিত কুরআনে ভূল-ভ্রান্তি পাওয়া যায় এবং সেই ভূলগুলোকে কুরআনে ব্যবহৃত শব্দগুলোর ভিন্ন এবং সম্পূর্ণ নতুন অর্থ এনে কুরআনকে সমসাময়িক করতে হয়, প্রতিনিয়ত সংশোধন করতে হয়। যদি মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআন সত্যিই কোন সৃষ্টিকর্তার বাণী হতো তাহলে ধর্মান্ধ মুসলমানদের কষ্ট করে কুরআনের শব্দের অর্থ পরিবর্তন করে মুহাম্মদের কুরআনের কথাকে সংশোধন বা সমসাময়িক করতে হতো হতো না। কথিত সৃষ্টিকর্তা সর্বজ্ঞানী হলে তার প্রেরিত কোন আসমানি গ্রন্থের কথাগুলো অপরিবর্তিত থাকতো। কিন্তু মুসলমানরা মুহাম্মদের কুরআনের শব্দগুলো অক্ষুন্ন রাখলেও শব্দগুলোর অর্থকে পরিবর্তন করার মাধ্যমে মুহাম্মদের বানীসমগ্রকে সমসাময়িক করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। মৌলবাদী মুসলমানদের এসব প্রতারণামূলক কর্মকান্ড এটাই প্রমাণ করে যে, মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআন কোন সৃষ্টিকর্তার বাণী নয়। যেহেতু কুরআন মুহাম্মদের নিজের মুখের কথা বা বাণীসমগ্র তাই কুরআন মুহাম্মদেরই বাণী সংকলন এবং মুহাম্মদের নির্দেশে, মুহাম্মদের সতীর্থদের দ্বারাই লিখিত গ্রন্থ। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর সব ধর্ম গ্রন্থই নিজ নিজ ধর্ম প্রধানদের দ্বারা লিখিত বানী, মোটেও কোন ঐশ্বরিক বানী নয়।

খোরশেদ আলম, ব্লগার, লেখক ও কলামিস্ট এবং অনলাইন একটিভিস্ট

Comments

Mohammed Ali এর ছবি
 

কোরান নিয়ে এইসব কথা বলার সাহস কোথা থেকে পাইলি! অপেক্ষা কর, মরার জন্য প্রস্তুত থাক শয়তান। তোকে খুইজা পাইলে এক কোপে দেহ থেকে মাথা আলাদা করে ফালামু।

 
Shorif Mia এর ছবি
 

নবী মোহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়া বাজে মন্তব্যের ফল তুই অবশ্যই পাবি। প্রস্তুত থাক।

 
Hamdu Chowdhury এর ছবি
 

বাংলার মাটিতে নাস্তিকদের স্থান হবে না। অনেক বলেছিস, আর না। এবার বাঁচতে চাইলে পালা।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

খোরশেদ আলম
খোরশেদ আলম এর ছবি
Offline
Last seen: 15 ঘন্টা 27 min ago
Joined: বুধবার, এপ্রিল 27, 2016 - 3:00পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর