নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মাহের ইসলাম
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

বর্ষ সেরা চামচার আত্মপ্রকাশ; প্রজ্ঞাপনের দাবি ও সাংবিধানিক ভিত্তির বাস্তবতায় কোটা আন্দোলন লেজে গোবরে


“লেজে গোবরে” শব্দটার যথার্থ প্রয়োগ করা যায়, চলমান (!) কোটা সংস্কার আন্দোলনের ক্ষেত্রে। আন্দোলনকে ঘিরে ব্যাপক গবেষনা হচ্ছে, এবং এখানে বেশির ভাগ মানুষ ষড়যন্ত্র গন্ধপাচ্ছে, আমিতো ষড়যন্ত্র না সপ্ত, অষ্ট থেকে যতদূর যাওয়া যায়, ততদূরের যন্ত্রের দৃশ্যমান প্রমান পাচ্ছি। একদিকে এই আন্দোলনে সাধারণ ছাত্রদের গন-সম্পৃক্ততা, অন্যদিকে আন্দোলকে সরকারের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা, এবং সবচেয়ে বেশি এই আন্দোলনে সরকারের আক্ষরিক অর্থের পরাজয়, সব মিলিয়ে বিষয়টা লেজে গোবরেই বটে।

০১. সাংবিধানিক বাস্তবতা ও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেদিন সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিলেন যে কোটাই থাকবেনা বিবেকবান সব মানুষই বুঝেছিলেন, এই ঘোষণা, শুধু ঘোষণাই না, এর পিছনে থাকা তার আক্ষেপের বিষয়টা সবাই অনুধাবন করেছিলেন। এমনকি আন্দোলনরত ছাত্ররাও, কিন্তু আন্দোলনরত ছাত্রদের একটা দাবী ছিলো কোটা সংস্কারের ঘোষণাটা প্রধানমন্ত্রীর মুখথেকে আসতে হবে, এবং ঘোষণাটা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, যেই-সেই জায়গায় থেকে দেননি, দিয়েছেন জাতীয় সংসদের মতো, রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভে দাঁড়িয়ে। তারপর আসলে আদৌতে আন্দোলনকারীদের কিছু বলার ছিলোনা, যদিও আন্দোলনের মূলদাবী ছিলো কোটার যৌক্তিক সংস্কার। কিন্তু ঘোষণাটা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন কোটা বাতিলের, যদি আমি বিষয়বস্তুগত দিক বিবেচনা করি, তবে কিন্তু নির্দ্বিধায় বলাই যায় যে প্রধানমন্ত্রী মোটেই আন্দোলনকারীদের দাবী মেনে নেননি। যদি নিতেন, তবে সংবিধানের দোহাই দিয়ে টিকে ৫০ভাগের বেশি অনির্বাচিত সরকার কখনোই সংবিধানকে অগ্রাহ্য করে এমন ঘোষণা দিতে পারতেন না। সামান্য একটা উদাহরন দেই, আমাদের সংবিধানের ২৮অনুচ্ছেদের ৪ উপ-অনুচ্ছেদে বলা আছে “নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না” । এই বিশেষ বিধান কিন্তু কোটার দিকেই ইঙ্গিত করছে, তাহলে একটা সংবিধান প্রেমি সরকার কি করে, সংবিধানের এইসব বিধানকে এড়িয়ে গিয়ে কোটা বাতিল করবেন?

কোটা সংস্কার আন্দোলনটা এখন একটা নামসর্বস্ব আন্দোলন হয়ে গেছে, যারা আন্দোলনকারী, তারা নিজেরাও জানেনা তাদের নেতা কে? গনআন্দোলন বা ছাত্র আন্দোলন যখন হয় যখন হয় তখন তার একটা সুনির্দিষ্টি দাবি বা নেতৃত্ব থাকে, কিন্তু এই কোটা আন্দোলনের কোনো সুনির্দিষ্ট দাবি বা নেতৃত্ব আক্ষরিক অর্থেই নেই। কেন নেই তা একটু বলি, অনেকেই বলতে পারেন দাবি আছে, কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো দাবি গুলো কি? দাবির কোথায়ও কি কোটা বাতিলের বিষয় ছিলো? আমার জানামতে ছিলো না, তাহলে এখন এই আন্দোলনের নেতৃত্বদেয়া মানুষ গুলো কিসের বাস্তবায়নের দাবিতে বিজ্ঞপ্তির আশা করছেন! এইযে এখন আবার কর্মসূচি সংবাদ সম্মেলন শুরু করা হয়েছে, এগুলো আসলে কি মানে? যেখানে তারা আকবর আলী খানের মতো লোককে আদর্শ মেনে আন্দোলন করছেন, সেখানে আকবার আলী খান কিন্তু নিজেই গত ১২মে বলছেন কোটার যৌক্তির সংস্কার প্রয়োজন, বাতিল নয়, এবং তিনি বলছেন দেশের মোট জনসংখ্যার ১০ভাগ প্রতিবন্ধী তাই তাদের জন্য নূন্যতম ৬ভাগ কোটা থাকা উচিত সেখানে আমাদের আছে মাত্র ১ভাগ এইযে বৈষম্যের জায়গা গুলো এগুলো যৌক্তিক সংস্কার প্রয়োজন বলে বিজ্ঞজনেরা কোটা আন্দোলন সমর্থন করেছেন। কিন্তু এখন আন্দোলনকারী ছাত্ররা যেভাবে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়ন চেয়ে আন্দোলন করতে শুরু করেছেন তা নিতান্তই মূর্খতা, কারন আজকে যদি কোটা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, তবে কালকেই সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে হাইকোর্টে রীট হয়ে, স্থগিত হয়ে যাবে প্রজ্ঞাপন।

০২. আন্দোলন নিয়ে বুদ্ধিজীবিদের অবস্থান।

নিরপেক্ষ আন্দোলন হিসেবে নিশ্চিত হবার প্রেক্ষিতে এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন এদেশের কচ্ছপের মতো মাথা গুঁজে থাকা বুদ্ধিজীবিরা, তাও ভালো যে কথা বলেছেন। কিন্তু সমস্যা হলো তাদের কেউ-কেউ প্রথমে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর ঝাড়ি খেয়ে যথারীতি কচ্ছপের ন্যায় মাথা খোলসের ভিতর ঢুকিয়ে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে চমৎকার কাজ গুলো করেছেন মিস্টার ইকবাল, মানে প্রধানমন্ত্রী ভাষায় বলতে গেলে শাহাজালালের অধ্যাপক। এইলোকটি কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে মিডিয়াতে তিনটি রিএকশ্যান দিয়েছেন, প্রথমত তিনি সংবাদিকদের বলেছেন ৫৬ভাগ কোটার যৌক্তিক সংস্কার হওয়া উচিত। আন্দোলন শেষ হয়ে যাবার পরে তিনি এপ্রিলের ১৩ তারিখে কলাম লিখে বললেন ঢাকা শহরকে জিম্মি করে আন্দোলন তিনি মোটেই পছন্দ করেন না। আরো অনেক অনেক কথা, যার প্রতিক্রিয়া আমি লিখেছিলাম (কোটা আন্দোলন সমর্থনে প্রধানমন্ত্রীর উষ্মা এবং জাফর ইকবালের চামচামী।) আমার এই লেখা পড়ে আমার অনেক শুভাকাঙ্খী বলেছিলো আমি নাকি মিস্টার ইকবালের চরিত্রে নিয়ে অতিরিক্ত বিশ্লেষন করতে গিয়ে অতিরঞ্জিত করেছি। কিছু পাঠক ও তাই বলছেন। বলে রাখা ভালো, আমি মিস্টার ইকবাল টাইপের মানুষ না যে পাঠকের প্রতিক্রিয়া আমি পড়িনা পাছে আমি তাদের প্রতিক্রিয়ায় প্রভাবিত হয়ে যাই, আমি অত্যন্ত যত্নসহকারে পাঠকের মন্তব্য পড়ি, এবং প্রয়োজন বোধে উত্তরও দেই।

তো, আমি কি আসলেই অতিরঞ্জিত করেছি কিনা, সেই প্রশ্ন নিয়ে দোলাচলে থাকতে থাকতে তিনি আবার ১১মে-তে তিনি আবার আরেকটা কলাম লিখে তার প্রমান করে দিলনে (আমি রাজাকার: একটি আলোকচিত্র) । তাকে কিন্তু কেউ আন্দোলনে সমর্থন দেয়ার জন্য জোর করেনি, তিনি নিজের বিবেক বোধ থেকে আন্দোলনে সমর্থন করেছেন। কিন্তু পরবর্তিতে তিনিই তার লেখা দিয়ে এই আন্দোলনের বিভিন্ন কার্যক্রমে বেহুদা প্রশ্ন বিদ্ধ করেছেন। তার দ্বিতীয় লেখা নিয়ে আমার কিছু সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন আছে, যদি মিস্টার ইকবালের কোনো ভক্ত থেকে থাকেন তবে উত্তর গুলো দিয়েন, কারন মিস্টার ইকবাল আবার আমাদের লেখে ফেলেদেন কিনা! পাছে তার চামচামির লজিক গুলার যৌক্তিক খন্ডন দেখে তিনি লজ্জাপান বা তার ভাষায় লজ্জা হড়হড় করে বমি করে দেন।

০৩. শাহজালালের অধ্যাপকের কলাম পড়ে মনে জাগা প্রশ্ন।

এখানে তার লেখা কলামের লিঙ্ক দেয়া আছে, আমার প্রশ্ন গুলো নিচে রাখলাম

ক. ১৯৫২ সালে জন্মনেয়া স্বাধীনতার চেতনায় প্রবল উদ্বুদ্ধ ১৯বছরের তরুন মিস্টার ইকবাল, কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন? যদি যুদ্ধ না করে থাকেন তবে তিনি কোথায় ছিলেন? কার শেল্টারে ছিলেন?

খ. ঢাকা কে স্থবির করে দিয়েই ঢাকায় সব গুলো সমাবেশ আন্দোলন হয়, সেই বিষয়ে তিনি কয়টি লিখা লিখেছেন? কেবল তার মেয়ে এই আন্দোলনের কারনে হসপিটাল যাতায়তে সমস্যা হওয়াতেই তিনি ঢাকাকে স্থবির করার বিরোধীতা করছেন?

গ. মিস্টার ইকবাল তার লেখায় নিজেই বলেছেন অনেক বছর ধরে ৫৬ভাগ কোটা বিরোধী আন্দোলন হচ্ছে। তাহলে সেই অনেক বছরের আন্দোলনের সুফল কিন্তু আমরা পেছি মাত্র ৪/৫ দিনের জোরদার আন্দোলনে, তাহলে মিস্টার ইকবাল কি বলবেন কোন পদ্ধতি ফলো করলে, ঢাকাকে জিম্মি না করেও দাবী আদায় করা যেত?

ঘ. মিস্টার ইকবাল তার এই সম্পর্কিত প্রথম লেখায় বলেছিলেন তিনি বাংলাদেশের কোটা পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত নয় এবং বিস্তারিত না জেনেই তিনি সাংবাদিকের কাছে কোটা সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন, এবং এই লেখায় বললেন তিনি এই "আমি রাজাকার" এই স্লোগান সম্পর্কে অবগত ছিলেন না তার প্রথম লেখার সময়। তাহলে আমার প্রশ্ন তিনি কি অবগত আছেন যে, এই স্লোগানটি আন্দোলনের শেষ দুদিন ব্যবহার হয়েছে? এবং এটাকে ব্যবহার করার জন্য জাতীয় সংসদ থেকে সরকারের একজন মন্ত্রীই উস্কানি দিয়েছে?

ঙ. তিনি তার লেখায় বললেন “আমি ফেসবুক করি না, সামাজিক নেটওয়ার্কে সময় নষ্ট করি না সত্য, কিন্তু আমি তো খুবই সম্ভ্রান্ত একটা ইংরেজি দৈনিক নিয়মিত পড়ি” সামাজিক নেটওয়ার্কে থাকা মানে সময় নষ্ট করা? সিরিয়াসলী একজন কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং-এর অধ্যাপক মনে করেন আমরা এখানে কেবল সময়ই নষ্ট করি?

চ. তিনি আরো লিখলেন “"এই আন্দোলনের কারণে যে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান হয়েছে এবং রাজাকারদের পুনর্জন্ম হয়েছে ..." মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করে একটা স্লোগান দেয়া হয়েছে? আছে কোনো ব্যানার ফেস্টুন? "আমি রাজাকার" লিখাটা কি মতিয়া চৌধুরীর আক্রমনের প্রতিবাদে? নাকি মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানিত করার উদ্দেশ্যে? যদি মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানের উদ্দেশ্যে হয় তবে কেন এমন স্লোগান মতিয়ার বক্তব্যের পরে আসলো ?
রাজাকারদের পুনঃজন্ম বলতে তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন? এই আন্দোলনে কেউ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, ভূখন্ড,নাগরিকত্ব মানের রাষ্ট্রের উপাদান নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলেছে? রাজাকার বলতে আসলে তিনি কি বোঝেন ?

ছ. তার লেখায় তিনি লিখলেন “মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করে এবং রাজাকারদের জন্য ভালোবাসা দেখিয়ে যে কথাগুলো উচ্চারিত হয়েছে সেগুলো এত অশালীন যে আমার পক্ষে মুখ ফুটে উচ্চারণ করা সম্ভব না”
সিরিয়াসলি? রাজাকারদের জন্য ভালোবাসা দেখানো হয়েছে? তাদের জন্য ভালোবাসা দেখিয়ে কি উচ্চারণ করা হয়েছে? "আমি রাজাকার" বাদে কোন স্লোগান টা, আর এই স্লোগানটাইবা কখন এসেছে?

জ. “"যারা আন্দোলন করছে তাদের কেউ বলেনি, আমরা কখনই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অসম্মান দেখাইনি, রাজাকারদের জন্য ভালোবাসা দেখাইনি, যারা দেখিয়েছে তাদের জন্য আমাদের ভেতরে ঘৃণা ছাড়া আর কিছু নেই।"
অথচ মিস্টার ইকবাল, নিজেই তার এই লেখায় স্বীকার করেছেন তিনি ইনফরমেশন গ্যাপে থাকেন। তিনি কিভাবে বললেন, যে কেউ বলেনি? আমার নিজেরই স্ট্যাটাস আছে এই সম্পর্কীত, তিনি তো আমাদের লেখা পড়েন না, তাহলে এই আসমানী বানী তিনি কোন জ্ঞাণের ভিত্তিতে নাজিল করলেন?

মিস্টার ইকবাল যদি সত্যি অনুধাবন করে থাকেন যে “রাজাকার” একটি ভয়ঙ্কর বাজে শব্দ, তবেএই বাজে শব্দকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের শাষন ব্যবস্থার মূল স্তম্ভে দাঁড়িয়ে যখন আমার বাবাকে তুলে এমন গালি দেয়া হলো তখন মিস্টার ইকবাল কেন কিছু লিখলেন না? কেন তার দু-দুটো কলামের কোথাও তিনি প্রতিবাদ করে বললেন না, আন্দোলনরত ছাত্রদের বাবা তুলে এভাবে “রাজাকারের বাচ্চা” বলা মোটেই উচিত হয় নি? তাকে যদি আজ আমি রাজাকারের দৌহিত্র বলি তবে কি তার কষ্ট লাগবে না? অবশ্য কষ্ট লাগলেও সত্যতা আছে কারন তার নানা আসলেই রাজাকার ছিলেন, এবং তা মিস্টার ইকবালের মা আয়েশা ফায়েজ তার নিজের লেখা “জীবন যে রকম” বইয়ের ৭৪পৃষ্ঠায় উল্লেখই করেছেন। কিন্তু মতিয়ার এই গালি তো আদৌ কোনো স্তম্ভনেই, তার প্রতিবাদ করার সৎসাহস কেন মিস্টার ইকবালের হলো না?

০৪. কোটাবাতিলের প্রজ্ঞাপন চেয়ে নিজের পায়ে কুড়াল মারা।

লেখা শেষ করছি ১৪তারিখ থেকে ডাকদেয়া ধর্মঘটের বিষয় দিয়ে, প্রথমে একটা উদাহরণ দেই “ধরুন আপনার বাসা ৩তলায়, এবং আপনার বাসার বারান্দা থেকে সামনের মুদি দোকান দেখা যায়, এখন আপনার সাবান কিনা প্রয়োজন, তাহলে আপনি সিঁড়ি দিয়ে নীচে গিয়ে মুদি দোকান থেকে সাবানটা নিয়ে আসতে পারবেন। কিন্তু আপনি যখন দেখছেন দোকানটা বন্ধ, আপনার এখন নিচে যাওয়াটা বিফল হবে, তখন কি আর আপনি নীচে নামবেন? তারপরও যদি আপনি নীচে নামেন, তব ধরে নিতে হবে আপনার অন্যকোনো উদ্দেশ্য আছে, হয় আপনি অন্য কোনো দোকান খুঁজবেন, না হয় অন্য কোনো কাজ আপনার আছে”

এখন আসি ধর্মঘটের বিষয়ে, যেখানে আমি সুনিশ্চিত যে সংবিধান সংশোধন না করে কোটার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করলে, তা সংবিধানের সংবিধানত্ব লঙ্ঘনের কারনে স্থগিত বা বাতিল হয়ে যাবে, তখন জেনে বুঝেও কেন আজ কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনের দাবীতে ধর্মঘটের ডাক দেয়া হলো? এখানে কি তবে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আছে? এখন আমারও প্রশ্ন এরা কারা? জেনে বুঝে যারা এই আন্দোলনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, আন্দোলন অবশ্যই অব্যহত থাকা উচিত কিন্তু কোটার বাতিল নয়, কোটার যৌক্তিক সংস্কারের জন্য। যারা কোটার বাতিলের প্রজ্ঞাপন চেয়ে গত ২/৩দিন আবার সরব হচ্ছেন তাদের নিকট আমার প্রশ্ন, কোটা বাতিল হলে লাভটা কার?

৮ এপ্রিল থেকে চলা টানা ৩তিনের ওই আন্দোলনতো পুরোটাই মাঠে মারা যাবে যদি প্রজ্ঞাপন হয়, কারন বর্তমান সরকার যেকোনো রাজনৈতিক বিষয়কে আদালতে নিয়ে গিয়ে, আদালতের রায় তাদের পক্ষে নিয়ে, তারা ইস্যুগুলোকে আদালতের এখতিয়া বলে চালিয়ে দিচ্ছে । রীটের প্রেক্ষিতে আদালত যদি কোটাবাতিল কে অসাংবিধানিক ঘোষনা করে দেয়, তবে কোন আন্দোলন দিয়ে তাকে আপনি বাতিল করাবেন? আন্দোলনকারীদের মনে রাখতে হবে, সরকারের পলিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন করা যায়, কিন্তু সংবিধান বা আদালতের রায় কোনোটার বিরুদ্ধেই আন্দোলনের কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলন বরং পুনঃবার শুরু হতে পারে, কোটা সংস্কারের দাবিতেই, প্রজ্ঞাপন দেয়ার দাবিতে কিছুতেই না।

Comments

নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য আমাদের বুদ্ধি বিক্রেতাদের অন্ধ করে দিয়েছে বলেই এমনটা হচ্ছে। আমাদের আস্থার জায়গাগুলো দিন দিন সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নগরবালক
নগরবালক এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 19 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - 11:50পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর