নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

বই: শাহাদুজ্জামানের 'একজন কমলালেবু'



'মানুষটা মরে গেলে যদি তাকে ওষুধের শিশি
কেউ দেয়—বিনি দামে—তবে কার লাভ—'

জীবন যার আনন্দে কাটেনি, অথচ তার নাম কিনা জীবনানন্দ! আর্থিক সংকটে হাবুডুবু খেতে থাকা, হতাশায় ডুবে থাকা, স্ত্রীর গঞ্জনা সওয়া, নিজের মধ্যে গুটিয়ে থাকা শৃংখলহীন কবি জীবনানন্দ একটা দুর্বিষহ জীবন কাটিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে গেছেন।
সমকালের প্রায় সকল কবি-সাহিত্যিক ও শিল্পবোদ্ধাদের উপেক্ষা আর তাচ্ছিল্যই ছিল যাঁর প্রাপ্তি, কেমন ছিল সেই কবির জীবন? কেমন ছিলেন তিনি ব্যক্তি জীবনে? কেমন ছিলো তার কবি-মানস? কেমন জীবন কাটিয়েছেন কবি? কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামানের উপন্যাস ‘একজন কমলালেবু’তে পাওয়া যাবে এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর। প্রথমা প্রকাশ থেকে বইটা প্রকাশ করা হয়েছে।

উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কবি জীবনানন্দ দাশ। মা কুসুমকুমারী দাশও ছিলেন কবি। আর তারই অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতে শুরু করেন জীবনানন্দ। বরিশালের কোলে জন্ম নেওয়া কবি প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বেড়ে উঠেছেন। মায়ের ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতার মতো কাজে বড় হতে চেয়েছিলেন। জীবনানন্দ তাঁর কবিতায় সমাজ ও ইতিহাস চেতনা আনার দিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন।

সমসাময়িক কবি-সাহিত্যিকরা জীবনানন্দের কবিতার ধাঁচাটা ধরতে পারেননি। জীবনানন্দ যে আসলে বাংলা কবিতার আরেকটি নতুন ধারা সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন, সেটা তখন কেউ বুঝতেই পারেনি। কবিতায় নতুন নতুন চমক জাগানো শব্দের সাবলীল ব্যবহার, সুররিয়ালিজম, উপমার শৈল্পিক প্রকাশের ভিন্নতা -- সব মিলিয়ে জীবনানন্দ যে বাংলা সাহিত্যে অতুলনীয় হয়ে উঠবেন, কে জানতো? 'কল্লোল' পত্রিকায় তাঁর কবিতা ছাপা শুরু হলে অল্প কজন সাহিত্যবোদ্ধাই জীবনানন্দের কবিতাকে ইতিবাচক হিসেবে নিতে পেরেছিলেন, এদের মধ্যে বুদ্ধদেব বসুর নাম উল্লেখযোগ্য। বুদ্ধদেব জীবনানন্দের পাশে বন্ধুর মতো ছিলেন সুখে ও সংকটেও। অন্যদিকে ‘শনিবারের চিঠি’ জীবনানন্দকে সেই সময় ধুয়ে ফেলতে উঠে-পড়ে লেগেছিলো যেন। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও জীবনানন্দের কবিতার সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু এতোকিছুর পরও দমে যাননি জীবনানন্দ। তাঁর আত্মবিশ্বাস ছিলো যে তিনি একজন বড় মাপের কবি। এই আত্মবিশ্বাস থেকে আত্মম্ভরিতাও এসেছে হয়তো কিছুটা, তাই তাঁর মতের বাইরে কেউ সামান্য কিছু বললেই বাতিল করে দিতেন। যেমনটা করেছেন বন্ধুপ্রতীম বুদ্ধদেব বসুর সাথে।

জীবনানন্দের জীবনে বিভীষিকা হয়ে আসে তাঁর অর্থনৈতিক দৈন্যদশা। জীবনানন্দ আর তাঁর স্ত্রী লাবণ্য যেন পরিস্থিতির শিকার। ১৯৩০ দশকের গোড়ার দিকে বিশ্বজুড়ে চলতে থাকা মহামন্দার প্রভাব পড়েছিলো ভারতবর্ষের ওপর। আর সেই মহামন্দায় অনেকের মতো বলী হয়েছিলেন কবি। এদিকে চাকরি জুটতে চায় না, আর জুটলেও নানা কারণে সেগুলো টিকিয়ে রাখা যায়না। বিয়ের পর এতিম লাবণ্য শ্বশুরবাড়িতে এসে এমন দুর্বিপাকে পড়ে পাগল হয়ে গিয়েছিলেন যেন। দুই সন্তান মঞ্জুশ্রী ও সমরানন্দকে নিয়ে লাবণ্য আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন, জীবনানন্দের মত ছন্নছাড়া জীবনসাথীর সাথে তিনি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেননি। ভালোবাসতেও পারেননি।

এদিকে প্রেমিকা শোভনা দাসের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত কবি লাবণ্যর সাথে ঘর বেঁধে যে সুখের কল্পনা করেছিলেন, তার কিছুই বাস্তবে না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে গেলেন। সবকিছু মিলিয়ে হতাশাগ্রস্ত কবি ধূসব পাণ্ডুলিপির মতো এই জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। সেই সাথে কবির মধ্যে জন্ম নিতে থাকে প্রচণ্ড হীনমন্যতাবোধ। কিন্তু শত বিষণ্ণতায়ও তাঁর কলম থেমে থাকেনি।

এতো দুঃসহ জীবনের মধ্যেও জীবনানন্দ হয়তো বার বার বাঁচতে চেয়েছিলেন। পৃথিবীটার, পৃথিবীর মানুষের ভালো হোক চেয়েছিলেন। যুদ্ধ, সংঘাত, অমানবিকতা, পরাধীনতা, অস্ত্রের ঝনঝনানি- এসবকিছু তাঁকে ভাবিয়ে তুলতো। ঈশ্বরের অস্তিত্বে সংশয়টাও এসব থেকেই এসেছিলো হয়তো। নিজের উদ্বেগের কথা, ব্যক্তি জীবনের হতাশার কথা, আশার কথা লিখে গেছেন কবিতায়-উপন্যাসে। আর সেগুলোর বেশিরভাগই আমৃত্যু ট্রাঙ্কে বন্দি করে রেখে গিয়েছিলেন।

দেশভাগের পর বরিশাল ছেড়ে যখন কলকাতায় সাময়িক আস্তানা গেড়েছিলেন, তখন হয়তো সবকিছু নতুন করে শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেটা আর হয়ে ওঠেনি। অদ্ভুত এক আঁধারে ডুবে থাকা কবি কী আসলেই ট্রাম দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন নাকি তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন বিপন্ন বিস্ময়ে, সেটা একটা অমিমাংসিত জিজ্ঞাসাই হয়ে রইলো। লেখক শাহাদুজ্জামানও প্রশ্ন রেখেছেন-

'এটা কি একটা দুর্ঘটনা?

নাকি তিনি ট্রামের চাকার নিচে আত্মহত্যা করেছেন?

অথবা এটা কি আসলে একটা হত্যাকাণ্ড, যার পেছনে রয়েছে আরও অনেকের অদৃশ্য হাত?'

শাহাদুজ্জামান দারুণ মুন্সীয়ানায় রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দের জীবনটা পাঠকের সামনে তুলে এনেছেন এই উপন্যাসে। নির্জনতার কবি জীবনানন্দের ব্যক্তিগত ডায়েরি, কবিতা, উপন্যাস- সবকিছু থেকে শাহাদুজ্জামান সময় মিলিয়ে নিপুণভাবে জীবনানন্দের যাপিত জীবনটা তুলে এনেছেন। ইতিহাস ঠিক রেখে এমন প্রাঞ্জলতায় উপন্যাসটা পাঠকদের উপহার দেওয়ার জন্য লেখককে ধন্যবাদ।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ফাহিমা কানিজ লাভা
ফাহিমা কানিজ লাভা এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 9 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 16, 2014 - 2:55অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর