নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কাঙালী ফকির চাষী
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • মাহের ইসলাম
  • মৃত কালপুরুষ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

সুইডেনে ইব্রাহিম সাহেবের প্রথম স্টিম বাথ।



সুইডেনের পাতাল ট্রেনে আমার প্রথম দিনের প্রথম অভিজ্ঞতা যেটা বর্ণনা না করলেই নয়, খুব ভোরে ট্রেনের ভেতরে ভীষণ রকম ঠাসাঠাসি করে লোকজন যে যার কর্মস্থলের দিকে রওনা হয়েছে, দরজার পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা দুজন রমণী একজন অপরজনের গায়ের উপর হেলান দিয়ে প্রায় আঠার মতোই লেগে আছে, তা কে কার গায়ের উপর আঠার মতো লেগে আছে সেটা দেখার বিষয় না, আর তা কেউই অসভ্যতার দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়েও দেখছে না, তবে দেখার বিষয় হচ্ছে রমণী দুজন যে শুধু একজন অপর জনের গায়ের উপর ঢোলে পড়েছে তা নয় কিন্তু, একেবারে ঠোঁটের উপর ঠোঁট রেখে গভীর ভাবে আলিঙ্গনে ব্যস্ত, শুধু আলিঙ্গনই মনে হচ্ছেনা, একে অপরের গায়ের ভেতর প্রায় মিশে যাচ্ছে, আচ্ছা আপনারাই বলুন, আমি এমন একটা দেশ থেকে এসেছি যেখানে বাসের কন্ডাক্টর একটু পরপরই ভেপসা গরমের ভেতর চিৎকার করে "এই আস্তে, সামনে লেডিস" প্রতিটি বাসেই মহিলাদের জন্যে আলাদা বসার ব্যবস্থা। পুরুষদের সেখানে বসার বিন্দুমাত্র আস্পর্ধা নেই। কন্ডাক্টর সুযোগ বুঝে মহিলাদের বসিয়ে দেবার অজুহাতে তাদের গায়ের নিভৃত অঞ্চলে হাত দিয়ে চলেছে, মহিলারা লজ্জায় কিছুই বলতেও পারছেন না। আর আজ আমি কিনা এই পরবাসে এসে দেখছি দুজন রমণী শত শত ট্রেনের যাত্রীদের ভীড়ে একজন অপর জনের গায়ে মিশে যাচ্ছে, একজনের ঠোঁট অপর জনের ঠোঁটের মাঝে স্বর্গের মধু আহরণে ব্যস্ত, অথচ কেউ সে দিকে ভ্রূক্ষেপটি করছে না।

খুব ইচ্ছে থাকা সত্যেও সেবার আমার এক বন্ধুর আসন্ন বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত পাওয়ার পরও ইব্রাহিম সাহেবকে সাথে করে নিয়ে যাওয়া হয়ে ওঠেনি, কারণ বন্ধুটি কোন একজন মেয়েকে বিয়ে করছেনা, বিয়ে করছে একজন ছেলেকে, মানে সোজা কথায় যাকে বলে, বন্ধুযুগল সমকামী, আর সেই বিয়ে বাড়ীতে ইব্রাহিম সাহেবকে সাথে করে নিয়ে যাওয়া মানেই নেয়াহেত কোন দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়া, এত বড় মানসিক ধকল উনি হয়তো সইতে পারবেন না।

ধর্মপ্রাণ মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাহেব কিছুদিন আগেই সস্ত্রীক সরকারী শিক্ষা সফরে সুইডেন এসেছেন, থাকবেনও বেশ কিছুদিন। দিনকাল বেশ ভালই কেটে যাচ্ছে ইব্রাহিম সাহেবের, সুন্দর দেশ, সুন্দর মানুষজন দেখে সময় বেশ ভালই কেটে যাছে কিন্তু মনের মাঝে নানান প্রশ্নের উদয় হচ্ছে, এর আদ্যোপান্ত তিনি কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। লক্ষ্য করলাম গ্রীষ্ম কালে সূর্যের প্রখরতা বাড়ার সাথে সাথে তিনার দোয়া দরুদের গতিও বেড়ে চলে , পার্কে বেড়াতে গেলে সূর্যস্নান রত রমণীদের দেখলেই তিনি বেশ জোরে জোরেই দোয়া দরুদ পড়া শুরু করে দেন, এইসব কাণ্ড কারখানা দেখে আমি বেশ বিপাকেই পরে যাই। মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাহেব সমুদ্র পাড়ে যাবার খুব প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেন, একদিন উনার পিড়াপিড়িতে বাধ্য হয়ে উনাকে সমুদ্র পাড়ে বেড়াতে নিয়ে যাই, তিনিও গো ধরলেন গোসল করবেন, বিচে পৌঁছেই উনার চোখের ছানা বড় হয়ে গেলো, অর্ধ নগ্ন ছেলে মেয়েদের ভীরে মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাহেবকে গোসল করতে নামতে হবে এটা শুনেই মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাহেবের গায়ে জ্বর এসে গেল, আমাকে কানে কানে খুব আস্তে আস্তে বললেন আমি যেন সমুদ্র পাড়ে গোসলের কথাটা তিনার সহধর্মিণীর কাছে চেপে যাই। আমি মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাহেবকে বললাম চলেন আমার বরং কোন সুইমিংপুলে চলে যাই, সুইমিংপুলে গিয়ে মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাহেবের হার্টফেল হবার দশা, গোসলের আগে সব্বাইকে গোসল করে শরীরকে পরিষ্কার করে সাতার কাটার নিয়ম তাই গোসল করার সময় সব্বাইকে সম্পূর্ণরূপে উলঙ্গ হয়েই গোসল করতে হয়, বিষয়টা এখানকার প্রথা অনুযায়ী খুবই স্বাভাবিক। সেইদিন সুইমিংপুলে আমার সাতার কাটার ইচ্ছে নাই বিধায় মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাহেবকে সুইমিংপুলে ঢুকিয়ে দিয়ে আমি বাইরে অপেক্ষারত, হঠাৎ দেখি মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাহেব দৌড়াতে দৌড়াতে বাইরে চলে এসে বেশ হাঁপাচ্ছেন আর দোয়া দরুদ পড়ছেন, আমি কারণ জিজ্ঞাস করতেই তিনি বেশ করুণ সুরে বলে উঠলেন "ভেতরের অবস্থা খুবই খারাপ, লোকজন সব পাগল হয়ে গেছে, সব্বাই একই সাথে উলঙ্গ হয়ে গোসল করছে "। আমি অনেক চেষ্টা করেও উনাকে বোঝাতে পারছিনা যে এরা কেউই পাগল হয়ে যায়নি, এখানে সবাই সুইমিংপুলে গোসল করতে গেলে একই সাথে উলঙ্গ হয়ে গোসল করাটা একটা স্বাভাবিক নিয়ম, কেউ কারো দিকে তাকিয়ে থাকেনা। যাই হোক এখন আর ভাববার সময় কম তাই আমি নিজেও মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাহেবের সাথে সুইমিংপুলে ঢুকে পরলাম, মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাহেব বিড়বিড় করে দোয়া দরুদ পড়েই যাচ্ছেন। গোসলের পর sauna (বাষ্পস্নান) মানে স্টিম বাথ করা এখানকার একটি প্রথা আর সেখানে ছেলে, মেয়ে, বৃদ্ধ, বৃদ্ধা, যুবক, যুবতী সবাই এক সাথেই স্টিম বাথ করে থাকে। ছেলে মায়েদের আলাদা কোন জায়গা যদি না থাকে তবে একই সাথে স্টিম বাথ করতে কোনই অসুবিধা হয় না, কেউ কারুর দিকে যৌনতার দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকে না।

আমি অনেক চেষ্টা করেও ইব্রাহিম সাহেবকে বোঝাতে পারিনি যে সেক্স ফ্রি দেশ (sex free country) মানেই সবাই এদেশে পকেটে কন্ডম নিয়ে ঘোরাঘুরি করে না কিম্বা মেয়েরা প্রবাসী ছেলেদের অপেক্ষায় ছাতা নিয়ে এয়ার পোর্ট এ দাড়িয়ে থাকেনা, বিষয়টির উপর আপনার ধারনাটা খুবই ভুল, পতিতাবৃত্তি এ দেশে সম্পূর্ণ ভাবেই নিষিদ্ধ, অপ্রাপ্ত বয়স্কদের সাথে যৌন আচরণ কঠিনতম অপরাধ, ধর্ষনকারীদের এদেশে কঠিন সাজা দেয়া হয়, মুক্ত যৌন আচরণ মানেই সবাই এদেশে উলঙ্গ হয়ে ঘোরাঘুরি করেনা, একজন মেয়ে তার মেয়ে সাথীকে নিয়ে রাস্তায় গা ঘেষে হেটে যাওয়ার সময় কেউ তাদের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকার প্রয়োজন বোধ করেনা, কারুর ব্যক্তি স্বাধীনতাকে খর্ব করা ঘোরতর অপরাধ।
এদেশে জাত, ধর্ম, গোত্র ও বর্ণ বিভেদে কাউকে অপদস্থ করার কোনই সুযোগ নাই।

গোসল এর পর মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাহেবকে জিজ্ঞাস করলাম একটু স্টিম বাথ করে নিলে কেমন হয় তিনিও সম্মতি প্রকাশ করলেন, যেই না স্টিম বাথ করার জন্যে ছোট্ট ঘরটাতে প্রবেশ করলাম বুঝতে পারলাম মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাহেব খুব জোরে জোরে কাঁপছেন বিড়বিড় করে কি সব দ্রুত পড়ে যাচ্ছেন, তিনি আমার দিকে অসহায়ের মতো তাকিয়ে থেকে আস্তে আস্তে আমার ঘাড়ে মাথা রেখে অনেকটা অচৈতন্য অবস্থায় ঢোলে পরলেন, আমার কয়েকজন ধরা ধরি করে উনাকে একটা টেবিলের উপর শুইয়ে দিয়ে মাথায় পানি ঢালতে থাকলাম। কিছুক্ষণ পর মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাহেব চোখ খুলে আমার দিকে ফেলে ফেল করে তাকিয়ে রইলেন , আমি জিজ্ঞাস করলাম মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাহেব এখন কেমন বোধ হচ্ছে ? তিনি আমাকে প্রথম প্রশ্ন করলেন "মাগরিবের টাইম কি হয়ে গেছে"।

পুরুষ ও পুরুষের অথবা নারী ও নারীতে ভালোবাসাতে দন্দ কোথায়?
==============================================
আস্তিকতা ও নাস্তিকতা নিয়ে আজ দেশ ব্যাপী শোরগোল। মানুষকে যদি সত্যিকার ভাবে ভালবাসতেই হয় তবে তা মানবতাকে ঊর্ধ্বে রেখেই করতে হবে, ধর্ম, জাতী, বর্ণ, গোত্র ও এসবের ঊর্ধ্বে মানুষ সত্য।

একজন মানুষ যখন জন্ম নেয় তখন তার এইসব জাত, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র এসব কিছুই থাকে না আমাদের মাঝে একটি শিশু শুধু মাত্র মানবতার ভালোবাসা নিয়েই এই পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয়, কাজেই মানুষকে ভালবাসতে গেলে তার ধর্ম, জাতী, গোত্র, সমাজ সব কিছুকেই মানবতার দৃষ্টি দিয়ে ভালবাসতে হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে নাস্তিক কিংবা আস্তিক হবার প্রয়োজন হয় না।

জীবনের দীর্ঘ চলার পথে মানুষ পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতার দাসত্ব গ্রহণ করে, তার উপর ধর্ম, পারিবারিক, সামাজিক ও গোত্রীয় রীতি নীতিগুলো প্রভাব বিস্তার করে তাই ভালোবাসার চাহিদাগুলো দেখতে ভিন্নরকম হতেই পারে যেমন একটি ছেলে অন্য একটি ছেলের প্রতি কিংবা একটি মেয়ে অন্য একটি মেয়ের প্রতি আকৃষ্ট হতেই পারে, মানবতার দৃষ্টি কোনে তারাও মানুষ আর ভালোবাসাটা মানুষের অধিকার আর তাদের এই ভালোবাসতে কোনই অপরাধ থাকে না। পুরুষ ও পুরুষের অথবা নারী ও নারীতে ভালবাসতে যদি ধর্ম কোনরূপ বাধার সৃষ্টি করে তবে আমার দৃষ্টিতে ধর্মীয় রীতিনীতি মানবতাকে অসম্মান করছে।

কেউ কি প্রমাণ করতে পারবে একজন সমকামী মানুষ অন্য কোন দশজন মানুষের চাইতে অধম ? যদি তাই না হয়ে থাকে তবে ধর্মীয় কুসংস্কার সেখানে বাধা হয়ে দাড়াবে কেন ?? পৃথিবীতে কোন বিজ্ঞানী বা চিকিৎসক ব্যাখ্যা করাতে পারেনি যে কেন আমাদের মাঝে কেউ কেউ সমকামী প্রকার ক্রিয়াকলাপে জড়িত কিংবা জড়িত হতে চাই, সম্পূর্ণ বিষয়টি একটি আবেগ জনিত কারণ, এর মাঝে জৈব বা genitic পার্থক্য বা সমস্যা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কেউ যদি আমার ধর্মকে কটূক্তি করে, তাতে কি আমার ধর্ম নষ্ট হয়ে যাবে, নাস্তিকদের ধর্ম থাকে না তাই বলে নাস্তিকতা নিশ্চয়ই একটি অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে না। কোন ধর্মে কি লেখা আছে যে নাস্তিকদের হত্যা করে ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, আর সে যদি ধর্মে সে কথা লেখা থাকে তবে সেটা মানবিক দৃষ্টিতে একটি ধর্ম হতে পারে না? আজ ধর্মীমের নাম অধর্মের উপর ভিত্তি করে ধর্মান্ধরা নাস্তিক আর সমকামীদের হত্যা করতে উদ্ধত হয় ! এ ধরনের উন্মাদনা দেখাবার আস্পর্ধা তারা একটা স্বাধীন দেশে কি করে পায় সেটাই ভাববার বিষয়। আজ যদি ধর্মীয় কুসংস্কার আমাদের ঘাড়ের উপর চড়ে বসে তবে হয়তো একদিন আমরা আমাদের দেশে মানবতাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো না, রাস্তার উপর মুক্তমনা, নাস্তিক, হিজরা অথবা সমকামীদের কুপিয়ে হত্যা করা হবে, বিচার চাইবার সাহসটুকু হারিয়ে ফেলবো। সভ্য পৃথিবীতে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে আমাদের সমাজে আইনি পরিবর্তন আনতে হবে, হিজরাদের মত সমকামী মানুষদেরও সমান অধিকার দিতে হবে। মনে রাখতে হবে মানুষকে তার সর্ব রূপেই ভালবাসতে হলে, মানুষকে জাত, ধর্ম , বর্ণ, গোত্র এসবের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে।
ধীর গতিতে হলেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে এটাই আমার বিশ্বাস, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের রাষ্ট্রীয় ভাবে স্বীকৃতি ও কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়ে সরকার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বটে, তবে আমাদের যেতে হবে বহুদুর।

সমকামী মানুষদের অধিকার অর্জনে আমাদের আরো কিছুটা দূর এগিয়ে যেতে হবে। কোন বিজ্ঞানী বা চিকিৎসক ব্যাখ্যা করাতে পারেনি যে কেন আমাদের মাঝে কেউ কেউ সমকামী প্রকার ক্রিয়াকলাপে জড়িত কিংবা জড়িত হতে চাই, সম্পূর্ণ বিষয়টি একটি আবেগ জনিত কারণ, এর মাঝে জৈব বা genitic পার্থক্য বা সমস্যা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অনেক মনোবিজ্ঞানীদের মতে অন্তত তিনটি উত্তর সম্ভব বলে মনে করে থাকেন। প্রথমত মানুষ তারা যৌন প্রশ্রয় এবং পরীক্ষামূলক কারণে সমকামী হতে পারে, দ্বিতীয়: শৈশবে কালে শৈশব ট্রমা, দারিদ্রতা, পারিবারিক সম্পর্ক বা অন্য কোন কারণে মানসিক আঘাতের ফলে মানুষের মাঝে সমকামী হবার প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে, তৃতীয়ত: এক ধরনের জোর পূর্বক বা ইচ্ছা শক্তিকে মূল ধারাতে পরিচালিত না করলে জেনেটিক বা হরমোনের ঝুলিতে যে তারতম্য ঘটে, সেই কারণেও সমকামী হবার একটা সুযোগ ঘটে যায়।

একজন মানুষ যখন সমকামী চিন্তা ভাবনা নিয়ে বড় হতে থাকে তখন এক পর্যায়ে মানুষ অদ্ভুত এই ইচ্ছা শক্তির কাছে পরাজয় বরণ করে এবং ইচ্ছা শক্তিটাই তার জীবনকে পরিচালিত করে যেখান থেকে ফিরে আসার পথ থাকে না।

কাজেই আমি বিশ্বাস করি সমকামী মানুষদের সমাজে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার ঠিক অন্য দশ জনের মতই, এই অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা যায় না | একজন মানুষ অপর একজন মানুষকেই তো ভালবাসবে আর এই ভালোবাসাটাকে কোন ভাবেই তার অপরাধ হিসাবে গণ্য করা যায় না, কাজেই একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে যদি অপর একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে ভালোবেসেই ফেলে তা নিশ্চয়ই অন্যায় হবে না।

আমরা যদি সত্যিকার অর্থে একটি ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র তৈরি করতে পারি তবে সমকামীদের অধিকার দিতে পিছিয়ে থাকবো কেন ? আমি জানি যে, আমি একটি বিতর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি, আমার লেখার একটাও like দেবার কোনই প্রয়োজন নাই আর সেটা আমি আশাও করি না। অনেকেই আমার লেখা পড়ে হয়তো নিভৃতে চিন্তা করবেন, এও জানি অনেকেই কোন মতামত দেবেন না। আমি চাই আপনি এটা নিয়ে একটু ভাবুন, এতেই আমি সুখী।
--- মাহবুব আরিফ কিন্তু।
(সমকামীতা নিয়ে আমাদের উপমহাদেশ আর পশ্চিমাদের দৃষ্টি ভঙ্গির পার্থক্য নিয়ে একটি লেখা)

Comments

গোলাম রব্বানী এর ছবি
 

হাহাহাহা... খুব মজা পাইছি।

 
কিন্তু এর ছবি
 

donnobad sir.

মানবতাই ধর্ম

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কিন্তু
কিন্তু এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 4 min ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 5:41অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর