নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • শ্মশান বাসী
  • আহমেদ শামীম
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

কোরআন জানুন (পর্ব-৬)


আবু বকরদের কাছে এসে সুফিয়ান প্রস্তাব রাখে, যে- হে আবু বকর, আলী একজন গরীব মানুষ। মোহাম্মদ তাঁর আদরের ছোট কন্যাকে তাঁর সাথে বিয়ে দিয়েছে, সে সূত্রে আলী ও ফাতিমাকে মোহাম্মদ একটু বেশিই ভালোবাসতো। আর সেই ভালোবাসার খাতিরেই, যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও সে আলীকে ইসলামের প্রথম খলিফার ওসিয়ত করে প্রচলিত কোরআনে তা লিপিবদ্ধ করে যায়। যেখানে আবু বকরের মতো বয়োজ্যেষ্ঠ, জ্ঞানী ও সম্মানীয় ব্যক্তি, ওসমানের মতো ধনাঢ্য ব্যক্তি ও ওমোরের মতো সাহসী মানুষ বর্তমান, সেখানে ইসলামের প্রথম খলীফা হিসাবে আলী একেবারেই বা-মানান। তাই আমি বলি কি-যে, আলীকে ইসলামের প্রথম

(সতেরো)

খলীফা না করে, তোমাদের তিনজন হতে যে কাউকে ইসলামের প্রথম খলীফা নির্বাচিত করো।

আবু বকর বলে যে, আলীকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে ইসলামের প্রথম খলীফা নির্বাচন করলে, আমরা প্রচলিত কোরআন অমান্যকারী হয়ে যায়। কারণ, প্রচলিত কোরআনে লিপিবদ্ধ হয়েছে যে- “আমার মৃত্যুর পরে আলীই হবে ইসলামের প্রথম খলীফা”। তখন চতুর আবু সুফিয়ান প্রস্তাব রাখে যে- তোমরা তিনজন একত্রে ইচ্ছা করলে প্রচলিত কোরআন থেকে ঐ আয়াতটি বাদ দিয়ে দিতে পারো, তাহলে আর কোন সমস্যা হবে না। আবু বকর বলে প্রচলিত কোরআন তো অনেকেই মুখস্ত রেখেছে, আবার কেউ কেউ লিখেও রেখেছে, তাঁরা যদি এ বিষয়ে লিখিত দলীলসহ প্রতিবাদ করে? আবু সুফিয়ান বলে- যদিও অনেকেই প্রচলিত কোরআনের অংশ বিশেষ ও কেউ কেউ সম্পূর্ণ প্রচলিত কোরআন মুখস্ত রেখেছে, তবে প্রচলিত কোরআন লিখিত রেখেছে অল্প কয়েকজন মাত্র। তোমরা তিনজন (আবু বকর, ওসমান ও ওমোর) একমত হলে, লিখিত প্রচলিত কোরআন থেকে ঐ আয়াতটি বাদ দিয়ে দাও। তাহলে যারা ঐ আয়াতটি মুখস্ত রেখেছে তাঁরা বলতে পারবে, কিন্তু প্রমাণ করতে পারবে না যে- প্রচলিত কোরআনে “আমার মৃত্যুর পরে আলীই হবে ইসলামের প্রথম খলীফা” আয়াতটি ছিল। কালক্রমে মুসলমানেরা একদিন এটা ভুলে যাবে। আর আমরা, তথা- উমাইয়া পরিবারের সকলেই তোমাদের সাথে থাকব।

ওসমান বলে যে- সকলের কাছ থেকে লিখিত প্রচলিত কোরআনের পাণ্ডুলিপি এনে পরিবর্তন করা গেলেও, আলীর কাছে থাকা প্রচলিত কোরআনের পাণ্ডুলিপি এনে পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। কারণ, সে কোন অবস্থাতেই প্রচলিত কোরআনের পাণ্ডুলিপি আমাদের হাতে তুলে দিবে না। আবু সুফিয়ান বলে যে- আমরা (আবু সুফিয়ান, আবু বকর, ওসমান ও ওমোর) যদি এক থাকি, তাহলে আলীর কাছ থেকে পাণ্ডুলিপি আনা কঠিন কোন ব্যপার হবে না। আপোষে যদি পাণ্ডুলিপি দিয়ে দেয় ভালো, না দিলে জোর করে ছিনিয়ে আনতে হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। আবু সুফিয়ানের বুদ্ধি মতো আবু বকর, ওসমান ও ওমোর আলীর কাছে থাকা প্রচলিত কোরআনের পাণ্ডুলিপি আনার জন্য রওয়ানা দিলেন।

আবু সুফিয়ান ও আবু বকরেরা যখন আলীর কাছ থেকে স্বেচ্ছায় না দিলে জোর করে পাণ্ডুলিপি ছিনিয়ে আনতে হবে সিদ্ধান্তের জন্য পরামর্শ করছিলো, তাঁদের মধ্যে একজন নিরপেক্ষ মুসলিম আবু মুসায়েম ও তাঁর স্ত্রী জোহান্নু উপস্থিত ছিল। আবু মুসায়েম তৎক্ষণাৎ তাঁর স্ত্রী জোহান্নুকে আলীর বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়, সে যেন আবু সুফিয়ান ও আবু বকরদের নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা আলীকে অবহিত করে। জোহান্নু খুব দ্রুত এসে ফাতিমাকে জানায় যে, আবু সুফিয়ানের বুদ্ধিতে আবু বকর, ওসমান ও ওমোর তাঁদের সমর্থকদের সাথে নিয়ে তোমার বাড়ীতে আসছে,

(আঠারো)

তোমাদের কাছে থাকা লিখিত প্রচলিত কোরআনের পাণ্ডুলিপি নিয়ে যাওয়ার জন্য। তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, আলী যদি স্বেচ্ছায় পাণ্ডুলিপি না দেয়, তাহলে জোর করে তা ছিনিয়ে নিয়ে যাবে। কারণ, তাঁরা প্রচলিত কোরআন থেকে “আমার মৃত্যুর পরে আলীই হবে ইসলামের প্রথম খলীফা” এই আয়াতটি বাদ দিয়ে ওদের ইচ্ছামতো ইসলামের প্রথম খলীফা নির্ধারণ করতে চাই।

মোহাম্মদ মৃত্যুর সময় ফাতিমার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বৎসর। মোহাম্মদ নবুয়াত প্রাপ্তির ৫ বৎসরের সময়, অর্থাৎ ৬১৫ খৃষ্টাব্দে তিনি খাদিজার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন, ও হিজরতের পরে আলীর সাথে তাঁর বিবাহ হয়। হিজরি ৩ সনে হাসান ও হিজরি ৪ সনে হোসেন মা ফাতিমার গর্ভে জন্মলাভ করেন। এ ছাড়াও ফাতিমা- কুলসুম ও যয়নব নামে দুজন কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। মোহাম্মদের মৃত্যুর সময় ফাতিমা ছিলেন ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

জোহান্নু আলীর বাড়ীতে উপস্থিত থাকা কালেই আবু বকর, ওসমান ও ওমোর তাঁদের সমর্থকদের নিয়ে আলীর বাড়ীতে আসে। গর্ভবতী ফাতিমা তাড়াতাড়ি ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। ঘরের মধ্যে তখন অবস্থান করছিলো আলী, ফাতিমা, হোসেন, কুলসুম, যয়নব ও জোহান্নু। ফাতেমার ছোট কন্যা যয়নব জোহান্নুর কোলে ছিল। ওমোর, আলীর ঘরের দরজার সামনে এসে আলীকে দরজা খুলতে বলে। আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফাতিমা বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলে, আমি নবী কন্যা ফাতিমা বলছি। তোমাদের যা বলার বাইরে থেকেই বল, আমরা দরজা খুলবো না। তবে তোমরা নিশ্চিত হয়ে যাও যে- আমি ও আমার স্বামী তোমাদের সিদ্ধান্ত সমূহের পক্ষেও নাই, আবার বিপক্ষেও নাই। ওমোর বলে, আমরা আলীর কাছে থাকা প্রচলিত কোরআনের পাণ্ডুলিপি নেওয়ার জন্য এসেছি। ফাতিমা বলে আমার জীবন থাকতে প্রচলিত কোরআনের পাণ্ডুলিপি তোমাদের হাতে তুলে দেবো না।

ইতিমধ্যে আলী প্রচলিত কোরআনের মূল পাণ্ডুলিপি লুকিয়ে রেখে রাফ পাণ্ডুলিপিটি তাঁদের বিছানার উপর ফেলে রাখে। আবু বকর বলে, ফাতিমা- তুমি দরজা খোল, না হলে আমরা জোর করে দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করবো। ফাতিমার ভয় হয় যে, আবু বকরেরা যদি আলীকে মেরে ফেলে। তাই সে পুনরায় মিনতি স্বরে বলে। আমি নবী কন্যা ফাতিমা, শপথ করে বলছি যে, ইসলাম বিষয়ে আপনারা যে সিদ্ধান্তই নেন না কেন, আমরা তাঁর পক্ষে বা বিপক্ষে কিছুই বলবো না। আমাদের কাছে যে প্রচলিত কোরআনের পাণ্ডুলিপি আছে তা আমি আপনাদের হাতে তুলে দিব না। আপনারা ফিরে যান। তখন ওমোর দরজা খোলার জন্য ধাক্কাধাক্কি করলে, ফাতিমা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলে চাচা, আপনি দরজা ধাক্কা দিয়েন না, আপনারা চলে যান।

ফাতিমা যখন দরজা খুলতে সম্পূর্ণ ভাবে অস্বীকৃতি জানায়, তখন ওমোর দরজা ভেঙ্গে ফেলার

(উনিশ)

উদ্দেশ্যে স্বজরে এক লাথি মারে। সেই লাথিতে দরজা ভেঙ্গে ফাতিমার পেটে আঘাত লেগে ফাতিমা পড়ে যায়। ওমোর ও আবু বকর ঘরে প্রবেশ করে বিছানায় পড়ে থাকা প্রচলিত কোরআনের রাফ পাণ্ডুলিপিটি নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। আলীর কাছে যে ফ্রেশ আরেকটি প্রচলিত কোরআনের পাণ্ডুলিপি ছিল ও সেটা আলীর কাছেই রয়ে গেলো, এটা তাঁদের অজানা রয়ে গেলো।

আলীর কাছ থেকে প্রচলিত কোরআনের রাফ পাণ্ডুলিপিটি নিয়ে যাওয়ার পরে, অন্য যাঁহাদের কাছে প্রচলিত কোরআন লিখিত ছিল, সকলের কাছে থাকা লিখিত প্রচলিত কোরআন এনে, প্রথমে “আমার মৃত্যুর পরে আলীই হবে ইসলামের প্রথম খলীফা” সে আয়াতটি বাদ দেওয়ার জন্য আলাদা করা হয়।

আবু সুফিয়ান বলে যে, প্রচলিত কোরআন থেকে শুধু “আমার মৃত্যুর পরে আলীই হবে ইসলামের প্রথম খলীফা” আয়াতটি বাদ দিলেই হবে না। আরও বেশকিছু আয়াত প্রচলিত কোরআন থেকে বাদ দিতে হবে। তা না হলে ইসলামের খলীফা হিসাবে তোমরা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। যেমন- “আমি জ্ঞানের শহর এবং আলী তাঁর দরজা” আয়াতটিসহ আলিও ফাতিমা বিষয়ে যত প্রশংসার আয়াতসমূহ আছে, ও আবু বকর, ওসমান ও আলী বিষয়ে যে সকল অপমানকর আয়াত আছে, এমন কি উমাইয়া পরিবার নিয়ে যে সকল অপমানকর আয়াতসমূহ আছে তাও বাদ দিয়ে দিতে হবে। আবু সুফিয়ানের কথা আবু বকর, ওসমান ও ওমোরের কাছে যুক্তিপূর্ণ মনে হয়, এবং তাঁরা প্রচলিত কোরআন থেকে উমাইয়া পরিবারসহ আবু বকর, ওসমান ও ওমোরের বিষয়ে যে সকল আয়াতসমূহ অপমানকর বিষয়ে ছিল, তাহা বাদ দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়। তখন আবু বকর, ওসমান, ওমোর ও আবু সুফিয়ান মিলে প্রচলিত কোরআন থেকে প্রায় দশ হাজারের মতো আয়াত, যা আবু বকর, ওসমান, ওমোর ও উমাইয়া পরিবারের বিষয়ে অপমানকর ছিল, তা বাদ দেওয়ার জন্য বাছায় করে। এরপরে আবু বকর এই দশ হাজার আয়াত পুড়িয়ে ফেলার শর্তে ইসলামের প্রথম খলীফা নির্বাচিত হয়। মোহাম্মদের মৃত্যুর পনেরো দিন পরে আবু বকর, ওসমান, ওমোর ও আবু সুফিয়ান মিলে তাঁদের বিরুদ্ধে যাওয়া ও আলীর পক্ষে যাওয়া প্রায় ১০ হাজার প্রচলিত কোরআনের আয়াত পুড়িয়ে ফেলে, উমাইয়া পরিবারের সহযোগিতায় আবু বকর ইসলামের প্রথম খলীফা হিসাবে অধিষ্ঠিত হয়।
লিখেছেন গুরুজি। মূল লেখাটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন।
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

১। স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নেওয়া ছলনাময়ী আশ্রয়টুকুর নামই, প্রেম বা ভালবাসা। সেরু পাগলার বাণী।

২। যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই ইসলাম বা শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। আর- যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্ব অ-শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই অ-ইসলাম বা অ-শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। সেরু পাগলার বাণী।

৩। আস্তিক হলো তারাই- যারা বিশ্বাস করে আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। আল্লাহ দেহধারী, তাকে দেখা যায় ও তাকে ধরা যায়।
নাস্তিক হলো তারা- যারা মনে করে আল্লাহ নিরাকার, তাকে দেখা ও ধরা যায় না।
আর যারা বিশ্বাস করে স্রষ্টা বলতে কিছু নাই, তারা মূলতঃ ভণ্ড। সেরু পাগলার বাণী।।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সলিম সাহা
সলিম সাহা এর ছবি
Offline
Last seen: 2 ঘন্টা 9 min ago
Joined: শুক্রবার, মার্চ 23, 2018 - 5:14অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর