নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • শ্মশান বাসী
  • আহমেদ শামীম
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

কোরআন জানুন (পর্ব-৫)


মোহাম্মদ ১১ হিজরী সনের ১৯ এ সফর সোমবার বেলা প্রায় ১১টার সময় মৃত্যুবরণ করেন, তাঁর মৃতদেহ দাফন করা হয় বুধবার দিন শেষে রাত আনুমানিক ১টার সময়। মোহাম্মদের মৃতদেহ সমাধিস্থ করার পরে, আবু বকর, ওসমান ও ওমোর তাঁদের সমর্থকদের নিয়ে আলোচনায় বসে যে- আলীকে বাদ দিয়ে কাকে ইসলামের প্রথম খলীফা নিযুক্ত করা যায়। কিন্তু আলী তাঁদের আলোচনায় শরিক না হয়ে, মোহাম্মদের মৃতদেহ দাফনের পরে তাঁর সমর্থকদিগকে ঘরে ফিরে যেতে বলেন, ও নিজেও ঘরে ফিরে আসেন।

প্রকাশ থাকে যে উমাইয়া বংশের কেউই রাসুলের জীবদ্দশায় ইসলাম গ্রহণ করে নি, তথাপিও আবু সুফিয়ান ও মুয়াবিয়াসহ উমাইয়া বংশের অধিকাংশ লোক মোহাম্মদের মৃতদেহ দাফন ও জানাজায় শরিক হয়েছিল। কারণ উমাইয়া বংশ ওতপেতে ছিল যে, সুযোগ পেলেই তাঁরা মোহাম্মদের প্রচারিত ইসলামের আদর্শকে ধ্বংস করে দিয়ে, পূর্ব থেকে চলে আসা অন্ধ বিশ্বাস ও কু-সংস্কারে ঘেরা আইন সমূহকে প্রতিষ্ঠা করবে।
আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ হতে দশ বছরের বড় ছিল। মোহাম্মদের মৃত্যুর সময় আবু সুফিয়ানের বয়স হয়েছিল ৭৩ বৎসর। আবু সুফিয়ান তথা উমাইয়া বংশ ছিল অন্ধ বিশ্বাসে ঘেরা অবৈজ্ঞানিক ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মতবাদের। ক্ষমতা ও অর্থের মোহে এমন কোন অপকর্ম নাই, যা তাঁরা করতে পারত না। অন্যদিকে মোহাম্মদ ছিলেন বিজ্ঞান সম্মত, সংস্কারবাদী ও বাস্তববাদী। কোন মোহই তাঁকে তাঁর বাস্তবতা থেকে একচুল ও নড়াতে পারত না। সেই সাথে তিনি ছিলেন সৎ ও নির্ভীক। ইসলাম গ্রহণ না করা আরবেরাও বিশ্বাস করে মোহাম্মদের কাছে অর্থ গচ্ছিত রেখে যেতো।

(পনেরো)
পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে- উমাইয়া পরিবার মোহাম্মদের প্রচারিত ইসলামের চিরশত্রু ছিল। ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য তাঁরা একটি সুযোগের অপেক্ষা করে আসছিলো। মোহাম্মদ মৃত্যুর পরে ইসলামের প্রথম খলীফা নির্ধারণ নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে গোলযোগ সৃষ্টি হওয়ায়, উমাইয়া পরিবার ইসলাম ধ্বংসের এক বড় হাতিয়ার হাতে পেয়ে যায়। আবু সুফিয়ান নিশ্চিত হয়ে যায় যে, মুসলমানদের মধ্যে বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠ আবু বকর, ওমোর ও ওসমানের দল, বর্তমান সংখ্যালঘু আলীর দলকে বাদ দিয়ে নিজেরাই ইসলামের প্রথম খলীফা নির্বাচিত করে ফেলবে। আর সংখ্যালঘু আলীর দল কোন অবস্থাতেই তা রোধ করতে পারবে না।

আবু সুফিয়ান নিশ্চিত বিশ্বাস করেছিল যে, এখন যদি সে ইসলামের প্রথম খলীফা নির্বাচিত হওয়ার জন্য আলীর প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, এই দুঃসময়ে আলী অবশ্যয় তাঁর সাহায্য গ্রহণে আপত্তি করবে না। আর এই সুযোগে সে যদি প্রচলিত কোরআন থেকে উমাইয়া পরিবারকে নিয়ে যত অপমানকর কথা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, প্রচলিত কোরআন থেকে তা মুছে ফেলার শর্তে সাহায্য করতে চাই বললেও, আলী ইসলামের প্রথম খলীফা নির্বাচিত হওয়ার জন্য অবশ্যয়ই তাঁর সে শর্ত মেনে নেবে। এতে করে প্রচলিত কোরআন থেকে উমাইয়া পরিবারের বিষয়ে অপমানকর সকল কথা যেমন বাদ দেওয়া যাবে, অন্যদিকে সংখ্যালঘু, দুর্বল আলীকে ইসলামের প্রথম খলীফা নির্বাচিত করে, আবু সুফিয়ান তাঁর ইচ্ছা মাফিক আলীকে পরিচালিত করতে পারবে। এতে করে অদূর ভবিষ্যতে আলীকে ইসলামের ক্ষমতায় রেখে উমাইয়া পরিবারের প্রচারিত ধর্মকে ইসলামের মোড়কে প্রতিষ্ঠিত করা যাবে।

এবার আবু সুফিয়ান তাঁর বংশের কয়েকজন মুরুব্বীকে সঙ্গে নিয়ে আলীর বাড়ীতে উপস্থিত হয়ে, আলীকে ইসলামের প্রথম খলীফা নির্বাচিত করার পক্ষে সাহায্য করতে চাই বিষয়ে প্রস্তাব রাখে। আলী বলে- আপনারা তো এখনো ইসলাম গ্রহণ করেন নাই, তাহলে কেন আপনি একজন অমুসলিম হয়ে আমাকে সাহায্য করতে চান? আবু সুফিয়ান আলীকে বলে- প্রচলিত কোরআনে মোহাম্মদ কর্তৃক লিপিবদ্ধ হয়েছে যে- “আমার মৃত্যুর পরে আলীই হবে ইসলামের প্রথম খলীফা” সে সূত্রে বর্তমানে তুমিই ইসলামের প্রথম খলীফা। কিন্তু আবু বকর, ওসমান ও ওমোর তোমাকে ইসলামের প্রথম খলীফা হিসাবে মানতে চাই না। আমি ইসলাম গ্রহণ না করলেও আবু বকরদের সিদ্ধান্ত যে ঠিক নয় এটা আমি বিশ্বাস করি। আমি মোহাম্মদের জীবদ্দশায় ইসলাম গ্রহণ করিনি এটা যেমন সত্য, তেমনি সত্য যে- মোহাম্মদ একজন সত্যবাদী ছিল এটা আমি কখনোই অস্বীকার করিনি। হে আলী, মোহাম্মদের জীবদ্দশায় যারা ইসলাম গ্রহণ করে নি, তাঁরা কি আর কখনো ইসলাম গ্রহণ করতে পারবে না? আলী বলে হ্যাঁ, পারবে। তখন আবু সুফিয়ান বলে, আলী- তুমি

(ষোল)
চাইলে আমরা তোমার হাতে হাত রেখে বাইয়াত গ্রহণ করতে চাই, এবং তোমাকে ইসলামের প্রথম খলীফা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। তবে আমার একটি শর্ত আছে। তুমি যদি আমার শর্তে রাজি থাকো, আমি আবু সুফিয়ান উমাইয়া পরিবারের পক্ষ থেকে কথা দিচ্ছি, ইসলামের প্রথম খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পথে কে তোমাকে বাধা দেয়, সেটা আমি দেখে নেব।

তখন আলী বলে- বলুন, কি আপনার সেই শর্তে? যে শর্ত মেনে নিলে আপনারা আমার হাতে হাত রেখে বাইয়াত গ্রহণ করতে চান, ও আমাকে ইসলামের প্রথম খলীফা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান?
আবু সুফিয়ান বলে, শর্ত তেমন বড় কিছু নয়। তোমাকে কথা দিতে হবে যে, তুমি ইসলামের প্রথম খলীফা হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেলে, উমাইয়া পরিবার বিষয়ে প্রচলিত কোরআনে যে সকল অপমানকর আয়াত লিপিবদ্ধ হয়েছে, সে সকল আয়াত সমূহকে তুমি প্রচলিত কোরআন থেকে বাদ দিয়ে দেবে।

আলী বলে, অসম্ভব! যেই খেলাফতি প্রতিষ্ঠা পেতে মোহাম্মদের দেওয়া প্রচলিত কোরআন কাটাছেড়া করতে হয়, সে খেলাফতি আমি চাই না। সুফিয়ান বলে, আলী- তুমি ঠাণ্ডা মাথায় একবার ভেবে দেখো। তুমি যদি নিজেকে ইসলামের প্রথম খলীফা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে না পারো, তাহলে ইসলামে তোমার কোন গুরুত্বই থাকবে না। থাকবে না তোমার কোন সম্মান।
আলী বলে, আমার মাথা যথেষ্ট ঠাণ্ডা আছে। জেনে রাখুন, প্রচলিত কোরআন কাটাছেড়া করে আমি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হতে চাই না, আর চাই না কোন সম্মানীয় স্থানে অধিষ্ঠিত হতে। আমি শুধু চাই, আমি যেন ইসলামে একজন দাস হয়ে থাকতে পারি।

আবু সুফিয়ানের প্রস্তাবে আলী রাজী না হওয়ায়, এবার তাঁরা একই উদ্দেশ্য নিয়ে আবু বকর, ওসমান ও ওমরের দ্বারস্থ হয়।
লিখেছেন গুরুজি। মূল লেখাটি পড়তে এখান থেকে ঘুরে আসুন।
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
১। স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নেওয়া ছলনাময়ী আশ্রয়টুকুর নামই, প্রেম বা ভালবাসা। সেরু পাগলার বাণী।

২। যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই ইসলাম বা শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। আর- যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্ব অ-শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই অ-ইসলাম বা অ-শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। সেরু পাগলার বাণী।

৩। আস্তিক হলো তারাই- যারা বিশ্বাস করে আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। আল্লাহ দেহধারী, তাকে দেখা যায় ও তাকে ধরা যায়।
নাস্তিক হলো তারা- যারা মনে করে আল্লাহ নিরাকার, তাকে দেখা ও ধরা যায় না।
আর যারা বিশ্বাস করে স্রষ্টা বলতে কিছু নাই, তারা মূলতঃ ভণ্ড। সেরু পাগলার বাণী।।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সলিম সাহা
সলিম সাহা এর ছবি
Offline
Last seen: 2 ঘন্টা 10 min ago
Joined: শুক্রবার, মার্চ 23, 2018 - 5:14অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর