নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • শ্মশান বাসী
  • আহমেদ শামীম
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

হে মাবুদ নাকি হে মহাভূত !?


বিচিত্র আমাদের এই ধর্মপুর আর বিচিত্র সব চরিত্র এখানে৷ সব সম্ভবের দেশ ধর্মপুর হলে, এখানে নানা জনের নানা মত, নানান পথ আর তাতেই তৈরী সৎ অসৎ৷

দেখবেন সুকুমার রায়ের একটা কবিতায় মাঝির জীবন বারো আনায় মিছে হলেও বাবুর জীবন ষোলআনায় মিছে হিসেব দিলেন মাঝি৷ গরীব মাঝি মূর্খ হলেও এতটা মূর্খ যেখানে সূর্য, চন্দ্র, পানির স্রোত, সাগরের লবণ এসবে ঈশ্বর লাগিয়ে বলবে এসব তারই খেলা৷ মাঝি সাতারের কথা বলেছেন যেখানে জানলেন নাতো মরলেন, ঈশর দিয়ে খাঁটি করার কথা ছিলোনা কথা আর না বাড়াই, সরাসরি তাই করি যেখানে রোগ সাড়ায়৷

আমরা মাঝে মাঝে শুনি ভন্ড পীর, ভন্ড ওজা এসব ধর্মের বোঝা৷ কথা কিন্তু সোজা, শুধু বাকী রইলো বোঝা৷ যেখানে আরাধনা করলে আল্লাহ, ঈশ্বর, গড ডাকলে স্বর্গ যায় পাওয়া, সেখানে ভন্ড কেন পীর কবিরাজ ভন্ড কিসের হাওয়া৷ আল্লাহর নামে, ভগবানের নামে দিলে তাবিজ তাওতো সত্য হয় যদি তাদের নামে আরাধনা করলে স্বর্গ মিছে নয়৷

আপনি দেখবেন ইসলাম মূর্তি ভাঙে কারণ মাটির মূর্তি পূজলে আল্লাহর অবমাননা হয়, বাতাসতে পূজার নাম আল্লাহ৷ দেখবেন যুক্তিতে আসবে বাতাস কি দেখা যায়? সেটা কেমন দেখতে! স্বাদ কেমন, গন্ধ কেমন এসব প্রশ্ন? বাতাস দেখা যায়না তাই আল্লাহকেও দেখা যায়না, এ হলো যুক্তি৷ তাতেও আপনি পেলেন বাতাস=আল্লাহ/ঈশ্বর৷ খোলা মাঠে আপনি একটা লাঠিতে একটা পলিথিন বেঁধে দিন দেখবেন আল্লাহ/ঈশ্বর পলিথিনে ঢুকে কেমন নড়ছে৷ আল্লাহ/ঈশ্বরকে দেখা যায়না, বাতাসও না তবে অস্তিত্ব প্রমাণে ওটাই গড৷ তবে ইহুদিরা ইলেট্রিক ফ্যান বানিয়ে বাতাস তৈরী করেছেন মানে আল্লাহ ঈশ্বরের জন্ম দিচ্ছেন৷ না অত গভীরে যাবার দরকার নেই তাতে অনুভূতিতে লাগার আশংকা বেশি৷

আপনি দেখবেন তার অস্তিত্ব থাকুক বা না থাকুক তাকে মনে মনে পুরুষ ভাবা হয় এটা হাবে ভাবে বুঝবেন কিন্তু মুখে স্বীকার করবে না৷ ঈশ্বর প্রভু এসব পুরুষেরই নাম হয়েছে, নারীতো ঈশ্বরী নাম ধারন করে৷ ভগবান বলতেও ধর্মে কিন্তু পুরুষকে ইঙ্গিত৷ ঈশ্বর আল্লাহ এক এবং অদ্বিতীয়! বিশ্বাস করুন আমি কখনে রবীন্দ্রনাথ নজরুল দুই তৃতীয় দেখিনি৷

আপনি দেখবেন বৌদ্ধরা বলছে আমরা নিরীশ্বরবাদী৷ মানে তাদের দাবী ঈশ্বর বলে কেউ নেই৷ এতেই তারা নাস্তিক বলে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে৷ সমস্যাটা সেখানে নয়, সমস্যা হলো ঈশ্বর নেই কিন্তু স্বর্গ নরক আছে৷ আমি বুঝিনা কল্পনার স্বর্গ নরক না থাকলে ঈশ্বর নেই যুক্তি কেমনে ঠিকে৷ স্বর্গ নরক থাকলে ঈশ্বর থাকবেনা কেন? স্বর্গ নরক কি তবে আমার বাপে চালায়? মৃত্যুর পরে বিচার আচার পূনজন্ম মানবে কিন্তু ঈশ্বর মানবে না, সেদিক থেকে হিন্দু মুসলমানরাতো তাদের চেয়ে উন্নত! অন্তত একটা ঈশ্বর বসিয়ে স্বর্গ নরক চালায়৷

আপনি দেখবেন হিন্দুদের একেশ্বরবাদ রচনা করতে৷ সেই তারা এই ঈশ্বরকে নানা রুপে এনে দেখিয়ে যুগে যুগে অবতার ট্যাগ লাগিয়ে দিচ্ছে৷ যুগে যুগে আবির্ভাব হওয়া এই শক্তিমান যখন মূর্তি ভাঙাভাঙি হয় তখন লুকে লুকে অর্থ্যাৎ লুকিয়ে থাকে৷ দেখবেন বলছে সত্য নারায়ণের পূজা, তাহলে মিথ্যা নারারণও আছে৷ আমি মাঝে মাঝে ভাবি এই ভগবানেরা এত পূজা খায়, কত ফল ফলাদি, এদের এত শক্তি যায় কই!? এরাতো পায়খানাও করেনা৷ পরে হেসে ভাবি করবে কিভাবে! হয় ইট বালি দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিলো নয়তো পেছনে বাঁশ গাছ দিয়ে খাড়া করে দিলো৷ অবশ্য এতে অনেকেরই রাগ হবে, কিন্তু তারা ভাবে আমি ভাবতে দোষ কি! তারাতো ভাবে পূজা না করলে ভগবান উপোষ থাকে, আমি ভাবছি পায়খানা না করলেত ভগবান মারা যাবে৷ মহৎ চিন্তায়তো করছি৷

খ্রিষ্টান ইসলামরা ভাবছে যিশু ঈশ্বরের পুত্র৷ বাপ নেই মা আছে৷ আমি কিন্তু উপরে ভুল বলিনি ঈশ্বরের লিঙ্গ নির্ধারণ করা হয় হাবে ভাবে৷ যদি এখন বলি সব কিছু ঈশ্বরের সৃষ্টি তাদের দাবী তাহলে কি কারণে শুধু যিশু ঈশ্বর পুত্র হবেন!? ঈশ্বর কি ম্যারির সাথে সরাসরি যৌনতায় লিপ্ত তবে? তা না হলে যদি জন্ম দিলেই শুধু পিতা মাতা হয়না এমন যুক্তিও আসে, তবুও সবাই ঈশ্বর পুত্র হবার কথা তাই নয় কি? আপনি দেখবেন পাগলিটা মা হলে সবাই বলবে পুরুষ কত খারাপ, অথচ ঈশ্বর তখন আসবেনা৷ যদি পাগলির মা হবার পেছনে ঈশ্বরের হাত না থাকে তবে যিশুর বেলাতেও থাকবে না এটাইতো সহজ কথা৷ আর যিশুর সৃষ্টিতে যদি ঈশ্বর বাপ হবেন, তবে শুধু মানুষ কেনো! গরু ছাগল, ভেড়া মোষ সবার বাপই সে৷ সেদিক থেকে ভাই বোনকে কেটে খাওয়া নোংরা

আপনি দেখবেন শয়তানকে ঢিল মারছে সৌদিতে, আপনি দেখবেন অবৈধ্য বলে ধর্ষণ নয় বরং যৌনতার ক্ষেত্রেও পাথর মারার বিধান৷ কারণ এটাও শয়তানি বলে বিবেচিত৷ তাহলে পেলেন ঢিল পাথরের টোকাটুকি খায় শয়তান৷ পস্রাব করার পরে দেখবেন ঢিলের টোকাটুকি করে, তাহলে ভাবুন নিজের অঙ্গে আরেক শয়তান৷ না এটা যুক্তি নয়, এটা হাস্যকর একটা বিনোদন৷ আর যাই বলুন ওটার জন্যইতো প্রতিদিন এত গালি শুনি তাইনা?

কেউ যদি বাতাসে আল্লাহ দেখতে পান, কেউ মূর্তিতে ভগবান দেখে এতে অসুবিধার কী? সেই তারা যদিও এত অপরাধ এত অন্যায় অনাচার দেখেনা বা মানুষের মাঝে কিছু দেখেনা৷ একেশ্বর বলে তারা কেউ মন্দিরে, কেউ মসজিদে, কেউ গীর্জায় যায়না৷ অবশ্য বাপের যদি জন্ম নিয়ন্ত্রনের জ্ঞান না থাকে এবং গরু ছাগলের মত জন্ম দেয় তবে সম্পত্তি নিয়ে এমন হবারই কথা৷

একটা তামিল ফ্লিমে দেখলাম রাজনীতিবীদ মানুষকে তথা গরীবের সাথে চরম অন্যায় করছে বলে ভগবান এসে তাকে খুন করেছে৷ এতে মিডিয়ায় এবং প্রশাসনে প্রশ্ন উঠলো এসব ভূয়া৷ পরে এক শাস্ত্রী আর এক টিভি ব্যক্তিত্যের আলোচনায় শাস্ত্রী চরম গরম৷ কারণ মেয়েটি বলেছে ভগবানকে দেখাতে৷ সরাসরি মেয়েটাকে নাস্তিক বলে চেঁচিয়ে বলছে ভগবান মানেনা বলেই আজ এমন পরিণতি৷ তবে কি মোল্লারা মূর্তি ভাঙে ভগবান মানছে না বলে হিন্দুরা? গলা কাটছে ভগবান না মানায়? নাকি ইসলাম ভগবান মানছে না বলে!? তাহলে নাস্তিকরাওতো ভগবান মানেনা, কই তারাতো মূর্তি ভাঙেনি, কল্লা ফেলেনি? উল্টো কালি দূর্গাকে দেখা যায় এসব কাটাকাটিতে অথচ তাদের কল্লা যখন ফেলে তখন ধার্মিকরাই কান্নাকাটি করে, বলেনা ভগবান তুমি তোমাকে বাঁচাতে পারোনা আমাদের কি বাঁচাবে৷ শুধুতো পূজা খেয়ে যাচ্ছো কাজের কাজ কিচ্ছু না৷ যে মাটি সেই মাটি৷ শাস্ত্রী মেয়েটাকে এটাও বলছে তুমি এলে কোত্থেকে!! মেয়েটা বলছে বাবা মা৷ বলে তারা এলো কোত্থেকে, বলে তাদের বাবা মা৷ এবার তাদের তাদের তাদের এভাবে ওরা এলো কোত্থেকে!? মেয়েটা চুপ৷ এখানে ধার্মিক দর্শকরা বেশ খুশি হবেন, কারণ বাপেরও বাপ থাকে বলে জাহির৷ কিন্তু বাপের ও বাপ থাকতে পারে আল্লাহ ঈশ্বরের বাপ থাকেনা ৷ এখানেই সবাই থ৷ মেয়েটা বলতে পারতো আল্লাহ ঈশ্বর এলো কোত্থেকে! কিন্তু সিনেমার প্রয়োজনে এ প্রশ্ন হয় না৷ আল্লাহ ঈশ্বর মানুষের সৃষ্টি যেহেতু তা অপ্রমাণিত সে কথা না হয় না বললাম, যদি তারা নিজেই নিজের সৃষ্টি হবে, মানুষ হতে দোষ কোথায়৷ এমন চিন্তা ভুল কারণ পাপ, কারণ ধর্ম, কারণ স্বার্থ, কারণ কল্পনার স্বর্গ নরকেরই লোভ৷

ধর্মপুরে তারা যা ভাবে সেটাই সত্য বাকী সব মিথ্যা৷ কেউ মূতি পূজে বলে ঈশ্বর নাই, কেউ মূর্তি পূজে বলে যুগে যুগে রক্ষাকারী, কেউ বাতাস পূজে বলে অর্থ্যাৎ কল্পিত মূতি পূজে বলে মূর্তি পূজা হারাম, কেউ ঈশ্বর পুত্র হয়ে যে মরেছে খুঁটির উপর তার বিশাল শক্তি বলে জাহির করে৷ এই চলে এখানে৷ কী অদ্ভূত প্রাণীগুলো! যে হলো মাবুদ আসলে সে মহাভূত৷

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঙালী ফকির চাষী
কাঙালী ফকির চাষী এর ছবি
Offline
Last seen: 9 ঘন্টা 28 min ago
Joined: শুক্রবার, ডিসেম্বর 29, 2017 - 2:02পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর