নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কাঙালী ফকির চাষী
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • মাহের ইসলাম
  • মৃত কালপুরুষ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

কেন গো মা তোর ধুলায় আসন, কেন গো মা তোর মলিন বেশ



ফিরিয়ে দাও দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত অন্তরের সেই গান, "বঙ্গ আমার, জননী আমার, ধাত্রী আমার, আমার দেশ...কেন গো মা তোর শুষ্ক নয়ন, কেন গো মা তোর রুক্ষ কেশ ৷ কেন গো মা তোর ধুলায় আসন, কেন গো মা তোর মলিন বেশ ৷"
======================================
বাংলাদেশ(পূর্ব বঙ্গ) ও পশ্চিমবঙ্গ আমরা যেটাকে বৃহৎ বাংলা বলে থাকি। এককালে ভারতবর্ষের কোলে থেকেই পাশাপাশি পাকিস্তান নামক ওপর একটি দেশের জন্ম নেয় শুধু মাত্র ধর্মের উপর ভিত্তি করে।
অথচ বাঙ্গালি জাতি হাজার বছর ধরে একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ ব্যবস্থাপনার মাঝে ধর্মীয় ভেদাভেদ বিহীন এক অপরূপ সুন্দর পরিবেশেই খুব ভালই তো ছিল। ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার বিশ্বাসঘাতক মিত্রদের সাথে সন্ধি করে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাব সিরাজৌদ্দলাকে পরাজিত করে আর ঠিক ঐ জায়গাটিতেই ঘটে যায় এই বাংলার চরম বিপর্যয়, যদিও নবাব সিরাজৌদ্দলা নিজে বাঙালি ছিলেন না কিন্তু বাংলার সেই দুর্যোগময় মুহুর্তে ছিলেন বাঙালিদের একমাত্র কান্ডারী। ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা, বিহার, উড়ি্ষ্যা ও আসাম নিয়ে একটি প্রশাসনিক এলাকায় তৈরি করা হয় যার আয়তন ছিল ১,৮৯,০০০ বর্গমাইল। বাংলাকে বিভিক্তি করনের আর একট নকশা তৈরী হয়ে ছিল ১৮৬৬, উড়িষ্যায় প্রচন্ড দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে 'বাংলা প্রেসিডেন্সি' থেকে আসামকে পৃথক করে একটি পৃথক প্রেসিডেন্সি তৈরি করা হয় যা ঐ সময় শ্রীহট্ট, কাছাড় ও গোয়ালপাড়া ইত্যাদি বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলকে আসামের সাথে যুক্ত করা হয়েছিল। এটাই ছিল প্রথম বঙ্গভঙ্গপরিকল্পনা কিন্তু আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত এই বিভাজন কার্যকর করা সম্ভব হয় নাই। বাঙালি জাতি কোন অবস্থাতেই বাংলাকে বিভক্ত করনে সায় দেয় নাই। ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দের ৫ জুলাই বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত সরকারিভাবে ঘোষণা হলেও বাংলায় আন্দোলন করে তা রুখে দেয়।

দুর্ভাগা বাঙালি ভারত কে বিভিক্ত করতে নিজেরই ধর্মের ধ্বজা তুলে ১৯৪৭ সালে রাজনৈতিক ভাবে এই ভিভাজনের সৃষ্টি করে, এতে ইতিহাসের পাতা ঘটলে দেখা যায় যে ঘাতপ্রতিঘাতে এ দেশে হিন্দু জনগোষ্ঠীর চেতনা এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীর চেতনার মধ্যে একটি বিরাট পার্থক্য ও ভেদ রেখার সৃষ্টি হয়েছিল। পার্থক্যের চেতনা বোধ এমন ভয়ানক অবস্থায় পৌঁছে গেল যে ধর্মকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে সুজলা সুফলা সবুজ বাংলাকে বিভক্তি করা হলো। আমরা ভুলে গেলাম কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত একটি গান "বঙ্গ আমার, জননী আমার, ধাত্রী আমার, আমার দেশ...কেন গো মা তোর শুষ্ক নয়ন, কেন গো মা তোর রুক্ষ কেশ ৷ কেন গো মা তোর ধুলায় আসন, কেন গো মা তোর মলিন বেশ ৷"

১৯৪৭ সালে ধর্মটাই হয়ে ওঠে দেশ ভাগের বিশেষ কারণ। বাঙালি জাতির উপর নেমে আসে সাম্প্রদায়িকতার কালো থাবা। এই থাবা থকে মুক্তি পেতে আমাদের অপেক্ষা করতে হয় ১৯৭১ সাল পর্যন্ত। জন্ম নেয় ধর্মনিরপেক্ষ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। যাকে বলে এই উপমহাদেশে একটি নতুন সেকুলার দেশ, বাংলাদেশ।

ভাবতেও অবাক লাগে, ১৯৪৭ সালের পর এই দেশ থকে ৫০ মিলিয়নেরও বেশি হিন্দুদের বিতাড়িত করা হয়েছে। কিংবা অনেকেই বিপদে পড়ে স্বেচ্ছায় এ দেশ থেকে ভারতে চলে গেছে।

১৯৮৮ সালেই স্বৈরাচার এরশাদ সরকার রাষ্ট্র ধর্ম সংবিধানে যোগ করে আবার সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করে। পর্দার আড়ালে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে রাষ্ট্র একটি বিশেষ ধর্মকে সাংবিধানিক ভাবেই এখন পর্যন্ত লালন পালন করতে যাচ্ছে। সত্যি কি অদ্ভুত সেলুকাস এই বাংলাদেশ। স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করতে না করতে করতেই সবার অগোচরে সংবিধানের ভেতরে রাষ্ট্র ধর্ম ঢুকে গেল,
প্রশ্ন :
# এতই যদি ধর্মনিরপেক্ষতার প্রয়োজন ছিল তবে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র ধর্ম রেখে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ নামে এই প্রহসন কেন?

# রাষ্ট্র ধর্মকে রক্ষা করতে গিয়ে আজ সমগ্র দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাষ্প ছড়িয়ে যাচ্ছে। দেশের আনাচে কানাচে ধর্মীয় জঙ্গি সংগঠন জন্ম নিচ্ছে, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টানদের উপর চলছে ধর্ষণ, নিপীড়ন, হত্যা, জবর দখল আর বাধ্য করা হচ্ছে দেশ ত্যাগে, প্রতি বছর গড়ে হাজারেরও বেশি প্রতিমা ভাংচুর করা হয়! ৫৭ ধারা কি তখন ঘুমিয়ে থাকে।

# কিছুদিন আগেই রামু ও কক্সবাজেরে ধর্মীয় উন্মাদনার এক বীভৎস ঘটনা আমাদের অনেকেরই জানা, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায় কিন্তু আমাদের টনক নড়ে না। ১৯৭১ সালেও পাক সামরিক বাহিনী হিন্দুদের উপর অত্যাচার করেছে। দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। কিন্তু আজ বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর যে পরিমাণ নির্যাতন নিপীড়ন চালানো হচ্ছে তা নিঃসন্দেহে সেই মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

# ১৯৪৭ সালের পর থেকেই যেভাবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু নারীদেরকে অত্যাচার, ধর্ষণ, শারীরিক লাঞ্ছনা এবং হত্যা করা হয়েছে তার বীভৎস বিবরণ টানতে গেলে অনেকেরই ধৈর্যচ্যুতি ঘটবে। বর্তমানে বাংলাদেশে হিন্দুদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ২৮% ভাগ থেকে ৮% শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।

# স্বাধীন বাংলাদেশে হিন্দুদের সম্পত্তি দখলের এক মহা-উৎসব পালিত হচ্ছে, আজ যদি শত্রু সম্পত্তি আইনটি অর্পিত সম্পত্তিতে পরিবর্তন না করে তা সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হতো তবে হিন্দুদের সম্পত্তি জবর দখলের এই মহা-উৎসব তৈরি হতো না।

রাষ্ট্র ধর্মকে পুঁজি করে আজ যারাই এই দেশকে রক্ষা করতে চাইছেন তাদের প্রতি আমার একটাই অনুরোধ একবার অন্তত নিশ্চিত করেই হিন্দু পরিবারে জন্ম নিয়ে তাদের অন্তর আত্মার কান্না কে শোনার চেষ্টা করবেন !
--- মাহবুব আরিফ কিন্তু।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কিন্তু
কিন্তু এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 3 min ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 5:41অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর