নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

কোরানের চ্যালেঞ্জ: পারলে কোরানের মত করে একটা কিতাব লিখে আনো তো ?


মুমিনরা যখনই কোরান নিয়ে বিতর্ক করতে আসে , দেখা যায় প্রত্যেকেই একটা পয়েন্ট নিয়ে আসে আর বলে - পারলে কোরানের মত করে একটা কিতাব লিখে আনো তো । আবার সাথে সাথেই দাবী করে দুনিয়ার কেউ কোনদিন সেটা পারে নি , পারবেও না , আর সেটাই হলো কোরান যে সৃষ্টিকর্তার বানী , তার অকাট্য প্রমান। এবার এই দাবী যে কতটা অসার , এবং একই সাথে এই দাবী যে কোরানের আল্লাহ যে আসলে মানুষের মত কেউ প্রমান করে, সেটা আলোচনা করা যাক।

প্রথমেই কোরানের দেয়া চ্যালেঞ্জটা দেখা যাক ---

সুরা বনি ইসরাইল - ১৭: ৮৮: বলুনঃ যদি মানব ও জ্বিন এই কোরআনের অনুরূপ রচনা করে আনয়নের জন্যে জড়ো হয়, এবং তারা পরস্পরের সাহায্যকারী হয়; তবুও তারা কখনও এর অনুরূপ রচনা করে আনতে পারবে না।

সুরা হুদ -১১:১৩: তারা কি বলে? কোরআন তুমি তৈরী করেছ? তুমি বল, তবে তোমরাও অনুরূপ দশটি সূরা তৈরী করে নিয়ে আস এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পার ডেকে নাও, যদি তোমাদের কথা সত্য হয়ে থাকে।

সুরা বাকারা-২:২৩: এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।

এবার উক্ত আয়াত সমূহের উত্তর দেয়া যাক।

প্রথমত: আল্লাহ যদি অসীম ক্ষমতাশালী সৃষ্টিকর্তা হয় , তার কাছে মানুষের মত প্রানী নিশ্চিত ভাবেই সামান্য প্রানী। অসীম ক্ষমতাশালীর কাছে অতি সামান্য ক্ষমতার অধিকারী মানুষের কোন তুলনাই হতে পারে না। তাই অসীম ক্ষমতাশালী সৃষ্টিকর্তা তুচ্ছ মানুষকে তার ক্ষমতা সম্পর্কে কোন চ্যালেঞ্জও করতে পারে না। যদি করে বুঝতে হবে , সৃষ্টিকর্তার নামে চালু করা সেই চ্যালেঞ্জ আসলে সৃষ্টিকর্তার না , বরং তা একজন মানুষের , আর সেই মানুষটাই আসলে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহর নাম ব্যবহার করে চ্যালেঞ্জটা করছে। উদাহরন হিসাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কথা ধরা যাক। বাংলাদেশের অন্য যে কোন মানুষের তুলনায় তার ক্ষমতা অনেক বেশী। উনি কখনই একজন সাধারন মানুষকে চ্যালেঞ্জ করবেন না। কারন উনি ভাল করেই জানেন , উনি চ্যালেঞ্জ করলে সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহনের জন্যে কেউ এগিয়ে আসবে না। আর তার ফলে সাধারন মানুষ বরং তাকে পাগল হিসাবে সাব্যাস্ত করবে। তাই কোরানে আল্লাহর এই চ্যালেঞ্জ প্রমান করে , কোরানের আল্লাহ পাগল। সৃষ্টিকর্তা যেহেতু পাগল হতে পারে না , তাই কোরানের এই আল্লাহ বস্তুত: মুহাম্মদ নিজে, নিজের উন্মাদীয় প্রলাপকেই মুহাম্মদ আল্লাহর নামে চালাচ্ছে। সেই কারনেই মক্কার কুরাইশরা মুহাম্মদকে পাগল , উন্মাদ ইত্যাদি বলত। যা ছিল যথার্থ।

দ্বিতীয়ত: কোরানের মধ্যে অসংখ্য ভুল। ব্যাকরনগত ভুল , ঐতিহাসিক ভুল, বিজ্ঞানগত ভুল। মোট কথা গোটা কোরানটা একটা হ য ব র ল মার্কা কিতাব। যার আগা মাথা কিছুই নেই। কেউ সেটা পড়ে তার সঠিক অর্থও বুঝবে না। বর্তমান কালে কোন শিক্ষিত ব্যাক্তি কখনই এই ধরনের একটা ভুলে ভরা কিতাব লিখবে না। যদি লেখে লোকে তা পড়বে না , বরং তাকেও পাগল বলে গণ্য করবে।

তৃতীয়ত: কোরানের মধ্যে অনৈতিক ও হিংস্র কথা বার্তা এত বেশী যে , কেউ যদি এই ধরনের একটা কিতাব লিখে প্রচার করে যে তার কিতাবের আদর্শই সর্বশ্রেষ্ট আদর্শ ,তাহলে তাকে অচিরেই জেলে যেতে হবে , না হয় পাগলা গারদে যেতে হবে। কোরানের মধ্যে দাস প্রথা হালাল কারন দাসীর সাথে সেক্স করার অনুমতি বিদ্যমান, এক সাথে চারটা স্ত্রী রাখা হালাল , বন্দিনী নারীকে ধর্ষন করা হালাল , স্ত্রীকে প্রহার করা হালাল , নারীদেরকে যৌন পুতুল বলা হয়েছে, মানুষ হিসাবে নারীদেরকে স্বীকার করা হয় নি , ডাকাতিকে বৈধ করা হয়েছে , যারা ইসলাম গ্রহন করবে না তাদেরকে আক্রমন করে হত্যা করতে বলা হয়েছে, দুনিয়ার সব অমুসলিমদেরকে ঘৃণা করতে বলা হয়েছে , তাদেরকে বার বার অভিশাপ দেয়া হয়েছে , বলা হয়েছে তারা নিকৃষ্টতম প্রানী - এ ধরনের হাজারো অনৈতিক ও হিংস্র কথা কোরানে বলা হয়েছে। বর্তমান যুগে কেউ যদি এসব অনৈতিক ও হিংস্র কাজ কর্মকে বৈধ বলে একটা কিতাব লেখে , তাহলে তার কি পরিণতি হবে ?

চতুর্থত: ধরা যাক , এত কিছুর পরেও কেউ একজন কোরানের মত করে একটা কিতাব লেখার চেষ্টা করল। তাহলে কি হবে ? আসলে কেউ কি অন্য কারো মতো করে কিছু লিখতে পারে ? নজরুলের মত কবিতা কি কেউ এখন লিখতে পারে ? পারে না। আবুল নামের কেউ নজরুলের মত কবিতা লিখতে গেলে , সেটা নজরুল কবিতা হবে না , হবে আবুল কবিতা। তাই নীতিগত ভাবেই কোরানের মত করে কোন কিতাব কেউ লিখতে পারবে না , যেমনটা পারবে না খোদ আল্লাহ নজরুল বা রবীন্দ্রনাথ বা জীবনানন্দ দাসের মত কবিতা লিখতে। কিন্তু তারপরেও যদি কেউ একটা কিতাব লিখে দাবী করে যে সেটা কোরানের চাইতে উন্নত কিতাব হয়েছে। তাহলে কোরান ও তার কিতাবের বিচার করবে কে ? মুসলমানরা , নাকি অমুসলমানরা ? কোন মুসলমান কি এই সময় বিচারক হিসাবে কোন অমুসলিমকে মেনে নেবে ? সুতরাং মুসলমানরা নিজেরাই বিচারক হবে। এখন কোন মুসলমান কি কখনও অন্য কারও রচিত কিতাবকে কোরানের চাইতে উন্নত বলে স্বীকার করবে ? করবে না। সুতরাং কোরানের উক্ত চ্যালেঞ্জ যে আসলেই একটা অর্থহীন বা উন্মাদীয় চ্যালেঞ্জ , এটা বুঝতে রকেট বিজ্ঞানী হওয়ার দরকার পড়ে না।

কিন্তু কি অদ্ভুত ব্যাপার , এই সামান্য ব্যপারটা দুনিয়ার কোন মুসলমান, তা হোক সে মূর্খ বা শিক্ষিত , কারও মাথাতেই কাজ করে না। তারা বোঝে না যে কোরানে আল্লাহর উক্ত চ্যালেঞ্জ অর্থহীন , পাগলের প্রলাপ এবং তাই একই সাথে প্রমানিত হয় যে , কোরান বস্তুত , মুহাম্মদের নিজের কথা বার্তা , যা সে আল্লাহর নামে চালিয়েছে।

Comments

সলিম সাহা এর ছবি
 

মোল্লা সাহেব, কোরআন বিষয়ে আপনার অনেক অভিযোগ, সেই সাথে আপনার অভিযোগ মোহাম্মদের নবী হওয়া বিষয়ে। মুলতঃ আপনাদের মতো একচোখা দোষ খোঁজা মানুষদের সকলেরই কোরআন ও মোহাম্মদ বিষয়ে একই অভিযোগ। আর আমি এই অভিযোগ আমি শুনে আসছি সেই ৮২ সাল থেকে। তো- আপনার সকল অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রচলিত কোরআনের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ আছে। যদি আপনার সকল অভিযোগের মীমাংসা পেতে চান, তাহলে ধৈর্যের সাথে আমার সঙ্গে আলোচনায় আসতে পারেন।
কোন মোল্লা কি বলেছে, আর কোন অনুবাদক প্রচলিত কোরআনের কি অনুবাদ করেছে ও ব্যাখ্যা করেছে তা নিয়ে আপনার সাথে আমি বিতর্কে যাবনা। আমি বিতর্কে যাব, প্রচলিত কোরআনের ব্যাকরণগত ভাবে বর্তমানে যে অর্থ হয় সেই অর্থের ভিত্তিতে।
প্রথমতঃ আমি আপনার একটি ভুল ধারণার মীমাংসা দিই। প্রচলিত কোরআনের সূরা তাকবির এর ১৯ আয়াত ও সূরা হাক্কাহ এর ৪০ নম্বর আয়াতে পরিস্কার ঘোষণা করেছে যে- ইন্নাহু লা কাউলু রাসুলিন কারিম। যার বাংলা অর্থ- নিশ্চয় এই বাণী সমূহ সম্মানিত রাসুলের।
প্রচলিত কোরআন যেখানে নিজেই স্বীকার করে যে, প্রচলিত কোরআনের বাণী সমূহ সম্মানিত রাসুলের, সেখানে কেউ যদি প্রচলিত কোরআনের স্বিকারের বাইরে বিশ্বাস করে যে, এই প্রচলিত কোরআন আল্লাহ্‌র বাণী, সেটা প্রচলিত কোরআনের সমস্যা নয়, এটা- যে বিশ্বাস করে এই প্রচলিত কোরআন আল্লাহর বাণী তাঁর সমস্যা। এখন আপনি এই প্রচলিত কোরআনের মত সূরা আয়াত রচনা করে এই প্রচলিত কোরআনের সাথে তুলনা করতেই পারেন। তবে প্রচলিত কোরআন চ্যালেঞ্জ করেছে মূল কোরআনের মতো একটি সূরা রচনা করে দেখাও বলে। পারলে আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য যে কারও সাহায্য নিয়ে দেখতে পারো।
আল্লাহ্‌ ছাড়া যে কারো সাহায্য নেওয়ার কথা বলে, প্রচলিত কোরআন আল্লাহ্‌র বাণী মূল কোরআনে থাকা সূরার মতো একটি সূরা রচনা করতে বলেছে, প্রচলিত কোরআন রাসুলের বাণী এর সাথে কোন সূরার তুলনা করতে বলে নাই।
আপনি কি মূল কোরআন ও প্রচলিত কোরআনের বিষয়ে সঠিক কোন তথ্য জানেন। না জানলে আসুন, প্রথমে আমরা মূল কোরআন ও প্রচলিত কোরআনের বিষয়ে মীমাংসার জন্য আলোচনায় বসি।
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নেওয়া ছলনাময়ী আশ্রয়টুকুর নামই, প্রেম বা ভালবাসা। সেরু পাগলার বাণী।

 
মারুফ রুসাফি এর ছবি
 

Sura Al Kitaab

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

Technology Is For Us

We Are Not For Technology

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঠমোল্লা
কাঠমোল্লা এর ছবি
Offline
Last seen: 3 দিন 3 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 4:48অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর