নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • মাহের ইসলাম
  • মৃত কালপুরুষ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

ধর্ম ও শিশুদের ক্ষুদ্র মন



ধর্মীয় উন্মাদনা থেকে একটি দেশকে উদ্ধার করতে হলে, একজন শিশুকে প্রকৃত মানুষ হিসাবে তৈরি করতে হলে, যোগ্য নাগরিক হিসাবে দেশে প্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে আমাদের কি কিছুই করণীয় নাই ? একটু ভেবে দেখবেন একজন শিশুকে আমরা কত সহজে একটি শিশু বলে ফেলি, আমরা অনেক সময় ভুলে যাই যে একজন শিশু জন্মের পরপরই মানুষ হিসাবে পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকার সব অধিকার নিয়েই ভূমিষ্ঠ হয়, তারপরও শিশুকে একজনের জায়গায় একটি বলতে আমাদের বিবেকে একটুও বাধে না। একজন শিশুকে মানুষের অধিকার দিতে তাকে একটি বলা যায় কি ?

একজন শিশু বাস্তবতা ও চোখের সামনে যেটা দেখে সেটাই বিশ্বাস করে, যেটা দেখা যায়না সেটা তার চিন্তার খোরাক হয়না, কাল্পনিক কোন বিষয়কে একজন শিশু তার নিজের মতো করে চিন্তা করে যদিও সেটা আমরা জোর করে তার মনের ভেতরে ঢোকাবার চেষ্টা করি।

ধর্ম বিষয়টি একজন শিশুর মনে নেহায়েত একটি কাল্পনিক বিষয় যা শিশু মনে ইতি বাচক নাকি নীতি বাচক প্রভাব ফেলবে তা আমরা নিজেরাও বুঝতে পারবো না। ধর্ম শিশুদের জন্যে জটিল ও কাল্পনিক একটি বিষয় যেটা ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে ধারণ করার ক্ষমতা একজন শিশুর নাও থাকতে পারে, ধর্ম নিয়ে আমাদের পরকালের দোযখে যাবার ভয় থাকতে পারে কিন্তু একজন শিশু ভয় পাবে অন্ধকারকে কারণ অন্ধকারে সে তার মাকে খুঁজে পায়না। কাজেই একজন শিশুকে কোন কাল্পনিক বিষয় জোর করে তার মাথায় প্রবেশ করানো অন্যায় বলে আমি মনে করি। একজন শিশু যখন ধর্ম বুঝতে পারবে তখন সে নিজেই বিচার বিবেচনা করে তার ধর্মকে বেছে নেবে আর না নিলেই বা ক্ষতিটা কোথায়, একজন শিশু তো অমানুষ হয়ে যাচ্ছে না। একজন শিশুকে মানবতা শেখাতে পারলেই যথেষ্ট নয়কি ?

কিছু দিনের মধ্যেই স্কেন্ডেনেভিয়া স্কুল কারিকুলাম থেকে শিশুদের জন্যে ধর্মীয় শিক্ষাকে সম্পূর্ণরূপে বাদ দেবার বিষয়টি গুরুত্বের সাথেই চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ বিষয়ে ভীষণ কাজ কর্ম করে যাচ্ছে।

সামান্য একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবো প্রতিটি অভিভাবক তার সন্তানদের প্রকৃত মানুষ হিসাবে তৈরি করতে কি পরিমান অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন কিন্তু হায় কতজন অভিভাবক জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সেই স্বপ্নকে সার্থক করতে পেরেছেন ? প্রশ্ন আসতে পারে এ ক্ষেত্রে কার ভূমিকা কতটুকু, সরকারের করণীয় কি ? নাগরিক দায়িত্ব কতটুকু ? ধর্ম এ বিষয়ে কি বলছে ? এত সব চিন্তা করতে গেলে সত্যি আমাদের সবারই যখনই পাগল হয়ে যাবার উপক্রম হয়, ঠিক তখনই আমাদের সেই চিন্তার শূন্যস্থান পূরণ করতে খুবই নীরবে ধর্ম তার জায়গা করে নেয়। আসলেই কি ধর্ম এই সব জটিল সমস্যার সমাধান দিতে পারে ? ধর্ম কি অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা এনে দিতে পারে ? সন্তান মানুষ করতে গেলে যে অক্লান্ত পরিশ্রম, শিক্ষা, আর জ্ঞানের প্রয়োজন হয় বাস্তবতার দৃষ্টিতে ধর্ম কি তার সমাধান দিতে পারে ? তার একমাত্র সমাধান হচ্ছে নাগরিক ও সমাজ ব্যবস্থার যৌথ সমন্বয়ে এটি সুন্দর ও সঠিক পথকে বেছে নেয়া আর এক্ষেত্রে আমাদের ও সরকারের যৌথ পরিকল্পনা নিয়ে একত্রে এগিয়ে আসতে হবে। একটি বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই সুন্দর সমাজ আর সুস্থ ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ।

আমরা কেউই চাইনা আমাদের সন্তানরা কখনোই মিথ্যা বলবে, মিথ্যাকে কে বিশ্বাস করবে, আমার চাই আমাদের সন্তানেরা সুন্দর চিন্তা করবে, তাদের মাঝে আত্মসম্মানবোধ ও মানবতা বোধ থাকবে। আমাদের দেশের শিক্ষা নীতিমালায় ধর্মীয় শিক্ষা হচ্ছে একটি ধারা, কেউ কি কখনো প্রশ্ন করেছি সেই শিক্ষা ব্যবস্থা কি ভাবে চলছে ? কতটুকু বিজ্ঞান, প্রকৃতি ও মানবতা সেই শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত ? ধর্ম শিক্ষা শিশু মনে তা কি ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে ?

আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে আমার জীবন থেকে একটি ঘটনা আপনাদের আজ বলে শোনাই, আমার বয়েস তখন বড় জোর আট কি নয়, প্রতিদিন ভোরে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণে আমাকে মসজিদে বড় হুজুরের কাছে পাঠানো হতো আর সেখানে আমাকে প্রায় প্রতিদিনই ধর্মীয় শিক্ষার ফাকে ফাকে দোজখের বীভৎস বর্ণনা শোনানো হতো আর আমি ঘরে এসে সারাটাদিন একটা আতঙ্কের মাঝেই দিন কাটাতাম, রাতের বেলা ঘুমাতে গেলেই মনে হতো আমার দুই কাঁধে কারা যেন বসে বসে আঁকিবুঁকি করছে, নানান চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারতাম না, চোখের সামনে সাপ আর আগুনের বীভৎস সব কাল্পনিক চিত্র ভেসে বেড়াতো, আমার ভেতরে দিন দিন একটা অপরাধ বোধ জায়গা করে নিলো, এখানে আমি আজ কার দোষ খুঁজে বেড়াবো ? এর জন্যে আমি কাকে দায়ী করবো ? আমার পিতা মাতাকে নাকি আমাদের সমাজ ব্যবস্থাকে। জ্ঞান বুদ্ধি হবার পর এই দুর্গতি থকে মুক্তি পেতে আমাকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে।

একজন পাঁচ বছরের শিশুকে হঠাৎ করেই বিশালাকৃতির কালী মূর্তির সামনে দাড়া করিয়ে দিলে সেই শিশুটির মানসিক অবস্থা কি হতে পারে একটু চিন্তা করে দেখুন, অথবা একজন শিশুর সামনেই একটি বিশাল আকৃতির পশুকে ঈদের নামে বীভত্স ভাবে জবাই দেয়া হচ্ছে, আমার অবস্থাও হয়েছিল ঠিক তাই।

মন দিয়ে একটু চিন্তা করে দেখুন তো মানুষ হত্যা, শিশু হত্যা, মুক্তিযোদ্ধা হত্যা, সাধারণ মানুষ হত্যা, রাজনৈতিক হত্যা, ব্লগার হত্যা, গুম করে হত্যা, দলীয় স্বার্থ সিদ্ধিতে নির্দেশনা দিয়ে বাসে, গাড়ীতে আগুন দিয়ে, পেট্রল বোমা মেরে শত শত মানুষ হত্যা সেই সাথে আত্মহত্যা | নারী ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ, শিক্ষক দ্বারা ছাত্র ছাত্রী ধর্ষণ, পশু ধর্ষণের মত জঘন্য রকমের মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ড আজ বাংলাদেশে এক সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে, ধর্ম কি আমাদের এসব ব্যাধি থকে মুক্ত করতে পেরেছে ? যদিও প্রতিটি ধর্মেই মানবতার আবেদন পরিপূর্ণ থাকার কথা বলা হলেও আসলেই কি তা লেখা আছে ? আমরা সার্থক হয়েছি কতটুকু ? আমাদের সন্তানরা আজ কোন দিকে ধাবিত হচ্ছে, কি পরিমাণ মানবতার শিক্ষা পাচ্ছে ? শুধু নিজের সন্তানের কথা ভাবলেই হবে না, একটু ভেবে দেখুন তো বর্তমানে পৃথিবীতে কত শিশু প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ? আসলে আমাদের যেটা প্রয়োজন সেটা অনেকেই অন্তর থকে অনুধাবন করলেও বাস্তবে সেই কথাটি জোর গলায় বলতে সাহস পাই না, ৫৭ ধারা কি ধারা ৩২ আমাদের মাথার উপর শানিত তরবারির মতো বসে আছে।

কথাটা হচ্ছে আমাদের সন্তানদের জন্যে শিক্ষা ব্যবস্থায় মানবতা নামে একটি নতুন বিষয় সংযুক্ত করা উচিৎ আর ধর্মীয় শিক্ষাকে শিশুদের জন্যে সম্পূর্ণ রূপে বাদ দেয়া উচিত যা কিনা স্কেনডেভেনিয়ার দেশগুলোতে কার্যকরী হতে যাচ্ছে, আমার তা পারবো কি? আমাদের উপমহাদেশে ধর্মীয় উন্মাদনার অন্তরালে আমরা আজ ক্ষত বিক্ষত হয়ে যাচ্ছি, এত কিছু ভাববার সময় কোথায়। রাজনীতির মাঠে ধর্ম একটি প্রধান ট্রাম্প কার্ড, আর এটার উপর নির্ভর করেই পৃথিবীতে চলছে অসুস্থ রাজনীতি। অসুস্থ রাজনীতি অসুস্থ সমাজ তৈরি করে সেই অসুস্থ সমাজে মানবতা ও মানবিক মূল্যবোধ হ্রাস পেতে থাকে আমাদের মনের অজান্তেই দিনে দিনে একটি জাতী তার মানবিক চেতনা বোধ কে হারিয়ে ফেলে, তখন মানুষই মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলাটা একটা স্বাভাবিক ঘটনা হিসাবে ধরে নেয়, একজন শিশুকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলার মতো সামাজিক ব্যাধি বা মহামারী থেকে আমাদের রক্ষা করবে কে ? সামাজিক অবক্ষয় থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হলে, একটু সুন্দর সমাজ তৈরি করতে শিশুদের কাল্পনিক ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানে আপনার আমার চিন্তা ভাবনা কি ? এখনি পদক্ষেপ না নিলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।

----- মাহবুব আরিফ কিন্তু।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কিন্তু
কিন্তু এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 2 min ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 5:41অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর