নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

এক্সক্লুসিভ মেগাপোস্টঃ হজ্ব সমগ্র - হজ্বব্যবসার সকল নেতিবাচক দিকসমূহ


লেখকঃ মুশফিক ইমতিয়াজ চৌধুরী

ফেসবুক আইডিঃ www.facebook.com/mushfiqueimtiaz

'হজ্ব' নিয়ে বাংলা ভাষায় লিখিত সবচেয়ে বিস্তারিত ও যুক্তিতথ্য সমৃদ্ধ পূর্ণাঙ্গ প্রবন্ধ এটি। ধর্মের মুখোশ উন্মোচিত করতে লেখাটি সর্বত্র শেয়ার করার জন্য সকলকে বিনীত আহবান জানাই। যত শেয়ার করবেন, তত অজ্ঞ ধার্মিকদের চোখ খুলে যাবে। সস্তা ব্যঙ্গ বা অসম্পূর্ণ পোস্ট নয় বরং রেফারেন্স সমৃদ্ধ লেখাগুলো হোক মুক্তচিন্তার প্রচার ও প্রসারের মূল হাতিয়ার। সকলকে ধন্যবাদ।

কাবা শরীফকে বলা হয় ‘আল্লাহর ঘর’ এবং কোরান শরীফের সূরা মায়িদাহ এ আছে –

Allah made the Ka'ba, the Sacred House, an asylum of security for men

সূত্রঃ http://quranx.com/5.97

অর্থঃ আল্লাহ পবিত্র ঘর কাবাকে মানুষের নিরাপত্তার আশ্রয়স্থল হিশেবে বানিয়েছেন।

কিন্তু এই পবিত্র ঘরে বিভিন্ন সময়ে ভয়াবহ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং আল্লাহ এসব দুর্যোগ-দুর্ঘটনা থেকে কাবা শরীফকে কিংবা হজ্ব করতে আসা এর অন্তর্গত মানুষ বা হাজীদেরকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ থেকে বোঝা যায়, আল্লাহ বলে আসলে কেউ নেই, কাবা শরীফ শুধুই নামকাওয়াস্তে পবিত্র ঘর, আসলে ‘পবিত্র ঘর’ কনসেপ্টটাই সম্পূর্ণই হাস্যকর এবং অলীক একটি দাবী।

আসুন দেখে নেই

ক) শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ - ঘটনাকে কেন্দ্র করে অজস্র হাজীদের মৃত্যু

১) ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সালঃ ২৪শে সেপ্টেম্বর এই হজ্বে ৪১৭৩ জন হাজীর মৃত্যু হয়েছে বলে সৌদি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দিলেও ৩ ঘন্টার মধ্যে উক্ত প্রেস রিলিজ ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয় এবং উক্ত পেজের ভিজিটরদের হোমপেজে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। নিজের পিঠ বাঁচানো এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনা থেকে রক্ষা পেতে সৌদি স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরে এই ঘোষণাকে মিথ্যা বলে আখ্যা দেন, মৃত্যুর সংখ্যাকে প্রথমে ২৪৩১ জনে এবং পরে ৭৬৯ জনে কমিয়ে আনা হয়। এই হজ্বে বিভিন্ন দেশের অন্তত ২৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সর্বাধিক মৃত্যু হয় ইরানের হাজীদের। এতে বাংলাদেশের ১৩৭ জন হাজী মারা যায় ও ৫৩ জন হাজী নিখোঁজ বলে খবরে আসে।

সূত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/2015_Mina_stampede

২) ১২ জানুয়ারি, ২০০৬ সালঃ ২০০৪ সালে একই ধরনের দুর্ঘটনার পর ফতোয়া জারি করে আগে থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরেও এই হজ্বে ৩৪৬ জন হাজী পদদলিত হয়ে মারা যান।

সূত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/2006_Hajj_stampede

৩) ২২ জানুয়ারি, ২০০৫ সালঃ ৩ জন হাজী পদলিত হয়ে মারা যান।

সূত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/Incidents_during_the_Hajj

৪) ১ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ সালঃ এই হজ্বে পদদলিত হয়ে মারা যান ২৪৪-২৫১ হাজী এবং হজ্বের ধকল সহ্য করতে না পেরে ও অন্যান্য কারণে মারা যান ২৭২ হাজী।

সূত্রঃ http://news.bbc.co.uk/2/hi/middle_east/3448779.stm

৫) ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩ সালঃ পদদলিত হয়ে ১৪ জন হাজী মারা যান।

সূত্রঃ http://news.bbc.co.uk/2/hi/middle_east/2749231.stm

৬) ৫ মার্চ, ২০০১ সালঃ পদদলিত হয়ে ৩৫ জন হাজী মারা যান।

সূত্রঃ http://news.bbc.co.uk/2/hi/middle_east/1204816.stm

৭) ৯ এপ্রিল, ১৯৯৮ সালঃ ১১৮ জন হাজী মারা যান ও ১৮০ জন হাজী আহত হন।

সূত্রঃ http://news.bbc.co.uk/2/hi/middle_east/76348.stm

৮) ২৩ মে, ১৯৯৪ সালঃ সৌদি সূত্রমতে ৮২৯ জন হাজীর মৃত্যু ঘটে, ২৭০ জন মারা যায় পাথর নিক্ষেপের সময়, ৫৩৬ জন মারা যায় হিট স্ট্রোকে এবং ২৩ অন্যান্য বিচ্ছিন্ন ঘটনায়। আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন একজন কূটনীতিবিদ ও চিকিৎসক বলেন, মৃতের সংখ্যা কমিয়ে বলা হয়েছে, বাস্তবে মৃতের সংখ্যা ১০০০ এরও অধিক।

সূত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/1994_Hajj_stampede

৯) ২ জুলাই, ১৯৯০ সালঃ ব্রিজের রেলিং থেকে ৭ জন হাজী মাটিতে পড়ে গেলে অন্যান্য হাজীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয় এবং ভয়ে তারা আল মায়্যিসিম সুড়ঙ্গের ভেতরে ঢুকতে থাকে, ১০০০ জন মানুষের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন সুড়ঙ্গে ৫০০০ মানুষ আশ্রয় নেয় এবং সুড়ঙ্গের তাপমাত্রা কিছুক্ষণের মধ্যেই ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে। সেই মুহূর্তে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে সুড়ঙ্গে অন্ধকার নেমে আসে, ভেন্টিলেশন সিস্টেম বন্ধ হয়ে যায়। অসহনীয় গরমের আবদ্ধতায় অচেতন ও শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এবং অন্ধকারের ধাক্কাধাক্কিতে ১৪২৬ জন হাজী মারা যায়। সৌদি বাদশাহ ফাহাদের ‘আল্লাহর ইচ্ছাই সবকিছুর ঊর্ধ্বে এবং এসব হাজী এখন না মরলে অন্য সময় মরতো’ এমন উদ্ভট নির্দয় উক্তিতে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সূত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/1990_Mecca_tunnel_tragedy

খ) আগুনে পুড়ে মৃত্যু

১) ডিসেম্বর, ১৯৭৫ সালঃ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তাবুতে আগুন ধরে ২০০ হাজীর মৃত্যু হয়।

সূত্রঃ http://content.time.com/time/magazine/article/0,9171,1149340,00.html

২) ১৫ এপ্রিল, ১৯৯৭ সালঃ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘন্টায় ৬৪ কিলোমিটার বেগে ছুটে যাওয়া আগুনে ৭০০০০ তাবু পুড়ে একেবারে ছাই হয়ে যায় এবং ৩৪৩ জন হাজী মারা যায়। আহত হয় ১৫০০ এরও অধিক হাজী।

সূত্রঃ http://edition.cnn.com/WORLD/9704/16/saudi/index.html?_s=PM:WORLD

৩) ১ নভেম্বর, ২০১১ সালঃ কোচে লাগা আগুনে ২ জন হাজীর মৃত্যু হয়।

সূত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/Incidents_during_the_Hajj

গ) সহিংসতায় মৃত্যু

১) ৩১ জুলাই, ১৯৮৭ সালঃ আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া ইরানী হাজীদের মিছিলে তাদের পথরোধ করলে তাদের সাথে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে ৪০২ জন মারা যায় (২৭৫ ইরানী, ৮৫ সৌদি, ৪২ অন্যান্য) এবং ৬৪৯ জন আহত হয় ( ৩০৩ ইরানী, ১৪৫ সৌদি, ২০১ অন্যান্য)।

হাস্যকর ঘটনা হলো, পাকিস্তান এই ঘটনায় সৌদি আরবকে ২০০০০ সৈন্য দিলেও সৌদি আরব তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেয় কেননা এই ২০০০০ এর মধ্যে ছিল উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিয়া সৈন্য। ব্যাপারটি আন্তর্জাতিক মহলে কৌতুকের সৃষ্টি করে।

এই ঘটনায় সৌদি আরব ইরান থেকে হজ্বযাত্রীর সংখ্যা ১৫০০০০ থেকে কমিয়ে ৪৫০০০ এ নিয়ে আসার ঘোষণা দেয় এবং ইরান ৩ বছর সৌদি আরবে হজ্ব বয়কটের পাল্টা ঘোষণা দেয়।

সূত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/1987_Mecca_incident

২) ৯ জুলাই, ১৯৮৯ সালঃ ইরানের ষড়যন্ত্রে হজ্বে বোমা বিস্ফোরণের দায়ে ১৬ কুয়েতীকে সৌদি আরব শিরশ্ছেদের নির্দেশ দেয়। এতে ১ হাজী মারা যায় এবং ১৬ জন আহত হয়।

সূত্রঃ http://www.nytimes.com/1989/09/22/world/saudi-arabia-beheads-16-kuwaitis...

৩) ২০ নভেম্বর, ১৯৭৯ সালঃ একদল উগ্রবাদী মুসলিম ঘোষণা করে যে তাদের নেতা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল কাতানীই হচ্ছেন ইসলামের ত্রাণকর্তা ইমাম মেহদী এবং তাকে মান্য করার জন্য মুসলিমদের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই সন্ত্রাসীরা কাবার মসজিদুল হারামের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ২ সপ্তাহ ধরে তাদের সঙ্গে ফ্রান্স ও পাকিস্তানের কমান্ডো ইউনিটের সাহায্যপুষ্ট সৌদি বাহিনীর গোলাগুলি চলে। এতে সৌদি পক্ষে ১২৭ জন মারা যায় এবং ৪৫১ জন আহত হয়। সন্ত্রাসী পক্ষের ১১৭ জন মারা যায় এবং ৬৮ জনের শিরশ্ছেদ করা হয়। সন্ত্রাসীরা মসজিদুল হারামের ভেতর ঢুকে গেল, গোলাগুলি হলো, মানুষ মরলো অথচ তথাকথিত আল্লাহ কিছুই করতে পারলো না – ব্যাপারটা হাস্যকর।

সূত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/Grand_Mosque_seizure#Siege

ঘ) প্লেনক্র্যাশে মৃত্যু

১) ২২ জানুয়ারি, ১৯৭৩ সালঃ জর্ডানের বোয়িং ৭০৭ নাইজেরিয়াতে ১৭৬ হজ্বযাত্রীসহ বিধ্বস্ত হয়।
২) ৪ ডিসেম্বর, ১৯৭৪ সালঃ মার্টিনএয়ার ফ্লাইট ১৩৮ শ্রীলংকায় ১৯১ জন হজ্বযাত্রী সহ বিধ্বস্ত হয়
৩) ১৫ নভেম্বর, ১৯৭৮ সালঃ অধিকাংশ ইন্দোনেশিয়ান হজ্বযাত্রী নিয়ে আইসল্যান্ডের একটি বিমান শ্রীলংকায় বিধ্বস্ত হয়, ১৭০ জন হাজী মারা যায়।
৪) ২৬ নভেম্বর, ১৯৭৯ সালঃ পাকিস্তান এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭০৭ জেদ্দায় বিধ্বস্ত হয়, ১৫৬ হাজী মারা যায়।
৫) ১৯ আগস্ট, ১৯৮০ সালঃ সৌদি বিমান রিয়াদ থেকে যাত্রার পরপরই বিধ্বস্ত হয়, ২৮৭ হাজী ও ১৪ ক্রু মারা যায়।
৬) ১১ জুলাই, ১৯৯১ সালঃ নাইজেরিয়ার বিমান জেদ্দায় বিধ্বস্ত হয়, ২৪৭ হাজী ও ১৪ ক্রু মারা যায়।

সূত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/Incidents_during_the_Hajj#Airplane_crashes

হজ্বের স্বাস্থ্যগত ক্ষতিঃ

১) মেনিনজাইটিস প্রাদুর্ভাবঃ হজ্ব থেকে ১৯৮৭ ও ২০০০-২০০১ সালে মেনিনজাইটিসের আন্তর্জাতিক প্রাদুর্ভাব ঘটে, ১৯৮৮ ও ১৯৯৯ সালে ঘটে স্থানীয় ও উমরাহভিত্তিক প্রাদুর্ভাব, ২০০০ সালে সৌদি আরবে মেনিনজাইটিসের প্রকোপ মহামারী আকারে পৌঁছায়।

সূত্রঃ https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S1201971216310207

২) রেসপাইরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনঃ নসোকমিয়াল নিউমোনিয়া, ভাইরাল ইনফ্লুয়েঞ্জা, মিডলইস্ট রেসপাইরেটরি সিনড্রোম ইত্যাদি ইনফেকশন হাজীদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। ওজুর সময় নাক পরিষ্কার করা থেকে এই অসুখগুলো হাজিদের মধ্যে ছড়ায়।

৩) ট্র্যাভেলার’স ডায়রিয়া, রোদে দীর্ঘক্ষণ হাটার ফলে ত্বকীয় ব্যাকটেরিয়াল ও ফাংগাল সংক্রমণ, ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিসের তীব্রতা বৃদ্ধি, পা ফাটাঃ এসব অসুখ হজ্বে বেশ কমন। মসজিদুল হারামে খালি পায়ে প্রবেশ করতে হয় বলে সেখানে সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এছাড়া দেশবিচারে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা এই অসুখের ক্ষেত্রে হাই রিস্ক কান্ট্রি হিশেবে বিবেচিত।

৪) হেপাটাইটিস বি, সি এবং এইডসঃ হজ্বে হেপাটাইটিস বি ও সি ও এইডস ছড়ানো খুবই স্বাভাবিক কেননা হজ্বের জন্য হাজীদের অনর্থক মাথা ন্যাড়া করতে হয় এবং এত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ব্লেডের যোগান দেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। তারা যেহেতু সেখানে কয়েকটা দিনের জন্য এসেছে, সেহেতু বারবার ব্লেড চেঞ্জ করা তাদের অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না, মোটের ওপরে যার নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া ইনসুলিন নির্ভর ডায়াবেটিক রোগীদের ঝামেলা এড়োতে বারবার একই ইনসুলিন ইঞ্জেকশন ব্যবহার করা থেকেও এসব অসুখ ছড়ানো একেবারেই অস্বাভাবিক নয়।

৫) হিট স্ট্রোক ও হিট এক্সজশনঃ প্রচণ্ড গরমে হজ্ব করে তার ধকল সহ্য করতে না পেরে প্রতি বছরই অনেক বৃদ্ধ ও শারীরিকভাবে দুর্বল হাজী সৌদি আরব থেকে লাশ হয়ে দেশে ফেরেন।

৬) কার্ডিওভাস্কুলার অসুখঃ স্বাভাবিক মৃত্যু বলে আপাতভাবে ঘোষিত মৃত্যুগুলো আসলে স্বাভাবিক নয়, হজ্বের কারণে প্রচণ্ড পরিশ্রম ও মাত্রাতিরিক্ত হাঁটায় বয়স্ক ও শারীরিকভাবে দুর্বল হাজীগণ আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাদের ক্রনিক ডিজিজের তীব্রতা মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে যায়। তাদের তথাকথিত সাধারণ মৃত্যুর ৪৪-৬৪% মৃত্যু হয় বিভিন্ন হৃদরোগে।

সূত্রঃ https://wwwnc.cdc.gov/travel/yellowbook/2018/select-destinations/saudi-a...

৭) নারীদের মিসক্যারিজ হয়ে গর্ভপাতঃ দীর্ঘ পথ হেঁটে প্রচণ্ড ক্লান্তি, ধাক্কাধাক্কি ও ফিজিক্যাল ইনজুরি – এই ৩ কারণে ২০১১ সালে ২০ জন গর্ভবতী নারীর মিসক্যারিজ হয়েছে বলে সৌদি আরবের একজন ডাক্তারের বক্তব্য দিলে সেটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

সূত্রঃ https://archive.li/9swoA

৮) সোয়াইন ফ্লুঃ ২০০৯ সালে এতে অন্তত ৭৩ জন আক্রান্ত ও ৫ জন হাজী মারা যায়।

সূত্রঃ https://www.voanews.com/a/saudi-health-minister-five-swine-flu-deaths-du...

৯) ইয়েলো ফিভার ও পোলিও সংক্রমণঃ এসব অসুখ হজ্বে দেখা গেছে।

সূত্রঃ http://www.who.int/wer/2010/wer8543/en

ঘ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ঘটনা

১) ৬ জানুয়ারি, ২০০৬ সালঃ মসজিদুল হারামের ৬০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত লুলুয়াত আল খায়ের নামক ৪ তলা একটি হোস্টেল ধসে পড়ে ৭৬ জন হাজী নিহত ও ৬২ জন আহত হয়।

সূত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/2006_Mecca_hostel_collapse

২) ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সালঃ মসজিদুল হারামের অভ্যন্তরে ক্রেন ধসে ১১১ জন হাজী নিহত এবং ৩৯৪ জন আহত হন। এতে ৫১ জন পাকিস্তানী এবং ২৫ জন করে বাংলাদেশী ও মিশরীয় নিহত হয়। আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনা বন্ধ করতে সৌদি বাদশাহ সালমান ২ লক্ষ ৬৬ হাজার আমেরিকান ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেন।

সূত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/Mecca_crane_collapse

৩) বন্যায় মৃত্যুঃ অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্টি জলাবদ্ধতা বন্যায় রূপ নেয় এবং হজ্বের সময় এই বন্যায় ৭৭ হাজী মারা যায়।

সূত্রঃ https://topnews.us/content/28575-77-muslims-killed-while-performing-hajj...

হজ্বের ব্যবসায়িক দিকঃ

১) হোটেল ও ট্যুরিজমঃ

সৌদি আরবের টোটাল জিডিপির মধ্যে হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম সেক্টর থেকে প্রতি বছর ২২.৬ বিলিয়ন ডলার বা ৮৫ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল আসে যার মধ্য থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ বিলিয়ন সৌদি রিয়ালই শুধুমাত্র আসে হজ্ব ও উমরাহ থেকে থেকে। উমরাহ আবার যে কোন সময় এবং যতবার খুশি করা যায়। সৌদি অর্থনীতিবিদ আব্দুল কাতিব হিশেব করে দেখেছেন প্রতি বছর হজ্ব থেকে বার্ষিক আয় হয় ৫.৩ থেকে ৬.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২০ থেকে ২৩ সৌদি রিয়াল। এর মধ্যে হোটেল/বাসাবাড়ি থেকে আসে মোট রাজস্বের ৪০%, উপহার থেকে আসে ১৫%, খাবার থেকে ১০% এবং অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে আসে বাকি ৩৫% ।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বারবার তাদের সতর্কবার্তা জানিয়েছেন যে অদূর ভবিষ্যতে সৌদি আরবে অর্থসংকট দেখা দেবে। ইন্টারন্যাশনাল মোনেটারি ফাণ্ডের ভাষ্য – সৌদিদের অর্থসংকট কাটাতে তেল থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে অন্য কিছুর সন্ধান করতে হবে। ২০১৬ সালে সৌদি আরবের বাজেট ঘাটতি ছিল ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিকভাবে ক্রুড তেলের মূল্য ধসে সৌদি আরবের ফরেইন রিজার্ভ ক্রমশ কমে আসছে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে হজ্ব ব্যবসাই হয়ে উঠবে সৌদিদের রাজস্ব আদায়ের প্রধানতম মাধ্যম।

সূত্রঃ https://www.rt.com/business/337135-saudi-hajj-revenues-oil/

২) চাঁদাবাজিঃ

হাজীদের কাছ থেকে সৌদি পুলিশের চাঁদাবাজি তথা লুটপাট করে বলে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধুমাত্র ২০১০ সালেই এরকম ৩২১টি অভিযোগ পাওয়া যায়।

সূত্রঃ https://web.archive.org/web/20120321222542/http://www.savemadinafoundati...

প্রশ্নঃ হজ্ব কী আসলেই ত্যাগের মহিমায় ভরা ধর্মীয় অনুষ্ঠান ?

উত্তরঃ

একেবারেই নয়। হজ্ব অন্ধবিশ্বাসে আল্লাহর কাজ করে কল্পিত জান্নাত লাভের স্বপ্ন দেখা এবং সৌদিতে কয়েকদিনের জন্য এসে পরিবার ও কাছের মানুষদের জন্য বিভিন্ন কেনাকাটা করে ব্যাপক অর্থ অপচয় ও আলিশান হোটেলে থাকার ভোগবিলাস।

হাজীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ লোটার জন্য ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে মক্কায় বানানো হয়েছে আবরাজ আল বাইত নামক পৃথিবীর ৩য় উচ্চতম ফ্রি-স্ট্যান্ডিং স্থাপনা যার মধ্যে রয়েছে ফাইভ-স্টার হোটেল, শপিং মল, বলরুম, হেলথ ক্লাব, গোল্ড লাউঞ্জ, পেন্টহাউজ, নামাজঘর, হাসপাতাল, স্টুডিও ইত্যাদি। মক্কার ওমর, কাবাহ ও খান্দামা পর্বত গুড়িয়ে এই স্থাপনা গড়া হয়েছে। শামিয়া জেলা পুরোই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

সূত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/Abraj_Al_Bait

এগুলো কী তথাকথিত ইসলামের ‘দীনদরিদ্র’ জীবনযাপন করার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ? উত্তর আমরা সকলেই জানি। এগুলো হচ্ছে ১০০% খাঁটি ব্যবসা, হজ্বে বিপুল সংখ্যক মানুষ এসে চাইবে মসজিদুল হারামের যত কাছে আবাসন ভাড়া নেওয়া যায়, তত ভাল। ফলে মসজিদুল হারামের কাছে এই মহা আলিশান স্থাপনা তৈরি করে হাজীদের এখানে কদিনের আবাসন নিতে প্রলুব্ধ করা হয় এবং তাদের থেকে আবাসন, খাওয়া দাওয়া, শপিং মল, হেলথ ক্লাব, বিভিন্ন অ্যাড-অন সার্ভিস ইত্যাদির মাধ্যমে বিপুল অংকের টাকা লোটা হয়। উক্ত হোটেলের কর্মকর্তা হাদী হেলালের মতে -

“মরক্কো, তিউনিশিয়া, তুরস্ক, ব্রিটেন, আলজেরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা মুসলিম হাজীরা আরাম আয়েশ ও বিলাসব্যসন খোঁজে। পক্ষান্তরে পাকিস্তানীরা এসব আলিশান হোটেলগুলোতে উঠতে চায় না। মসজিদুল হারামের যত কাছে কেউ হোটেল ভাড়া নেবে, তাকে তত বেশি টাকা দিতে হবে – এভাবেই নির্ধারিত হয় হোটেল ভাড়া”।

হজ্বের সময় সস্তা ৪০০-৫০০ রিয়ালের হোটেলের রোজকার ভাড়া হয় তার ৪-৫ গুণ অর্থাৎ ১৫০০-২০০০ রিয়াল বা তার চেয়েও বেশি। আর আবরাজ আল বাইতের মতো ফাইভ স্টার হোটেলে রয়েল স্যুট নিতে গেলে লাগে ২৩০০০-২৫০০০ সৌদি রিয়াল। আসুন দেখি –

The level of pampering offered by some of the hotels – Asprey toiletries, 24-hour butler service, $270 chocolate selections – may jar with the ethos of sacrifice, simplicity and humility of hajj but it is not a contradiction felt by the customers snapping up royal suites at $5,880 a night, eating gelato or milling around hangar-like lobbies of polished marble in their Hajj clothing of bedsheets, towels or burqas. Raffles is reporting 100% occupancy for it 211 rooms.

এই কী হজ্বের ত্যাগের নমুনা ? এগুলো কী ত্যাগ নাকি ভোগবিলাস ? হাদী হেলাল নিজেই বলেন হজ্ব মানেই একটা ব্যবসা এবং তারা ভাল করেই জানে যে মানুষ ধর্মের প্রতি দুর্বলতার কারণে হজ্বে আসবেই, এতে কোন ভুল নেই। আর হজ্ব কখনো মক্কা-মদীনা ছাড়া হয় না। জরাজীর্ণ হোটেলগুলোকে অর্থ দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে যেন এই হোটেলেই হাজীরা থাকে এবং তাদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ লোটা সম্ভব হয়।


“The big-name hotels come here because they know there is business here. People will not stop coming to hajj. They cannot do hajj anywhere else”

সূত্রঃ https://www.theguardian.com/world/2010/nov/14/mecca-hajj-saudi-arabia

চরম অন্ধ বিশ্বাস ও ত্যাগের ভাও ধরে হজ্ব করতে মজ্জা মদীনায় যায় সারা বিশ্বের ধর্মোন্মাদ মুসলমানেরা। আফ্রিকা থেকে শুরু করে ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশসহ প্রায় ২০-৩০ লক্ষ মুসলিম প্রতি বছর সৌদি সরকারকে বিলিয়ন বিলয়ন ডলারের ব্যবসা হাতে ধরিয়ে দেয়।

মনে রাখতে হবে, মুসলিম দেশগুলোতে তেল-গ্যাস আর ধর্ম ছাড়া বিক্রির আর কিছু নেই। প্রকৃতি দিয়েছে তেল-গ্যাস আর নবীরা দিয়েছে ধর্ম। ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের এই টাকার একটি মোটা অংশ ব্যয় হয় সৌদি রাজপরিবার ও সম্ভ্রান্তদের নিষিদ্ধ জীবনের খরচে। যেমন তেল-গ্যাস ও হজ্বের ধর্ম বিক্রির টাকা দিয়ে সারাবিশ্বে বিলাসবহুল প্রাসাদ কিনে তাতে সৌদিরা সংগ্রহ করে বিশ্বের সবচেয়ে নামীদামী পতিতাদের। তাদের বিভিন্ন সময়ে দেখতে পাওয়া যায় প্যারিসের প্রাসাদে কিংবা লাসভেগাসের হোটেল মিরেজ কিংবা হলিউডের ব্লু-ব্লাড ম্যাডামদের পতিতালয়ে। হলিউডের ম্যাডাম থেকে শুরু করে বাংলাদেশের হাজেরা জুলেখা সকলেই সৌদি রাজাবাদশা ও সম্ভ্রান্তদের চেনা মুখ। বিশ্বের কুখ্যাত নারী পাচারকারীদের প্রিয় খদ্দেরও সৌদি রাজা বাদশাহরা। ওরা ধর্ম বিক্রি করে কিন্তু নিজেরা ধর্ম পালন করে না। রোজার মাসে ওরা বিদেশে চলে যায়। ৫ বার নামাজ-মিলাদ, রোজা, শবে-কদর ইত্যাদির উৎপত্তি তাদের দেশেই কিন্তু খুব কম সৌদিই এসব পালন করে। মদ্যপান, ব্লু-ফিল্ম পতিতা ওদের ঘরেই গোপনে গোপনে চলতে থাকে। আবার, এরাই শরীয়া আইনে অন্যের বিচার করে বলে ওদের দেশে খুব সহজেই হাত কাটা, পা কাটা, চোখবিহীন পঙ্গু মানুষদের দেখতে পাওয়া যায়। অন্যের বেলায় ওরা প্রো-ইসলামিক হলেও, নিজেদের বেলায় প্রো-ওয়েস্টার্ন। সে কারণেই ওদের বিবাহিত পুরুষদের পতিতা ভোগের কোন শরিয়াহ বিচার হয় না। সে কারণেই অধিকাংশ মুসলিম দেশের মহিলাদের বোরকা পরতে হলেও মধ্যপ্রাচ্যের রাজা-বাদশাহদের স্ত্রীদের পাশ্চাত্যের নারীদের মতই স্বাধীন পোশাক পরতে দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ –

১) সৌদি প্রিন্সেস আমিরা আল তাওয়িলের পোশাক আশাকে সম্পূর্ণই প্রো-ওয়েস্টার্ন

২) সৌদি প্রিন্সের বিয়ের বিলাসব্যসন

৩) আল ওয়ালিদ বিন তালাল বিন আব্দুল আজিজের সম্পদ

৪) রিমা বিনতে তালাল বিন আবদুল আজিজের জীবনযাত্রা

৫) সৌদি প্রিন্সের ভোগবিলাসী জীবনযাত্রা

প্রশ্নঃ হজ্ব হাস্যকর দিকগুলো কী কী?

উত্তরঃ

১) পাহাড়ে অনর্থক দৌড়াদৌড়ি করে শক্তিক্ষয়ঃ হজ্জ-এর বিভিন্ন আচার-কায়দা ইব্রাহিম এর জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিভিন্ন ইসলামিক বর্ননায় উল্লেখ আছে ইব্রাহিম স্রষ্টার নির্দেশে তাঁর স্ত্রী বিবি হাজেরাকে নির্জন মরুভূমিতে রেখে এসেছিলেন। সেখানে, ক্বাবা শরীফের অদূরে, বিবি হাজেরা নবজাত শিশু ইসমাইলকে নিয়ে মহাবিপদে পড়েছিলেন। সাহায্যের জন্য কাউকে না পেয়ে তিনি পানির খোঁজে সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করেছিলেন। এই ঘটনার অন্ধ অনুকরণ করে হজ্জের সময় মুসলিমরা সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করে।

২) অহেতুক কান্নাকাটির ঢংঃ ইসলামে উল্লেখ আছে স্রষ্টা বেহেশত বা স্বর্গ থেকে আদম ও হাওয়া কে যখন পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন, এতে তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে উভয়ে আরাফাত ময়দানে এসে মিলিত হন। এই ঘটনার কারণে হজ্বের একটি অংশ হিসেবে মুসলিমরা আরাফাতের ময়দানে এসে উপস্খিত হয়ে স্রষ্টার কাছে কান্নাকাটি করার ঢং দেখায়।

৩) পাথরপূজার অন্ধ অনুকরণপ্রিয়তাঃ হাজরাল আসওয়াদ বা কালো পাথরকে নবী মোহাম্মদ চুমু খেতেন বলে হজ্বের সময় অন্ধ অনুকরণপ্রিয় মুসলিমেরাও এটিতে চুমু খান। আদম ও হাওয়া কোথায় আল্লাহর ঘর কাবা বানাবেন, সেটি নির্দেশের জন্যই এটি পতিত হয় বলে মুসলিমদের অন্ধবিশ্বাস রয়েছে। এটি নাকি প্রথমে সাদা ও উজ্জ্বল ছিল কিন্তু পৃথিবীর মানুষের পাপাচারের কারণে নাকি কালো হয়ে গেছে ! বাস্তবে এই পাথরকে অনেক গবেষক উল্কাপিণ্ড কিংবা পার্থিবই কোন তুচ্ছ শিলাপ্রস্তর বলে মতামত দিয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো – এই পাথর বিভিন্ন সময়ে ক্ষয়, ভাঙ্গন ও বিকৃতির শিকার হয়েছে। উমাইয়াদ খেলাফতের মক্কা আক্রমণের সময় ৬৮৩ খ্রিষ্টাব্দে গুলতি থেকে নিক্ষিপ্ত পাথরের মাধ্যমে প্রথম এটি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। পরে এটিকে রৌপ্যচূর্ণ দিয়ে পুনরায় জোড়া লাগানো হয়। ৯৩০ সালে কারম্যাশিয়ানরা এটি চুরি করে নিয়ে যায় ও তাদের নেতার মসজিদে এটি লাগানো হয় যাতে হজ্ব মক্কা থেকে সরিয়ে হাজারে নিয়ে যাওয়া যায় হজ্বের ব্যবসায়িক স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে। ৯৫২ সালে এটিকে অর্থের বিনিময়ে আব্বাসীদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। এই সকল ঘটনায় পাথরটি ভেঙ্গে ৭টুকরো হয়ে পড়ে। পাথরটি যাতে আর চুরি না হয়, সেজন্য কাবার রক্ষক মক্কার স্বর্ণকারদের ঢেকে এই পাথরটিকে একটি সিলভার ফ্রেমে বন্দী করেন এবং আজ অবধি এটি সেভাবেই আছে। একাদশ শতকে ফাতিমিদ খেলাফতের আল হাকিম বি-আমর আল্লাহ এটিকে চুরমার করতে যেয়ে নিহত হন, এতে পাথরের কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। হজরত উমর নাকি বলেছেন – হে পাথর। নবী মোহাম্মদ যদি তোমাকে চুমু না খেতেন, তবে আমি কখনোই তোমাকে চুমু খেতাম না। প্রশ্ন জাগে, এই পাথর যদি আসলেই তথাকথিত আল্লাহর প্রেরিত কোন কিছু হতো, তবে এটি কি টুকরো করে ভেঙে ফেলা বা চুরি করা সম্ভব হতো ?

সূত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/Black_Stone

মুসলিমেরা যে চরমভাবে অন্ধ অনুকরণপ্রিয়, তার প্রমাণ হচ্ছে এই হজ্ব অনুষ্ঠান।

প্রশ্নঃ হজ্ব কিভাবে ফরজ ও আধুনিক নিয়মরীতি প্রাপ্ত হলো ?

উত্তরঃ

সৌদি আরবের তেল গ্যাস আবিষ্কৃত হলো তো মাত্র ৮০ বছর আগে ১৯৩৮ সালে, আমেরিকার মাধ্যমে। সুপ্রাচীন কাল থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত আরব ছিল চরম গরীব একটি এলাকা বা রাষ্ট্র।

সমগ্র আরবের চরম উত্তপ্ত আবহাওয়া ও ধুলোবালিময় শুষ্ক ঊসর নিষ্প্রাণ মরুভূমির প্রতি বিদেশীদের তো দূরের কথা, খোদ আরবদেরই কোন আকর্ষণ ছিল না। এখানে কোন ফসল ফলে না, পানির প্রচণ্ড অভাব। নবী মোহাম্মদ তার সময়ে একজন অত্যন্ত বিচক্ষণ ও বাস্তববাদী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন, মক্কার শুষ্ক ধু ধু মরুভূমিতে যেখানে একটি দূর্বাঘাসও গজায় না, সেখানে মানুষ কোনদিন আসবে না। একটা নির্দিষ্ট সময় পর মক্কা মদীনার কথা মানুষ ভুলে যাবে। ভুলে যাবে কাবা শরীফ-মিনা-আরাফাত-মুজদালিকা-আল সাফা-আল মারওয়া, জান্নাতুল বাকী-রওজাহ মুবারক-হেরার পাহাড় পর্বতের কথা। মক্কা মদীনা হয়ে যাবে ইতিহাস, হয়ে যাবে লোহিত সাগরের ঠিক উল্টোদিকে অবস্থিত পার্শ্ববর্তী দেশ সুদান-ইথিওপিয়ার মতই দুর্ভিক্ষ কবলিত। ফলে এমন একটি মরুময় রাষ্ট্রকে পৃথিবীর কাছে প্রতিষ্ঠিত করতে গেলে হিংস্র নৃশংস আরব বেদুঈনদের শক্তিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে একদিকে যেমন আরব ও বহির্বিশ্ব দখল করতে হবে, তেমনি অপরদিকে আল্লাহ ও ইসলামের নাম করে অনুসারীদের আরবে ঘুরতে নিয়ে আসতে হবে যার মাধ্যমে বিপুল অংকের রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে। এই পরিকল্পনা সফল হলে আরবই হবে ইসলামের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও শক্তিশালী কেন্দ্র। ৬৩০ সালে মক্কা দখল করে কাবা থেকে ৩৬০টি মূর্তি ধ্বংস করে ফেলার পর ৬৩১ সালে নবী মোহাম্মদ হজরত আবু বকরকে ৩০০ মুসলিম কাবায় জড়ো করার নির্দেশ দেন। সেই অনুষ্ঠানে হজ্বের পরিমার্জিত নিয়মকানুন তুলে ধরা হয় এবং অবিশ্বাসী, মূর্তিপূজক এবং নগ্ন ব্যক্তিদের কাবার সামনে ঘিরে প্রদক্ষিণ করাকে আগামী বছর থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ৬৩২ সালে নতুন নিয়মের ২য় হজ্বে নবী মোহাম্মদ ভাষণ দেন। এই ভাষণটিই নবী মোহাম্মদের নতুন নিয়মের হজ্বে একমাত্র এবং শেষ ভাষণ যার কয়েক মাস পরে তিনি মারা যান বলে এটিকে ‘বিদায়ী ভাষণ’ বলে অভিহিত করা হয়। একদিকে ইসলাম প্রতিষ্ঠাকারী আরবের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী নেতার ভাষণ বলে কথা, অপরদিকে ভাষণটির মধ্যে পুরুষতান্ত্রিকতার ছোঁয়া থাকলেও অধিকাংশ বক্তব্য ইতিবাচক ছিল এবং এটি ৫টি ফরজ নির্দেশের ১টি বলে জনমনে উক্ত ভাষণ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং হজ্ব ব্যাপারটা আরবের সংস্কৃতির একটি অপরিহার্য ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

ভেবে দেখুন, কোরান হজ্বকে যদি ফরজ না করতো, তাহলে হজ্বের সময় প্রতিবছর ৩ মিলিয়ন মুসলিম মক্কায় হজ্বে যেত না। জনপ্রতি যদি ৩-১০ লক্ষ টাকা খরচ হয় তবে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেত।

প্রশ্নঃ বিদায়ী ভাষণের মধ্যে কোন বক্তব্যগুলো নেতিবাচক ?

উত্তরঃ

১) নারীদের অন্য পুরুষের সঙ্গে যৌনসঙ্গম করলে তাদের শয্যা বর্জন করা ও পেটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তবে হালকাভাবে ও মুখে নয়।

নৈতিক দৃষ্টিতে তালাক/ডিভোর্স কিংবা এই ধরনের যে কোন পন্থাই অবলম্বন করা হোক না কেন, পেটানো কখনোই কোন সমর্থনযোগ্য উপায় হতে পারে না। আর এমন অন্যায় একটি কাজকে জায়েজ করে উপস্থাপন করার জন্যই ‘হালকাভাবে পেটানো’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। মুখে আঘাত করা যাবে না – এর কারণ ছিল পেটাতে যেয়ে স্ত্রীর চেহারাগত বিকৃতি সাধিত হওয়ার আশংকা এবং স্বামীরা তার স্ত্রীদের কখনোই অসুন্দরী হিশেবে দেখতে চায় না। নবী মোহাম্মদ একবার হজরত আয়েশার বুকে তীব্রভাবে আঘাত করেছেন এবং আয়েশা প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেছিলেন বলে সহীহ মুসলিমের হাদীসে উল্লেখ আছে – (যেই শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে সেটি lahada, which means he pushed violently or struck her chest)

সূত্রঃ http://quranx.com/Hadith/Muslim/Reference/Hadith-974

২) পুরুষের প্রতি নারীর অধিকার আছে শুনে অনেক খুশি হতে পারেন কিন্তু এই অধিকার আসলে কিছুই নয় বরং শুধুমাত্র ‘খাদ্য’ ও ‘বস্ত্র’ প্রাপ্তির অধিকার - Their rights upon you are that you should provide them with food and clothing in a fitting manner.

সূত্রঃ https://sunnah.com/muslim/15/159

৩) ব্যভিচারের শাস্তি হিশেবে পাথর ছোড়া হত্যা করা মানবতাবিরোধী। কে কার সঙ্গে যৌনসঙ্গম করবে, সেটি তার একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। বিয়ে বহির্ভূত যৌনসঙ্গমে শান্তিপূর্ণভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ হতে পারে কিন্তু ৩য় পক্ষের দ্বারা পাথর ছুড়ে হত্যা করা একেবারেই নৈতিকতা বিরুদ্ধ নৃশংস একটি কাজ তথা চরম অন্যায়।

৪) “সাবধান! তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি থেকে বিরত থাকবে। জেনে রেখো, তোমাদের পূর্ববর্তীগণ এই বাড়াবড়ির কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে” – নবী মোহাম্মদ

এই ‘বাড়াবাড়ি’ বলতে তিনি আসলে ধর্ম বা ঈশ্বর নিয়ে বেশি জানার চেষ্টা করার কথা বুঝিয়েছেন যার কারণে তার দাবী অনুযায়ী পূর্ববর্তী জাতিগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। আসলে, ধর্ম বা ঈশ্বর নিয়ে মানুষ যত জানার চেষ্টা করবে, তত মানুষের চোখ খুলে যাবে, সন্দেহ ও সংশয় মানুষকে ক্রমশ রহস্যোন্মোচনের দিকে ধাবিত করবে, আল্লাহ ও নবীর অসারতা তাদের কাছে এক এক করে সুস্পষ্ট হতে থাকবে এবং তারা আস্তিকতা ছেড়ে নাস্তিকতার দিকে দিনে দিনে ধাবিত হতে থাকবে। ফলে যেই ধর্ম নবী প্রতিষ্ঠা করে গেছেন, সেই ধর্ম আর বেশিদিন টিকতে পারবে না। এই আশঙ্কাতেই নবী মোহাম্মদ এমন কথা বলেছিলেন।

একদল অপব্যাখ্যাকারী বলেন, এর অর্থ নাকি – “কোন বিধর্মীকে বাড়াবাড়ি বা জোরজবস্তি করে ইসলামে দীক্ষা দেয়া যাবে না”। যদি তাই হয়, তবে তালেবান ও অন্যান্য জঙ্গিবাদীরা কেন জোর করে ইসলামে দীক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে আর তাতে সফল না হয়ে সেই মানুষদের মেরে ফেলছে ? এমন কাজ তো তাহলে নবীরই আদেশ সুস্পষ্টভাবে অমান্য করা যেটা জঙ্গিবাদীরা করছে। ফলে, উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই বিষয়টি নেতিবাচক।

৫) “আমি আখেরী নবী, আমার পরে আর কোন নবী আসবেনা। আমার সাথে অহীর পরিসমাপ্তি হতে যাচ্ছে” – নবী মোহাম্মদ

এই বক্তব্য নবী মোহাম্মদের সুচতুর বিচক্ষণতা ও বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রকাশ করে। নিজেকে শেষ নবী হিশেবে ঘোষণা দেওয়ার কারণ ভবিষ্যতে যেন আর কেউ এসে আল্লাহর ওহীর গল্প করে নবী মোহাম্মদের চেয়েও বড় নবী বলে নিজেকে দাবী করতে না পারেন। অর্থাৎ, জনমনে নিজেকে শেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর আসনে বসাতে তথা নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে নবী এমন দাবী করেছিলেন।

প্রশ্নঃ হজ্বেও যে নারীদের যৌন হয়রানির শিকার হতে হয় – এর কারণ কী ?

উত্তরঃ

আসুন দেখে নেই পাকিস্তানী করাচী নিবাসী সাবিকা খানের ২ ফেব্রুয়ারিতে লিখিত ফেসবুক পোস্ট -

“৩য় বার তাওয়াফ করার সময় আমি আবার কোমরে এক হাজীর হাত অনুভব করলাম। আমি ভাবলাম, এটা হয়তো উক্ত হাজীর নির্দোষ একটু ভুল। আমি ব্যাপারটি এড়িয়ে গেলাম। আমি এর পর আবার সেই হাত অনুভব করলাম এবং খুবই অসাচ্ছন্দ্য বোধ করতে লাগলাম। ষষ্ঠবার তাওয়াফ করার সময়ে আমার নিতম্বে কিছু একটা খুবই তীব্রভাবে ধাক্কা দিলো, আমি একদম স্থির হয়ে গেলাম, দ্বিধায় পড়ে গেলাম যে এটি ইচ্ছেকৃত কিনা। আমি আবার এড়িয়ে গেলাম এমন ধীরে সামনের দিকে এগিয়ে চলতে লাগলাম যেহেতু ভীড় অনেক বেশি ছিল। আমি পেছনে ঘোরার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু ব্যর্থ হলাম। ইয়েমেনি কর্নারে পৌঁছার পর কেউ একজন আমার নিতম্ব ধরার চেষ্টা করলো এবং তাতে চিমটি কাটলো। আমি সেখানে থেমে পড়লাম এবং তার হাত ধরে সজোরে সেই হাত নিজের নিতম্ব থেকে সরিয়ে নিলাম কিন্তু পেছনে ঘুরতে পারলাম না। আমি এক হিশেবে পাথরের মত জমে গিয়েছিলাম, পালাতেও পারলাম না তাই শুধু দাঁড়িয়ে থাকলাম এবং পেছনে ঘুরে বোঝার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলাম যে কী হচ্ছে এসব, শেষ পর্যন্ত ঘুরলাম কিন্তু ধরতে পারলাম না বদমাশটি কে ছিল। আমি ঘৃণায় একদম ককিয়ে গেলাম, মুখে কিছু বলতে পারছিলাম না কেননা আমার মা ব্যতীত আর কেউ এটি বিশ্বাস করবে না কিংবা সিরিয়াসলি নেবে না। তাই হোটেলে ফেরার পর আমি মাকে সব বললাম এবং মা প্রচণ্ডভাবে দিশেহারা ও বিহ্বল হয়ে গেলেন। এরপর থেকে তিনি আমাকে একা আর সেখানে যেতে দেননি। এটা খুবই দুঃখের বিষয় যে তথাকথিত নিরাপদ ও পবিত্র স্থানেও তুমি নিরাপদ নও। আমাকে ১ দফা নয়, ২ দফা নয় বরং ৩ দফা যৌন হয়রানি করা হয়েছে। তথাকথিত পবিত্র শহরের অভিজ্ঞতা এই চরম ঘৃণ্য ঘটনার মাধ্যমে আমার জীবনে একটি ঘনঘটা হয়ে রইল। আমি বিশ্বাস করি যৌন হয়রানি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জানি না তোমাদের জীবনে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দেওয়া এরকম দুঃসহ অভিজ্ঞতা আছে কী না”।

সূত্রঃ https://www.facebook.com/bicayyy/posts/10215090052034351

সাবিকা খানের এই পোস্টের পরপর অনেক মুসলিম নারী সাহসী হয়ে হজ্বে তাদের এরকম যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার বিব্রতকর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

সূত্রঃ http://www.dailymail.co.uk/news/article-5373159/Women-reveal-sexual-hara...

এই যে হজ্বে নারীদের বিরুদ্ধে সঙ্ঘটিত যৌন হয়রানি, এ থেকে সুস্পষ্ট হয় – মুসলিমেরা আসলে হজ্ব তথাকথিত ত্যাগের শিক্ষায় বিশ্বাস করে না। তারা ধর্মে অন্ধবিশ্বাসের কারণে হজ্বে যায়, কেউ কেউ এটাকে অ্যাডভেঞ্চার হিশেবে নেয়, কেউ কেউ বা জান্নাতে যাবে – এই লোভে হজ্ব করতে যায়।

প্রশ্নঃ হজ্ব ব্যবসার প্রধান ক্রেতা কারা কারা?

উত্তরঃ

১) অনেকে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি করে মনে মনে খুবই অপরাধবোধে ভোগে, যার কারণে সেই অপরাধবোধ থেকে নিষ্কৃতি পেতে এবং জান্নাতের লোভে হজ্ব করে। দুর্নীতিবাজ মানুষের কাছে হজ্ব খুবই প্রিয়। বিভিন্ন অসৎ উপায়ে অর্জিত বলে এদের প্রচুর টাকা পয়সা থাকে এবং এরা একদিকে পাপমোচন করতে হজ্বে যায় আবার হিপোক্রিটের মত বিলাসিতাপূর্ণ দামী দামী হোটেলে অবস্থান করে চরম বেহিসাবী খরচ করে।

২) মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঙ্গনের পাবলিক ফিগারগুলো আরো বেশি করে জনপরিচিতি ও সমর্থন পেতে লোক দেখানো হজ্ব করে বেড়ায়।

৩) মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যক্তিগুলো জনসমর্থন আদায় করতে ঘন ঘন হজ্ব – উমরাহ – রওজা মোবারক জিয়ারত ইত্যাদি করতে যায় যাতে টিভি, খবরের কাগজ, রেডিও, ইন্টারনেট, ফেসবুক ইত্যাদিতে বেশ ফলাও করে হেডলাইনে তাদের ছবিসহ প্রচার করা হয়। এসব ধর্মপ্রবণ সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে সফলতার সাথে নাড়া দেয়, তাদের কাছে উক্ত নেতানেত্রীদের জনপ্রিয়তা বাড়ে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদি বলি তবে এদেশের রাজনীতিতে ‘দল’ নেই বরং ‘কোন্দল’ আছে। ‘নীতি’ নেই বরং ‘দুর্নীতি’ আছে। ‘নেতা-নেত্রী’ নেই বরং ‘অভিনেতা-অভিনেত্রী’ আছে। এদের আসল উদ্দেশ্য কি আসলেই ধর্মপ্রবণ সাধারণ জনগণ বুঝতে পারে না ? পৃথিবীর আর কোন দেশের পত্রিকাতেই হজ্ব, উমরাহ ও মাজার জিয়ারতের ছবি ও খবর ছাপা হয় না একমাত্র ইসলামিক দেশগুলোর পত্রিকা ছাড়া।

দুর্নীতির শিরোমনি বেগম খালেদা জিয়া যে ঘন ঘন সৌদি আরবে উমরাহ ও মাজার জিয়ারত করতে যান, সেটি অন্ধ মুসলিমদের সমর্থন আদায়ের জন্যই যান। তবে ইসলামী মতে খালেদা জিয়ার হজ্ব সিদ্ধ নয় কেননা তিনি স্বামী বা ছেলে নয় বরং বেগানা পরপুরুষ মোসাদ্দেক হোসেন ফালুর সঙ্গে একসাথে হজ্ব ও উমরাহ করতে যান। বৈধ ব্যক্তিদের সাথে নারীর হজ্বে যাওয়াকে বলে মাহরাম। মাহরাম ব্যতীত হজ্বের জন্য নাকি সৌদি আরবে ভিসা দেওয়া হয় না। কিন্তু তারপরও কিভাবে কিভাবে বেগম খালেদা জিয়া সৌদি আরবের ভিসা ঠিকই পেয়ে যান। উল্লেখ্য, যদি মাহরাম ব্যতীত কোন নারী হজ্ব করতে যায় তাহলে হজ্ব হয়ে যাবে, কিন্তু মাহরাম ব্যতীত সফরের জন্য গুনাহগার বা পাপী হবে বলে ইসলামে ফতোয়া আছে।

সূত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/Mahram

তাহলে দেখা যাচ্ছে – তথাকথিত সর্বশক্তিমান আল্লাহ

১) আল্লাহর কাজ করতে আসা হাজিদের মৃত্যু ঠেকাতে পারেননি
২) অগ্নিকাণ্ড ঠেকাতে পারেননি
৩) বন্যা ঠেকাতে পারেননি
৪) কাবা ঘরকে ক্রেনের পতনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি
৫) সন্ত্রাসীদের কাবাগৃহে প্রবেশ ঠেকাতে পারেননি
৬) হাজিদের প্লেন ক্র্যাশ ঠেকাতে পারেননি
৭) হাজীদের রোগমুক্ত রাখতে পারেননি
৮) নারীর সম্ভ্রম রক্ষা করতে পারেননি
৯) ভোগবিলাস থেকে মুক্ত রাখতে পারেননি
১০) মুসলিমদের লুটে খাওয়া আরবদের এই জাতীয় ব্যবসা বন্ধ করতে পারেননি

আল্লাহ এসব পারবেন কী করে ? আল্লাহ তো কল্পিত, বাস্তবে আল্লাহর কোন অস্তিত্ব নেই। আর কোরানের বাণীতে যে কাবাকে যে মানুষের নিরাপত্তার আশ্রয়স্থলের কথা বলা হয়েছে, সেটি বাস্তবে তো আশ্রয়স্থল নয় বরং চরম বিপদজনক মৃত্যুস্থল ! তাহলে এই হজ্বের আদৌ কী কোন তাৎপর্য, শিক্ষণীয় দিক কিংবা যৌক্তিকতা আছে ? – নেই।

গরীব মুসলিমদের অন্ধ ধর্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে প্রতি বছর আরবরা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যবসা ফেঁদে বসবে, প্রাসাদ কিনে, বিলাসবহুল গাড়ি, সমুদ্রতরী ও উড়োজাহাজ কিনে ইউরোপ আমেরিকার পতিতাদের সঙ্গে স্বর্গীয় যৌনলীলা চালাবে আর গরীব মুসলিমদের পদদলিত হয়ে, অগ্নিদগ্ধ হয়ে, শ্বাসরুদ্ধ হয়ে, বন্যায় কিংবা প্লেন ক্র্যাশে কুকুর বেড়ালের মত রাস্তায় মরে পড়ে থাকতে হবে ! এই কী তথাকথিত আল্লাহর ইনসাফ বা ন্যায্যবিচার ?

উপসংহার ও প্রত্যাশাঃ

পরের দেশ সৌদি আরবের পেছনে টাকা খরচ করে নয় বরং নিজ দেশ বাংলাদেশের পেছনে টাকা খরচ করে বাংলাদেশকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ রাষ্ট্র হিশেবে গড়ে তুলুন।

আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই চরম দরিদ্র। কাগজে কলমে হজ্ব আর্থিকভাবে অবস্থাসম্পন্নদের জন্য ফরজ হলেও বাস্তবে অনেক দরিদ্র মানুষ শুধুমাত্র অন্ধ ধর্মবিশ্বাসের কারণে সারা জীবনে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অর্জিত অর্থ দিয়ে ১বারের জন্য হলেও হজ্বে যান। এদের কেউ কেউ দেশে জীবিত ফিরে আসেন আবার একটি অংশ বিভিন্ন ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কিংবা অত্যাধিক ধকল সহ্য না করতে পেরে কফিনে লাশ হয়ে ফিরে আসেন। সৌদিদের জন্য নিজেদের কষ্টার্জিত লক্ষ লক্ষ টাকা ঢেলে দিয়ে আমাদের লাভ কী ? ইসলাম ধর্ম পালন করতে চান, করুন কিন্তু এই হজ্ব করে ইসলামের কী আদৌ কোন লাভ হচ্ছে ? আপনাদের সব টাকা যাচ্ছে ওই সৌদি বাদশাহদের ভোগবিলাসী আরামআয়েশী বিলাসব্যসনের যৌনজীবনের খরচে। সৌদি আরবে উঠছে আবরাজ আল বাইতের মত আকাশছোঁয়া অট্টালিকা, ফাইভ কিংবা সেভেনস্টার হোটেল, বাংলাদেশে কোন অট্টালিকা বা হোটেলটা হচ্ছে ? জাস্ট ধর্মকে ব্যবসার হাতিয়ার বানিয়ে সৌদিরা সারা পৃথিবীর হাজীদের থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আর আপনারা বসে বসে অর্থহীন আত্মতৃপ্তিতে আঙ্গুল চুষছেন।

ইসলামের পথে টাকা খরচ করা আর সৌদি রাজপরিবারের যৌনজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের খরচ মেটানো কী একই কথা ? চোখ থাকতে অন্ধের মত কাজ করবেন কেন ? সময় থাকতে তাই হজ্ব করা থেকে সরে আসুন। মানুষের পায়ের নিচে চাপা পড়ে কিংবা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে মৃত্যুবরণ করায় লাভ কী ? এটা কমন সেন্সের কথা, এটা বুঝতে খুব বড় জ্ঞানী হওয়া লাগে না যে আপনার অর্থ কখনোই ইসলামের পথে নয় বরং সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠা ও রাজপরিবারের বেহিসাবী ব্যভিচারী জীবনযাপনে ব্যয় হচ্ছে। হজ্বের পেছনে এই বাজে অর্থখরচ না করে এই অর্থটা নিজের ব্যবসায়িক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠায় কাজে লাগান, নিজের দেশকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে গড়ে তুলতে কাজে লাগান। এতে নিজের দেশের প্রতি কর্তব্য পালন করা হবে, নিজের পরিবার ও নিজের প্রতি কর্তব্য পালন করা হবে এবং ‘দেশপ্রেম যদি ঈমানের অঙ্গ’ হয় তবে ইসলামেরও কাজ করা হবে। সৌদি আরবকে অর্থনৈতিকভাবে গড়ে দিয়ে আমাদের লাভ কী ? নিজের অভাবী পরিবার আর আত্মীয়স্বজনকে কয় টাকা দিচ্ছেন? ওই সৌদিরা আমাদের পুরুষ শ্রমিকদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালায়, চাবুক দিয়ে পেটায় তাদের ইচ্ছেমত লঘু অপরাধে গুরুদণ্ড দেয়, শিরশ্ছেদ করে, নারীদের যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ করে, শরীরে খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে শারীরিকভাবে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। ওরা কী মানুষের বাচ্চা? সৌদি আরবের টাকা হয়েছে তেল গ্যাস ও হজ্ব বাণিজ্যের আন্তর্জাতিক ট্যুরিজমের মাধ্যমে, শিক্ষার মাধ্যমে নয়। শিক্ষাহীনেরা যে চরম অমানবিক, নির্মম, নৃশংস, অত্যাচারী, জালেম প্রকৃতির হবে, এইটুকু অনুধাবন করতে কী খুব বেশি বেগ পেতে হয় ?

পরিশেষে দেশপ্রেমিক সকলের প্রতি আহবান, যদি আপনার ন্যূনতম কমন সেন্স থাকে তবে নিজের ও দেশের জন্য ক্ষতিকারক হজ্ব-ব্যবসাকে বয়কট করুন এবং পরের দেশের ট্যুরিজমকে শক্তিশালী না করে নিজের দেশের ট্যুরিজমকে শক্তিশালী করুন এবং দেশকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখুন। সকলকে ধন্যবাদ। লেখাটি শেয়ার ও আপনাদের সুচিন্তিত মন্তব্য একান্ত কাম্য।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মুশফিক ইমতিয়াজ
মুশফিক ইমতিয়াজ এর ছবি
Offline
Last seen: 22 ঘন্টা 56 min ago
Joined: রবিবার, এপ্রিল 2, 2017 - 10:06পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর