নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কাঙালী ফকির চাষী
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • মাহের ইসলাম
  • মৃত কালপুরুষ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

দেনমোহর নামক সামাজিক এক অভিশাপ।



দেনমোহর নিয়ে বিয়ের রাতেই সে এক বিশাল কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বাসর রাতের আনন্দটাই মাটি হয়ে গেল। প্রেম বিষয়টা কোন ফাঁকে জানালার ফাঁক দিয়ে ফুড়ুৎ করে উড়াল দিয়ে চলে গেল প্রেমিক তা ভেবে দেখার সময় পেলো না। তারপর সে এক করুণ দৃশ্যের অবতারণা।

দীর্ঘ ছয় বছর পার্কে, গাছের আবডালে, সিনেমা হলে প্রেমিক প্রেমিকার খানিক ঘষাঘষি , ভীষণ কাছে আসার এক অদম্য ইচ্ছাকে কি ভাই সহজে উপেক্ষা করার উপায় আছে, তাই লিটনের ফ্ল্যাটটাই ছিল একমাত্র ভরসা, যৌনতা এতটাই প্রবল ভাবে একে অপরকে আকর্ষণ করে যে কেউ কারুর একটা এসএমএস মিস করার সুযোগ কোথায় ? শরীয়তের নিয়ম দেনমোহর কি জিনিস সেটা বোধগম্য হবার সময় কোথায় কারণ যুগটাই হচ্ছে ফেইসবুক ও স্কাইপি'র । দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ সামাজিক সকল প্রথাকে উপেক্ষা করে ভালবাসার টানে একে অপরের গায়ের গন্ধ উপভোগ করতে থাকে, এভাবেই চলতে থাকে দীর্ঘ ছয়টা বছর। প্রেমিক বর্তমানে ফুল টাইম বেকার অনার্স শেষ করে সেশন জোটের খপ্পরে পরে মাস্টার্সটাও শেষ হচ্ছে করতে পারছে না, প্রেমিকের বাবা কষ্ট করে ছেলের লেখাপড়ার খরচ যুগিয়ে যাচ্ছেন সেই সাথে চেয়ারম্যানের ছোট মেয়েটির সাথে যৌতুকের প্রলোভনে বিয়ের কথাও প্রায় পাকা করে রেখেছেন, প্রেমিক কোন ভাবেই বাবাকে জানাতে পারছেন না যে, শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারের একটি মেয়ের সাথে দেনমোহর নামক সামাজিক প্রথাকে উপেক্ষা করেই তাদের মিলন ঘটে গেছে।

প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যাবে মেয়ের বাবা সুইডেন ফেরত পাত্র পেয়ে কি আর বসে থাকেন, ছেলে বিয়ে করতে এসে কোরবানির গরু দেখার মত হেট বাজারে হন্য হয়ে পাত্রী দেখায় ব্যস্ত, মেয়ের বাবা ভাবছেন বিয়ে তো মেয়েকে দিতেই হবে তাই অপেক্ষা কিসের, পাত্র তো হাতছাড়া করা যায়না। ছেলেটি যে মেয়েটিকে ভালবাসে, বাবাকে কি বোঝানো যাবে ফেইসবুকে পরিচয় তারপর প্রণয়, স্কাইপিতে জানাশোনা পার্কের বেঞ্চ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত লিটনের ফ্ল্যাট, এবার একটাই ভরসা দুজনে পালিয়ে বিয়ে নামের পিরিতে বসে পরা। শেষ পর্যন্ত অনেক অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে দুপক্ষের পারিবারিক নেতাদের বুজিয়ে রাজী করিয়ে বেকার অবস্থাতেই কিঞ্চিত ইসলামিক মনভাবাপন্ন অনার্স পড়া মেয়েটিকে বিয়েই করে ফেললো সেই ফুল টাইম বেকার প্রেমিক। তখন কি তাদের জানা ছিল ধর্মীয় দেনমোহর নামেই একটি সামাজিক ব্যাধি এ দেশের একটি প্রচলিত বিবাহের নিয়ম, এই দেনমোহরের দায় ছেলেটির ঘাড়ের উপর নির্দিষ্ট করে দেন এক ধর্মগুরু যিনি কিনা নিজেই জীবনে চার বার দেনমোহরের দেনা চুকিয়ে সাতান্ন বছর বয়সে একুশ বছরের এক গরীব কিশোরীকে চার নাম্বার বিবি বানিয়ে সুখেই আছেন।

ছেলেটি বিয়ের রাতের নতুন করে আবিষ্কার করলো ইসলামী ধর্ম মতে সাধারণত দেনমোহর দুই ধরনের হয়ে থাকে। তাৎক্ষণিক দেনমোহর এবং বিলম্বিত দেনমোহর। তাৎক্ষণিক দেনমোহর স্ত্রী চাওয়া মাত্র পরিশোধ করতে হয়। আর বিলম্বিত দেন মোহর বিয়ের পর যেকোনো সময় পরিশোধ করা যায়। তবে মৃত্যু বা বিয়ে বিচ্ছেদের পর দেনমোহর অবশ্যই পরিশোধ করতে হয়। তখন দেনমোহর স্ত্রীর কাছে স্বামীর ঋণ হিসেবে থাকে।

প্রেমিক শত চেষ্টাতেও মেয়েটিকে কিছুতেই বোঝাতে পারছে না ভালবাসাতে ধর্ম কিসের ! ধর্মীয় বিশ্বাসী মেয়েটি তার যুক্তিতে অনড় অবস্থানে থেকে একটুও সরে আসতে রাজী না, যুক্তি তার একটাই, মুসলিম নিকাহ অনুযায়ী একটি শুদ্ধ বিয়ের জন্য দেনমোহর অত্যাবশ্যকীয়। দেনমোহর নির্ধারণ ছাড়া বিয়ে শুদ্ধ হবে না। বিয়ের সময় যদি দেনমোহর নির্ধারিত না হয়ে থাকে, অথবা স্ত্রী কোনও দেনমোহর দাবি করবে না শর্তে বিয়েটি যদি সম্পাদিতও হয় তবে অন্য কথা কিন্তু এক্ষেত্রে সব কিছুই নির্ধারিতি, দাবি একটাই, স্বামীকে দেনমোহর দিতে হবে স্ত্রীকে। এ ক্ষেত্রে স্বামীর কোন ধরণের অজুহাত দেখিয়ে স্ত্রীকে দেনমোহর দেওয়া থেকে বিরত থাকার আইনগত সুযোগ নেই। এখন সে প্রেমিকা নয় অবশ্যই স্ত্রী হিসাবে যেকোনো সময় স্বামীর কাছে দেনমোহর দাবি করতে পারে কারণ এটা তাঁর পাওনা। তালাক বা মৃত্যুর সঙ্গে এর কোন সম্পর্ক নেই। এ বিষয়ে দু পক্ষের সম্মতিতেই তো বিয়ে হয়েছে।

বাসর রাত পেরিয়ে ভোর হয় পাখিগুলো গাছের ডালে কিচিরমিচির করে ভালবাসার গান গেয়ে বেড়ায় সূর্য হঠাত চিৎকার করে সুন্দর পৃথিবীকে আলোকিত করে প্রতিটি মানুষকে আলোকিত করে বেচেঁ থাকার অনুপ্রেরণা যোগায় কিন্তু পায়রা গাছের ডালে ভোরের সকালে ঝুলে আছে প্রেমিকের নিথর দেহ, যে দেহে গত রাতেও প্রাণ ছিল, ভালবাসা ছিল, আবেগ ছিল প্রেম ছিল।
সকালের সূর্য খুব নীরবে দু'ফোটা চোখের জল ফেলে ছেলেটিকে বিদায় জানালো।

(শত হলেও মেয়েটি ইসলামের নিয়মকে উপেক্ষা করতে সাহস পায়নি। তাই দাবিতে অনড় ছিল।)

---- মাহবুব আরিফ কিন্তু।

Comments

সলিম সাহা এর ছবি
 

ছেলেটিকে দেনমোহরের ঋণের জন্য দুনিয়া ছেড়ে যেতে হল, এটা শতকরা কতজন ছেলের বেলায় ঘটেছে? আর এই দেনমোহরের কারণে শতকরা কতজন নারী বিবাহ বিচ্ছেদের পরেও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর দিশা খুঁজে পেয়েছে? দয়া করে জানাবেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ে একটা ছাগলের মুল্য আছে, কিন্তু নারীর কোন মুল্য নাই, কারণ, নারী পায় না বাবার বাড়ীর সম্পদের কোন অংশ ও স্বামী ও শ্বশুর বাড়ীর সম্পদে কোন অংশ।
এই আপনারাই নারী স্বাধীনতা, ও নারী স্বাবলম্বীর হওয়ার পক্ষে কথা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন, আর যেই ইসলাম ধর্ম নারীর স্বাবলম্বীর জন্য দেনমোহর এর ব্যবস্থা করলো, ওমনি আপনারা তাঁর বিরোধিতা করলেন। আসলে আপনাদের দেনমোহরের উপর কোন রাগ না, মূলত আপনার রাগ, মোহাম্মদ কেন নারী স্বাবলম্বীর পক্ষে আইন করলো।
মানসিকতার পরিবর্তন করুন, আখেরে ভালো হবে।

 
সলিম সাহা এর ছবি
 

ছেলেটিকে দেনমোহরের ঋণের জন্য দুনিয়া ছেড়ে যেতে হল, এটা শতকরা কতজন ছেলের বেলায় ঘটেছে? আর এই দেনমোহরের কারণে শতকরা কতজন নারী বিবাহ বিচ্ছেদের পরেও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর দিশা খুঁজে পেয়েছে? দয়া করে জানাবেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ে একটা ছাগলের মুল্য আছে, কিন্তু নারীর কোন মুল্য নাই, কারণ, নারী পায় না বাবার বাড়ীর সম্পদের কোন অংশ ও স্বামী ও শ্বশুর বাড়ীর সম্পদে কোন অংশ।
এই আপনারাই নারী স্বাধীনতা, ও নারী স্বাবলম্বীর হওয়ার পক্ষে কথা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন, আর যেই ইসলাম ধর্ম নারীর স্বাবলম্বীর জন্য দেনমোহর এর ব্যবস্থা করলো, ওমনি আপনারা তাঁর বিরোধিতা করলেন। আসলে আপনাদের দেনমোহরের উপর কোন রাগ না, মূলত আপনার রাগ, মোহাম্মদ কেন নারী স্বাবলম্বীর পক্ষে আইন করলো।
মানসিকতার পরিবর্তন করুন, আখেরে ভালো হবে।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কিন্তু
কিন্তু এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 3 min ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 5:41অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর