নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

সপ্তগ্রাম !



সপ্তগ্রামের শুভদিপ ঢাকা নিজ ফ্লাটে থাকতো একাকি অনেকদিন থেকেই। স্ত্রী থাকতেই সন্তানরা সব চলে যায় আমেরিকা আর কানাডা। চাকুরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর পাশের "নিঝুম" খাওয়ার হোটেলটিতে প্রতিদিন বিকেলে আড্ডা দিতো বিকেল থেকে রাত অবধি। ঐ হোটেলের মালিক কাম ম্যানেজার মোস্তফা আবার একই গাঁয়ের ছেলে মানে সপ্তগ্রামের। ঢাকাতে সপ্তগ্রামের অন্য যেসব ছেলেরা কাজ করতো নানাস্থানে, তারাও এ হোটেলে আসতো টাকা জমা রাখতে কিংবা গাঁয়ে স্বজনদের কাছে টাকা পাঠাতে। অনেকদিন ঢাকা থাকলেও, সপ্তগ্রামের স্মৃতির ঘ্রাণে বেঁচে থাকে শুভদিপ এখনো। এখনো কেউ সপ্তগ্রামে গেলে, তাকে টাকা দিয়ে দেয় গাঁয়ের মহিষের ঘন দুধের দধি নিয়ে আসতে কিংবা সপ্তগ্রামের পাশের বয়ে চলা নদীর তাজা মাছ।
:
মোস্তফার সাথে একটা চুক্তির মত করেছিল শুভদিপ। প্রতিদিন সকালের নাস্তা, দুপুর আর রাতের খাবার এ হোটেলে থেকেই নেবে সে। এ জন্য মাস শেষে পরিশোধ করবে মাসিক বিল। খাবার নিতে নিতে মোস্তফার সাথে এমন সুসম্পর্ক হয় শুভদিপের যে, তারা যে হিন্দু-মুসলমান এটাও ভুলে যায় দুজনে। তাই মাস শেষে মোস্তফা প্রকৃত বিল থেকে বেশ কম টাকা নিতো শুভদিপ থেকে। কখনো শুভদিপকে ক্যাশে বসিয়ে বাজারে বা এদিক ওদিক যেতো মোস্তফা। খাবারের সময় হলেই ঘরে খাবার পৌঁছে দিতো শুভদিপের হোটেল বয় বাবুল। এই বাবুলের আবার বাড়ি ছিল ঐ সপ্তগ্রামেই। তাই খাবার নিয়ে এলেই তাকে ফ্রিজ খুলে এটা সেটা খেতে দিতো শুভদিপ গাঁয়ের ছেলে বলে। একদিন বাবুল তার সাথে জামালকে নিয়ে আসে একই গ্রামের ছেলে বলে। জামালও নিজের বাড়ি সপ্তগ্রাম বলে জানায় শুভদিপকে। প্রায় শুভদিপ গল্প করতো, লুডু খেলতো, আম কেটে খেতো দিতো বাবুল আর জামালকে। খুব সখ্যতা গড়ে উঠেছিল্ ওদের সাথে, নিজ গাঁয়ের ছেলে হিসেবে।
:
এর মধ্যে বাবুল আর জামাল প্রায়ই নিজেদের ৫০০/১০০০ টাকা জমা রাখে শুভদিপের কাছে এবং তা ফেরত নেয় ২/৪ দিন পর পর। এই টাকা দেয়া আর নেয়ার ফাঁকে তারা দেখে ফেলে, শুভদিপের নগদ টাকা রাখার আলমারিটা এবং কিভাবে রাখে, আর কিভাবে তা ওদের ফেরত দেয়, তার উৎসভান্ডার। দুজন হোটেল কর্মচারির কুমতলব আসে মাথায়। প্লান করে দুজনে একদিন ডাকাতি করবে তারা এ ফ্লাটে।
:
একদিন দুপুরে খাবার দেয়ার সময় হলে মুখে কাপড় বেঁধে কলিংবেল বাজায় বাবুল আর জামাল। শুভদিপ দরজা খোলে এই ভেবে যে, খাবার নিয়ে বাবুল এসেছে। কিন্তু দরজা খোলা মাত্রই কালো মুখোশ পরা বাবুল আর জামাল ঢুকে পরে ঘরে। দুজনে ঝাপটে ধরে শুভদিপকে এবং চাকু ধরে গলায়। ডাকাতের বিকৃত গলায় বলে - "আলমারির চাবি দে নইলে কাইটটা ফালামু গলা এখনই"। কিন্তু চাবি দেয়না শুভদিপ। সে দস্তাদস্তি করতে থাকে মুখোশধারীদের সাথে। এক পর্যায়ে খুলে ফেলে বাবুলের কালো মুখোশ। বিস্মিত হয়ে বলে - "বাবুল তুমি"! বাবুল বলে - "দাদা আমাদের চিনে ফেলা উচিত হয়নি আপনার। ভুল করেছেন আপনি খুব"। এ কথা বলেই দুজনে চাকু চালাতে থাকে শুভদিপের বুকে আর পেটে। ১৪/১৫টা কোপ দেয় শুভদিপকে এলোপাথাড়ি। শুভদিপ কেবল বলতে পারে - "সপ্তগ্রাম গাঁয়ের ছেলে তোমরা! শেষে মেরে ফেললে আমাকেই"!
:
শুভদিপের রক্তাক্ত লাশ ফ্লোরে শুইয়ে রাখে তারই গাঁয়ের স্নেহের বাবুল আর জামাল। তারা আলমারি খুলে সব টাকা, গয়না, প্রাইজবন্ড আর ব্যাংকের কাগজপত্র বের করে ক্রমান্বয়ে। মৃত শুভদিপ চেয়ে থাকে তার বিশ্বাসে ভরা সপ্তগ্রামের বাবুল আর জামালের দিকে। তার চোখের সামনেই ব্যাগভর্তি করে সব নিয়ে বেড়িয়ে যায় সপ্তগ্রামের বাবুল আর জামাল। মৃত শুভদিপ চেয়ে থাকে মৃত চোখে ওদের চলে যাওয়ার দিকে। সপ্তগ্রামের বাতাসের ঘ্রাণে রক্তস্নানে স্নাত হয়ে ঘুমিয়ে থাকে একাকি ঘরে শুভদিপ!

(ভারতীয় সত্যি ঘটনার ছায়ায় লিখিত)

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 3 ঘন্টা 12 min ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর