নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

নৈতিকতার সঙ্কটে দেশ!


মানুষ যখন থেকে সভ্য হতে শুরু করেছে, তখন থেকে নীতি-নৈতিকতা বোধের জন্ম হয়েছে। সভ্যতা মানুষের মধ্যে সৃজনশীলতা, মনুষ্যত্ব ও সহমর্মিতা বোধের জন্ম দেয়। অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লব আধুনিক শিল্পায়নের দিকে গতি শুরু হওয়ায় আমাদের অর্থনৈতিক এবং সমাজ ব্যবস্থায় বিস্ময়কর পরিবর্তন ঘটায়। চলে আসে আজকের যান্ত্রিক সভ্যতা। যান্ত্রিক সভ্যতায় বাস করতে করতে আমি এখন যন্ত্রমানবে পরিণত হয়েছি। যন্ত্রের মতো অনুভূতিহীন, দেহযন্ত্রে প্রাণ আছে বটে; কিন্তু স্নেহ-ভালোবাসা, মমত্ববোধ, দুঃখ-যন্ত্রণা বলতে কিছুই নেই। আমাদের মানবসমাজ এখন যান্ত্রিক সমাজে পরিণত হয়েছে। সমাজের অবক্ষয় আজ ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। নিষ্পাপ শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। শিক্ষক কর্তৃক মেয়ে শিক্ষার্থী ধর্ষণ হচ্ছে। বাবার হাতে ছেলে খুন, ছেলের হাতে বাবা, ভাইয়ের হাতে ভাই খুন। পরকীয়ার টানে সন্তান ছেড়ে অন্যের সঙ্গে পালাচ্ছে গৃহবধূ। যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, জোর করে প্রেম নিবেদন, গৃহকর্মী নির্যাতনসহ সমাজিক অপরাধ দিন দিন বেড়েই চলেছে। মানবিক মূল্যবোধ একেবারেই উঠে গেছে সমাজ থেকে। নৈতিকতার চরম অবক্ষয়ের পথে দেশ। অনুভূতিহীন জীবনযাপন, লক্ষ্যহীন গন্তব্য। বিবেকের কপাটে এখন তালা ঝুলছে। অন্যের বিপদে এগিয়ে যাওয়ার নীতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে সমাজ থেকে। দিবালোকে যখন কেউ অন্যায় করছে, পাশের জন ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে মজা নিচ্ছে, মজলুমকে কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে না। পরস্পর সহযোগিতা ও সহানুভূতির সঙ্গে বসবাসকারী মনুষ্যগোষ্ঠীর বাহ্যিক ও মানবিক আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দিন দিন। সমাজ থেকে ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত প্রভৃতি বোধ লোপ পেয়ে যাচ্ছে। সিলেটের শহরতলি কুমারগাঁওয়ে যখন শিশু সামিউল আলম রাজনকে ভোরবেলা চোর সন্দেহে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করছিল, তখন চারপাশে ক'জন মানবিক বোধহীন (যন্ত্রমানব) দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে। কেউ শিশুটিকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি। খুলনার টুটপাড়ায় পায়ুপথে কমপ্রেসার মেশিনের পাইপ ঢুকিয়ে পেটে বাতাস দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় শিশু রাকিবকে। অনাগত সন্তানকে ঘিরে মা-বাবার কত না স্বপ্ন। স্বপ্ন ও ভালোবাসার বিপরীতচিত্রও দুর্লভ নয়। তা অন্ধকারের নিকষে মোড়ানো। সেখানে স্নেহ-ভালোবাসার ছিটেফোঁটাও নেই। ঘৃণা, লোকলজ্জা, সমাজের চোখরাঙানি ও তিরস্কারের কষ্টগাথাও মায়ের হৃদয় যেন ছিন্নভিন্ন করে দেয়। জন্মের পরই মা-বাবার কোলের বদলে অনেক নবজাতকের ঠাঁই হয় ডাস্টবিনে, ড্রেনে, ফুটপাতে ও হাসপাতালের আঙিনায়। পৃথিবীর আলো দেখার আগেই অনেক শিশুকে হত্যা করা হয়। প্রায়ই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হচ্ছে পরিচয়হীন নবজাতক। ডাস্টবিনে, জঙ্গলে ফেলার পর কুকুর, পিঁপড়া তাদের ওপর হামলে পড়ে। জন্মই যেন ওদের আজন্ম পাপ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তথ্য মতে, বছরে শুধু ঢাকায় শতাধিক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়। মমত্ববোধহীন পাষাণ হৃদয় না হলে কি সদ্যপ্রসূত নবজাতককে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়? পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় খালি মাঠে ঝোপের মধ্যে একদিন বয়সী নিষ্পাপ শিশুকে কে বা কারা শিয়াল-কুকুরের উদরপূর্তির জন্য ফেলে গেল। শিক্ষার্থীদের কাছে একজন শিক্ষক (যিনি পাঠদান করেন) সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র। বর্তমান সমাজে কিছু শিক্ষক কর্তৃক মেয়ে শিক্ষার্থী যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের শিকার। এ সমাজে শিশু মেয়েরাও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণের শিকার। গাজীপুরের কালীগঞ্জে ৭ বছরের শিশুকন্যাকে ৪০ বছরের উকিল নানা ধর্ষণ করেছে। স্কুলগামী ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করছে বখাটেরা। গৃহবধূকে নির্যাতন করা হচ্ছে। স্বামীর পৈশাচিক নির্যাতনে ক্ষতবিক্ষত এক গৃহবধূ কুষ্টিয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ে ছেলের ছুরিকাঘাতে এক বৃদ্ধ মা খুন হয়েছেন। ঝিনাইদহে বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ছোট ভাই আবদুস সালাম নিহত হয়েছে। ফরিদপুরের সালথায় পাষ- বাবার হাতে ছেলে খুন হয়েছে। অল্প বয়সে বাবাকে হারানোর পর অন্যের বাসায় কাজ করতে হয় আদুরীকে। সারা দিন কাজ করে আদর তো দূরের কথা, কপালে জুটত ইস্ত্রি, গরম চামচ বা গরম তেলের ছ্যাঁকা। জাতীয় ক্রিকেটার সাহাদাত হোসেন রাজীব ও তার স্ত্রী নিত্য তাদের গৃহকর্মী মাহফুজা আক্তার হ্যাপীকে নির্যাতন করে। বর্তমানে এ সমাজের মানুষ টাকা কামানোর যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। টাকা কামানোর প্রতিযোগিতায় ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে সভ্যতা। ধীরে ধীরে সমাজ থেকে মানবিক গুণাবলি লোপ পাচ্ছে। নৈতিকতার আচ্ছাদন আজ নোংরা হয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার ও অপসংস্কৃতির দহনে সামাজিক অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে। নিজ নিজ সংস্কৃতি ভুলে আকাশ সংস্কৃতির শিকার এ জাতি। সংস্কৃতি অঙ্গনে যেন যুদ্ধ বেধে গেছে। এক রাষ্ট্র অপর রাষ্ট্রকে সুকৌশলে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে ধ্বংস করে দিচ্ছে। মানুষের উগ্র বস্তুবাদী মনোভাবের মধ্যে যদি সুন্দর ও পরমঙ্গলের আদর্শ রূপায়িত না হয়, তাহলে নৈতিক সঙ্কট অনিবার্য। এ অবস্থা বিরাজ করলে অভাবনীয় উন্নতি সত্ত্বেও মানবীয় স্বস্তি অধরাই থেকে যাবে।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

এম রাহাত হুসাইন
এম রাহাত হুসাইন এর ছবি
Offline
Last seen: 3 weeks 6 দিন ago
Joined: বুধবার, জুলাই 6, 2016 - 2:29পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর