নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • মিশু মিলন
  • নরমপন্থী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

খোলা জায়গায় প্রস্রাব দমনের নামে আরবি ভাষা প্রতিষ্ঠার পায়তারা


বাংলার জন্য যতই বাঙালির রক্ত ঝরুক, রক্তের উপর আমরা দাড়িয়ে প্রস্রাব করতে পারি এটাও হয়তো আমাদের রক্তে মেশা৷ একেতো বাঙালির রক্তে বহু জাতির রক্ত, তার উপর নিজের মনের হীনতা৷ আমরা গর্ব করে বিশ্বকে বলতে পারি যে ভাষার জন্য এত রক্ত কখনো কোন জাতি দেয়নি কিন্তু আমাদের দেখে বিশ্ব জেনে নেয়, শহীদের সাথে আমরা কতটা প্রতারণা করেছি৷ মীর জাফর চরিত্রটা বাঙালির ছিলো এখনো আছে৷

বাঙালি ঘাড় ত্যাড়া, যা বলবেন তার উল্টো করবে৷ ব্রিটিশ চেয়েছিলো পায়ে রাখতে, থাকবেনা৷ কিন্তু আজ নিজেরা কামকামরি করে ব্রিটিশের পা ধৌত করে৷ পাকিস্তান চেয়েছিলো উর্দূ চাপিয়ে দিতে তাতে বায়ান্ন একাত্তর এসেছে৷ কিন্তু আজ বলে উর্দূ আরবী হলে ভালোই হতো৷ সেদিন যদি ব্রিটিশরা জোর না করত বাঙালি ব্রিটিশের পা এমনিতেই ধৌত করত৷ সেদিন যদি পাকিস্তান বাংলাকে সম্মান করতে বলত তাহলে বলতো না, উর্দূই ঠিক আমরা মুসলমান৷ আমরা বাংলা বলতে জানি আর না জানি, আমরা বাংলার শব্দের অর্থ বুঝি আর না বুঝি কিন্তু ঠিকই ইংলিশ আমাদের গর্ব হয়ে উঠেছে৷ যে চটাং চটাং ইংলিশ বলতে পারে সে নিজেকে খুব বড় পাহাড়ের চেয়ে উঁচু ভাবে৷ এমনকি বাংলাদেশে ইংলিশ স্কুলে বাংলা বললে জরিমানাও হয়৷ আর উর্দূ বলতে পারাটা একটা ফ্যাশন, আরবির কথা কি বলবো! সেটাতে যদি কাউকে গালি দিয়ে লেখা হয় তবে সেটাতেই চুমু খাবে৷ কি লিখেছে বড় কথা নয়, বড় কথা সেটা আরবি৷ আরবি ভাষা পবিত্র৷ এই আরবিকে যতটা পবিত্র করেছে ততটা বা তার চেয়ে বেশি অপমান করেছে এই বাংলাকে৷ ধর্ম বাংলাদেশের মানুষ আলাদা করেছে অনেক আগে, এখন বাংলাটাও৷ হয়তো এভাবে চললে আগামিতে বাংলাদেশের দেশ থাকবে কিন্তু বাংলা থাকবে না৷

যেখানে লেখা আছে "এখানে পস্রাব করা নিষেধ" বাঙালি সেই লেখাটার উপর পস্রাব করে দিয়ে আসে৷ এমনিতেই বাঙালি পুরুষের কুকুরের মত রাস্তা ঘাটে যেখানে সেখানে পস্রাব করার স্বভাব৷

আমরা ভারতের ঐ সকালে খোলা জায়গায় পায়খানা করা নিয়ে হাসি৷ বলি! ভারতে এখনো এসব চলে৷ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দিক্ষায় উন্নত হলেও মানসিকতায় এখনো নোংরা৷ অথচ আমাদের দেখে বিশ্ব হাসে৷ আমাদের রাস্তা ঘাটে খোলা জায়গায় পস্রাব দেখে আরো ব্যঙ্গ প্রতিবেদন করে কারণ আমরা যেমন শিক্ষায় অনুন্নত তেমনি মানসিকতায়৷ ভারতের খোলা জায়গায় পায়খানা করা দেখে হাসেন আপনি, আপনাকে দেখে হাসে বিশ্ব৷ সামান্য প্রকাশ্যে চুমু খাওয়াকে ছিঃ ছিঃ করা আমাদের সভ্যতা হয়ে দাড়ায়, আর রাস্তায় দাড়িয়ে বসে পেন্টের চেইন খুলে বা লুঙ্গি উল্টিয়ে বের করে যখন পরিবেশটাকেও নষ্ট করা হয় তখন সেটা অসভ্যতা হয় না৷ প্রকাশ্যে চুমু খায় বলে উন্নত দেশগুলো অশ্লীল, আর রাস্তায় পস্রাব করা বাঙালি শ্লীল৷ কে কতটা সভ্য অসভ্য তাতো ঐ দেশ আর এই দেশের জনসংখ্যা দেখেই বুঝা যায়৷ এ দেশ এত সভ্য যে, ঐ অসভ্য দেশের চেয়ে এ দেশের জনসংখ্যা বহুগুন বেশি

ভিডিও প্রতিবেদনে দেখা গেলো বাংলার চেয়ে আরবী লিখলে সেখানে তওবা খাচ্ছে, সালাম করে চলে যাচ্ছে, পস্রাব করছে না৷ ধরলাম যেখানে আরবি লেখা সেখানে মানুষ পবিত্রতার নামে পস্রাব করবে না কিন্তু অন্য জায়গায় ঠিকই করবে৷ তাহলে আরবি দিয়ে পুরো বাংলাদেশ ছেয়ে ফেলতে হবে৷ পস্রাবের নামে আরবি ভাষাকে আরো মহৎ করে গড়ে তোলার এই রাস্তা বাংলাকে নিঃশেষ করে দেবে৷ সচেতনতা নয় বরং দূরবলতা নিয়ে স্বার্থ হাসিল করার একটা অপকৌশল৷ আর বিশ্বের কাছে বাঙালির লজ্জা৷ এ লজ্জা পুরো বাংলাদেশের বাঙালির৷

বহু ভাষায় কথা বলতে পারাটা অবশ্যই যোগ্যতার প্রতিভার৷ সব ভাষারই সম্মান আছে৷ আমার ভাষা যেমন তাদের ভাষাও তেমন৷ বাংলাকে ভালো বাসবো বলে এই নয় আমি অন্য ভাষাকে হেয় করব, তুচ্ছ করব, অপমান করব৷ যখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আসে তখন সেটা বাংলা ভাষার ইস্যু নিয়ে জন্ম নিলেও পুরো বিশ্ব বাংলাকে পূজা করবে এমন নয়৷ বাঙালিরা বাংলা, ইংরেজরা ইংরেজী, আরবরা আরবী এমন কি যারা ভাষার জন্য মানুষ হত্যা করেছে সেই পাকিস্তানিরাও উর্দূকে ভালবাসবে এটাই ছিলো কথা৷ যে যার মাতৃভাষাকে সম্মান জানাবে৷ কিন্তু যে দেশ ভাষার জন্য পথে রক্ত ঢেলে দিলো, সে দেশে বাংলার পস্রাব করে আরবিকে সালাম করা হয়, পবিত্র মনে করা হয় তখন দুঃখ লাগে৷ তখন কষ্ট লাগে৷ তখন উপলব্দি করি আমরা কতটা অমানুষ, অমানবিক, অসুস্থ্য, নোংরা আর বেঈমান৷ বিশ্ব তখন আঙুল উঠিয়ে দেখায়, ঐ দেখ বেঈমান জাতি যারা নিজ ভাষার উপর পস্রাব করে, পরের ভাষাকে সালাম করে, ঐ দেখ গোলাম জাতির দাসত্ব যারা পরের গোলামী করে নিজের ঘরে৷ আমরাইতো ভাষা ব্যবধানের বিষ ঢুকিয়ে দিই ছোটকালে, মানুষ ব্যবধানের বীজ লুকেদেই ছোটকালে৷

মূলত লেখার উপর পস্রাব করাটা মান অপমান নয়, মান অপমান তখন, যখন আরবী লেখা দেখলে তারাতারি উঠে পড়ি৷ এতে বুঝা যায় সম্মান অসম্মান আর গুরুত্ব৷ বাইরে পায়খানা করার সমালোচনা করে বাইরে পস্রাব করি এতে বুঝা যায় মানসিকতা৷ নয়তো বাংলা লেখা বলে পবিত্র পবিত্র সালাম করতে হবে তা নয়৷ টিস্যুতেও লেখা থাকতে পারে যেমন আছে সিগারেটে, আছে ন্যপকিনে৷ ওটা অমর্যাদা অসম্মান নয়৷ খারাপ লেখা বর্জন করবো ভালো লেখা অর্জন, তা না করে বিসর্জন তাও অন্যের গোলামী করে! এটা বাংলায় থেকে বাংলাকে তিলে তিলে খুন করা, নিজেদের জারোজ পরিচয় দেয়া৷ বাপ মার পরিচয় না থাকলে জারোজ বলেনা, বলে অস্বিকার করলে আমরাতো তাও জানিনা!!

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঙালী ফকির চাষী
কাঙালী ফকির চাষী এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 3 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, ডিসেম্বর 29, 2017 - 2:02পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর