নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • মিশু মিলন
  • নরমপন্থী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

অতীব সম্পদশালী দেশ ভেনেজুয়েলার আজকের শোচনীয় অবস্থা এবং প্রাসঙ্গিক আলোচনা



১৯২২ সালের জার্মান ওয়েইমার রিপাবলিকে ১ ডলারের বিনিময়ে পাওয়া যেত ৩২০ মার্ক। ১৯২৩ সালের শেষের দিকে ১ মার্কিন ডলার হয়ে যায় ৪ ট্রিলিয়ন জার্মান মার্কের চেয়েও দামী। একটা সময় জার্মানীতে দিনে দুইবেলা বেতন দেয়া হতো। সকালে জার্মান মার্কের দাম যা থাকতো, দেখা যেতো দুপুরে তা দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এমন কথা প্রচলিত আছে যে, চোরেরা টাকা ফেলে কেবল বস্তাটা নিয়ে যেত। কারণ, ভিতরে যে টাকা থাকতো, তার চেয়ে বস্তার দাম হতো বেশি। হাইপার ইনফ্লেশনের এমন ঘটনা ইতিহাসে বিরল নয়। ওয়েইমার রিপাবলিকের হাইপারইনফ্লেশনের ওই ঘটনাকে টপকে যাওয়া জিম্বাবুয়ে, ইরাক এসব দেশের পক্ষেও সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে মুগাবের জিম্বাবুয়ের বিলিয়ন ডলারের নোটকে টয়লেট পেপার হিসেবে ব্যবহার করাটা সস্তা হয়ে গিয়েছিল ভেবে যেমন হাসি আসে, তেমন ঘটনা আজকে ঘটছে আরেকটা দেশে। আজকের দিনে এরকম হাইপারইনফ্লেশন দেখছে পৃথিবীর সবচেয়ে সম্পদশালী একটা দেশ, যেই দেশের প্রমাণিত খনিজ তেলের মজুদ সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরানের থেকেও বেশি।

ফিডেল কাস্ট্রো বলেছিলেন, "আমাদের বিপ্লবের সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে আমাদের যৌনকর্মীরা পর্যন্ত গ্র্যাজুয়েট।" কিউবার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবই একমাত্র উদাহরণ, যেখানে সমাজতন্ত্র বড় ধরণের অসন্তোষ ছাড়া জনপ্রয়তা নিয়ে টিকে গেছে। কিউবার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব মানব সম্পদের উন্নয়ন দেখেছিল ব্যাপকভাবে। আর বেশিদিন কিউবার সমাজতন্ত্র টেকার সম্ভাবনা কম, তবে কিউবার সমাজতন্ত্রই একমাত্র সফলতার উদাহরণ এই ব্যবস্থার। ভেনেজুয়েলায় কি সমাজতন্ত্র বিদ্যমান? তাদের দেশে সমাজতন্ত্র নেই। গণতন্ত্র আর সমাজতন্ত্রের মিশেলে একটা অদ্ভুত ব্যবস্থা আছে যা কিছু ধরছেও না, কিছু ছাড়ছেও না। কিউবার, চায়নার মতো সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো ভেনেজুয়েলার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে ধীরে ধীরে। যেই দেশ এখন শাসন করেন এমন একজন, যিনি কথায় কথায় বলেন তিনি হুগো শাভেজকে স্বপ্নে এইটা করতে বলতে দেখেছেন, অমনভাবে নির্দেশনা দিতে দেখেছেন, তাকে নিয়ে আর কী আশা করা যায়? ছাগল অবশ্যই হালচাষের যোগ্য নয়, তা সে যদি তাগড়া রামছাগলও হয়, তাও নয়। নিকোলাস মাদুরো নাকি ছিলেন ডাইভার (এখন একদম নিশ্চিত নই, যতদূর মনে আছে)। সকল পেশার প্রতি সম্মান রেখে বলছি, উনি বাস ট্রাক চালালেই ভেনেজুয়েলার জন্য মঙ্গলজনক হতো।

যা বলছিলাম, অনলাইনে চেক করে দেখলাম ভেনেজুয়েলান কারেন্সি ভলিভারের আজকের দাম ১ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১০ লাখ বলিভার ছাড়িয়ে গেছে। হাস্যকর কথা হচ্ছে এই বিনিময় হার আন্তর্জাতিকভাবে কার্যকর হলেও ভেনেজুয়েলান সরকারের আলাদা বেঁধে দেয়া সীমা আছে। যেই দেশ দেউলিয়া হয়ে যেতে বসেছে, যাদের হাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন প্রায় শূন্য, তাদের এরকম কিছু কার্যকর করার সক্ষমতা থাকে না তা বোঝার বুদ্ধিটাও এই মাদুরোর সরকার হারিয়েছে। হুগো শাভেজ অনেক বড় বুলি ঝেড়ে ক্ষমতায় আসেন। উনি সফলও হচ্ছিলেন। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য তখন ছিল উনার পক্ষে। কিন্তু দূরদর্শী না হয়ে ভ্রান্ত আদর্শে বিভোর হয়ে থাকা প্রকৃত নির্বোধ হলে যা হয়, উনি অর্থনীতিকে আরও তেল নির্ভরশীল করলেন। দেশের ব্যক্তিমালিকানাধীন টূকটাক যা অবশিষ্ট ছিল, সবকিছুর বারোটা বাজালেন এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণিকে আরও নির্ভরশীল করলেন। ভবিষ্যতে তারা যেন শিক্ষিত, দক্ষ ও উৎপাদনশীল হতে পারে তার পরিকল্পনা না নিয়ে ফ্রিতে ঘরবাড়ি, তেল এসব দেয়া শুরু করছিলেন। মানুষের ফ্রিতে সুবিধা পাবার চাহিদার সীমা থাকে না, এভাবে পেলে যে দিতে থাকে সে জনপ্রিয় হ্য, কিন্তু সুবিধাভোগী শ্রেণি অলস হয়ে উঠতে পারে। এখানে পশ্চিমা ষড়যন্ত্র খোঁজার কোনো মানে নাই। অর্থনীতির ডাচ ডিজিজের সবচেয়ে আদর্শ উদাহরণ হয়ে থাকবে এই ভেনেজুয়েলা। ডাচ ডিজিজ হচ্ছে তাই, যখন কোনো এক প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য্য দেশের অন্য অনেক খাতকে ধ্বংস করে দেয়। সকল নজর থাকে ওই সোনা ফলানো খাতের দিকে। দক্ষ জনশক্তি, বিনিয়োগ সব সেই খাতে চলে যায়। পঙ্গু হতে থাকে অন্য খাতগুলো। এসবের দায় পুঁজিবাদী শক্তি, পশ্চিমাদের দিয়ে লাভ নেই। বাজে অবস্থা তৈরিতে প্রভাব খাটানো কিংবা দায় যদি পশ্চিমাদেরই হয়, তবুও ঐ দেশে কেন প্রায় কোনোই উৎপাদনশীল খাত নেই তে ছাড়া তার জবাব কে নেবে? সেখানে তো কোনো অবরোধের ব্যাপার ছিল না ইরাক, ইরান, উত্তর কোরিয়া কিংবা কিউবার মতো। এই দায় যদি তারা না নেয়, তবে এটাও বলতে হবে মাদুরোর দাবীকৃত মহান সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ব্যর্থ। কারণ, তাদের দেশ তো প্রায় দেউলিয়া হবার পথে।

হুগো শাভেজ সাফল্যের সাথে উনার সময়ে তেলের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়কে প্রায় ৯৫% এ নিয়ে যেতে সক্ষম হন। শাভেজ তেলের দাম সুবিধাজনক থাকাকালীনই মারা গেছেন। এরপর মাদুরো আসলেন, কিন্তু তেলের দাম কয়েকগুণ কমে গেল রিজার্ভ কমতে থাকলো। রাজস্ব আয় কমে গেল অনেকগুণ। কর আরোপ করে রাজস্ব বাড়ানোর কোনো উপায়ই থাকলো না, কারণ, দেশে তো বেসরকারী অন্য কোনো খাতই নেই যার উপর কর আরোপ করা যেতো। পৃথিবীর যেকোনো দেশে বেতন দেয়ার জন্য যদি নতুন করে টাকা ছাপাতে হয়, তা মূল্যস্ফীতি অনেক বাড়ায়। মাদুরো হাইপারইনফ্লেশনের আরও প্রকট করে ফেলেন দেদারছে মুদ্রা ছাপাতে শুরু করে। মগজ কম হলে যা হয়। এই পদক্ষেপের খুব নিকটবর্তী ফলাফল কী হবে তা বোঝার ক্ষমতা মাদুরো সরকারের অদক্ষ স্বল্পশিক্ষিত প্রতিনিধিদের ছিল না।

যে দেশ গত শতকের ইতিহাসের অর্ধেকের বেশি সময় পৃথিবীর তেলের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক ছিল, তাদের দেশের মুদ্রার অবস্থা এখন কেমন? কেন তাদের দেশে এখন প্রায় সবকিছুর জন্য হাহাকার? বাস্তব অবস্থা কেমন একটু দেখি। ধরেন, আপনি কদুর তেল আমদানি করবেন ওই দেশে। সরকারী রেটে যদি ১০০ বলিভার ১ ডলার হয়, সেটা কেবল সরকারী রেটই। বাইরে ১ ডলারের দাম এরচেয়ে শতগুণ বেশি। তাহলে আপনাকে কালোবাজারে অনেকগুণ বেশি দাম দিয়ে ওই কদুর তেল আনতে হবে মাথা ঠান্ডা রাখার জন্য। এনে ওইটা বিক্রি করতে গেলে প্রকাশ্যে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশিতে বিক্রি করতে পারবেন না। ধরেন আপনার আনতে কালোবাজারে খরচ পড়লো ১০০০ বলিভার। কিন্তু সরকার বললো ১০০ বলিভারের বেশিতে বিক্রি করা যাবে না। আপনি কি ১০ গুণ কমদামে বিক্রি করবেন? শুরু হবে নৈরাজ্য। আর প্রতিটা জিনিসের বেলাতেই এই অবস্থা। কারণ, সরকার দেশের বেসরকারী খাতকে এমনভাবে ধ্বংস করে ফেলছে যে হতাশা বাদে এমন কোনো জিনিস প্রায় নাই-ই যা দেশে উৎপাদিত হয়। কাগজে কলমে ওইদেশের মানুষের আয় এখনো প্রায় দশ হাজার ডলার। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ এখন অপুষ্টির শিকার।

তেলখাত থেকে যা আয়, তাও যদি দূর্নীতিমুক্তভাবে ব্যবহার করা যেতো, দেশটা অন্তত সৌদিদের থেকে ভালো থাকবার কথা। কিন্তু তাও নাই। তাদের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানী PDVSA তে প্রয়জনীয় জনবল অন্য যেকোনো দেশের থেকে অন্তত দ্বিগুণ বেশি। ভেনেজুয়েলাত তেলের উৎপাদন খরচ পৃথিবীতে সর্বোচ্চ। আর এই সর্বোচ্চ হবার কারণ কারিগরী জটিলতা, জনশক্তি ব্যয়বহুল হওয়া নয়। পুরোপুরি অদক্ষতা। হুগো শাভেজের সময় থেকেই মূলত সেখানে এই প্রতিষ্ঠানে দলের লোকদের নিয়োগ দেয়া শুরু হয়। প্রয়োজন না থাকলেও খুশি করতে দলের সমর্থকদের ঢুকানো শুরু হয়। যারা দক্ষ ও অভিজ্ঞ ছিল, তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। এর প্রভাব পড়ে সামগ্রিক দক্ষতায়। প্রতি ব্যারেল তেল উত্তোলনে তাদের খরচ এখন পৃথিবীতে সর্বোচ্চ। এমনকি আমাদের হরিপুর তেলক্ষেত্র থেকে যে সামান্য ৪-৫ হাজার ব্যারেল তেল উত্তোলন করা হয় দোইনিক, তাও লাভজনক। আর লক্ষ লক্ষ ব্যারেল তেল উত্তোলন করেও তারা এখন উত্তোলনের খরচ মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়াতে বিশাল তেলের রিজার্ভ থাকলেও তাদের দেশে উৎপাদিত তেলের থেকে বাইরে থেকে আমদানীকৃত তেলের মূল্য কম হয়ে যাচ্ছে প্রায়। তারা কি নিজেদের জন্য বাইরে থেকে তেল আমদানী করতে শুরু করেছিল? এরকমই তো মনে হয়।

https://www.reuters.com/article/us-oil-venezuela-imports/venezuelas-pdvs...

ব্যাপক দুর্নীতির দেশ, অরাজকতার দেশ, এই বাংলাদেশে আমরা আসলে অনেক সুখে আছি। প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য্য আমাদের সেভাবে নাই। ভেনেজুয়েলানদের মত এত প্রাচুর্য্য থেকেও যদি দৈনিক মজুরী ডজনখানেক ডিম হিসেবে নিতে হতো আর সেটা পেয়েই নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করতে হতো, সেটা হতো আরও দূর্ভাগ্যের, আরও অসম্মানের। টয়লেট পেপারটা অন্তত নিজেদের দেশে উৎপাদিত হচ্ছে আমাদের এখানে, আর তেলের উপরে দাঁড়িয়ে আছে যে দেশ, তাদের দেশের মানুষ টয়লেট পেপার কিনতে সীমান্ত পাড়ি দেয়। অন্যদেশের, অন্য জাতির ভুল থেকে আমরা শিখতে পারি। আমাদের দেশ আদর্শ না, অনেক অসঙ্গতি। কিন্তু আমাদের খেয়াল রাখতে হবে আমরা যেন অন্তত ভেনেজুয়েলা না হয়ে যাই।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আমি অথবা অন্য কেউ
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 2 দিন ago
Joined: শুক্রবার, জুন 17, 2016 - 12:11অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর