নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • মিশু মিলন
  • নরমপন্থী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

প্রতিষ্ঠানিক শিশু নির্যাতন বন্ধ হবে না ?


০১.
আমার বড় বোনের বড় মেয়ে, আমাদের পরিবারের মাঝে প্রথম কণ্যা সন্তান, আমি নাম রেখেছি ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে "ইত্তিলা"। জন্ম থেকেই মেয়েটার বাম চোখ নেই। খাওয়া দাওয়া করেনা বললেই চলে,প্রচন্ড রোগা আর টিংটিঙ্গা। মা-বাবা সাধ্য সাধন করেও খাওয়াতে পারে না সেই বেচারিরে। বয়স সম্ভবত এখন ৮বছর, দেখতে দেখতে বড় হয়ে গেছে, মফস্বলেই বড় হচ্ছে। এখন ক্লাশ-থ্রিতে পড়ে, একটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বড় দুলাভাই প্রচন্ড খেলাধুলা প্রেমী, আর খুউব ধর্মভীরু মানুষ।

আজকে সকালে আম্মা, খুউব আফসোস করে বলছিলো, "আহারে মাইয়্যার মনে ডর ঢুকি গেছে", আমি একটু আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম "কার ডর ঢুকছে? কিয়ের ডর?" আম্মা বললো " ইত্তিলার, গতকাইল রাইত নাকি, ঘুমের মইধ্যেই কান্দাকাটি করতেছিলো, পরে মৌসুমি (বড় আপু) অনেক বার জিজ্ঞাসা কইত্তে কইত্তে, হরে ইত্তিলা কয়, হিগা নাকি স্বপ্নে দেখছে ইস্কুলে ম্যাডাম হিগারে মাইত্তে আছে"। তারপর সাথে আরো কথা যোগ করলো আম্মা "মাইয়া গা দূর্বল, কিল্লাই হিগারে মারে মাস্টাররা, মাইয়াগার শইল্যের মইধ্যে মাইরের আঁক ভাসি ভাসি থায়, শহিদে (বড় দুলাভাই) কিচ্ছু কয় না ম্যডামগোরে, মৌসুমিরেও যাইতে দেয় না ইস্কুলে, ম্যাডাম গো লগে কতা কইতে"।

আমি তো অবাক, এখনো স্কুলে বাচ্চাদের মারে! আমি জানতে চাইলাম কেন শহিদভাই কিছু বলেনা? আম্মা বললো "শহিদ কয় মাস্টরা মাইল্লে মাইরের জাগা বলে বেহেস্তে যায়"। এবার আমি একটু হাসলাম, কারন এই হাদিস ছোট বেলায় আমিও বহুত বার আমার আম্মার মুখেই শুনছি। কিন্তু এই হাদিস কোথা থেকে আসলো? আদৌ কতটুকু সত্য? সোর্স কি আমি আজ অব্দি খুঁজে পাইনি। লোকো মুখে প্রচলিত একটা কথা, যার কোনো ভিত্তি আজ অব্দি আমি খুঁজে পাইনি। যাক আমার দুলভাই ধর্মিয় মানসিকতার মানুষ, তার ধর্মের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা, হয়তো তিনি এই হাদিসের কোনো সোর্স আমাকে দিবেন। কিন্তু যেসব শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাচ্চাদের মারে তাদের বিবেক কি আমি বুঝি না!

০২.
৯ আগষ্ট ২০১০-এ, দেশের সকল পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে পরিপত্র জারি করেছিলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এবং সেই পরিপত্রে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে যদি কোনো শিক্ষক-শিক্ষিকা এমন কাজ করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। সেখানে ২০১৮ সালে এসে যদি আমার ভাগ্নি রাতে ঘুমের মাঝে দুঃস্বপ্ন দেখে যে তার ম্যাডাম তাকে মারছে, তখন এইসব নিয়ম, আইন-কানুনের উপর শ্রদ্ধাটা থাকে কি ভাবে বলেন?

বাদ দিলাম আইনের বিধি-বিধান বা পরিপত্রের কথা, এই শিক্ষকদের কি বিবেক? প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটা বাচ্চাকে শারীরিক ভাবে শাস্তি দেয়া একজন শিক্ষিত মানুষের পক্ষে কি করে সম্ভব? যদি ধর্মীয় ভাবেও বিবেচনা করি, শিশুদের বলা হয় ফেরেশতা, সেই বিবেচনাতেও কিভাবে একটা ৮বছরের বাচ্চা মেয়েকে শারীরিক শাস্তি দেয়া হয়?

০৩.
আমি হয়তো চাইলে ওই স্কুলে শিক্ষকদের নামে অভিযোগ করতে পারি, কর্তৃপক্ষের কাছে। আমার চেনা পরিচিতের মাঝে অনেক প্রাজ্ঞজন আছেন যারা আমাকে সাহায্য করতে পারবেন এই অন্যায়ের প্রতিকার করতে, কিন্তু তাতে করে, শুধু প্রতিকার পাবে আমার ভাগ্নি, কিন্তু বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল, মফস্বলে এমন হাজারো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন, শত শত শিশু শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে শিক্ষকের দ্বারা, তার কি হবে? এতো আইন কানুন কোথায় যায়? এমন কি কোনো উদ্যোগ গ্রহন করা যায় না যাতে করে পরিবার গুলোর মাঝেই কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারনা গুলো দূর করে দেয়া যায়? আমরা চাইলে কি কোনো সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপর শারীরিক শাস্তির বিরুদ্ধে? আমরা এতো বেশি নিশ্চুপ কেন সব কিছু নিয়ে?

শুধু একটু ভাবুন আমাদের শিক্ষাপদ্ধতি, পাঠদান পদ্ধতি সরকার পরিবর্তন করছেন, যুগউপোযোগী করে গোড়ে তোলার চেষ্টা করছেন রাত দিন, কিন্তু এর সুফল কখনো কি আসবে যদি শিক্ষার্থীদের মননের মাঝে শিক্ষা গেঁথে না দেয়া যায়? ভয় নিয়ে কখনো শেখা যায় না, শিক্ষা আমরা লাভ করি নির্মল মানসিকতায় থেকে। আমাকে আমার এক স্যার সব সময় তিরস্কার করতো, কারন আমার সমাজের পড়া মুখস্ত না থাকলেও গান কবিতা ঠিকই মুখস্ত থাকতো, থাকবে না কেন বলুন তো? ওটা আমি বিনোদনের মাধ্যমে গ্রহন করছে, গান কবিতার না শিখার জন্য আমার কোনো শাস্তির ব্যবস্থা নেই, কোনো হুমকি নেই পাশ ফেইলের, ওটা আমার বিনোদনের জায়গা। একটু ভাবুন পাঠ্যসূচি ভূক্ত এইসব পড়া কেন আমরা ধারণ করতে পারছি না, কারন ভয় আছে, শাস্তি আছে, পাশ-ফেইল আছে। বিশ্বাস করুন শুধু মাত্র শিক্ষার্থীদের উপর যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবারের মানসিক চাপটা সরিয়ে দেয়া যায়, যদি শিক্ষাকে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তবে দেশে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়বে।

০৪.
ব্লগের সাথে যে ছবিগুলো যুক্ত করলাম ছবিটি মৌলভীবাজার জেলার আলী আমজাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছবি। ছবিতে যে ভদ্র মহিলাকে দেখছেন তিনি ওই স্কুলে প্রধান শিক্ষিকা পূর্ণা রায় ভৌমিক। ম্যাডাম আমার জীবনের সর্বোত্তম শিক্ষকের সহধর্মীনি। ছবি গুলো আমি একটু আগে তাঁর টাইম লাইনেই পেলাম। সাথে সাথে সকালে আম্মার সাথে কথোপকথনের অংশটা মনে পড়ে গেলো, তারা শিক্ষক, পূর্ণা রায় ভৌমিকরাও শিক্ষক। দেখে বোঝার উপায় আছে একজন প্রধান শিক্ষিকা বাচ্চাদের মুখে তুলে খাইয়ে দিচ্ছেন। যারা এই শিশুবাচ্চাদের শারীরিক শাস্তি দেয় তাদের সাথে পূর্ণা রায় ভৌমিকদের পার্থক্য কি জানেন? পূর্ণা রায় ভৌমিকরা শিক্ষিত মানুষ, আর তারা হলো শিক্ষিত কিন্তু অমানুষ। মানুষ সবাই হতে পারে না।

শাস্তি দিয়ে, ভয় দেখিয়ে, বকাঝকা করে, বাচ্চা শিশুগুলোর মনকে আমরা সামাজিক ভাবে আয়োজন করে বিষাক্ত করে দিচ্ছি, কখনো কি ভেবে দেখেছি এই বিষয়ে? না ভাবলে ভাবুন। একটু বোঝার চেষ্টা করুন, বাচ্চাগুলোকে মানুষ হতে দিন।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নগরবালক
নগরবালক এর ছবি
Offline
Last seen: 3 দিন 19 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - 11:50পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর