নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

বাংলাদেশে মালাউন রবীন্দ্রনাথ ও রবীনিন্দা


বিশ্বে যখন রবীর চর্চার বাতাস বয়,
বাংলাদেশে মগজের তখন পতন হয়৷

বাংলা মেইল ৭১ এর একটা লেখা পড়লাম৷ খুব ভালো করে মগজ ধোলাই চলছে৷ প্রায় ১২ হাজার ভিউ ছিল লেখাটির আর অহরহ মন্তব্য৷ মন্তব্যের অবস্থা দেখে বুঝলাম এদেশের মগজগুলো কতল হয়েছে সাম্প্রদায়িকতা আর ধর্মের তরবারিতে, যেখানে মশির চেয়ে ঐশী বড়৷

বাংলা মেইল ৭১ লিখেছেন-
>
“মূর্খের দেশে আবার কিসের বিশ্ববিদ্যালয়, তারাতো ঠিকমতো কথাই বলতে জানেনা! – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
<

যার দান করা ৬০০ একর জমির উপর আজকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল, বুয়েটের মতো দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড়িয়ে আছে। অথচ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে এইসব প্রতিষ্ঠানে কোন দোয়ার আয়োজন করা হয়নি। করা হয়নি কোনো স্মৃতিচারণামূলক অনুষ্ঠান। অন্যদিকে তৎকালীন সময়ে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাঙালি বিদ্বেষ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বিরোধীতার কথা কমবেশি সবারই জানা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় শুধু কঠোরভাবে বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হননি বরং তিনি ব্রিটিশদের সাথে রীতিমতো দেন-দরবার করেছিলেন যাতে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় না করা হয়। সেসময় রবীন্দ্রনাথ এক অনুষ্ঠানে দাম্ভিকতার সাথে বলেছিলেন “মূর্খের দেশে আবার কিসের বিশ্ববিদ্যালয়, তারাতো ঠিকমতো কথাই বলতে জানেনা!” অন্যত্র এক অনুষ্ঠানে এদেশের মানুষকে তীব্রভাবে কটাক্ষ করে রবী ঠাকুর বলেছিলেন “সাত কোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী, রেখেছো বাঙালী করে মানুষ করোনি”। অথচ সেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন, মৃত্যুদিন, সাহিত্য উৎসবসহ আরো অনেক অায়োজন ধুমধামের সাথে পালন করা হয়। আর যে বঙ্গসন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপকার সেই নবাব স্যার সলিমুল্লাহকে আজকের শিক্ষার্থীদের অনেকেই চেনাতো দূরের কথা নামটাও জানেনা। আমরা এতোটা অকৃতজ্ঞ যে বলতেও লজ্জা লাগে! [banglamail January 23, 2018 পাঠক কলাম Leave a comment 11,257 Views]

কত সুন্দর ভাবে ঢুকিয়ে দিলো বঙ্গমাতা কবিতার শেষ দুটো লাইন৷ “সাত কোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী, রেখেছো বাঙালী করে মানুষ করোনি”। এটা দেখে অবাক হবোনা কারণ রবী নিন্দা করতে তারা যা ইচ্ছা তা করতে পারে নইলে "চৈতালি" কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে ১৮৯৬ সালে যার একটি কবিতার নাম বঙ্গমাতা৷ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ হয় ১৯৭১ -এ যখন রবীন্দ্রনাথ গত৷ মুক্তিযুদ্ধের আগে বাংলাদেশের জনসংখ্যায়তো সাড়ে সাত কোটি যার মধ্যে ত্রিশ লক্ষ শহীদ৷ বলা হচ্ছে এ দেশের মানুষকে তীব্রভাবে কটাক্ষ করে বলেছে- সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্ম উনিশ শতকে না হয়ে আঠার শতকে চলে যায়৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত ১৯২১ সালে তাহলে এদেশের হয় কি করে? ভারত ভাগ হয় ১৯৪৭ আর পূর্ব পাকিস্তান হতে বাংলাদেশ হয় ১৯৭১ সালে৷ নিন্দার ধোঁয়া উড়াতে আর কি লাগবে কারণ আমরাতো কম বেশি জানি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে জনসংখ্যা সাত কোটি, তাহলে আমাদের বলেছে, বেঁচে থাক আর না থাক শশ্মান হতে বলেছে, আকাশ হতে বলেছে৷

এবার আসি “মূর্খের দেশে আবার কিসের বিশ্ববিদ্যালয়, তারাতো ঠিকমতো কথাই বলতে জানেনা! তিনি এ কথা বলেছেন কিনা আমি জানিনা, নাকি সাত কোটি বাঙালির মত অন্য জায়গার কথা এ জায়গায় মেরে পালিশ লাগানো৷ তবুও আমি ধরে নেব বলেছে৷ হ্যাঁ মিথ্যেতো বলেনি!? বিএনপির সময় যখন চট্টগ্রামের চন্দনাইশের অলি আহম্মদ বীর বিক্রম যোগাযোগ মন্ত্রী ছিলেন তখন একই থানার কানাইমাদারীর পার্শ্ববর্তী জেলে পাড়ার নিকটে একটা কলেজ স্থাপন করেন যেন জেলেরা শিক্ষিত হয়৷ জেলেরা প্রাইমারীতেইতো যায়না, তারা পড়বে কলেজে! পরে সেই কলেজের রুমে রুমে তারা গরু বাঁধতে শুরু করল৷ তো মূর্খের দেশে আবার বিশ্ববিদ্যালয় এটা কি ভুল? যদি বলি জ্ঞানের দেশে জ্ঞানি জন্মায় তাহলে আপনি সেখানে কি বুঝবেন? বুঝবেন, যেখানে যে পরিবেশে জ্ঞানি আছে৷ তা মূর্খের দেশ বলাতে বাংলাদেশ বুঝে গেলেন কেনো সরাসরি!? প্রাথমিক শিক্ষার স্কুলইতো তখন বেশি প্রয়োজন ছিলো সেটাইতো তখন ছিলোনা তাহলে মন্তব্যটা কোন দিক থেকে খারাপ? আর যেখানে সব কিছুই ধর্ম দিয়ে দেখা হয় সাম্প্রদায়িক চোখে, সেখানে মাদ্রাসায়তো ভালো৷ স্কুল, কলেজ , বিশ্ববিদ্যালয়তো সার্বজনীন৷ নাকি পহেলা বৈশাখ, জাতীয় সংগীত বর্জনে ধর্ম আর রবী নিন্দা করতে খাঁটি বাঙালিত্ব উছলে পরে?

সলিমুল্লাহকে মনে রাখেনি এটা কি রবীন্দ্রনাথের দোষ! নাকি নিজেদের হীনতা? আর রবীন্দ্রনাথ বাঙালী বিদ্বেষী এমন কথা তাদের মুখে মানায় না যারা পহেলা বৈশাখ বর্জন করতে বলে, যারা বাংলা আরব করতে চায়, যারা বাংলাকে আরবের সাথে মিশিয়ে দিতে চায়, যারা বাংলা সংস্কৃতিকে হিন্দু সংস্কৃতি বলে, যারা জাতীয় সংগীতে মালাউনের গন্ধ পায়, যারা আরবের বালি রৌদ্র হতে বাঁচার পোষাককে বাংলার পোশাকে রুপান্তর করতে চায়, যারা বাংলায় বসে বাংলাকে প্রতিদিন মাইকে চিল্লায়ে অপমান করে যায়, সেই তাদের মুখে বাংলা বিদ্বেষী কথাটা মানায় না৷ চিরদিন তোমার আকাশ তোমার বাতাস এই লাইনের অর্থই না বুঝে যখন মূর্খ উগ্র রাজাকার চেতনার মুফতি আব্দুল রাজ্জাক বলে এটা কি তোর বাপের আকাশ! আর সামনে গাধার দল যখন ঠিক ঠিক বলে, সেই গাধার রাজ্যে বাংলা যখন অসংখ্যবার অসংখ্য টুপি ওয়ালারা বাংলাকে ধ্বসে বিদ্বেষ ঢুকিয়ে দেয় সেই টুপিওয়ালাদের যারা সম্মানের নামে পূজে, তাদের মুখে বাংলা বিদ্বেষী বলে প্রচার করাটা মীর জাফরের চরিত্র৷ আবার বাঙালি বলতে বুঝে বাংলাদেশের বাঙালি যেন আর কোথাও বাঙালি নেই কিংবা ভারতের বাঙালিরা বাঙালি নয়৷ সাতকোটি এক সময়ের পুরো বাঙালির কথা বললে বুঝে অন্য সময়ের একটা মানচিত্রের বাঙালি৷

রবীন্দ্রনাথকে বিশ্ব চিনে৷ রবী নামে নয় গুনে৷ চেতনা সৃষ্টির আরেক নাম রবী৷ পদবীর জন্য মালাউন বলা যায় রবীকে, কিন্তু পদবীর জন্য মুসলমান বলা যায় না জঙ্গীকে ধর্ষককে৷ কি চমৎকার৷ রবীন্দ্রনাথরা ইসলামের জন্য মালাউন, আমাদের জন্য সষ্টির স্রষ্টা৷ এতো মানুষের রবী৷ আমিও বলতে চাই- “মূর্খের দেশে আবার কিসের বিশ্ববিদ্যালয়, তারাতো ঠিকমতো মানুষই চিনেনা! বাংলা, বাঙালী, সংস্কৃতি কি জানেই না! ওদের জন্য মাদ্রাসায় ভালো৷ ওরাতো মানুষ না! ওরা মুসলমান৷

Comments

ফারুক উজ্জামান এর ছবি
 

আমি মুসলমান, এখনও মানুষ হতে পারিনি |

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঙালী ফকির চাষী
কাঙালী ফকির চাষী এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 3 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, ডিসেম্বর 29, 2017 - 2:02পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর