নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • শ্মশান বাসী
  • আহমেদ শামীম
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

গল্পঃ বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে


মিরার যখন জন্ম হয় আমি তখন চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি মৌলভীবাজার আসার পথে। মৌলভীবাজারের শান্ত-শিষ্ট, শ্যামল পরিবেশে বড় হওয়া আমার জন্য ঢাকায় চাকরি করা সত্য বলতে দুরূহ নয় অসম্ভব ছিল। তাই তেরো বছরের চাকরির টাকা জমিয়ে মৌলভীবাজারে ব্যবসা শুরু করি। ‘চাকরি মানে পরের চাকরগিরি’ এমন একটা ধারণার জন্য মা-বাবাও কিছু বলেননি। সালেহাকে অন্তসত্ত্বা হবার পরই পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। নিজেও একটু গুছিয়ে নিয়ে সন্তান জন্ম নেয়ার সময়টাকে উপযুক্ত ভেবে চলে এসেছিলাম তখন।
মিরার জন্ম দুপুরে হয়। আমি ভোরের ট্রেনে উঠেছিলাম। ব্যাপারটা ভাগ্য না কেবল কাকতালীয় ঘটনা সে আমি আজ চিনÍা করে বুঝতে পারিনা।
“বাবু তোর ফুরি (বাবু তোর মেয়ে)।” ঘরে ঢুকতেই মা একটা বাচ্চাকে হাসিমুখে আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন। আমি যেন পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বস্তুটা দেখলাম তখন। নিজের মেয়ে! মিটমিটে চোখ, ছোট-চাপা নাক, ছোট ঠোঁট। আহা! বড় আনন্দের অনুভ’তি! আনন্দ যেন সুনামি হয়ে এসে ভেঙ্গে পড়ছিল আমার মনের তীরে। সাবধানে কোলে তুলে নিলাম। সালেহার ভ্যানিটি ব্যাগের চেয়েও খানিকটা ছোটই হবে। বিয়ের ছ’বছর পর জন্ম নেয়া প্রথম সন্তান। এই একটি সন্তানের জন্য কত আকুতি! কত কান্না! মনের ভেতর বারবার বেজে ওঠছিল-

“আকাশ হতে খসল তারা আঁধার রাতে পথহারা।।
প্রভাত তারে খুঁজতে যাবে- ধরার ধুলায় খুঁজে পাবে
তৃণে তৃণে শিশিরধারা।।”

আমি যতটা খুশি হয়েছিলাম নিজের মেয়েকে কোলে নিয়ে বাবা যে ততোটা বেজার হয়েছিলেন তেমনটা নয়, তবে ততোটা খুশিও তিনি হতে পারেননি। তাঁর চোখ-মুখ যেন বলছিল, “বাবারে! মেয়ে যে দুনিয়ার কত বড় বোঝা সেটা তোমার মতো গ-মূর্খ কিভাবে বুঝবে?” অবশ্য মেয়ে জন্মানোতে তিনি যতটা বিব্রত ছিলেন তার চাইতে বেশি বিরক্ত ছিলেন সেই মেয়েকে নিয়ে সবার আহ্লাদ দেখে এমনটাই মনে হচ্ছিল আমার। মানুষ তার ধারণাতে সমর্থন চায়। আর তার অচেতন মস্তিষ্ক য়খন বুঝতে পারে ধারণাটা ভুল, সচেতন মস্তিষ্কে সে তখন সমর্থনের জন্য পাগল হয়ে যায়। একটার পর একটা সিগারেট খাওয়া দেখেই আমি বাবার মনের সে অবস্থার আঁচ পাচ্ছিলাম। এসব অবশ্য আমার দেখার বিষয় ছিলনা তখন। আমার সময় তখন মেয়েকে নিয়ে ব্যাস্ত থাকার।

দুই...
বি, এ, পড়ার সময় সিদ্দিকুর রহমান স্যারের খাতিরে সাহিত্যের দিকে বেশ ঝুঁকেছিলাম। দু-একটা কবিতা লেখারও চেষ্টা করেছিলাম সেসময়। পড়তাম অর্থনীতিতে। অথচ অর্থনীতির বই বছরে একবার হাতে নিতাম কিনা সন্দেহ তবে কবিতার বই সারাদিনই হাতে থাকতো। পরিবারের বড় ছেলের এ বেহাল দশা বাবাকে বেশ দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল বলতে হবে। আর আমার পিতার দুশ্চিন্তা কেন যেন কখনোই নির্বাক নয় বরং একটু বেশিই সবাক। তাঁর এ সবাক দুশ্চিন্তার ফলস্বরূপ কবিতার বই সিন্দুকে তালা মেরে অর্থনীতির বইয়ে আমাকে ডুব দিতে হয়েছিল। আমার সাহিত্যচর্চার খায়েশও এর সাথে চাবি হারানো সিন্দুকে প্রবেশ করে।
সিন্দুকের চাবি হারিয়ে গেলেও সিন্দুকের ভেতর যে সম্পদ অবস্থান করছে সে বিষয়টি তো মন থেকে হারানোর নয় বরং সবসময় খোঁচা দেয়ার মতই বিষয় সেটা। তাই মিরা যখন বেশ পড়তে শিখেছে তখন মনে ইচ্ছে জাগলো নিজের অপূর্ণ ইচ্ছে তাকে দিয়ে পূরণ করানোর। আমরা অভিভাবকরা এমনই হই। নিজের ব্যর্থতা আমরা সন্তানকে দিয়ে সফল করার কল্পনা করি। অথচ সাহিত্য যে জবরদস্তির বিষয় নয় সেও আমি বুঝতে পারছিলাম। সাত বছরের মেয়ের উপর পরীক্ষা চালানোই তাই আমার তখন উপযুক্ত কর্ম হবে বলে মনে হয়েছিল। সেজন্য খুব বেছে দুটো বই নিয়ে এলাম। একটা বই দেখতে সুন্দর পড়তে নয়, অন্যটা উল্টো। মিরা শেষের বইটাই বেছে নিয়েছিল। সে যখন বইটা টানা চার নম্বর বারের মতো পড়তে শুরু করলো তখন আমি যেন পারলে আনন্দে লাফাই। বইয়ের পর বই এনে দিতে লাগলাম ওকে। মিরাও পাগলের মতো সেগুলো পড়তে লাগলো আর আমি ঘরে আসলেই নিজের মুখে সেগুলো বলতো। এ ব্যাপারটায় অবশ্য আমি যতটা খুশি হচ্ছিলাম ঘরের বাকিরা যে ততোটা হচ্ছিল তেমন নয়। সালেহার মনে তো যেমন আগুন জ্বলছিল আমি মেয়ের পড়াশোনা লাঠে তুলে একের পর এক গল্পের বই পড়াচ্ছি ভেবে। অথচ মেয়ের রেজাল্ট যে খুব বাজে ছিল তেমন নয়। টেনেটুনে দশের ভেতর ঢুকেই যেতো।
“তুমি ফুরির জীবনটা নষ্ট করবায় (তুমি মেয়ের জীবনটা নষ্ট করবে)।” হঠাৎ করেই একদিন সালেহা বলে ওঠলো। মিরা তখন মনে হয় ক্লাস ফাইভে পড়ে।
“আমি আবার কিতা করলাম (আমি আবার কী করলাম)!” আমি অবাক হওয়ার ভান করে বললাম।
“ফুরিয়ে ফড়ার বই দিনে একবার ফড়েনা। হারাদিন গল্পোর বই লইয়া বই থাকে। রেজাল্টোর কী দশা অইছে দেখছো নি একবার চাইয়া (মেয়ে পড়ার বই দিনে একবার পড়েনা। সারাদিন গল্পের বই নিয়ে বসে থাকে। ভেবে দেখেছো একবার রেজাল্টের কী অবস্থা হয়েছে)?”
“বাইচ্চা মানুষোর অতো রেজাল্ট দিয়া কিতা অইতো? এছাড়া তাই তো দশোর ভিতরে থাকেই (বাচ্চা মানুষের এতো রেজাল্ট দিয়ে কী হবে? এছাড়া সে তো দশের ভেতর থাকেই)।”
“তুমার বাইচ্চা ফুরিয়ে ইবছর ফাইভোর বৃত্তি ফরীক্ষা দিবো। আর দশোর ভিতরে থাকে বিশজনোর মাঝে (তোমার বাচ্চা মেয়ে এবছর ফাইভের বৃত্তি পরীক্ষা দিবে। আর বিশজনের মাঝে সে দশের ভেতর থাকে)।”
“খারাফ কিতা? বেশ অর্ধেকোর আগে তো থাকে (খারাপ কী? বেশ অর্ধেকের আগে তো থাকে)!” আমার জন্য সবসময়ই অর্ধেকের আগে থাকাটাই অনেক বড় বিষয় ছিল। তাই কথাগুলো আমি সত্য সত্যই অবাক হয়ে বলেছিলাম।
আমার কথা শোনার পর সালেহা যে অতি কষ্টে আমাকে লাঠি দিয়ে পেটার ইচ্ছে সংবরণ করেছে সেটা আমি বুঝতে পারছিলাম। “আইচ্ছা গল্পোর বই ফড়োউক সমস্যা নায়। তবে খালি বার্ষিকোর ফরে (আচ্ছা গল্পের বই পড়–ক সমস্যা নেই। তবে শুধু বার্ষিকের পর)।”
অগত্যা আমাকে রাজি হতে হয়েছিল। আমি ভেবে ক’ল পাচ্ছিলাম না মিরাকে কিভাবে ব্যাপারটা বুঝাবো অথচ মিরার মধ্যে কিছু একটা ছিলো। যে বয়সের মন প্লাস্টিকের খেলনা পছন্দ করলে রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি পেলেও খুশি হয়না, সে মন আমার এক কথাতেই সেদিন রাজি হয়ে গিয়েছিলো।
সন্তানের ব্যপারে মায়েদের যে অদ্ভ’ত কিছু ক্ষমতা থাকে মিরার রেজাল্টের পরিবর্তন সেটা যেন প্রমাণ করতে থাকলো। ফাইভে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেলো সে। সালেহার মুখে জয়ীর হাসি ছিল তখন আর আমার মনের মাঝে মধুর পরাজয়ের ¯িœগ্ধ হাসি। এতোকিছুর পরও আমি আমার ইচ্ছের দিকটা খেয়াল রাখছিলাম। আমি মিরাকে ইতিহাস তাকে জানিয়েছিলাম, বুঝিয়েছিলাম রাজনীতি। সে পরীক্ষায় ফার্স্ট হতো কিন্তু ফার্স্ট হওয়ার জন্য পড়তো না, পড়তো জানার জন্য। প্রতিটা বই থেকে রস উদ্ধারের এ শিক্ষা তাকে গল্পের বইই দিয়েছে। সে আমার মতো করে তার মাকে খুশি রাখছিল।
ক্লাস এইট পর্যন্ত মেয়েকে আমিই স্কুলে দিয়ে আসতাম আবার নিয়ে আসতাম। মিরা স্যারের বাসায় যাওয়া শুরু করে ক্লাস নাইনে ওঠে। আমিও তখন একটু দুনিয়া শেখানোর ইচ্ছেতে ওকে একা ছেড়ে দেই। হঠাৎ একদিন সন্ধ্যার দিকে সালেহা ফোন করে বললো মেয়ে স্কুল থেকে আসার পর থেকে গুম মেরে বসে আছে, কিছু খায়ওনি। আমি তাড়াহুড়ো করে দোকান বন্ধ করে বাসায় গেলাম।
“কিতা অইছে রে মাই (কী হয়েছে রে মা)?”
“আইজ স্কুল থাকি আওয়ার সময় কয়েকটা ফুয়ায় যাচ্ছেতাই কথা কইছে। বাবা, আমারে তারা কিতা কইছে ইটা বিষয় নায়। বিষয় অইলো এরা আমরারে মানুষ ভাবে না। আরো খারাফ লাগছে যখন আশেপাশের মানুষোর চাওয়া দেখিয়া মনো অইছে একেকজনে ওটাই কইতো চাইরো ফুরি অইয়া স্কুলো ফড়রায় ক্যানে (আজ স্কুল থেকে আসার সময় কয়েকটা ছেলে যাচ্ছেতাই কথা বলেছে। বাবা, আমাকে কী বলেছে এটা বিষয় না। বিষয় হলো ওরা আমাদের মানুষ ভাবে না। আরো খারাপ লেগেছে যখন আশেপাশের সবার চাহনি বলছিলো মেয়ে হয়ে স্কুলে পড়ছো কেনো)?” বলে সে কেঁদে ফেললো।
আমি খানিকক্ষণ কিছু বললাম না। আমি জানি সে এমন ঘটনা আরো দেখবে। জীবনে অনেকবার দেখবে। এখন আবেগী বয়স তাই কাঁদছে। সামনে বড় হবে, তখন আর কাঁদবে না। হয় চুপচাপ এড়িয়ে যাবে নাহয় ঘুরে থাপ্পড় মারবে। আমি চাচ্ছিলাম সে ঘুরে থাপ্পড় মারুক। থাপ্পড়ের জবাবে ওড়নায় টান পড়লে লাথি মারুক। লাথি মারুক ঐস্থানে, যার দম্ভে ছেলেগুলো তাকে এতোকিছু বলবে।
“মাইরে, ইলা ঘটনা ইদেশো লাখ লাখ ঘটের। বাকি জীবনে ইলা ঘটনা আরো পাইবায়। তখন তুমি দুইটা কামোর একটা করতায় পারো, হয় ঘুরিয়া থাপ্পড় মারবায় নাইলে চুপচাপ হাটিয়া যাইবায়গি। এখন তুমি কও কোনটা করবায় (মা রে, এমন ঘটনা এদেশে লক্ষ লক্ষ ঘটছে। বাকি জীবনে এমন ঘটনা আরো পাবে। তখন তুমি দুটো কাজের একটি করতে পারো, হয় ঘুরে থাপ্পড় মারবে নাহয় চুপচাপ হেঁটে চলে যাবে। এখন তুমি বলো কোনটা করবে)?”
“থাপ্পড় মারমু (থাপ্পড় মারবো)।” মিরা চোখ মুছে বলেছিলো। কথাটা সে আমার শান্ত-শিষ্ট মেয়ের কণ্ঠে বলেনি। কণ্ঠটা ছিলো কোন তেজস্বিনী নারীর। সে কণ্ঠে রৌদ্র ছিলো, সে কণ্ঠে বর্ষা, ঝড় ছিল। কিন্তু সে কণ্ঠে সবচেয়ে বেশি যেটা ছিল সেটা হল শীতলতা। সে কণ্ঠ আজও আমার কানে বাজে। সে কণ্ঠ আজও বুকে কাঁপুনি তোলে।

তিন...
কলেজে ভর্তি হওয়ার পর তখন মনে হয় তিন-চারমাস গেছে। মিরা একদিন আমার হাতে একটা খোলা ম্যাগাজিন ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলো। সেখানে সহসা নিজের মেয়ের নাম আবিষ্কার করে আমি চমকে ওঠলাম। আবেগী বয়সের প্রবন্ধ তাই আবেগ প্রয়োজনের চাইতে বেশি প্রাধান্য পেলেও একদম আবেগের বানে সবকিছু ভাসিয়ে দেয়নি সে, যৌক্তিক আলোচনাও বেশ করেছে। দু-চারটে কথা তখন বেশ নজর কেড়েছিল। খানেক আগে আবার পড়লাম। এবারও সেই কথাগুলো নজর কাঁড়লো-
হাফপ্যান্ট পরে ফুটবল খেলতে থাকা পাড়ার মাঠের ছেলেকে দেখে আমাদের তো কখনো কোন কামনা জাগেনা! তবে আমাদের প্যান্ট-শার্টে দেখলে আপনার কেন সমস্যা হয়? সত্য বলতে সমস্যা আমার পোশাকে নয়, সমস্যা তোমার চোখে পুরুষ! আর দয়া করে ধর্ম নামক বিষয়টাকে আনবেন না। যে ধর্ম কেবল নারীপছন্দে শেকল টানে আর পুরুষপছন্দে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয় সে অন্ততঃ আমার ধর্ম (আদর্শ) নয়।
সেদিন আমার নেচে উঠতে ইচ্ছে করছিল। সালেহাকে এতো জোরে ডেকেছিলাম যে বাবাও তার ঘর থেকে লাঠি নিয়ে চলে এসেছিলেন।
সেসময় গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি হয়ে ভেঙ্গে গেছে। খানেক সাফল্যের পরবর্তী বিতর্কে ব্যর্থ হওয়া জাগরণে প্রগতিশীলতার বিপরীতে সামপ্রদায়িকতাও খেপে ওঠেছিল। ব্লগার হত্যা যখন অহরহ ঘটনা মিরা তখনও ইন্টারনেট, ম্যাগাজিনে লিখতো। আমার আর সালেহার মোবাইলে দু-একটা হুমকির বার্তা আসায় আমরা এ ব্যাপারে জেনেছিলাম। চিন্তায় সালেহার তখন পাগলপ্রায় অবস্থা। মেয়েকে থামানোর জন্য বলতো। আমার চিন্তা হচ্ছিল না এমন নয়। কিন্তু কেন যেন তখনও বিচলিত হচ্ছিলাম না। ভাবছিলাম থাক মেয়ে তো খারাপ কিছু করছেনা। তাই তাকে কিছু বলছিলামও না।
খারাপ কোন ঘটনা ছাড়াই মিরা এইচ, এস, সি পাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। তাকে যেদিন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে নিয়ে যাই সেদিন আমি আর সালেহা যেন হাফ ছেড়ে বেঁচেছিলাম আমাদের সকল চিন্তা থেকে। আমরা দু’জন হাসছিলাম মিরাও হাসছিল। অনেকদিন পর সেদিন গীতবিতানের কটা লাইন মনে পড়েছিল-
“হৃদিমন্দিরে বাজে সুমঙ্গল শঙ্খ।।
শত মঙ্গলশিখা করে ভবন আলো,
উঠে নির্মল ফুলগন্ধ।।”
সিলেট যাবার পর এ আনন্দ মিরার মনে বেশিদিন টেকেনি। সে ভেবেছিল ভার্সিটিতে সে লেখার ভাল পরিবেশ পাবে। অথচ ভার্সিটির প্রতিটা ধূলিকণা যেন তাকে লিখতে বাঁধা দিচ্ছিল। তার মনকে যেন সেখানের প্রতিটা মানুষ খুঁটে খুঁটে খাচ্ছিল। তবু সে কিছু বলতো না, মাঝে মাঝে শুধু দীর্ঘশ্বাস ছাড়তো।
“বাবা, ইকানো সব কিলা যেন সুবিধাবাদী (বাবা, এখানে সবাই কেমন যেন সুবিধাবাদী)!” মিরা হঠাৎ একদিন ফোনে কথাটা বললো। তখন সে কেবল থার্ড ইয়ারে ওঠেছে।
“ক্যানে রে মাই, কিতা অইছে (কেন রে মা, কী হয়েছে)?” আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তার দীর্ঘশ্বাস আমি শুনেছি কিন্তু এমন হতাশার খাদে ভেঙ্গে পড়া কণ্ঠ আমি শুনিনি।
“স্যার তারা স্টুডেন্টোর মেরুদ- ভাঙ্গি দিতো চায়। আর সংস্কৃতিকর্মী, গ-মূর্খ অকল আছইন খালি নিজোর ফিঠ বাঁচানির চিন্তাত (স্যাররা চায় স্টুডেন্টের মেরুদ- ভেঙ্গে দিতে। আর সংস্কৃতিকর্মী, গ-মূর্খেরা আছে শুধু নিজেদের পিঠ বাঁচানোয়)।”
সে আরো বলতে চাচ্ছিল কিন্তু ভাষা পাচ্ছিল না। কোন লাভ হচ্ছিল না তবু বুঝাচ্ছিলাম। বারবার বলছিলাম দু’বছর শেষ আর দু’বছর ধৈর্য্য ধরতে। তার দু’বছর আর আমার দু’বছর সমান ছিলনা আমি বুঝতে পারছিলাম তবু কথাগুলো বলছিলাম। আমি জানি আমার মেয়ের এসব সহ্য হওয়ার নয়। সে পড়াশোনা করেছে, সে জানে, তাই অজ্ঞতায় সে হতাশ হয়।
টাকা-পয়সার টানাটানি সংসারে আমার সবসময়ই ছিল। তবু মিরার খরচ কলেজ পর্যন্ত বেশ চালিয়ে নিচ্ছিলাম। সিলেট পাঠানোর পর যেন আর ক’লিয়ে ওঠতে পারছিলাম না। মিরাও ব্যাপারটা ধরতে পেরেছিল তাই ফার্স্ট ইয়ার থেকেই টিউশনি করাতে লাগলো। বেশ দূরে, টিলাগড় গিয়ে করাতো।
তখন মনে হয় রাত দশটা বাজে। সময় সঠিক মনে নেই শুধু তারিখ মনে আছে, ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮। বাবার সাথে বসে টিভিতে টক-শো দেখছিলাম। এমনসময় মোবাইলে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন এলো।
“হ্যালো, সিদ্দিকুর রহমান বলছেন?” ওপাশ থেকে মহিলা কণ্ঠ জিজ্ঞেস করলো।
“জ্বি।” আমি দ্বিধান্বিত কণ্ঠে জবাব দিলাম
“ফারিয়া জাহান মিরা কি আপনার মেয়ে?”
“জ্বি।” কোনমতে বললাম। বুকে আমার তখন হাতুড়ির বাড়ি পড়ছে।
“আমি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এ, এস, পি ফরিদা ইসলাম বলছি। আপনার মেয়ের সাথে একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে। আপনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিলেট আসুন। আমরা ওকে নিয়ে ওসমানী মেডিক্যালে আছি।” বলে মহিলা আমার কথার অপেক্ষা না করেই লাইন কেটে দিলেন।
মুহুর্তটা ব্যাকুলতার ছিল। একদিকে সালেহা আর বাবা কান্নাকাটি করছিলেন অন্যদিকে পুলিশের তাগাদা। সিলেটের বাস ন’টার সময় বন্ধ হয়ে যায় তাই কী দিয়ে যাবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। ছোটমামার গাড়ি যখন ঘরের দুয়োরে এসেছে তখন প্রায় বারোটা বাজে।
ওসমানীতে যখন পৌছেছি মিরা তখনও আই, সি, ইউ-তে। আমরা শুধু জানলার কাঁচ দিয়ে ওকে দেখতে পাচ্ছিলাম। সাদা কাপড়ে আমার মেয়ের সমস্ত শরীর ঢাকা। চোখ দুটো সিলিঙের দিকে তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে। মাঝেমাঝে কতকটি দীর্ঘশ্বাসই শুধু তার জীবিত থাকার প্রমাণ। ডাক্তার বলছিল “ট্রমাতে আছে।” পুলিশ বলছিল “ধর্ষণ।” সবকিছুই আমার কাছে কেমন যেন শূন্যতার প্রতিধ্বনি হয়ে ছুটে আসছিল। বিস্তীর্ণ শূন্যতার বেদনা আমাকে জেঁকে ধরেছিল। বুক ফেটে কান্না আসছিল তবু কোথায় যেন আটকে যাচ্ছিল বারবার।
হাসপাতালে যাওয়ার পরই ভার্সিটির ছাত্রদের হট্টগোল দেখেছিলাম। অনেকেই কাঁদছিলো আবার অনেকেই ছিল যারা আলোচনার মুখরোচক বিষয় পেয়ে শুকনো মুখে আনন্দিত ছিলো।
“আঙ্কেল, কফি নেন।” হঠাৎ করেই একটা ছেলে ওয়ানটাইম কাপে এক কাপ কফি দিলো।
আমি সেটা নীরবে নিলাম।
“বলেছিলাম রাতে ও জায়গায় যাওয়ার দরকার নেই। সে বলতো ছেলেদের সমস্যা না হলে মেয়েদের কেনো হবে? স্যাররা এসেছিলেন। প্রক্টর, ভিসি সবাই। আসলেন, পুলিশকে প্রেসার দিলেন। জানেন আঙ্কেল, পাঁচ-ছ’টা আন্দোলনের কর্মসূচীও এরই মাঝে ঘোষণা হয়ে গেছে। কাল ক্যম্পাস কাঁপবে। সিলেটও কাঁপবে। অথচ মিরা!” এক নিঃশ্বাসে বলে সে মুঁচকি হাসি দিলো। সে হাসি আমার আজও মনে পড়্ হেতাশা, কান্না, ক্ষোভ জড়ানো সেই একটি হাসি।
পরদিন ক্যাম্পাস কেঁপেছিলো। সিলেট কেঁপেছিলো। সারাদেশে বিক্ষোভ হয়েছিল। বক্তৃতাবাজরা বক্তৃতা দিচ্ছিলেন বিচার চেয়ে। ধর্ষকরাও দু’দিনের মাঝে ধরা পড়েছিলো। বিচার প্রার্থনার বিচার-শ্লোগাণ গ্রেফতারেই জয়োল্লাস হয়ে ঘরে ফিরেছিল। আমাদের বিচার প্রার্থনা সবসময়ই এরকম, শ্লোগাণ পর্যন্ত।
ওরা ভুলতে পেরেছিল। আর আমরা? আমরা মৃত থেকে মৃততর হচ্ছিলাম। শুনেছিলাম “মন থাকিলেই মানুষ।” তাই যদি হয় তবে মানুষ হিসেবে আমাদের মৃত্যু ঘটে গিয়েছিলো তদ্দিনে। আমরা খাচ্ছিলাম, ঘুমোচ্ছিলাম আর একের পর এক শোনানির তারিখ শুনছিলাম।
মিরার অবস্থা যেন দিনদিন খারাপ হচ্ছিল। জানলার বাইরে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতো সারাদিন। সে শূন্য দৃষ্টিতে মৃত্যু ছিল, লাঞ্ছনা ছিল, হতাশা ছিল আর ছিল পৃথিবীর প্রতি একদলা বিতৃষ্ণার থুথু। সে কাঁদতো না তবু চোখ দিয়ে তার অবিরাম পানি ঝরতো। মেয়েটাকে দেখলে ইচ্ছে হতো পুরো পরিবার নিয়ে আত্মহত্যা করি। কিন্তু মৃত্যুর পর মৃত্যুবরণ করতে সাহস লাগে আর আমার সেটা ছিলনা। সকলের চাহনি দেখে মন চাইতো পুলিশকে গিয়ে বলি, “ভাই আমার মেয়ে ধর্ষিতা। আমাদের জেলে ঢোকান, ফাঁসি দিন।” সেটাও করতে পারছিলাম না। আমরা কেবল ধুঁকে ধুঁকে মরছিলাম।

চার...
বাবা,
মনে আছে কোন একদিন তুমি আমাকে ঘুরে থাপ্পড় মারার কথা বলেছিলে? ঐদিন আমি কেমন যেন শক্তি পাচ্ছিলাম নিজের ভেতর। মনে হচ্ছিল পৃথিবীর কোনকিছুই আমাকে আর আটকাতে পারবেনা। দেখো, কী ভুলটাই না আমি ভেবেছিলাম সেদিন! আজ আমি আটকে গেছি একটা চক্রে, একটা সময়ে। আমার প্রতিটা মুহুর্ত এখন সেই মুহুর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে।
বাবা, মারুফ সবসময় ওদিকে সন্ধ্যার পর যেতে মানা করতো। আমি ওর কথা কখনোই শুনতাম না। ওই অন্ধকার কোণ থেকে ওরা আগেও উত্তক্ত্য করতো। চৌদ্দ তারিখ কী মনে করে যেন একটাকে থাপ্পড় মেরেছিলাম।
বাবা, ওরা যখন আমাকে ধর্ষণ করছিল তখন নিজেকে আর মানুষ মনে হচ্ছিল না, মনে হচ্ছিল আমি একটা মাংসপি- আর ওরা আমাকে খাবলে খাচ্ছে। আমার সহ্য হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল কেউ ছুরি দিয়ে আমার সারা গায়ে কুপিয়ে যাচ্ছে। আর না পেরে কেঁদে বলেছিলাম, “তোমরা আস্তে করো, প্লিজ!” ওরা ভিডিও করেছিল সে কথা। তাই নিয়ে ওদের উকিল তামাশা করলো, আমাকে নষ্ট বানালো! অথচ তার মেয়ের সাথে এমন হলে কি তাকেও সে নষ্ট বানাতো? সে আসলে জানেনা এমন কথা একটা মেয়ে বুকের ভেতর কতটা কষ্ট নিয়ে বলতে পারে।
ওদের মৃত্যুদণ্ড হবেনা, সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন। অথচ ওরা তো আমাকে মেরে ফেলেছে! আমি নিঃশ্বাস নিচ্ছি বলেই কি মানুষ আমি বেঁচে আছি? আমার ভেতরের মানুষ তো বেঁচে নেই আর। ওরা বলে আইন যুক্তি মানে, প্রমাণ মানে। আমি নিজে কি এই মৃত্যুর যথেষ্ট প্রমাণ নই? আর যুক্তি তো বিবেক মানে বাবা। যারা দণ্ডবিধি বানিয়েছেন তাঁদের বিবেকও কি আমার মতো বলেনা? তাঁরাও আমার কথায় সায় দিবেন। শুধু সায় দিবেনা আমাদের দণ্ডবিধির ৩৭৬ নম্বর ধারা।
দেখেছো বাবা? তোমাকে বলতাম না আমাদের ‘সচেতন’ ছাত্ররা সব কথা ভুলে যায়? ভুলে গেছে সবাই আমাকে। তোমার মিরার মতো হাজার মিরা এই বাংলাদেশে ধর্ষিত হবে তবু কেউ রাস্তায় নেমে বলবেনা ‘ধর্ষণের শাস্তি ফাসি চাই’। সবাই প্রথমে চিৎকার করবে, পরে দু’ভাগ হবে। একভাগ চায়ের কাপে ফুঁ দিয়ে বলবে আমি নির্দোষ, অপরপক্ষ আমার পোশাকের ওপর দায় চাপাবে।
আর যে পারিনা বাবা! সেদিন ঘরে এসে সবাই যেভাবে উঁকি দিচ্ছিলো মনে হচ্ছিলো যেন আমিই অপরাধী! বাবা, আমাকে কেন মুখ লুকোতে হবে? ওদের দেয়া ট্রমা তো ঢের ভাল ছিল এই সমাজের দেয়া ট্রমার চেয়ে।
আর সহ্য হয়না বাবা। প্রচণ্ড কষ্ট সার্কাসের প্রাণী হয়ে বেঁচে থাকার। সেদিন একটা কবিতা লিখেছিলাম। যদিও সমালোচকদের কাছে এটা কবিতা নয়, তবু আমার কাছে কবিতা-

চাঁদ আজ ঝাপসা হয়ে আছে।
হয়ত কোন একদিন নাগরিক আবেগহীন উচ্ছ্বাস
পেছনে ফেলে একরাশ জ্যোৎ¯œা হেসে ওঠবে।
আমি অপেক্ষায় আছি সেই মাহেন্দ্রক্ষণের।

হয়ত কোন একদিন মেয়েরা আর মেয়ে হয়ে থাকবে না,
মেয়েরাও মানুষ হবে। পুরুষরা আর কামুক পশু রবে না,
পুরুষরাও মানুষ হবে।
হয়ত কোন একদিন আর শোনা যাবেনা আর্তনাদ
আমার মায়ের, আমার বোনের, কোন অপরিচিতার।
আমি অপেক্ষায় আছি সেই মাহেন্দ্রক্ষণের।

হয়ত কোন একদিন অনলাইনে নয় রাস্তায় আগুন জ্বলবে।
হয়ত সেদিনের পর আর কোন ধর্ষক থাকবে না।
হয়ত সেদিনের পর আর কোন ধর্ষিতা থাকবে না।
হয়ত সেদিনের পর আর কোন মেয়ে আক্ষেপের ক্ষোভে বলবেনা,
“তুই শালাও সেদিন চুপ ছিলি।”
আমি অপেক্ষায় আছি সেই মাহেন্দ্রক্ষণের।

বাবা, অপেক্ষা আমি আর করতে পারলাম না। এভাবে নিঃশ্বাসে বেঁচে থাকতে বড় কষ্ট হয়। স্মৃতি বড় পীড়া দেয়। আমি ট্রমা থেকে বেরিয়ে চাইছিলাম আগের মতো বাঁচতে। অথচ এ সমাজ তার বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে তেমনটা হতে দিলনা। বাঁচতে আমাকে কেউ দিবেনা বাবা, অথচ সবাই চায় আমি জীবিত থাকি। আমি মরে গেলে যে সার্কাস বন্ধ হয়ে যাবে! আমি আর পারিনা বাবা। প্রতিদিন এ সমাজের হাতে নিহত হতে আমি আর পারিনা। তুমি ভাল থেকো, মাকে ভাল রেখো, দাদাকে ভাল রেখো। আমি চললাম নিরুদ্দেশ। ইতি-
মিরা

চিঠিটা মিরার ঝুলন্ত লাশের পাশে পেয়েছিলাম। কত স্বপ্ন! কত হাসি! কত কান্না! এই মিরার জন্মের জন্য কত কী! আজ সে আর নেই। আজ আমি আর আমার মেয়েকে ছুঁতে পারিনা। একটু আদর করে বুকে টেনে নিতে পারিনা। ওরা আমার সে সুখ কেড়ে নিয়েছে।
ধর্ম বলে আত্মহত্যা মহাপাপ। ধর্ম কি একেও আত্মহত্যা বলবে? অথচ আমার মেয়েকে তো পুরো সমাজ মিলে গলা টিপে হত্যা করেছে! আইন ধর্ম এরপরও কি বলবে এটা আত্মহত্যা?
সালেহা আর নিতে পারেনি। মিরার সাথে ওকেও কবরে রেখে এসেছিলাম। বাবাও শয্যাগত। মিরার প্রতি তাঁর এতো টান আগে জানতাম না। আমি একাই বেঁচে আছি শতাব্দির পুরাতন বৃক্ষ হয়ে আর লিখে যাচ্ছি মিরার স্মৃতিকথা।

শেষ কিছু কথা...
আজ নাকি মিরার মামলার রায় দিবে। তাই বুকপকেটে ওর চিঠি নিয়ে মারুফের অপেক্ষায় আছি। ছেলেটা ওকালতি পড়েছে শুধু এই একটা কেইস লড়ার জন্য। এখন আমার ভাঙ্গা দেহ আদালতে টেনে নিয়ে যায় প্রতিটা শোনানিতে।
আমি এখনো কেন আদালতে যাই আমি জানিনা। আমার আকাশ তো মেঘে ছেয়ে গেছে। সে তো ভরা পূর্ণিমাতেও আর চাঁদ দেখাবে না। হয়ত মেঘের ফাঁক গলে খানেক জ্যোৎস্না ছুটে আসবে সে আশায়। আমার সামনের পথ যেখানে স্মৃতিকাতর ঝরা পাতায় ছেয়ে আছে আমি হয়ত সেখানে দু’টো সতেজ পাতা পড়বে সে অপেক্ষায় বেঁচে আছি। হয়ত আমি অপেক্ষায় আছি সে মাহেন্দ্রক্ষণের।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সৈয়দ আহসান
সৈয়দ আহসান এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 4 দিন ago
Joined: রবিবার, জানুয়ারী 15, 2017 - 10:10অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর