নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কাঙালী ফকির চাষী
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • মাহের ইসলাম
  • মৃত কালপুরুষ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

পিতা, ২-কন্যা আর সংগ্রামী জিয়নকাঠীর নাম "দঙ্গল"


কৈশোরে খুব সিনেমা পাগল ছিলাম আমি, যা এখনো কমবেশি বোধ আর মেমব্রেনে বিদ্যমান। আজ ছুটির দিনের দুপুরে আকস্মিক হিন্দি "দঙ্গল" ছবিটি দেখলাম জি-সিনেমায়। হিন্দি "দঙ্গল" মানে কুস্তি। অনেক খেলার মধ্যে কুস্তি খুব অপছন্দ আমার। কিন্তু এ ছবিটার কাহিনি এমন এক পিতা আর কন্যার জীবনঘনিষ্ঠতায় চমকপ্রদ যে, কুস্তির এ মানবিক সংগ্রামের গল্পে, এ খেলাটির প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয়েছে আমার, যার সত্যি কাহিনিটি এমন।
:
ভারতীয় হরিয়ানার গ্রাম্য কুস্তিগীর ফোগট পুত্রসন্তানের কামনায় দিন কাটাচ্ছিলেন অনেকদিন। কারণ তাঁর দৃঢ়তা ছিল, নিজের ছেলেই একদিন ভারতের জন্য কুস্তিতে আন্তর্জাতিক সোনা জিতে আনবে, যা সে পারেনি। কিন্তু ৪-বারই কন্যা সন্তানের জন্ম দিলেন তার স্ত্রী। ব্য়র্থ হয়ে নিজের স্বপ্নকে বিদায় জানিয়েছিলেন ফোগট প্রায়। কিন্তু একদিনের এক ঘটনা বদলে দিল এ কুস্তিবীরকে। পাড়ার দুটো ছেলে পিছনে লাগলে, তাঁর সাহসি দুইকন্যা গীতা ও ববিতা মারাত্মক ধোলাই দিল ছেলে দুটোকে। এরপরই শুরু হল ফোগটের চিন্তনের এক নতুন লড়াই। সমাজের প্রথা ভেঙে মেয়েদের কুস্তিতে লড়াইয়ের জন্য তৈরি করতে থাকেন বাবা মহাবীর কন্যাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে! কন্যারা আলতা চুড়ি পরে হতে চেয়েছিল সাধারণ ললিপপ কন্যা!
:
দঙ্গলের কাহিনি রচিত হয়েছে ভারতীয় কুস্তিগীর মহাবীর ফোগাটের জীবনের সত্যি ঘটনা অবলম্বনে। এই ছবিতে দুই মেয়ে গীতা ও ববিতাকে রেসলিং জগতে প্রতিষ্ঠিত করতে এক সংগ্রামী বাবার চরিত্রে মহাবীর ফোগাটরূপে দেখা গেছে আমির খানকে। আর পর্দায় আমিরকে নিজের চরিত্রে দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন মহাবীর নিজেই। দঙ্গলে দেখানো হয় কীভাবে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের দুই মেয়ে ববিতা ও গীতাকে কুস্তিগীর হিসেবে তৈরি করেন মহাবীর ফোগাট নামের এক পিতা।
:
এটা কোন মুভি নয়, মনে হয় যেন কেউ কোন অভিনয় করছেনা এখানে। চোখের সামনে একজন মানুষ ও তার মেয়েদের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর ঘটনা ঘটে যাচ্ছে দৃশ্যের পর দৃশ্যে। যেন সব কিছুই আসল। কুস্তির মারপ্যাঁচ, ঘাম, মাটি, অশ্রু, আবেগ, হাসির শব্দ, গ্রামের পরচর্চা, কোন কিছুতেই যেন বিন্দুমাত্র মিথ্যে নেই। প্রসংশা শুধুমাত্র নির্মাণশৈলীতেই থেমে থাকবেনা। কাহিনিতে আছে টান টান উত্তেজনা এবং দৃশ্যে দৃশ্যে হাসির খোরাক। মানতেই হবে মুভি শেষ হবার পর এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছিল হৃদয় জুড়ে আমার।
:
ছবির মূল ফাইটার গীতা ফোগাট চরিত্রে ফাতিমা সানা শেখ যে আছাড় মেরেছিল প্রতিপক্ষকে, তা যেন সকল নারীবিদ্বেষী পুরুষকে বুঝিয়ে দেয় যে, তোমাদের সব অন্যায়ের বিরু্দধে এই হলো প্রকৃত "আছাড়"! কুস্তি খেলাটি যে এরকম রোমাঞ্চকর হতে পারে, আমার জানা ছিলনা আগে, গীতা আর ববিতা ফোগট সেটা জানালো আমাকে। গীতা একেকটি পয়েন্ট নিচ্ছিল, আর আমি রোমাঞ্চিত হয়ে উঠছিলাম টিভির সামনে। এ ছবিতে বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে গীতার কৈশোর চরিত্রের অভিনেত্রী জাইরা ওয়াসিম সেরকমই একটি লুতুপুতু সুন্দরী মেয়ে, সাধারণত গ্রাম্য মেয়রা যেমনটা হয়। শুরুতে সবাই ভাবছিল একে দিয়ে হবেনা। নড়াচড়াই করতে পারে না, এইটা আর কি কুস্তি করবে? কিন্তু ৬-৭ মাসের পর শুটিং এর সময় এই "মাইয়া পুরাই আগুন লাগায় দিসে"।
:
ছবিটিতে ফোগটেরর ভূমিকায় আমির খানকে একটা দৃশ্যেও দেখা গেল না। কে বলে দঙ্গল আমির খানের ছবি, ছবির প্রথম দৃশ্য থেকে শেষ পর্যন্ত শুধুই তো মহাবীর ফোগট। এই পেল্লাই ভুঁড়ি, দেহাতি চলাফেরা, খোঁচা-খোঁচা গোঁফ দাঁড়ি, শুধু মেকআপ নয়। মহাবীর ফোগটকে অসফল কুস্তিগীর বলা হলেও, স্বামী হিসেবে, চার মেয়ের বাবা হিসেবে মহাবীর যে সফল, তা অতি নিপুণতার সঙ্গে তুলে ধরতে পেরেছেন আমির এ ছবিতে। ছোট গীতা ও ববিতার ভূমিকায় জাইরা ওয়াসিম এবং সুহানি ভটনাগর অনবদ্য। সেই ছোটবেলায় খেলাধূলা করার ইচ্ছের মধ্যে বাবার চাপে প্র্যাকটিস করার অনিচ্ছা, এত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন দুজনে, যা অনন্য অনবদ্য। আর ফতিমা সানা শেখ ও সান্যা মলহোত্রা আমির খানকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে গিয়েছেন পুরো ছবিতে, তাই ওরা দুবোন এ ছবির প্রাণ প্রতিমা বটে!
:
এ ছবিতে মানুষের দৃঢ়তা, কর্মবীরত্ব আর মাটির গন্ধ রয়েছে প্রতিটি দৃশ্যে । অনেক টেকনিক্যাল মারপ্যাঁচ রয়েছে কুস্তির, যা সাধারণত কোনও বলিউডের ছবিতে দেখানো হয়না। কিন্তু এখানেই অনন্য আমির খান ও এ ছবির কাহিনি বিন্যাস। এ ছাড়া পুরুষবাদী এ সমাজে নারীবাদের দৃঢ় বার্তা আছে সিনেমাটিতে, যাতে বোঝা যায় মেয়েরা ছেলেদের থেকে কোনও অংশেই কম নয়, এমনকি কুস্তিতেও। মারাত্মক পুরুষবাদী তথা নারীবিদ্বেষী খাপতন্ত্রের হরিয়ানাতে এই সত্যিটাকে স্বীকার করার ক্ষমতাও কারো নেই। যেখানে মেয়ে জন্ম নিলে আজও মেরে ফেলার মতো 'স্বাভাবিক ঘটনা' ঘটে, যেমনটা ঘটতে এক সময় আরবে। নিজেদের নাক বাঁচাতে মেয়েদের মেরে ফেলতে হাত কাঁপেনা ওখানের বাবা-কাকাদের। এ ছবিটা সেই এলাকার ঘটনা নিয়ে নির্মিত। যা এক চরমতম সাহসিকতার পরিচয় বহন করে বটে।
:
নীতেশ তিওয়াড়ির এই ছবির পরিচালনা সত্যিই মুগ্ধ করেছে আমাকে। এত সিরিয়াস সাবজেক্টের এই ছবিতেও নিজের হিউমার সেন্স বজায় রাখতে পেরেছেন পরিচালক, তার জন্য তাঁকে একটা থ্যাংসতো জানাতেই হয়। দক্ষ পরিচালনার প্রেক্ষিতে এই ছবিতে অসাধারণ অভিনয় রয়েছে, দারুণ বিনোদন রয়েছে, প্রবল তীব্র স্বাধীনতার বার্তা রয়েছে, আর তাইতো এ ছবি বাস্তবোচিত হয়েছে প্রতিটি পদক্ষেপে। ভারতের সর্বকালের সেরা ব্যবসা-সফল সিনেমা হিসেবে এরইমধ্যে জায়গা করে নিয়েছে আমির খানের ‘দঙ্গল’। ভারত মাতিয়ে এবারে চীনের দর্শককেও মাতাতে চলেছে নিতেশ তিওয়ারি পরিচালিত এ জনপ্রিয় স্পোর্টস ড্রামা। শুধুমাত্র ভারতেই প্রায় তিনশ সাতাশি কোটি আটত্রিশ লক্ষ রূপি আয় করেছে ‘দঙ্গল’। বিস্ময়কর ব্যাপার ছবিতে ভারতের জাতীয়সংগীত থাকায় প্রতিবেশি দেশ পাকিস্তানে ‘দঙ্গল’ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হায় পাকিস্তান !
:
সিনেমাটি শেষ হয়ে গেলে টিভির পর্দার দিকে তাকিয়ে এক বিদগ্ধ পিতার জলঘন মানবিক দেহের প্রতিভূ হয়ে ভেসে যাই এক জলজ জীবনে আমি। দুটো কন্যার পেশাগত উচ্চতর শিখরে আরোহণ, আর তার প্রতিভূ হিসেবে গ্রামীণ বাবার সুখের এক আনন্দবাতাস উড়িয়ে নেয় আমাদের ভালবাসার প্রেমজ নৌকাগুলো অনেক দূরের বিদেহপুরে সুখদ্বীপে। যে দ্বীপে আমরা হয়তো সবাই পৌঁছুতে চাই আমাদের সন্তান আর কন্যাদের। কিন্তু ভালবাসার প্রসন্ন সপ্তপদি দ্বীপদেশে ঘুরে ঘুরে আমরা কি পারি সেই বিদগ্ধ বাতাসকে ধরতে? এসকল প্রশ্নের চমকপ্রদ হৃদয়ঘন জবাব দেবে ফোগট নামক আমির খান, আর গীতা নামের ফাতিমা সানা শেখ এবং ববিতারূপী সান্যা মলহোত্রা! হ্যাঁ এই হলো, হৃদয় ভেজা প্রকৃতির মাঝে বলিউডের প্রেমহীন, গানহীন প্রচলিত ধারার সিনেমার বাইরের সিনেমা "দঙ্গল"! দেখতে ইচ্ছে করছে? তবে চলুন কোলকাতার "ফেম" সিনেমাতে! "ট্যাক্সি নম্বর নাইন টু ইলেভেন' দেখেছিলাম "ফেমে" আমি! অনেকদিন আগে একাকি!

Comments

দ্বিতীয়নাম এর ছবি
 

ভাল, দুটোই - ছবি আর রিভিউ।

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

!

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 2 ঘন্টা 20 min ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর