নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • মিশু মিলন
  • নরমপন্থী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

হিন্দু ধর্মে নারীর বিবাহের জন্য বিভক্ত অবস্থান!


বাৎসায়ন তাঁর “কামশাস্ত্রম্”-এ চেহারা ও গণাগুণ অনুযায়ী নারীকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন-- (১) উত্তমা কুমারী, (২) মধ্যমা কুমারী, (৩) অধমা কুমারী।

উত্তমা কুমারীর লক্ষণ : যে কন্যা শ্যামাঙ্গী, যার কেশ মনোহর, দেহে অল্প অল্প লোম বিরাজমান সে কন্যা মনোহারিনী। মনোহর ভ্রূযুক্তা, সুশীলা, মৃদু গতিশালিনী। সুদন্তা, পঙ্কজ নয়না। যার কটি ক্ষীণ, যার কথা অতি উত্তম ও মিষ্টভাষী বলে মনে করবে। যে কন্যা কুলের কল্যাণকারিণী। যার দেহ নাতিদীর্ঘ, নাতিহ্রাস। যার বর্ণ শ্যাম, দেহ ক্ষীণ, গতি হংসিনীর মতো। করতল রক্তপদ্মের মতো, স্তন নাতিউচ্চ, নাতি ক্ষুদ্র, যোনিপৃষ্ঠ কচ্ছপাকৃতি, ধর্মপরায়ণ, পতিব্রতা, তাকেই উত্তমা রমনী বলে মনে করা চলে।

মধ্যমা কুমারীর লক্ষণ : যার শরীর মধ্যবিত্ত, কেশ দীর্ঘ। যে রমণী সর্বদা আলস্য পরিত্যাগ করে। কী সুখ কী দুঃখ উভয় যার সমজ্ঞান। যে সর্বদা হাসি মুখে কথা বলে, যার নাভিদেশ গভীর, যে রমণী সকলের প্রতি মিষ্ট বাক্য প্রয়োগ করে, যে সদাচারপরায়ণ, যার মতি সর্বদা ধর্মে প্রতিষ্ঠিত। অল্পমাত্র আহারেই যার তৃপ্তিবোধ হয়, সর্বজীবে যার আত্মজ্ঞান, যে রমণী গুরুভক্তিপরায়ণ, দেবপূজায় নিযুক্ত ও দ্বিজ সেবায় রত এবং যে রমণী সাধ্বী, তাকেই মধ্যমা রমণী বলে।

অধমা কুমারীর লক্ষণ : অধমা কুমারী হস্ত ও পদ ক্ষীণ, চক্ষু পিঙ্গলবর্ণ, দন্ত সুদীর্ঘ ও বিরল (ফাঁকা ফাঁকা), উদর বৃহৎ হয়ে থাকে। এর শরীর অধিক লোমে পরিপূর্ণ। এই রমণী অতি উচ্চৈঃস্বরে হাস্য করে এবং বেশি কথা বলে। এই রমণী অতি নির্লজ্জ, সদা ক্রোধপূর্ণ এবং চিত্ত সদা বিকল। অধমা কুমারীর হস্ত ও পদে দীর্ঘ এবং কেশ খর্ব হয়ে থাকে। এদের সমস্তই কুলক্ষণে পরিপূর্ণ। অধমা রমণী কদাচ স্বধর্মবিহিত সদাচারের অনুষ্ঠান করে না। সুতরাং রমণীকে পরিত্যাগ করা কর্তব্য।

যে নারী বিবাহের উপযুক্ত নয় : যেখানে অধমা রমণী বাস করে, লক্ষ্মী কখনও সেখানে বিরাজ করেন না। যে-লোক এহেন কন্যাকে বিবাহ করে, তাকে আজীবন মহাদুঃখ ভোজ করতে হয় এতে সন্দেহ নাই। অতএব সব সময় এরূপ নারীর সংসর্গ ত্যাগ করা উচিত। যার সর্বাঙ্গ লোমে পরিপূর্ণ সেরূপ কন্যা কুলে উঁচু হলেও বিবাহযোগ্যা নহে। সে কন্যা কুলক্ষণাযুক্তা। যে কন্যা শুভ্রবর্ণা, অধিকাঙ্গী, রোগিণী, লোমশূন্য অধিক রোমান্বিত, বাচাল, পিঙ্গলবর্ণা, নক্ষত্র নাসিকা, বৃক্ষনাসিকা, নদীনাম্নী, পক্ষীনাম্নী, সর্পনাম্মী, ভীষণনাম্মী, সেরূপ কন্যাকে বিবাহ করা কর্তব্য নহে। সেরূপ লক্ষণযুক্ত কন্যা শাস্ত্রে কুলক্ষণা বলে কথিত হয়ে থাকে। নদীনাম্নী, বৃক্ষনাম্নী ও নক্ষত্রনাম্নী কন্যাকে বিয়ে করা উচিত নয় পূর্বে একথা বলা হয়েছে বটে-- কিন্তু গঙ্গা, যমুনা, গোমতী, স্বরস্বতী এই সব নদীর নাম। তুলসী ও মালতী এই দুই বৃক্ষের নাম এবং রেবতী, অশ্বিনী ও রোহিনী এই তিন নক্ষত্রের বেলায় কোনো দোষ নয়। যে কন্যার চক্ষুদ্বয় ট্যারা ও চপল, যে কন্যা দুঃশীলা ও পিঙ্গলবর্ণ এবং হাস্যকালে যার গণ্ডস্থলে কূপাকার চিহ্ন দৃষ্ট হয় তাকে কামুকী বলে জানবে।

বাৎসায়ন তাঁর শাস্ত্রে শুভাশুভ বিচার করতে গিয়ে বলেছেন : যখন বরপক্ষরা কন্যা দেখতে যাবেন, তখন নিম্নলিখিত চিহ্নগুলি তাদের অবশ্য দেখা উচিত -- (১) কন্যাটি এই সময় ঘুমোচ্ছে বা কাঁদছে কি না, কিংবা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে কি না। (২) কন্যার নাম সহজে এবং প্রকৃতপক্ষে উচ্চরণ করা যায় কি না, তার নাম অকল্যাণ সূচক কি না। (৩) খবর নেওয়া উচিত, ঐ কন্যার আগে অপর কারও সাথে বিয়ের কথা পাকা হয়েছিল কি না। (৪) কন্যার গায়ের রং পিঙ্গলবর্ণ কি না। তার মুখে সাদা সাদা দাগ আছে কি না। (৫) কন্যার মুখ দেখতে পুরুষের মত যেন না হয়। (৬) তার মুখে চুল আছে কি না। (৭) তাঁর কাঁধ নিচে ঝুলে পড়া কি না। (৮) পা দুটি বাঁকা কি না। (৯) কপাল বাইরে ঠেলে বের হয়েছে কি না, অথবা খুব উঁচু কি না। (১০) তার স্তন দু’টি অনুদ্ভিন্ন কি না। (১১) যদি কন্যা তার পিতার শবদাহ করে থাকে। (১২) যদি কোনও পুরুষের সঙ্গে আগে যৌন মিলন করে থাকে এবং তা জানা যায়। (১৩) যদি তার বিয়ের বয়স পার হ’য়ে গিয়ে থাকে। (১৪) যদি কন্যা রুগ্না বা বোবা হয়। (১৫) কন্যার সঙ্গে যদি কোনও সম্পর্ক যেমন খুড়তুতো কী মামাতুতো বোন ইত্যাদি থাকে। (১৬) যদি কন্যা বয়সে বরের চেয়ে খুব ছোটো বা বড়ো হয়। কন্যার এইসব লক্ষণ থাকলে বিবাহ করা কখনও উচিত নয়।

আসলে আমরা কেউ ‘Perfect’ নই, তাই Mr. Right অথবা Miss Right’ সারা জীবন ধরে খুঁজে বেড়ালেও পাওয়া যাবে না। কারণ একটা imperfect মানুষ আর-একটা perfect মানুষকে খুঁজে বেড়াচ্ছে, যার কোনো অস্তিত্ব নেই।

মনুসংহিতায় কোন্ বিয়ে শুদ্ধ কোন্ বিয়ে অশুদ্ধ সে ব্যাপারে উল্লেখ আছে। কয়েকটি শ্লোক অনুবাদসহ এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে। --- (১) “হীনক্রিয়ং নিষ্পুরুষং নিশ্ছন্দো রোমশার্শসম্। ক্ষয্যাময়াব্যপস্মারিশ্চিত্রিকুষ্ঠিকুলানি চ”।। যে বংশ ক্রিয়াহীন (অর্থাৎ যে বংশের লোকেরা জাতকর্মাদি সংস্কার এবং পঞ্চমহাযজ্ঞাদি নিত্যক্রিয়াসমূহের অনুষ্ঠান করে না), যে বংশে পুরুষ সন্তান জন্মায় না (অর্থাৎ কেবল স্ত্রীসন্তানই প্রসূত হয়), যে বংশ নিশ্ছন্দ অর্থাৎ বেদাধ্যয়নরহিত, যে বংশের লোকেরা লোমশ (অর্থাৎ যাদের হাত-পা প্রভৃতি অঙ্গে বড়ো বড়ো লোম দেখা যায়), যে বংশের লোকেরা অর্শ অর্থাৎ মলদ্বারাশ্রিত রোগ বিশেষের দ্বারা আক্রান্ত, যে বংশের লোকেরা ক্ষয়রোগগ্রস্ত, যে বংশের লোকেরা আময়াবী (আমাশয় রোগাক্রান্ত বা মন্দাগ্নি অর্থাৎ ভুক্ত দ্রব্য যাদের ঠিকমতো পরিপাক হয় না), যে বংশের লোকেদের অপস্মার রোগ (যে রোগ স্মৃতিভ্রংশ প্রভৃতি ইন্দ্রিয়বৈকল্য ঘটায়) আছে, যে বংশের লোকদের শ্বেতরোগ আছে এবং যারা কুষ্ঠরোগ দ্বারা আক্রান্ত। এইসব বংশের কন্যাকে বিয়ে করা চলবে না। (৩/৭)। (২) “

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

বিকাশ দাস বাপ্পী
বিকাশ দাস বাপ্পী এর ছবি
Offline
Last seen: 3 দিন 22 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, মার্চ 17, 2017 - 1:00পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর