নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • মিশু মিলন
  • নরমপন্থী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

চুমু আর সিমু


সিমু খোঁজ নেয়নি বলে কিচ্ছু হয় নি সাহেবের। শুধু মাঝে মাঝে খেই হারিয়ে ফেলে নাকি মাঝে মাঝে হুশ হয় তা বলতে পারে না। সাহেবের মা রোজ সকালে কোরআন পড়ত, মা'র মতন নিয়ম করে সাহেবও পড়ত তার প্রিয় লেখিকার বই। একদিন লেখিকা সাহেবকে এমন করে আঁকড়ে ধরছিল যে ছুটতে পারছিলো না সাহেব। ওদিকে সিমুর দুইশত পঞ্চান্ন নাম্বারটা বারবার ভেসে উঠছে মোবাইলের স্কিনে। সাহেব পাঠ্য রেখে অপাঠ্য পড়ুয়া ছেলে। ক্লাস বহির্ভুত বই সাহেবকে প্রেমিকার চেয়েও বেশি টানে। সাহেব সিমুকে ভালোবাসে। বন্ধুরা জিজ্ঞেস করলে বলত 'পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ অবধি মানুষ তার প্রেমিকাকে যত ভালোবেসেছে এবং বাসবে তার সাথে তুলনা করলেও কম হয়ে যাবে, এতটাই ভালোবাসি'। বন্ধুরা অবাক বনে যেত।

     সাহেব আস্তে করে বইটা বন্ধ করল এবং প্রচ্ছদে থাকা লেখিকার কপালের ওপর আলতো করে চুমু খেল। ততক্ষণে ফোনের আলোটা নিভে গেছে। সাহেব কল ব্যাক করতেই সিমুর সালাম। তারপর প্রশ্ন, এতক্ষণ কই ছিলে? সাদা সিদে উত্তর চুমু খেলাম। সিমু ক্ষিপ্ত স্বরে বলল, আমাকে ছেড়ে কাকে চুমু খাইছো? আবার সাদা সিদে উত্তর আমার প্রিয় লেখিকাকে। সিমুর ধমকের সুরে হুমকি, এখন এই মুহুর্ত থেকে তাঁর বই পড়া নিষেধ, তাঁর বই টেবিলে রাখাও নিষেধ, নতুন বই কেনা নিষেধ। আমাকে ছেড়ে কাউকে চুমু খেলে খবর আছে।

   সেই নিষেধ থেকে আজ অবধি আর লেখিকার বই পড়া হয় নি, কেনাও হয়নি। সাহেবের ফেসবুক বন্ধু লেখিকা। সিমু নেই, লেখিকার সাথে বন্ধুত্বটা আছে। সিমু যাওয়ার পরে ফেসবুকেই রাত-দিন কাটে সাহেবের। হঠাৎ লেখিকার একটি পোস্ট সাহেবের নিউজ ফিডে। দ্রুত লেখিকার আইডিতে প্রবেশ। কয়েকবার আনফ্রেণ্ড করতে গেল সাহেব। কিন্তু করলো না, কী এক স্মৃতি বাঁধা হয়ে যাচ্ছে বারবার। তারপর লেখিকার কপালের প্রতি, এই দিদি এখনতো আমি তোমার লেখা পড়ি না। এখনও কি সিমু তোমার লেখা পড়তে বসলে সাহেবকে ভুলে যায়? নাওয়া-খাওয়া ভুলে যায়? স্কুল ভুলে যায়? আচ্ছা, তোমাকে তো সেদিন প্রেমিকা হিসেবে বা কাম বাসনা নিয়ে চুমু খাইনি, খেয়েছিলাম প্রিয় লেখিকা হিসেবে, যেমন ছেলে তার মাকে চুমু খায়, দাদা তার বোনকে চুমু খায়। আচ্ছা, সিমু ক্ষেপেছিল কেন সেদিন? মা হিসেবে, দিদি হিসেবে চুমু যার সহ্য হয় না, সে কী করে সহ্য করে সাহেবের ঠোঁটে আর কারও কপাল ? তার ঠোঁটে পুরোনো প্রেমিকা সিগারেট? সিমু এতটা পাষাণ হলো কী করে? লেখিকার কপাল নির্বাক। সাহেবের চোখে জল।

       তিনদিন পরে সাহেব আড়িগাঁও বাজার। অনেকদিন পিঠা খাওয়া হয়নি। যখন হরহামেশা মায়ের কাছে বায়না ধরা যেত তখন পিঠা ভালো লাগত না সাহেবের। কিন্তু পুরোনো এক পিকচার পিঠা খাওয়ার ইচ্ছাটা প্রবল করে তুলল। কিন্তু বায়না আর জীবনে নয়। পিকচারে মাশহুর। হাতে এক পুটলি কাঁটা পিঠা, সিমুর দেওয়া। নীল কালারের পলিথিনে পিঠাগুলো সেদিন দুই বন্ধুর কাড়াকাড়ির সুস্বাদু খাদ্য হলেও আজ নীল বেদনার, যন্ত্রণার। আড়িগাঁও বাজারে চিতই আর ভাঁপা পিঠা আছে। পিঠা খেয়ে সিগারেট নিয়ে সোজা উল্টো পথে হাঁটা সাহেবের।

      গ্রামের নাম সুজন দল, লোকের মুখে সুজন দোয়াল নামে পরিচিত। এখানে সন্ধ্যায় হরেক রকমের পাখি আসে। প্রকৃতির এই রূপ-লাবণ্য বড় বেশি টানে সাহেবকে। সুজন দলে প্রায় আট মাস পরে সাহেবের আসা অথচ আগে প্রতিদিন আসত। সিমুর সাথে বিচ্ছেদের পর এই প্রথম আসা। একটি খেজুর গাছকে প্রেমিকা করে কবিতা লেখায়, দূর্বাকে চুমু খাওয়ায়, কলা পাতাকে ভালোবাসায় সুজন দলকে সিমু সতীন বলত। অভিমান করে দু'দিন সাহেবের সাথে কথা বলেনি। তারপর আর সাহেব সুজন দল আসেনি। খেজুর , দূর্বা, কলা পাতাকে সাহেবের জিজ্ঞাসা এখনও কি সিমু তোমাদের হিংসা করে? সুজন দলকে সতীন বলে? জানো, সিমুকে ভালোবেসে এতদিন তোমাদের কাছে আসিনি। এখনও ভীষণ ভালোবাসি, যেমন তোমরা আমাকে। কথা দিচ্ছি সুযোগ পেলেই চলে আসব আমৃত্যু। তোমাদের কাছে এলে সিমুর প্রতি ভালোবাসা বেড়ে যায়। ওজন করতে পারি, কত ভালোবাসি তাকে।

উল্লেখ্য:গল্পে বর্ণিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

চোত্রা পাতা
চোত্রা পাতা এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 4 ঘন্টা ago
Joined: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 1, 2015 - 5:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর