নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • মিশু মিলন
  • নরমপন্থী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

ছেলেশিশুরা যৌন নির্যাতন থেকে নিরাপদ?


ধর্ষণ হচ্ছে প্রতি ১৫ মিনিটে একজন, মানে প্রতি ১৫মিনিটে একজন করে তাদের সম্ভ্রম হারাচ্ছে কেবল তা নয়, সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা টুকু হারিয়ে যাচ্ছে আমৃত্যু একজন মানুষের কাছ থেকে, আজ এখানে তো কাল ওখানে, আজ রামের দেশে হচ্ছে, তো কাল রহিমের দেশে। এই একটা অপরাধ যাকে ধর্মরা কখনো বাঁধতে পারেনি, ধর্ম সব জাগায় বেশ ভালো পার্ফমেন্স করলেও এই ধরনের কাজের বেলায় বড্ড অসহায়, পঙ্গু, কারণ ধর্ষককের যখন শিশ্ন উথিত হয়, স্রষ্টারা তখন লজ্জায় চোখ বন্ধ করে। যাক, বেশ আলোচিত হচ্ছে অপরাধটি। আদৌকি এটা অপরাধ নাকি? অপরাধ যদি মনেই হতো তবে মনে হয় তা নিয়ে অনেক বিস্মৃতি আকারে প্রতিবাদ প্রতিরোধ হতো। এটা কি সামাজিক ব্যাধি নাকি? মনে হয় না। কারন স্যানিটিসন বা বাল্যবিবাহ, এসিড নিক্ষেপের মতো সামাজিক ব্যাধি যদি আমরা এটাকে মনে করতাম তবে অন্তত সমাজের সকল স্তরের মানুষকে মিলে ধর্ষণকের বিরুদ্ধে আমরা আওয়াজ তুলতাম। আজ লিখবো সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা দৃষ্টিকোণ থেকে ধর্ষনকে ঘিরে।

০১.
ধর্ষণের এই মহামারির সময়, সব অভিভাবক নিশ্চয়ই চিন্তিত তার ঘরের এক বছরে বয়স যে মেয়েটি তাকে থেকে শুরু করে, সকল বয়সী নারীদের নিয়ে। এই একটা ভাবনা আহা, যেকোনো সময় হতে পারে ধর্ষণ। তাই আগলে রাখছেন চোখে চোখে, অত্যন্ত সচেতন ভাবে সুরক্ষা দিচ্ছেন মেয়েটিকে। কিন্তু সাথে সাথে অরক্ষিত রাখছেন ভিন্ন লিঙ্গের বাচ্চাটিকে, ছেলে সন্তানটিকে। মেয়েকে সুরক্ষা দেয়া প্রয়োজন, ছেলেকে কি দরকার সুরক্ষা দেয়ার? এমন ভাবনা অন্তরে প্রথিত হয়ে আছে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণেই। একটা মেয়ে ধর্ষিত হতে পারে, কিন্তু একটা ছেলে? ও না ছেলেরা ধর্ষিত হয় না, তারা হয় বলাৎকার। আমাদের দেশীয় সংবাদ মাধ্যম গুলো ছেলেদের ধর্ষনের খবরে ওটা ধর্ষন না বলে বলাৎকার বলতেই বেশ স্বাছন্দ্য বোধ করে থাকেন।

মাঝে ভাবলাম একটু গবেষণা করে দেখি কি কেমন হচ্ছে ধর্ষণ ভারতবর্ষের ছেলেরা, সরি, ঘেটে ঘুটে কিচ্ছু পাইনি, কারন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চিন্তাশীল গবেষক পর্যায়ের লোকটি পর্যন্ত মনে করে, ছেলে ধর্ষন এমন আহামরি কোনো বিষয় নয়, যা নিয়ে গবেষনা করতে হবে। তাই সমাজের এই অংশটি একটা নিষিদ্ধ ও অনুচ্চারিত একটা অধ্যায়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় থেকেও একজন পুরুষ একজন ছেলে ধর্ষিত হতে পারে, আমরা তা কেন যেন ভাবতেই চাইনা। কারন আমাদের দেশে ছেলে মেয়ে সেক্সে অনুমোদন আছে ধর্মীয় ও আইনী ভাবে, কিন্তু ছেলে ছেলে সেক্সে মানে সমকামীতা আমাদের জন্য ধর্মীয় ও আইনী ভাবে নিষিদ্ধ বিধায় এমন সেক্স অপরাধের মাধ্যমেও হচ্ছেনা বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

০২.
এই এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের খবর বিবিসি বাংলা পর্যন্ত নিউজটি কাভারেজ দিয়েছে, দশম শ্রেণীর দুই ছাত্র তাদের হোস্টেলে থাকা সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রকে নিয়মিত ধর্ষণ করে আসছিলো, একপর্যায়ে ভিক্টিমের পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে আইনের আশ্রয় নেয়। এখন কথা হলো এই নিয়মিত ধর্ষণ আসলো কিভাবে চলে? ভিক্টিম কি প্রথমেই আইনের আশ্রয় নিতে পারতো না? না পারতো না, কারন নিউজ গুলো বলছে, ভিক্টিম ঘটনার পর থেকে হোস্টেলে যেতেই চাইতো না, তার পরিবার ভাবতো ছেলে মনে হয় পড়াশোনায় ফাঁকি দিতে চাইছে, তাই যেতে চায় না হোস্টেলে তাই ধরে বেঁধে হোস্টেলে পাঠাতো। ভিক্টিম কখনোই মুখফুটে বলতে পারতো না, যতটুকু বলতো তা হলো তাকে নির্যাতন করে, কিন্তু কি ধরনের নির্যাতন আসলে হয় তা বলা যায় না। কারন আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় এই ধরণাই নিষিদ্ধযে একটা ছেলে আরেকটা ছেলের সাথে সেক্স করতে পারে।

দেখুন আমি কেবল একটা মাত্র সম্প্রতিক ঘটনার উদাহরন টানলাম, কিন্তু এমন হাজারো ঘটনা প্রতিটা দিন চলছে আমাদের চোখের সামনেই, আমরা হয়তো উপলদ্ধি করতেও পারছি না। যারা পড়ছেন তাদেরই কেউ হয়তো এমন অভিজ্ঞতাকে মোকাবেলা করে এসেছেন। কিন্তু কখনো লোকলজ্জায়, দ্বিধার কারণে বিষয় গুলো নিয়ে খোলা মেলা কথা বলতে পারনে নি, বা সাহসে কুলিয়ে উঠতে পারেন নি।

০৩.
আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় ধরেই নেয়া হয় যারা ছেলেদের ধর্ষণ করে, তারা আসলে সমকামী! আসলেই কি তাই, যে হুজুর তার মাদ্রাসায় থাকা কচি বাচ্চা ছেলেটিকে ধর্ষন করতেছেন, তার কি ঘরে বউ নেই? তাহলে সে কিভাবে সমকামী হলো? শুধুমাত্র সমকামীরাই ধর্ষণ করে ছেলেদের এমন ধারণা নিয়ে যারা বসে আছেন তাদের মতো বোকার স্বর্গে খুউব কম মানুষই বসবাস করে। কারণ যে ধর্ষন করে, তার কাছে ভিক্টিম হলো একটা সেক্সটয়ের মতো এবার সে এসহোল ব্যবহার করলো, নাকি ভ্যাজাইনা ব্যবহার করলো, নাকি ওরাল সেক্স করলো সেটা দিয়ে তার কিস্সু আসে যায় না। কিন্তু আমরা এই বিষয় গুলো মানতে নারাজা। এগুলো নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে নারাজ। একটা মেয়েকে যতটা নিরাপত্ত দেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি একটা ছেলের বেলায় তার সিকিভাগও আমরা ভাবি না।

ঘরে একজন মেহমান আসলে, তার সাথে একটা মেয়েকে না শোয়ালেও একটা ছেলেকে শোয়াই অবলীলায়, কোনো ভাবনা চিন্তার দরকারই হয় না। অথবা কোথাও বেড়াতে গেলে, সেই বাড়ি পুরুষ সদস্যের সাথে নিজের বাচ্চা ছেলেটিকে অনায়েসেই শোয়ানোর কথা ভাবতে পারি, কিন্তু আমরা গুনাক্ষরেও ভাবি না, এটা নিরাপদ না। আর হোস্টেলের থিওরিতো ভয়াবহ, বাংলাদেশের ক্যাডেট হোস্টেল গুলো থেকে শুরু করে, নানা ধরনের হোস্টেল , মেসে, একটা ছেলের সাথে আরেকটা ছেলে যে ভাবে ইচ্ছা থাকছে, পরিবারের কোনো মাথা ব্যাথাও নেই। কোনো বাচ্চা যদি মাদ্রাসা হোস্টেলে থাকতে না চায়, ক্যাডেটে হোস্টেলে থাকতে না চায়, বা কোনো হোস্টেলের মতো জায়গায় থাকতে না চায় পরিবার ধরেই নেয় ও ফাঁকিবাজ কখনো তলিয়েও দেখার চেষ্টা করে না আসলে কি হচ্ছে?

০৪.
বাংলাদেশ তথা ভারতবর্ষে নিরবে যে অপরাধটি নিবির্ঘ্নে চলছে, যা নিয়ে কখনো কোনো উচ্চবাক্য বিনিময় হয়না তা হলো ছেলে ধর্ষণ। প্রতিদিন হচ্ছে, কেউ বা মানসিক ভাবে ট্রমাটিক হয়ে যাচ্ছে, কেউ হয়ে যাচ্ছে হোমোফোবিক, কেউবা হোমোসেক্সুয়াল, আবার কেউ বা আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে, কিন্তু পরিবার গুলো এইধরনের ঘটনার রেশ ধরে ঘটা আত্মহত্যার ঘটনাগুলোকে সামনেই আসতে দেয় না। কারন সমাজে উঁচু মাথায় বাঁচতে হবে, পোষাকী সমাজে নিজের পোষাকটি উজ্জ্বল রাখতে হবে। অনেক বাচ্চা ছেলে তার পরিবারের কাছে যখন শেয়ার করে তার এমন অভিজ্ঞতার কথা, পরিবার তখন বাচ্চাটিকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেয়, কেউই সহজে মানতে প্রস্তুত নয় ছেলে শিশুটিও ধর্ষনের শিকার হচ্ছে, বা অন্য যেকোনো ভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

এই অবস্থার অবসান দরকার, এভাবে হয় না। আমাদের গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট নানা সুপার এক্টিভ প্রতিষ্ঠানের কাছে ধর্ণা দিয়ে আমি হতাশ হয়েছি, কোনো গবেষণা নেই এই বিষয়ে। সত্যি যদি এমন কোনো গবেষণা থাকতো, তবে হয়তো আরো সুনির্দিষ্ট ভাবে বিষয় গুলোকে অভিভাবকদের সামনে তুলে ধরে তাদের সচেতন করা যেতো, আমি ব্লাষ্ট, আসক, বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির মতো প্রতিষ্ঠান গুলোতেও খোঁজ নিয়ে দেখেছি, ছেলেশিশু যৌণ নির্যাতন নিয়ে তাদের কোনো কার্যক্রম নেই। বাংলাদেশের কোনো আইন নেই একটা ছেলে রেইপ হলে সেই অপরাধের শাস্তি নিশ্চিতকরণে জন্য।

যদি কখনো, নিজের সামর্থ্য হয় তো নিজের মতো করে চেষ্টা করবো এই বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের আলোকে একটা গবেষণা করার, এবং বিষয় গুলো সুনির্দিষ্ট ভাবে স্পষ্ট করে মানুষের সামনে তুলে ধরার। এবং আমার এই অগোছালো কথা গুলো যদি কারো বিবেকের মাঝে সামান্যতম আঁচড়ও কেটে থাকে, তবে আপনি আপনার জায়গা থেকে চেষ্টা করুন এই বিষয়টিতে পরিবার গুলোকে সচেতন করতে। ছেলেশিশু যৌন নিপীড়ন এক নিরব মহামারি, অভিভাবকদের বিবেক বোধকে জাগ্রত করে প্রশ্ন করুন “আপনার ছেলেশিশুটি যৌন নিপীড়ন থেকে নিরাপদ আছে তো?”

বিভাগ: 

Comments

নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

দারুণ একটা বিষয় আলোচনায় এনেছেন। ছেলে শিশু যৌন নির্যাতন নিয়ে আপনি কাজ করতে আগ্রহী হলে ইস্টিশন আপনার পাশে আছে। এই পোস্টে অন্য সবার মতামত কামনা করছি।

 
নগরবালক এর ছবি
 

আমি অান্তরিক ভাবে আগ্রহী ভাইয়া, কিন্তু একার পক্ষে কাজ করা খুউবই দূরহ এবং কঠিন। তাও আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি আমার জায়গা থেকে। আমি সত্যি খুউবই উপকৃত হবো যদি আপনি, আপনারা বড়রা এগিয়ে এসে, আমাকে নিদের্শনা ও যাবতীয় সহযোগীতা করেন

‌‌‍‍--নগরBaLoK--

 
নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

আপনি কাজ শুরু করে দেন। আমি ও ইস্টিশন পরিবার আপনার সাথে থাকবে। প্রথমে কিছু সার্ভে করেন। ইস্টিশন গ্রপ থেকে কয়েকটি পাবলিক সার্ভে দিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন।

 
কাঙালী ফকির চাষী এর ছবি
 

দারুন একটা লেখা

Kangaly Fokir Chasii

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নগরবালক
নগরবালক এর ছবি
Offline
Last seen: 3 দিন 19 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - 11:50পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর