নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • লুসিফেরাস কাফের
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সুখ নাই
  • কাঠমোল্লা
  • মিশু মিলন
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • সামসুল আলম
  • এস. এম. মাহবুব হোসেন
  • ইকরামুজ্জামান
  • রবিউল আলম ডিলার
  • জহুরুল হক
  • নীল দীপ
  • ইব্রাহীম
  • তারেক মোরশেদ
  • বাঙলা ভাষা
  • সন্দীপন বিশ্বাস জিতু

আপনি এখানে

বুক রিভিউঃ ওয়েটিং ফর গডো, স্যামুয়েল বেকেট



বুক রিভিউ
বইঃ ওয়েটিং ফর গডো (Waiting for Godot)
লেখকঃ স্যামুয়েল বেকেট
ধরণঃ অধিবাস্তব নাটক
রচনাকালঃ ১৯৪৮-১৯৪৯
প্রথম প্রদর্শনীঃ ৫ জানুয়ারি, ১৯৫৩
নোবেলজয়ী নাট্যকার স্যামুয়েল বেকেটের সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক ‘ওয়েটিং ফর গডো’ বা ‘গডোর প্রতীক্ষায়’। এটা এমন একটা নাটক যাতে আসলে কিছুই ঘটে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী মানবতা যখন চরম বিপর্যস্ত, চারদিকে চরম ধ্বংসযজ্ঞ, মানব জন্ম যখন অর্থহীন, চারপাশে শুধু নৈরাশ্য ঠিক তখনি স্যামুয়েল বেকেট হাজির হন তার মাত্র দুই অঙ্কের অ্যাবসার্ডিস্ট ড্রামা ‘ওয়েটিং ফর গডো’ নিয়ে। নাটকের কেন্দ্রীয় দুই চরিত্র এস্ট্রাগন ও ভ্লাডিমির দুজন ছন্নছাড়া মানুষ, জীবন যাদের কাছে অর্থহীন হয়ে পড়েছে। এ যন্ত্রণাক্লিষ্ট জীবন থেকে মুক্তির আশায় তারা প্রতীক্ষা করে গডোর আগমনের। গডো বলতে এখানে সৃষ্টিকর্তাকেও বুঝানো হতে পারে ,তবে নাট্যকার তা স্পষ্ট করেননি।

নাটকের প্রথম অঙ্ক ও দ্বিতীয় অঙ্কের শেষদৃশ্য মূলত একই। এস্ট্রাগন ও ভ্লাডিমির গডোর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। দীর্ঘ অপেক্ষার অসহনীয় ভার দূর করতে এস্ট্রাগন ও ভ্লাডিমির একে অন্যের সাথে অর্থহীন ঝগড়া করে, সৌজন্য ও ভদ্রতার অভিনয় করে। কিন্তু গডো আসেন না। আগমন ঘটে পোজো ও লাকির। প্রথম অঙ্কে পোজো বুর্জোয়া চরিত্র আর লাকি শোষিত। লাকি এক সময় পোজোর শিক্ষক ছিল, তার কাছ থেকেই পোজো সব শিখেছে। কিন্তু লাকি এখন নিঃস্ব, অথর্ব। তাকে বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে চলে পোজো। কিন্তু দ্বিতীয় অঙ্কে পোজো অন্ধ, সে নিজেই দুর্দশাগ্রস্ত, তাকে যেন চালনা করছে লাকি। প্রভু , ভৃত্যের বদলে তাদের সম্পর্ক হয়ে উঠে নির্ভরশীলতার।

প্রথম অঙ্কের শেষ দৃশ্যে গডোর প্রতিনিধি হিসেবে আগমন ঘটে এক বালকের। সে ভ্লাডিমির ও এস্ট্রাগনকে জানায়, গডো আজ আসবেন না, তবে তিনি কাল অবশ্যই দেখা দিবেন। আশা নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে নাটকের নায়কদ্বয়। দ্বিতীয় অঙ্কেও পোজো ও লাকির সাথে কথোপকথনের পর আগমন ঘটে চির আশা জাগানিয়া সেই বালকের। গতকালের মতোই সে আবারও জানায় , ‘He will not come this evening, but he’ll come tomorrow.’
এস্ট্রাগন ও ভ্লাডিমির আবার অপেক্ষা করতে থাকে। কখনো হয়তো তারা চলে যাওয়ার কথা ভাবে, কিন্তু জায়গা ছেড়ে নড়ে না।
‘Let’s go.’
‘We can’t.’
“why ?’
‘We’re waiting for Godot .’
এস্ট্রাগন এক সময় ক্ষিপ্ত হয়ে ভ্লাডিমিরকে বলে, ‘ তোমার এই অভিশপ্ত সময়ের কথা বলে আর কত যন্ত্রণা দিবে আমাকে! অসহ্য! কখন! একদিন আমরা জন্মগ্রহণ করেছিলাম, একদিন আমরা মরব।’ এস্ট্রাগনের এই সংলাপ জীবনের অর্থহীনতাকেই স্পষ্ট করে। সবকিছু অর্থহীন, সব প্রতীক্ষা নিরর্থক।
একই বাক্যাংশের সুনিপুণ পুনরাবৃত্তি লক্ষ্যণীয়। নাটকটি অগতানুগতিক পথে ক্ল্যাইমাক্সের দিকে অগ্রসর হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই ‘ওয়েটিং ফর গডো’র জন্ম হলেও এটা কোনো নির্দিষ্ট সময়কে ইঙ্গিত করে না। নায়ক দুজন কোনো এক অনির্দিষ্ট দিন থেকে গডোর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। গডো সেদিন আসেন না, এমনকি তার পরদিনও না। হয়তো তিনি কখনোই আসবেন না। কিন্তু চিরন্তন আশা নিয়ে এস্ট্রাগন ও ভ্লাডিমির গডোর প্রতীক্ষায় থাকে।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

উলুল আমর অন্তর
উলুল আমর অন্তর এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 3 দিন ago
Joined: বুধবার, ফেব্রুয়ারী 15, 2017 - 1:09পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর