নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

শিডিউল

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ
  • শহিদুল নাঈম

আপনি এখানে

আমেরিকা এবং গং সিরিয়াতে কী উদ্ধার করলো মিসাইল মেরে?



আমেরিকা এবং গং সিরিয়াতে কী উদ্ধার করলো মিসাইল মেরে? যে ক্যাটাগরির মিসাইল ছোঁড়া হইল সিরিয়ার নানা টার্গেটে, তার একেকটার দাম আনুমানিক ১০ কোটি টাকার মতো। শখানেক নাকি মারছে, মানে খরচ হইছে আনুমানিক ১০০০ কোটি টাকা।

আর দুনিয়াতে রাসায়নিক বোমা বানানোর প্রযুক্তি রকেট সায়েন্স না, পারমানবিক বোমা বানানোর মতো এতো জটিল প্রসেসও না। আমি জানি না ক্ষয়ক্ষতি কেমন হইছে। কিন্তু ১০ কোটি টাকার একটা বিল্ডিং বেশ বড়সড় স্থাপনা হবার কথা। সেগুলা এই মিসাইলের একটায় পুরাটা ধ্বংস হওয়ার কথা না (ভিতরে দামী যন্ত্রপাতি থাকলে সেটা আলাদা কথা)। আর সিরিয়ার যুদ্ধের এই সময় ওদের সামরিক গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন যত স্থাপনা, সবই আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্যাসিলিটিতে আছে তাই ধরে নেয়া যায়। ভাবতেছি ধ্বংস হইল কী আর কতটূকু হইল। গতবছরও এমন হামলা হইছিল, ফলাফল কিছুই হয় নাই।

ইতিহাস বলে, রাশিয়া সাপোর্ট করে অপেক্ষাকৃত নৃশংস একনায়কদের। আসলে পরাশক্তিরা যাদেরই সমর্থন করুক, তারা দানব ছাড়া আর কিছুই হয় না। সাদ্দাম হোসেন যখন কুর্দিদের উপর, শিয়াদের উপর গ্যাস হামলা, রাসায়নিক অস্ত্রের হামলা চালাইতেছিলেন, যা প্রমাণের কিছু নাই, তখন সাদ্দাম হোসেনের সবচেয়ে বড় মিত্র কারা ছিল? আমেরিকা, ফ্রান্স, এরাই তো, তাই না? এখন এমন কী হইল যে তাদের নীতিতে বিশাল পরিবর্তন চলে আসলো? তারা হয়ে গেলেন সেইরকম মানবিক?

পরাশক্তিদের রাজনীতির আসল কথা এইখানে কোনো নীতি নাই। ইস্টার্ণ ঘৌতায় যে হামলা চলতেছিল, কাছাকাছি ধরণের হামলা বছর ধরে সৌদিরা ইয়েমেনেও চালাচ্ছে, পশ্চিমাদের সমবেদনা কই?

সিরিয়া, ইরাক এইসব আরবদেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে অগ্রসর দেশ ছিল। আবার তাদের মধ্যেও জাতিগত বিভেদ এত প্রকট যে এইসব দেশের শাসক যদি মূর্তিমান বদমাশ না হন, তাহলে অন্যদের সবাইকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন না। আর কমবেশি না, গাদ্দাফি, সাদ্দাম, বেন আলী, এই বাশার আল আসাদ সহ সকল আরব নেতারা স্বপরিবারে দেশের সম্পদ লুটছেন তাও সত্য। এদের মধ্যে গাদ্দাফির নৃশংসতা, অন্যদেশে গ্যাঞ্জাম লাগানোর দায়ে বাইরে নিজের জনগণের জন্য কল্যানমূলক কাজে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ভাল। যদিও তেল থেকে আয়ের বড় একটা অংশ নিজের পরিবারের মধ্যেই থাকতো।

যাইহোক, এখন প্রশ্ন হচ্ছে সিরিয়ান সরকার গ্যাস হামলা চালাচ্ছে নাকি চালাচ্ছে না। আমার ধারণা, চালাচ্ছে। আর এই হামলা অনৈতিক ও অমানবিক। আবার সকল যুদ্ধের একটা অলিখিত রীতি হচ্ছে, এইসব যুদ্ধে জেনেভা কনভেনশন কেউ মাথায় রাখে না। যুদ্ধ মানেই নৃশংসতা, এইখানে জয় সবার জন্য মুখ্য হয়। জেনেভা কনভেনশনের মত ব্যাপারগুলা আমার কাছে হাস্যকর লাগে। জেনেভা কনভেনশন কিংবা আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহারের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা যদি সত্যিই করা যাইতো, তাহলে আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ইউকে, ফ্রান্স সহ সকল পরাশক্তির দেউলিয়া হয়ে যাবার কথা। এক আমেরিকা ভিয়েতনামে কত লক্ষ টন রাসায়নিক ফেলছিল কৃষিজমি নষ্ট করতে তার হিসাব নাই। সিরিয়ান আইএস এর শাখা প্রশাখারা কি মার্কিন সাহায্য সহযোগিতা অস্ত্র পাচ্ছে বা পাচ্ছিল না?

সিরিয়ান সিভিল ওয়ার একটা আরোপিত যুদ্ধ। এত বিভক্ত একটা দেশে আসাদের মত চরিত্রদের দরকার ছিল। তাদের নিয়ন্ত্রণেরও দরকার ছিল। কিন্তু যখন তাদের নিয়ন্ত্রণ জরুরী ছিল তখন করা হয় নাই। পরাশক্তিগুলোর মদদে বেড়ে ওঠা এই দানবেরা নিজেদের মানুষগুলোকে মানুষের মত করে রাখতে পারতো। অথচ সেটার প্রয়োজন তেমন নাই, সেই বিশ্বাস আর শক্তি তাদের এইসকল পরাশক্তিরাই দিয়েছিল। নিজেদের বানানো আইএস যখন বুমেরাং হচ্ছিল, তখন রাশিয়ান চতুর প্রেসিডেন্ট পুতিন পশ্চিমাদের আইএস দমনের অকাট্য যুক্তিতেই আসাদ সরকারকে সমর্থন শুরু করে। মধুর সংকট শুরু হয়।

এখন যে জটিল অবস্থা, তাতে মনে হচ্ছে বাশার সরকারই কেবল শক্তিশালী হিসেবে টিকে যাবে। তুরস্ক একটা অংশে আর আমেরিকার মদদে কুর্দিরা নিজেদের অংশে সিরিয়ান সরকারের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে পাশাপাশি চলবে। সিরিয়ান কুর্দিদের বর্তমান আদর্শ আলাদা, তারা অখন্ড সিরিয়াকে সমর্থন করে, তবে ফেডারেশন চায়। আসাদ সরকার আবার ফেডারেশন চায় না, তবে মেনে নেয়া ছাড়াও হয়ত গতি নেই।

আর এই গ্যাস হামলা, এসব নাহয় বন্ধ হবে কিছুদিনের জন্য। কিন্তু রাসায়নিক অস্ত্রের যে ভান্ডার ইতিমধ্যে সিরিয়া সরকারের হাতে আছে, তা দিয়ে সিরিয়ার সবাইকে হয়ত মেরে ফেলা সম্ভব এখনো। রাশিয়া আর পুতিন যতদিন আছে, বাশার আল আসাদ কখনো পরাজিত হবে না। সিরিয়াতে রাশিয়ার কৌশলগত স্বার্থ আফগানিস্তানের থেকে অনেক অনেক বেশি। একমাত্র সিরিয়াতেই রাশিয়ান ঘাঁটি আছে, আর এইসকল ঘাঁটি যেকোনো মূল্যে রাশিয়া ধরে রাখতে চাইবে।

আবার মিসাইল ইন্টারসেপ্ট করা নিয়ে অনেক কথা চলছে। বর্তমান বিশ্বে আমেরিকার চেয়ে রাশিয়ান মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমগুলা বেশি কার্যকর ও আধুনিক। আবার এসব সিস্টেম খুবই ব্যয়বহুল। আমার ধারণা, রাশিয়া কিছু মিসাইল ইন্টারসেপ্ট করেছিল, আর বাকীগুলো এমনিতেই করেনি। মিসাইল ইন্টারসেপ্ট করতেও মিসাইল লাগে, যার একেকটার মূল্য কোটিকোটি টাকা। শখানেক মিসাইলে যে স্থাপনা ধ্বংস হব, তা ঠেকানোর চেয়ে ওগুলো ধ্বংস হতে দিয়ে আবার গড়ে ফেলা কম খরচের ব্যাপার। পরাশক্তিরা এই গ্যাস হামলার হুমকি পাল্টা হুমকির ও মিসাইল স্ট্রাইক পরবর্তী হিসেব নিকেশে নো উইন সিচুয়েশনে আছে। পশ্চিমারা মুখ রক্ষা করলো কিছু উদ্ধার না করেই, আর রাশিয়া মিসাইল হামলা প্রতিহত করবার জন্য সেভাবে কিছু না করেই বাগাড়ম্বর করলো। তাদেরও তেমন লাভ হয়নি, ক্ষতিও না। আসাদ সরকারের সর্বাত্মক বিজয়ের চেয়েও সিরিয়াতে তাদের অবস্থান বেশি জরুরী। সেটা তারা নিশ্চিত করবেই।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আমি অথবা অন্য কেউ
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 1 week ago
Joined: শুক্রবার, জুন 17, 2016 - 12:11অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর