নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • লুসিফেরাস কাফের
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সুখ নাই
  • কাঠমোল্লা
  • মিশু মিলন
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • সামসুল আলম
  • এস. এম. মাহবুব হোসেন
  • ইকরামুজ্জামান
  • রবিউল আলম ডিলার
  • জহুরুল হক
  • নীল দীপ
  • ইব্রাহীম
  • তারেক মোরশেদ
  • বাঙলা ভাষা
  • সন্দীপন বিশ্বাস জিতু

আপনি এখানে

বৈশাখ : বাঙ্গালি ঐতিহ্য ইতিহাস ও ইসলামত্ব


বলা হয়ে থাকে পহেলা বৈশাখ উৎযাপন হিন্দুত্ব। এটা পালন করা হারাম।অন্য ধর্মের কোনো রীতি পালন করা হারাম। নাজেনে কোনো বিষয় সম্পর্কে মানুষকে বিভ্রান্ত করা শুধু মূর্খতা না এটা এক ধরনের ক্রাইম। আসলে আমরা ইতিহাস ভূগোল বিজ্ঞান এসব পড়ি পরীক্ষায় পাশ করার জন্য আর ধর্ম না পড়েই পালন করি।
অজ্ঞতা মূর্খতা বর্বরতা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আমারা মানুষ থেকে সবাই ধার্মিক হয়ে যাচ্ছি। আমি অন্য ধর্মকে ঘৃণা করি। অন্য ধর্মের ঐতিহ্য ঘৃণা করি। অথচ অন্য ধর্মের সকল হারাম বস্তু নির্ধিদায় ব্যাবহার করি ও ভোগ করি। নিজের ধর্ম ছাড়া অন্য ধর্মকে যেহেতু বর্জন করি,অন্য ধর্মের মানুষদের যেহেতু কাফের বলি তাহলে অন্য ধর্মের মানুষদের সবকিছু কেন বর্জন করি না? আর এই পহেলা বৈশাখ তো শুরুই করেছিল মুসলমানরা। তাহলে সঠিক ইতিহাস বিকৃত করে মনগড়া কোনো কিছু বলে মানুষকে বিভ্রান্ত কেন করা হয়? এটাই অজ্ঞতা মূর্খতা এবং এটা ক্রাইম।

ইহুদিরা কাফের। তাহলে তাদের সবকিছু বর্জন করুন। হিন্দুরা কাফের, খ্রীস্টানরা কাফের।তাহলে তাদের সবকিছু বর্জন করুন। দেখি তোমরা তোমাদের ইসলামত্ব নিয়ে পৃথিবীর বুকে কি করতে পারো? মানুষকে ভুলভাল না বুঝিয়ে, বড় বড় বয়ান না দিয়ে, ফালতু জিহাদি না হয়ে সঠিক পথে থেকে সঠিকটা বলুন।তাতে মানুষদের উপকার হবে।বিশ্বের কল্যাণ হবে।না পারলে ক্ষেতখামারে চাষবাস করেন।তাতেও অনেক উপকার হবে।

পহেলা বৈশাখ সম্পর্কে কিছু তথ্য -

নবরত্ন ছিল মাত্র দুজন শাসকের আমলে। একজন রাজা বিক্রমাদিত্য, আরেকজন সম্রাট আকবর। কাকতালীয়ভাবে এই দুইজনই বাংলা নববর্ষের সাথে জড়িত, যা বেশিরভাগ মানুষের কাছেই অজানা। গুপ্ত রাজা বিক্রমাদিত্যে শাসক ছিলেন পনেরশ বছর আগে। তাকে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তও বলা হত। তার সভাতে নয়জন বিশেষজ্ঞ বা পণ্ডিত ছিলেন, যাদের নবরত্ন বলা হত। সেই নবরত্নের একজন ছিলেন বরাহমিহির। সে সময়ে তাকে বলা হত সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি। তারই লেখা এক বিখ্যাত বই ছিল, নাম "পঞ্চসিদ্ধান্তিকা"। এটা এত বিখ্যাত ছিল যে পরবর্তীতে আরব, রোমান, গ্রীকরা তাদের নিজ নিজ ভাষায় অনুবাদ করে।
বরাহমিহির "পঞ্চসিদ্ধান্তিকা"য় সূর্যের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে বারটি ভাগে ভাগ করেন। একেক ভাগগুলোকে নাম দেন রাশি। সূর্য যখন এক রাশি থেকে আরেক রাশিতে যায়, তাকে বলে সংক্রান্তি। অর্থাৎ রাশির শেষ দিনই হল সংক্রান্তি।

এক বছরে বার রাশিতে বারটি সংক্রান্তি হয়। এই সংক্রান্তিকে তারা বিশেষ দিন হিসেবে মানত, সে উপলক্ষ্যে বিশেষ পুজো হতো। এখনো এই রেওয়াজ আছে, যেমন- চৈত্র সংক্রান্তি। এরপর গৌর রাজা শশাঙ্ক ক্ষমতায় এসে সৌর রাশি অনুযায়ী নিজস্ব সাল গণনা চালু করেন। ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসন শুরু হওয়ার পর থেকে চন্দ্র হিসেব হিজরি সাল চালু হয়। পঞ্চদশ শতাব্দিতে এসে সুলতান আলাউদ্দিন শাহ হিজরি ক্যালেন্ডারের উপর ভিত্তি করে প্রথম বাংলা ক্যালেন্ডার তৈরি করেন। কিন্তু সেটি মূলত ছিল রাশির সৌর বর্ষ ও হিজরি চন্দ্র বর্ষের সংমিশ্রণ। মিশ্র হলেও তা মূলত হিজরি সালের সাথে মিল রেখেই মানা হত। এরপর আকবর যখন ক্ষমতায় আসলেন, তিনি চাষাবাদ ও ফসলের হিসেব অনুযায়ী কর আদায়ের সুবিধার্থে সৌর বর্ষের হিসেবে ফিরে যান। এ লক্ষ্যে আকবর ইরান থেকে আসা বিখ্যাত পার্সিয়ান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতুল্লাহ শিরাজীকে দায়িত্ব দেন সৌর বছর অনুযায়ী বাংলা সন ঠিক করতে। শিরাজী তখন পার্সিয়ান (ইরানী) ক্যালেন্ডার অনুসরন করে বাংলা সন চালু করেন।

সে অনুযায়ী ১৫৮৪ সালে আকবর বাংলা সনের প্রচলন করেন। তখন এটির নাম ছিল "তারিখ- ই- ইলাহী"। ১৫৮৪ সালে প্রচলণ হলেও এর হিসেব শুরু করা হয় ১৫৫৬ সাল থেকে, অর্থাৎ যে বছর আকবর পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে হিন্দু রাজা হিমুকে পরাজিত করে সিংহাসনে বসেন। আকবরের "তারিখ- ই- ইলাহী" প্রবর্তনের আগে হিন্দু শক যুগের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী চৈত্র মাসকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে গণনা করা হত। অর্থাৎ, আকবরের শাসনের আগে বৈশাখ নয়, চৈত্র মাস ছিল বছরের প্রথম মাস। কিন্তু আকবর বৈশাখকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে গন্য করেন। বৈশাখ মাসকে প্রথম মাস হিসেবে পাল্টানোর কারণও ছিল। আরবি হিজরি ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস হল মুহররম মাস। যে বছর বাংলা সনের হিসেব শুরু করা হয়, সে বছর আরবি মুহররম মাসের হিসেবের সাথে বাংলা বৈশাখ মাসের সময় মিলে যায়। তাই বৈশাখকেই প্রথম মাস হিসেবে হিসেব করে বাংলা মাসের সিরিয়াল ঠিক করা হয়। বছরের নামকরণে প্রথমে নাম দেন "ফসলি সন", পরে "বঙ্গাব্দ।" উল্লেখ যে, সন ও সাল শব্দ দুটো কিন্তু আরবি ও ফার্সি থেকে আগত। আকবরের সময় মাসগুলোর নাম ফার্সিতেই দেওয়া হয়েছিল। আজকের যেটি বৈশাখ সেটির নাম ছিল ফারভার্দিন। সে সময় ফার্সি রীতি অনুযায়ী ইরানীরা তাদের বছরের প্রথম দিন উদযাপন করত যাকে নওরোজ বলা হত। ইরানে এখনো নওরোজ আছে। সে উৎসবের মত, আকবরও পহেলা ফারভার্দিন (বৈশাখ) এ এদেশে নওরোজ চালু করে।

মোগল বাদশাহ খুররম এই নওরোজের উৎসবের দিনই এক রমণীকে দেখে প্রেমে পরে যান। অতঃপর তৈরি হয় নতুন ইতিহাস। সেই রমণীই ছিলেন মমতাজ, আর বাদশাহ খুররমেরই আরেক নাম সম্রাট শাহজাহান। এরপর আকবরের ফার্সি মাসগুলোর নাম কখন পরিবর্তন হয়ে বৈশাখ, জৈষ্ঠ ইত্যাদি হল, আর নওরোজ কবে পহেলা বৈশাখে পরিণত হল, তার ইতিহাস এখনো অজানা। বাংলা সনের ইতিহাস সাড়ে চারশ বছর পুরানো হলেও ১৯৬৭ সালের আগ পর্যন্ত পহেলা বৈশাখ ঘটা করে পালন তেমন চোখে পরে না। আগে তা সীমাবদ্ধ ছিল শুধু খাজনা আদায় ও হালখাতার মধ্যে। তবে হিন্দু ধর্মাম্বলিরা তাদের ধর্মের রীতি অনুসারে কিছু কিছু জায়গায় মেলা বসাতো। অবশ্য এটা পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মেলা নয়, বরং তাদের পুঞ্জিকা অনুসারে বিশেষ দিন উপলক্ষে মেলা। ১৯৬৭ সালে এসে পহেলা বৈশাখ নতুন রুপ নেয়। ছায়ানট তৈরি হয়। বৈশাখী উৎসবে গান, বাজনা, ঢোল, নাচ ইত্যাদি যোগ হয়।

১৯৮৯ সালে এসে বৈশাখী অনুষ্ঠানে মঙ্গল শোভাযাত্রা যোগ হয়। মূলত হিন্দুধর্মাবলম্বীদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে মঙ্গল শুভযাত্রার প্রথম উদ্ভব হলেও পরবর্তীতে এটি বৈশাখী উদযাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ স্থান লাভ করে। ১৯৮৭ সালে আমাদের দেশে আকবর প্রবর্তিত বাংলা সনের হিসেব কিছুটা পরিবর্তন করে নতুন সংস্করণ করা হয়। কিন্তু ভারতের কোলকাতা, আসামরা পুঞ্জিকার সাথে মিল রেখে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সুবিধার্তে সেই পুরনো দিনক্ষণই ধরে রাখে। আগে বাংলা সনের হিসেব হত ভোরে সূর্য উদয়ের সাথে সাথে। ১৯৯৫ সালে এসে বাংলাদেশে সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বাংলা দিন শুরু হবে রাত বারোটার পর থেকে, আর ইংরেজি ১৪ এপ্রিল সবসময় বৈশাখ মাসের প্রথম দিন হিসেবে গন্য হবে। আমি বাঙালি,আমার নিজস্ব ভাষা আছে,বর্নমালা আছে,বর্ষপঞ্জি আছে ৷ ১২ মাসে ১৩ পার্বণ আছে ! হাজার বছরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সাথে এ দেশের মাটির গন্ধ ৷ এই সংস্কৃতির বিরুদ্ধচারণ করে,যারা শুধু মাত্র ধর্মের উপর ভিত্তি করে মরু সংস্কৃতি চাপিয়ে দিতে চায়,তারা নির্বোধ অথবা আত্ত্বপরিচয় সংকটে ভুগা প্রজাতি ৷

রেফারেন্সঃ
১। বাংলা বর্ষপঞ্জির জন্ম- মো. সফিকুল ইসলাম
২। A Textbook of Medieval Indian History
৩। https://en.wikipedia.org/wiki/Bengali_calendar
৪। https://bn.wikipedia.org/wiki/পহেলা_বৈশাখ
৫। যেভাবে এল বাংলা সন- শামসুজ্জামান খান
৬। https://bn.wikipedia.org/wiki/বঙ্গাব্দ
৭। https://en.wikipedia.org/wiki/Varāhamihira
৮। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (আর্টিকেল)

Bengali calendars - Wikipedia
en.wikipedia.org

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আমি মানুষ বলছি
আমি মানুষ বলছি এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 14 ঘন্টা ago
Joined: বুধবার, জুলাই 26, 2017 - 5:24অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর