নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

বিষাক্ত রাজনীতি:- পঞ্চম পর্ব-


বাবরি মসজিদ ও রাম মন্দির বিতর্কটি বহু পুরানো। এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটি হল বাবরের সেনাপতি মীর বাকি খান 1528 খৃষ্টাব্দে বাবরি মসজিদ নির্মাণ করেন। তবে কট্টরপন্থী হিন্দুদের দাবি ছিল ওই স্থানে আগে একটি মন্দির ছিল যা ভগবান রামচন্দ্রের জন্মস্থান। কট্টরপন্থী হিন্দুদের আরও দাবি হল- বাবরের সেনাপতি মীর বাকি খান রাম মন্দির ধ্বংস করেই বাবরি মসজিদ নির্মাণ করেছেন। ঐতিহাসিক রেকর্ড থেকে জানা যায় 1853 সালে ওই স্থানটি নিয়ে প্রথম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়। 1885 সালে মহান্ত রঘুবর দাস প্রথম এই মন্দির নিয়ে মামলা করেন কিন্তু তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ও ফৈজাবাদ আদালত মনে করেন প্রায় 356 বছর আগের ঘটনা নিয়ে রায় দেওয়া ঠিক হবে না। তাই ব্রিটিশ সরকার বিষয়টি চেপে যায়।

স্বাধীন ভারতে রাম মন্দির বাবরি মসজিদ বিতর্ক প্রথম দেখা যায় 21-22 ডিসেম্বর 1949 সালের গভীর রাত্রে (তথ্যসূত্র- এবিপি নিউজ)। মনে করা হয় ওই দিন রাত্রিবেলা বাবরি মসজিদের অন্তরে রামের মূর্তির উদ্ভব হয়। এই নিয়ে ফৈজাবাদে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়। ফৈজাবাদ প্রশাসন দ্রুত কার্যকরী সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কিত অঞ্চলে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং রাম মন্দির বাবরি মসজিদের গেটে তালা লাগানো হয় ও সমস্ত পার্থনার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এভাবে তৎকালীন প্রশাসন এই সমস্যার একটা সমাধান করে। রাজনৈতিক লাভ-লোকসানের অঙ্ক কষে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে এই মৃত প্রায় সমস্যাকে আবার পুনরায় উপস্থাপিত করা হয়। এই সমস্যায় ঘৃতাহুতি লাগে যখন 1986 সালে রাজীব গান্ধীর আমলে এই মন্দিরের গেটের তালা খুলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার ফলে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির নতুন করে সূচনা হয়। এর ফলে গোটা দেশে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ে এবং হিন্দুত্ববাদী কট্টরপন্থীদের হাত নতুন করে শক্ত হয়।

এই ঘটনার পর হিন্দুত্ববাদীরা নতুন শক্তি সঞ্চার করে রাম মন্দির নির্মাণের আন্দোলন শুরু করে। যদিও এলাহাবাদ হাইকোর্টের লক্ষৌ বেঞ্চ তালা খোলার আদেশের উপর স্টে জারি করে, তবুও রাম জন্মভূমি আন্দোলনের শক্তি আরও বৃদ্ধি পায়। এরপর বিশ্বহিন্দু পরিষদের নেতৃত্বে রাম জন্মভূমি শিলাপূজন শুরু হয়, সে সময় রাজীব গান্ধীর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বুটা সিং ওই শিলা পূজনে উপস্থিত ছিলেন। যদিও বুটা সিং কে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দেন- 'আমি এই বিষয়টি ওইভাবে ভেবে দেখিনি'। যাইহোক শিলাপূজনের পর দেশে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরপর দেশের বহু জায়গায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়, এর সবচেয়ে বিভৎস বর্হিপ্রকাশ দেখা যায়- 1989 সালে বিহারের ভাগলপুরে। এই দাঙ্গায় প্রায় 1174 জন মানুষের মৃত্যু হয়।(তথ্যসূত্র- এবিপি নিউজ)

ভাগলপুর দাঙ্গা প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা যখন রাজীব গান্ধীকে প্রশ্ন করেন আপনি কেন এই রাম জন্মভূমি শিলাপূজনের জুলুসের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছেন না? এর প্রত্যুত্তরে রাজীব গান্ধী বলেন- "এখনও পর্যন্ত এই জুলুসের ফলে কোন ল-অ্যান্ড-অর্ডার এর সমস্যা হয়নি"। এরপর দেশে 1989 সালের নবম লোকসভা ভোটের দামামা বেজে ওঠে। হিন্দুদের খুশি করতে তিনি এই লোকসভার প্রচার পর্ব শুরু করেন উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদ থেকে। 3 রা নভেম্বর 1989 সালে ফৈজাবাদের এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে রাজীব গান্ধী বলেন- "আপনারা আমায় ভোট দিন, আমি রাম রাজ্য ফিরিয়ে আনব এবং আমি নিজে হিন্দু হিসাবে গর্বিত"। এথেকেই বোঝা যায় রাজীব গান্ধী ভোটের স্বার্থে সফট হিন্দুত্ব লাইন নেয়। যার ফলে হিন্দুত্ববাদীদের শক্তি আরও বৃদ্ধি পায়। যদিও কংগ্রেসের মনিশংকর আইয়ারের মত নেতার মত হল- "ওই দিনের ভাষণ আমি তৈরী করেছিলাম; সেখানে কথা ছিল পঞ্চায়েতি রাজ ইত্যাদি নিয়ে কথা হবে। রামরাজ্য এসবের কোন উল্লেখ ছিল না। এগুলি রাজীব গান্ধীকে উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ভাবে বোঝানো হয়েছিল এবং একদম শেষ মূহুর্তে এগুলি ভাষণে যুক্ত করা হয়। আবার উনি এটাও বলেন রামরাজ্যের কথা বলা কি অন্যায়? গান্ধীজীও রামরাজ্য আনার কথা বলতেন"। আমাদের চরম দুর্ভাগ্য যে দেশের প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন ছেড়ে নোংরা ধর্ম রাজনীতির খেলায় লিপ্ত হন। দেশের নতুন চেতনার প্রধানমন্ত্রীর কাছে এটা কখনোই কাম্য ছিল না।

1989 সালের নবম লোকসভা নির্বাচনে বোফর্স কেলেঙ্কারির উত্থান হয় যার ফলে এই নির্বাচনে কংগ্রেস আশানুরূপ ফল করতে পারেনি। ( এই নির্বাচনে মোট আসন সংখ্যা ছিল- 545 টি, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল- 273 টি আসন। কংগ্রেস- 197 টি, জনতা পার্টি- 143 টি, বিজেপি- 85 টি, সিপিআই- 12 টি, সিপিএম-33 টি আসন লাভ করেও বাকি অন্যান্য। (তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া।) এই নির্বাচনে কংগ্রেস সর্ববৃহৎ দল রূপে আত্মপ্রকাশ করলেও সরকার গঠন থেকে পিছিয়ে আসে। আসলে গত লোকসভাতেই 409 টি আসনে জয়ী কংগ্রেস এই নির্বাচনে মাত্র 197 টি আসনে এসে পৌঁছয় যা নৈতিকতার দিক থেকে ছিল চরম অবমাননা কর, তাই রাষ্ট্রপতি যখন রাজীব গান্ধীকে সরকার গঠন করার আমন্ত্রণ জানাই রাজীব গান্ধীর কংগ্রেস পার্টি; সরকার গঠনের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

তাই নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী সরকার গড়ার জন্য জনতা দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং বিজেপি ও বামপন্থীদের সমর্থনে 2 রা ডিসেম্বর 1989 সালে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন দেশের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী। ভি পি সিং সরকার নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়, কারণ এটা স্পষ্ট ছিল যে এক সংখ্যালঘু সরকার যার সাপোর্টার ছিল পরস্পর বিরোধী মতাদর্শে বিশ্বাসী দুই দল। একদিকে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ও অন্যদিকে ধর্মনিরপেক্ষ বামপন্থী শক্তি গুলি, তাই এই সরকারের বেশি দিন একসঙ্গে চলতে পারার সম্ভাবনা ছিল খুবই ক্ষীণ। অন্যদিকে এই সরকারের নানা ছোটখাটো সহযোগি দলও নানা বিষয়ে এই সরকারকে ক্রমাগত চাপ দিতে থাকে। এরই মধ্যে ভি পি সিং সরকার ইতিহাসে নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখার উদ্দেশ্যে পিছিয়ে পড়া জাতি উপজাতিদের সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে মন্ডল কমিশনের সুপারিশ গুলি বাস্তবায়ন করে।আসলে ভি পি সিং এটা বুঝেছিলেন তার সরকার এমনিতেই বেশি দিন চলবে না, এই সরকারের পতন নিশ্চিত। তাই এমন একটি কাজ তিনি করে যেতে চান যার জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। মন্ডল কমিশনের সুপারিশ গুলি কার্যকর করার পর দেশজুড়ে তীব্র ছাত্র আন্দোলন দেখা যায়। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজীব গোস্বামী নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে এর প্রতিবাদ করলে এই আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। বহু বিক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মদাহের চেষ্টা করতে থাকে। এতে দেশের অবস্থা সঙ্গিন হতে থাকে। তবে সরকার এই আন্দোলন মেনে নেয় নি। দেশের সর্বত্র ভি পি সিং কে উচ্চ বর্ণের জনজাতির বিরোধের সম্মুখীন হতে হয় অন্যদিকে তিনি 'মন্ডল মাসিহা' নামে পরিচিত হন।

এই সময় সরকারের অন্যতম বড় শরিক বিজেপির সামনে দ্বিবিধ সমস্যা এসে দেখা দেয়। একদিকে তারা ভয় পেয়েছিল মন্ডলের ফলে নির্ভরযোগ্য উচ্চবর্ণের ভোট ব্যাঙ্ক তাদের হাত ছাড়া হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে তারা নিম্নবর্ণের বিরোধীতার সম্মুখীন হতে চাইছিলেন না। কারণ ভোটে জিততে গেলে উচ্চবর্ণের এবং নিম্নবর্ণের উভয় বর্ণেরই ভোট প্রয়োজন। তাই তারা মন্ডল রাজনীতিতে ফেঁসে যেতে চাইছিলেন না। তাই এই মূহুর্তে উত্তরণের পথ হিসেবে তারা 'কমন্ডলের রাজনীতি শুরু করে'। এই সময় বিজেপি উভয় বর্ণকে এক করতে রামের নাম নিতে শুরু করে। রাজীব গান্ধী রাম মন্দিরের তালা খুলে যে বিষ বৃক্ষের চারা পুতেছিলেন এবার সেই বিষ বৃক্ষ ফল দিতে শুরু করে এবং এই বিষের জ্বালায় গোটা দেশ ছটফট করতে থাকে।

মন্ডল রাজনীতি প্রতিহত করতে এবং হিন্দু ভোট একত্রিত করতে বিজেপি কমন্ডলের সাহায্য নেয়। বিজেপির তৎকালীন বড় নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী 30 শে অক্টোবর 1990 সালে অযোধ্যায় অনুষ্ঠিত কার সেবার (কার সেবার অর্থ মসজিদ ভেঙে মন্দির তৈরী শুরু করা।) উপলক্ষে দেশজুড়ে রাম রথযাত্রার শুরু করেন। এই রাম মন্দির আন্দোলনের নায়ক হিসাবে লালকৃষ্ণ আডবাণীর দ্রুত উত্থান হয়। তিনি 25 শে সেপ্টেম্বর 1990 সালে গুজরাটের সোমনাথ মন্দির থেকে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা পর্যন্ত রাম রথযাত্রার শুরু করেন। এই রথ যাত্রাটি প্রায় দশ হাজার কিমি লম্বা ছিল এবং এটি প্রায় দশটি রাজ্যের উপর দিয়ে, দুশোটি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রথযাত্রা চলতে থাকে কিন্তু যে যে রাজ্য দিয়ে এই রথযাত্রা যায় সেখানেই বিভৎস সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত হয়। শেষ পর্যন্ত বিহারের সমস্তিপুরে এই রথ যাত্রাটি এসে উপস্থিত হলে; বিহারের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব আডবাণীকে গ্রেফতার করেন, 23 শে অক্টোবর 1990 সালে। যদিও অনেকেই মনে করেন এটা বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং এর অঙ্গুলি নির্দেশেই হয়েছিল।

যাইহোক এর প্রতিক্রিয়া স্বরূপ পরের দিনই বিজেপি সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে এবং মাত্র এগারো মাস পুরানো ভিপি সিং সরকার পড়ে যায়। তার সরকারের বিরুদ্ধে সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব আসে। তিনি বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলেন- "আপনারা কেমন ভারত চান?"।অর্থাৎ তিনি বিরোধীদের বোঝাতে চান এই ভারত কি ধর্মান্ধ ভারত হবে না ধর্মনিরপক্ষ প্রগতিশীল ভারত হবে? সংসদের আস্থা ভোটে 142 ও 346 ভোটের ব্যবধানে ভি পি সিং সরকার পরাজিত হয় (তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া)। তিনি 7 ই নভেম্বর 1990 সালে নিজের পদত্যাগ পত্র রাষ্ট্রপতির সামনে পেশ করেন । ভিপি সিং জানতেন এই সিদ্ধান্ত নিলে তার সরকার পড়ে যাবে কিন্তু তিনি সরকারের মোহে না পড়ে থেকে কর্তব্য নিষ্ঠ ভাবে দেশের একতা ও অখণ্ডতা বজায় রাখেন। এই জন্য ভিপি সিং অবশ্যই সাধুবাদ যোগ্য। তিনি চেয়েছিলেন রাম মন্দির বাবরি মসজিদ বিতর্কের এক সুষ্ঠ সমাধান হোক, এই নিয়ে তিনি দুই বিবাদি পক্ষকেই আলোচনার টেবিলে অনেন। আলোচনা বেশ কিছু দূর এগোয় কিন্তু কোন সমাধান সূত্র বের হওয়ার আগেই বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং এর সরকার পড়ে যায়। বলা হয়- বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং এর 'মন্ডল' বিজেপির 'কমন্ডল' রাজনীতির কাছে হেরে যায়।

ভিপি সিং এরপর দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে তীব্রগুঞ্জন দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের সমর্থনে 10 ই নভেম্বর 1990 সালে দেশের অষ্টম প্রধানমন্ত্রী হন চন্দ্রশেখর। চন্দ্রশেখর খুব কড়া ধাতের মানুষ ছিলেন এবং প্রতিটি কার্য খুব শক্ত হাতে সম্পন্ন করতেন। তিনি বাবরি মসজিদ ও রাম মন্দির বিতর্কের এক সুষ্ঠ সমাধান চেয়েছিলেন। সেই উদ্দেশ্যে তিনি বিবাদি দুই পক্ষকেই আলোচনার টেবিলে অনেন। আলোচনা অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে যায়, গোটা দেশে এটা মনে হতে থাকে চন্দ্রশেখরের শক্ত হাতে রাম মন্দির বাবরি মসজিদ বিতর্কের একটা সুষ্ঠ সমাধান হয়ে যাবে; ঠিক সেই সময়ই মাত্র সাত মাসের চন্দ্রশেখর সরকারকে ফেলে দেওয়া হয়। এই সরকার ফেলে দেওয়ার পিছনে তেমন জোরালো কোন কারণ ছিল না, ছোটখাট গোয়েন্দাগিরির অভিযোগে এই সরকার ফেলে দেওয়া হয়। যদিও নিন্দুকেরা বলেন কংগ্রেসের এই ভয় ছিল চন্দ্রশেখর যদি এই সমস্যার সুষ্ঠ সমাধান করতে পারতেন তাহলে তা কংগ্রেসের রাজনীতির পক্ষে নেতিবাচক প্রভাব ফেলত এবং চন্দ্রশেখরকে প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে সরানো খুব কঠিন হয়ে যেত। যাইহোক শেষ পর্যন্ত চন্দ্রশেখর 6 ই মার্চ 1991 সালে পদত্যাগ দেন ও চন্দ্রশেখর সরকারের পতন হয় এবং দেশে পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনের দামামা বেজে ওঠে।

চলবে...

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রক্তিম বিপ্লবী
রক্তিম বিপ্লবী এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 1 দিন ago
Joined: মঙ্গলবার, আগস্ট 29, 2017 - 3:02অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর