নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • লুসিফেরাস কাফের
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সুখ নাই
  • কাঠমোল্লা
  • মিশু মিলন
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • সামসুল আলম
  • এস. এম. মাহবুব হোসেন
  • ইকরামুজ্জামান
  • রবিউল আলম ডিলার
  • জহুরুল হক
  • নীল দীপ
  • ইব্রাহীম
  • তারেক মোরশেদ
  • বাঙলা ভাষা
  • সন্দীপন বিশ্বাস জিতু

আপনি এখানে

কোটা ব্যবস্থার সংস্কার চাই


কোটা নিয়ে ঠোকাঠুকি চলছে কয়েক বছর ধরে। কোটা প্রথার বিরুদ্ধে কখনো ছাত্রছাত্রীরা কখনো তাদের সাথে চাকরীপ্রার্থীরা যোগ দিয়ে আন্দোলন করছে। আর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে সরকার এবং তার সরকারি ও বেসরকারি লাঠিয়াল বাহিনী আন্দোলন ভেস্তে দেবার চেষ্টা করে যাচ্ছে।দাবী মানা না মানা পরের কথা,ওদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে টিয়ারশেল,লাঠিচার্জ করা নিন্দনীয়। আর ওদের দাবী খুবই যৌক্তিক।সুতরাং মানবেন না কেন? মানতে হবে।

বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ সংঘটনের অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম হলো বৈষয়িক দিকের বিবেচনায় বাঙালির পিছিয়ে পড়া বা ক্ষতির হিসাব।চাকরি,ব্যবসা বাণিজ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন,অবকাঠামোগত উন্নয়ন,সেবা ও শিল্প খাতের বিকাশের বাঁধা প্রভৃতি দিক দিয়েই আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছিলাম পশ্চিম পাকিস্তানের চরম বৈষম্যমূলক নীতির কারণে। মধ্যবিত্ত যে স্বাধীনতার জন্য উদগ্রীব ছিলো তার পেছনে এই বৈষয়িক স্বার্থবুদ্ধি মূল ভূমিকা রেখেছে। পৃথিবীর বেশিরভাগ রাজনৈতিক আন্দোলনে বা স্বাধীনতার লড়াইয়ের পেছনে এরকম কিছু অর্থনৈতিক ও সামাজিক উপাদান ক্রিয়াশীল থাকে। নিম্নবিত্ত যে সম্মুখ সমরে আগুয়ান হয়েছিল তার প্রেরণাও এসেছে একটা শোষণহীন বৈষম্যহীন সমাজের অবিনাশী স্বপ্ন থেকে। শেখ মুজিব সেই স্বপ্ন বপন ও রোপন এবং ব্যাপন ঘটিয়ে দিতে পেরেছিলেন সকল সাধারণ বাঙালির মনে। তাঁকে উদারভাবে সহায়তা করেছিলেন তৎকালীন বুদ্ধিজীবীরা তাঁদের মনন চর্চা দিয়ে।আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের যে সংগ্রাম সেই সংগ্রামে বুদ্ধিজীবীর সাথে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, পেশাজীবী এবং শ্রমিক কৃষক ও ছাত্রের অপূর্ব সংযোগ ঘটেছিল। সেজন্যই আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙালির এমন সার্বজনীন অংশগ্রহণ সম্ভবপর হয়েছিলো।স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়ে উঠেছিল একটি জনযুদ্ধ। বাংলাদেশ যতদিন পৃথিবীর বুকে স্বাধীন দেশ হিসেবে টিকে থাকবে ততদিন পর্যন্ত স্বাধীনতার নায়কদের সম্মানে সাম্মানিক কোটা এমনকি তা প্রতীকী অর্থে হলেও বরাদ্দ রাখা উচিত বলে মনে করি।এছাড়াও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কোটা ব্যবস্থা সংবিধান সম্মত।

মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ছিল সামষ্টিক উন্নতি।তাই আমাদের স্বাধীনতার একটা আদি ও মূল চেতনা হচ্ছে বৈষম্যের লোপ এবং সাম্য প্রতিষ্ঠা। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধারা কিংবা যুদ্ধের সংগঠকেরা কিন্তু বাড়তি সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশায় দেশ স্বাধীন করেননি। প্রত্যাশা যেটা ছিলো তা হচ্ছে শত্রুপক্ষ আমাদের ন্যায্য যে অধিকারটুকু হরণ করেছে সেটা ফিরিয়ে আনা অর্থাৎ ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা। এখানে উল্লেখ্য সমতা এবং ন্যায্যতা এক বিষয় নয়।যে দরিদ্র লোকটার সংসার চালানোর জন্য দৈনিক দুশো টাকা প্রয়োজন তাকে সেই পরিমান টাকা দেওয়া, এবং যে অপেক্ষাকৃত কম দরিদ্র, যার একশ টাকা হলেই চলে তাকে সেই পরিমাণ টাকা দেওয়াটা হচ্ছে ন্যায্যতার নীতি। আর উভয়কেই একশ অথবা উভয়কেই দুশো টাকা দেওয়াটা সংখ্যসাম্যের নীতি।

মুক্তিযোদ্ধা, নারী, আদিবাসী কিংবা প্রতিবন্ধী এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীকে কোটা সুবিধা দেওয়া হয় ন্যায্যতার নীতি অনুসারে। ন্যায্যতার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো বৈষম্য যথাসম্ভব কমিয়ে আনা এবং নিকট ভবিষ্যতে সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠা করা। সহজ কথায় বললে এতদিনকার পশ্চাদপদ গোষ্ঠীকে অগ্রসর গোষ্ঠির সাথে একই সমতলে নিয়ে এসে প্রতিযোগী বা সহযোগীসক্ষম করে তোলা।কিন্তু স্বাধীনতা প্রাপ্তির ছেচল্লিশ বছরেও যদি স্বাধীনতার এই অন্যতম লক্ষ্য পূরণ না হয়, যদি এখনো মুক্তিযোদ্ধা, নারী, আদিবাসী প্রভৃতির জন্য পঞ্চান্ন শতাংশ কোটা বরাদ্দ রাখতে হয় তাহলে প্রশ্ন জাগে আমাদের স্বাধীনতা সঠিক পথে এগিয়েছে তো? । সংশয় জাগে কোটা পদ্ধতির ব্যবহার নিয়েও। যে নারী, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা নাতি নাতনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আসতে পেরেছে এবং লেখাপড়া শেষ করেছে সে তো অলরেডি চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা করার যোগ্যতা এবং ক্ষমতা অর্জন করেছে। তারতো চাকরি পাবার জন্য ৫৫% প্রিভিলেইজ দরকার নেই। তাকে প্রিভিলেইজ দিতে গিয়ে তারই সহপাঠীকে বঞ্চিত করা হচ্ছে না কি? সুতরাং এই কোটাকে অন্য কোন সুবিধাতে রূপান্তরিত করা দরকার। সেই সুবিধা তাদেরকে দেওয়া হবে যারা পড়ালেখা করার ইচ্ছা এবং মেধা থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পৌছাতে পারছে না। যেমনটা মেয়েদের উপবৃত্তি।এটা নিয়ে কোন প্রশ্ন কখনো উঠেছে এমন শুনিনি। ছেলেরা বঞ্চিত হচ্ছে এমন দাবিও আমরা কখনো করিনি। এবং উপবৃত্তি ব্যবস্থার ফলে মাধ্যমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে।তাই কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিকীকরণ এখন অনিবার্য হয়ে উঠেছে।কোন কোটাগুলো থাকা উচিৎ এবং কোনগুলোতে কত শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করা উচিত সেটা গবেষণার বিষয়। এক্সপার্টদেরকে নিয়ে কমিশন করে সেটা ঠিক করা হোক। আমরা শুধু এটুকু বুঝতে পারি যে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থার সংস্থার প্রয়োজন এবং সেই দাবীটুকুই রেখে গেলাম।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে
"বাংলাদেশের জনগনের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করণার্থে....বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ইতিপূর্বে ষোষিত স্বাধীনতা দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করিলাম।"প্রচলিত কোটা ব্যবস্থা কি কোটা সুবিধা যাদের নেই সেই সংখ্যাগরিষ্ঠ চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি"সাম্য,মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার"প্রদর্শন করছে?আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাস্তায় ফেলে বেধড়ক পেটানো মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করেনা।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সুবিনয় মুস্তফী
সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি
Offline
Last seen: 4 দিন 16 min ago
Joined: শুক্রবার, নভেম্বর 4, 2016 - 4:58অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর