নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • মিশু মিলন
  • নরমপন্থী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

ফিরে দেখা: দ্বিজাতিতত্ত্ব, দাঙ্গা আর দেশভাগ ৩:


১৯৫৪ তে যুবলীগ আর ছাত্রদলের চাপে পূর্ব-পাকিস্তানে ফজলুল হক, সুরাবর্দী আর মৌলানা ভাসানী এক হয়ে ২১ দফার দাবীতে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে পূর্ব-পাকিস্তানের বিধানসভা নির্বাচনে নামল । বিধানসভায় মুসলিম আসন ছিল ২৩৮ টা , যার মধ্যে যুক্তফ্রন্ট জিতে নিল ২২৭ টা আসন । মুসলিম লীগ পেল মাত্র ১০ টা আসন আর খিলাফত ১ টা । বাঙালি মুসলিম মানসে পাকিস্তানের ক্ষমতা পাঞ্জাবিদের হাতে কুক্ষিগত করার ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটলো নির্বাচনে, সাথে তো ছিলই ১৯৫২ র ভাষা আন্দোলন । পূর্ব-পাকিস্তানের হিন্দুরা নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টকে সমর্থন করেছিল । নির্বাচনে সিডিউল কাস্ট ফেডারেশনের রাজ কুমার মন্ডল আর হরবিলাশ বসুর জমানাত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল । ফজলুল হকের নেতৃত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্ট সরকারে অবশ্য কোনো হিন্দুর জায়গা হয়নি মন্ত্রীসভায়, যদিও এই ফজলুল হক কলকাতার এক সভায় অকপটে বলে এসেছিল যে দুই বঙ্গের সীমানা সে মানেনা । জাস্ট আই ওয়াশ আর কি ! কলকাতা থেকে ঢাকা ফিরেই অবশ্য ফজলুল হক লাথ গেল গভর্নর ইস্কান্দার মির্জার কাছে । বরখাস্ত করা হলো 'ফজলি আম' কে ।

পালাবদলের নাটকে অবশ্য হিন্দু নিপীড়নে কোনো ভাঁটা পরলো না । কমুনিস্ট নেত্রী ইলা মিত্রকে এরেস্ট করে জেলখানায় চালানো হলো পাশবিক অত্যাচার, ধর্ষণ ! ইলা মিত্র মুমুর্ষ অবস্থায় চিকিত্সার জন্য কলকাতায় এসে আর ফেরৎ গেলেন না । স্বনামধন্য দেশপ্রেমিক নেতা সতীন সেনকে ৯২(ক) ধারায় দেশদ্রোহিতার অপরাধে গ্রেফতার করা হলো । পাশবিক অত্যাচারের স্টিমরোলার চালানো হলো তার উপরে । তাকে দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার সাহস হলনা কোনো হিন্দু নেতার । হাসপাতালে ভর্তির পরদিন মারা গেলেন তিনি । নতুন গণপরিষধ গঠন হওয়ার পর পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় তথা প্রাদেশিক মন্ত্রীসভায় অদলবদল শুরু হলো । প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে আকচাআকচি লাগলো মুসলিম লীগ, কে এস পি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে । শেষ পর্যন্ত মুসলিম লীগের চৌধুরী মহম্মদ আলী প্রধানমন্ত্রী হলো আর আবু হোসেন সরকার পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী পদ পেল । ১৯৫৫ সালে চৌধুরী মহম্মদ আলী ইসলামী শাসনতন্ত্রের খসড়া পেশ করলে, হিন্দু অনেক মন্ত্রী প্রতিবাদ করে মন্ত্রিত্ব ছাড়ে ।

মন্ত্রীত্ব নিয়ে বিরোধ থাকলেও ইসলামী শাসনতন্ত্রের ব্যাপারে পরিষধের সকল মুসলমান সদস্য এককাট্টা ছিল । পক্ষান্তরে যোগেন মন্ডলের সময় থেকেই হিন্দুরা ছিল বিভাজিত, তাই ইসলামী শাসনতন্ত্র সহজেই পাশ হয়ে যায় । চিত্তরঞ্জন সুতার অবশ্য অনেকচেষ্টা করেছিলেন এই বিভেদ কমিয়ে আনতে । পূর্ব-পাকিস্তান, তথা পূর্ববঙ্গের হিন্দু সমাজ ছিল অত্যন্ত রক্ষনশীল । এছাড়াও তারা ছিল প্রাদেশিক রাজনীতির ব্যাপারে নভিস এবং বেক্তিস্বার্থ কেন্দ্রিক । হিন্দুর চরম দুর্দিনেও যুগান্তর পার্টি আর অনুশীলন পার্টি একসাথে মিটিং প্রায় করতই না ! যেমন ধরুন এক নামধারী হিন্দু নেতা কামিনী কুমার দত্ত, যে মন্ত্রিত্বে টিঁকে থাকার জন্য সভায় বলে বেড়াত: 'ইসলামের অর্থ হলো শান্তি, তাই ইসলামী পাকিস্তান হলো শান্তির পাকিস্তান ।' আবার আরেক মহারথী প্রভাস লাহিরী , আবু হোসেনের মন্ত্রীসভায় জায়গা পেতে সদা লালায়িত । মন্ত্রীসভায় জায়গায় পেয়েই ইসলামী শাসনতন্ত্রের পক্ষে সায় দিয়েছিল এই বেক্তি । অথচ পাঠক জানলে অবাক হবেন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার টিঁকিয়ে রাখায় হিন্দু সংখ্যাতত্ত্ব কাজ করত তখন । প্রাদেশিক সরকারে ১০ জন মন্ত্রীর মধ্যে ৪ জন হিন্দু এবং কেন্দ্রীয় সরকারে ১০ জনের মধ্যে ৩ জন হিন্দু মন্ত্রী । হলে কি হবে ? বেক্তিস্বার্থের খেলায় ইসলামী শাসনতন্ত্র ঠিকই পাশ হয়ে গেছিল !

পাকিস্তানের রাষ্ট্র ক্ষমতা পাঞ্জাবীদের হাতে কুক্ষিগত হওয়ার ফলে সংখ্যালঘু হিন্দু যেমন সর্বস্বান্ত হয়েছিল সে অঞ্চলে, তেমনই যেসব মুসলমান নেতারা পাকিস্তানের দাবিতে সংগ্রাম করেছিলেন সেই সুরাবর্দি, আবুল হাসেম, মৌলানা ভাসানী ও মুজিবের দলও সাময়িকভাবে বঞ্চিত হয়েছিল । যে শক্তি লাভ করার আশায় তারা সংগ্রাম করেছিলেন সেই পাকিস্তানের রাজশক্তি তারা কিন্তু হাতে পাননি ,ক্ষমতা চলে গেছিল সুরাবর্দী বিরোধী শক্তিদের হাতে | ক্ষমতা তখন নাজিমউদ্দিন, নুরুল আমিন ও আকরাম খানের দলের হাতে | সুরাবর্দী ও তার দলবলের উপর নেমে এলো ঘোরতর দুর্দিন । আবুল হাসান ছিলেন পশ্চিমবাংলার মানুষ তাই পূর্ব বাংলার সাধারন মুসলমানের সঙ্গে তার তেমন কোনো যোগাযোগ ছিল না | পক্ষান্তরে নাজিমউদ্দিন ছিল পূর্ব বাংলার মানুষ তাই জনসমর্থন সবসময় তার পক্ষেই ছিল | বিরোধ একটা এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, সুরাবর্দী ঢাকায় গেলে ঢাকার বাদামতলী স্টিমার ঘাটে তাকে নাতেই দেওয়া হল না | বাধ্য হয়েই তাকে সেই স্টিমারে খুলনা হয়ে কলকাতা ফিরতে হয়েছিল । অপরদিকে পূর্ব বাংলার লোক হওয়ার কারণে শেখ মুজিব কিন্তু সেখানকার সাধারন মানুষদের সমর্থন পেয়েছিল এবং ছাত্রলীগের নেতা হয়ে বসেছিলেন ।

ভাসানী রাজশক্তির আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসাম ফেরত, সরকারি বিরোধী বক্তব্য রাখতে শুরু করলেন | তার মত ছিল শরিয়ত মতে দেশ চালাতে হবে আর পূর্ববঙ্গকে পাকিস্তান সরকার বঞ্চিত করেছে তার প্রতিবাদ করতে হবে । ১৯৪৮ সালে ভাসানী পূর্ববাংলা আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করেছিল । শেখ মুজিবের ছিল কণ্ঠস্বর, বাকচাতুর্য, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং সর্বোপরি সরকার বিরোধী ভূমিকা নেওয়ার সাহস | সুরাবর্দীর কাছ থেকে যে কূটনৈতিক শিক্ষা তিনি পেয়েছিলেন তা কাজে লাগিয়ে তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়ে বসেছিলেন । মুজিবের প্রচেষ্টায় সুরাবর্দী আওয়ামী মুসলিম লীগে যোগ দিয়েছিল যা ছিল পূর্ববঙ্গের একমাত্র বিরোধী মুসলিম দল | ১৯৫১ সালে কমিউনিস্ট পার্টির প্রচেষ্টায় অবশ্য অসাম্প্রদায়িক ও অরাজনৈতিক যুবলীগ তৈরি হয় ।অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ছিল পূর্ব পাকিস্তানের কংগ্রেস ও কমুনিস্ট পার্টি । ১৯৫২ সালে যুবলীগ ও কমিউনিস্ট পার্টির চেষ্টায় তৈরি হয়েছিল পূর্ববঙ্গ ছাত্রলীগ এবং তাদের কাজকর্ম ছিল অসাম্প্রদায়িক । যুবলীগ ও ছাত্রলীগের গঠন করার সময় শেখ মুজিব কিন্তু যত রকমভাবে পারা যায় তত রকমভাবে তার বিরোধিতা করেছিলেন কারণ তিনি ছিলেন মূলত ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত এবং ইসলামী ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ । ইসলাম ভিত্তিক সংগ্রামে তার অগাধ বিশ্বাস ছিল । সেই সময় কমুনিস্ট পার্টিকে বেআইনি ঘোষণা করা হয় ও পার্টি কর্মীরা একরকম সিদ্ধান্ত নেয় যে আওয়ামী মুসলিম লীগে যোগ দিয়ে কাজ করে যাবে | হাজি দানেশ পার্টির এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছিলেন ও তিনি পূর্ববাংলা গণতন্ত্রী দল গঠন করেন |

হাজী দানেশের যুক্তি ছিল কম্যুনিস্টরা কোনমতেই আওয়ামী মুসলিম লীগের মতো একটি সাম্প্রদায়িক দলের সাথে যুক্ত হতে পারেনা ।এই দলটাই ছিল পাকিস্তানের প্রথম অসাম্প্রদায়িক দল । ১৯৫৭ সালে পূর্ববঙ্গ গণতন্ত্রী দল, কমিউনিস্ট পার্টি, আওয়ামী লীগের কিছু সংখ্যক নেতা এবং পশ্চিম পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলো মিলিয়ে বিশেষ সদস্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল অসাম্প্রদায়িক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ন্যাপ | মওলানা ভাসানী কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন আর পাকিস্তান শাখার সভাপতি হয়েছিলেন সীমান্ত গান্ধী খান আব্দুল গফ্ফর খান | ন্যাপ গঠনের সময়ও শেখ মুজিব যথাসাধ্য় বাধা দেবার চেষ্টা করে | ঢাকার রুপবানী সিনেমার মঞ্চে পার্টির প্রথম অধিবেশনে শেখ সাহেবের ঘনিষ্ঠ গুন্ডাবাহিনী সেখানে ঝাঁপিয়ে পরেছিল এবং আহত হয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানের বিশিষ্ট নেতা ইফতিয়ার উদ্দিন ।এখানে বলে রাখা দরকার যে সেই সময় পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগের সরকার ক্ষমতায় ছিল এবং মুজিব ছিলেন সে সরকারের একজন বিশিষ্ট মন্ত্রী । এর আগে আওয়ামী মুসলিম লীগের নেতারা তাদের দলকে একটি অসাম্প্রদায়িক দল বলে ঘোষণা করেছিল এবং 'মুসলিম' শব্দটি বাদ দিয়ে নামকরণ করা হয়েছিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ । কি এমন ঘটনা ঘটলো যাতে করে মুসলিম নেতারা হঠাত এত উদার হয়ে পরলেন আর দলকে অসাম্প্রদায়িক ঘোষণা করে নতুন নাম রাখা হলো ?

(চলবে.....................)

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রাজর্ষি ব্যনার্জী
রাজর্ষি ব্যনার্জী এর ছবি
Offline
Last seen: 4 ঘন্টা 14 min ago
Joined: সোমবার, অক্টোবর 17, 2016 - 1:03অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর